ঢাকা ০৬:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

মাদকের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির রাজনীতি করার অধিকার নেই : ইশরাক

মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে উল্লেখ করে সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন বলেছেন, মাদক কারবারের সঙ্গে রাজনৈতিক পেট্রোনাইজেশন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কিছু কিছু সদস্যের সম্পৃক্ততা রয়েছে। মাদকের হটস্পটগুলোতে যে সরকার যখন ক্ষমতায় থাকে, সেই দলের মিথ্যা রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে সেই স্পটগুলো পরিচালনায় লিপ্ত থাকে কিছু কুচক্রী মহল।

মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তির রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই। মাদকের সঙ্গে কারো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থাকলে তার মুখোশ উন্মোচন করে বিচারের মুখোমুখি করা উচিত।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাজধানীতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির আয়োজনে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জ ও করণীয় নিয়ে এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ইশরাক হোসেন বলেন, বর্ডার অঞ্চল থেকে নানারকম কারসাজি করে সারা দেশে মাদক ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

এর সঙ্গে কিছু নামকরা পরিবহনের সম্পৃক্ততার কথা শোনা যাচ্ছে। একইসঙ্গে কিছু ভূঁইফোড় ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিও মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে জিওপলিটিক্স ব্যবহার করে মাদক ছড়িয়ে দিয়ে আমাদের সমাজ ও জাতিকে ধ্বংস করার পাঁয়তারা করছে।

তিনি আরো বলেন, যারা মাদকাসক্ত তারা জঘন্য নৃশংস অপরাধের সঙ্গে জড়িত।

আমরা শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড দেখেছি, বহুল আলোচিত ঐশির ঘটনাও জানি। মাদকের বিরূপ প্রভাবের কারণে এই ধরনের জঘন্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ ও মনোচিকিৎসাবিদ্যার অধ্যাপক ডা. এম এ মোহিত কামাল।

মূল প্রবন্ধে হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, বাংলাদেশে মাদকের সহজলভ্যতা এর বিস্তার বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। হাত বাড়ালেই এখন পাওয়া যাচ্ছে গাঁজা, ইয়াবাসহ উচ্চমূল্যের বিভিন্ন মাদক। ইয়াবা এখন শহর থেকে গ্রাম-গঞ্জে, পাড়া-মহল্লায় মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ছে। এমনকি অনলাইনে অর্ডার দিলে ঘরে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে মাদকদ্রব্য। মাদকের সঙ্গে ক্রাইম সম্পৃক্ত। যারা মাদক ও ক্রাইমের সঙ্গে জড়িত, তাদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে মাদক কারবারিরা তাদের রাজনৈতিক রঙ পাল্টায়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। তাই রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কোনো মাদক কারবারি যাতে সুবিধা নিতে না পারে, সে ব্যপারে সরকারকে সজাগ থাকতে হবে।

মাদকবিরোধী অভিযানে মাদকসেবী, মাদক ক্যারিয়ার ও ছোট কারবারিরা ধরা পড়লেও এর মূল হোতারা সবসময় ধরাছোঁয়ার বাহিরে থেকে যায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাদক পরিবহনে এখন ব্যবহার করা হচ্ছে বহুমাত্রিক কৌশল। কখনও দোকানের আড়ালে, কখনও ভ্রাম্যমাণ দোকানে, কখনও হাঁটতে থাকা ব্যক্তির শরীরে, আবার কখনও যাত্রীবাহী যানবাহনের গোপন চেম্বারে লুকিয়ে আনা-নেওয়া করা হচ্ছে মাদক। শুধু তাই নয়, পাকস্থলীর ভেতর, এমনকি মোবাইল ফোনের ব্যাটারির চেম্বারেও ইয়াবা বহন করা হচ্ছে। মাদক নিয়ন্ত্রণ শুধু সরকার কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একার পক্ষে সম্ভব নয়। এর জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছার পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

সেমিনারে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন একাত্তর টিভির বার্তা প্রধান শাহ আজিজুর রহমান কিরণ, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তাজুল ইসলাম চৌধুরী তুহিন, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি মো. মুন্না হুসাইন, ইডেন মহিলা কলেজ বিতর্ক দলের দলনেতা মাসনুন নাবিলা আলম প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাবেক জাতীয় বিতার্কিক মো. কাউছার আলম। ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির আয়োজনে ‘মাদককে না বলি, মাদক মুক্ত বাংলাদেশ গড়ি’ স্লোগানে সেমিনারটি আয়োজনে সহযোগিতা করছে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ডিবেটিং সোসাইটি ও ইডেন মহিলা কলেজ ডিবেটিং ক্লাব।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

 

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

মাদকের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির রাজনীতি করার অধিকার নেই: ইশরাক

মাদকের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির রাজনীতি করার অধিকার নেই : ইশরাক

আপডেট সময় ০৫:১৪:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে উল্লেখ করে সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন বলেছেন, মাদক কারবারের সঙ্গে রাজনৈতিক পেট্রোনাইজেশন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কিছু কিছু সদস্যের সম্পৃক্ততা রয়েছে। মাদকের হটস্পটগুলোতে যে সরকার যখন ক্ষমতায় থাকে, সেই দলের মিথ্যা রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে সেই স্পটগুলো পরিচালনায় লিপ্ত থাকে কিছু কুচক্রী মহল।

মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তির রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই। মাদকের সঙ্গে কারো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থাকলে তার মুখোশ উন্মোচন করে বিচারের মুখোমুখি করা উচিত।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাজধানীতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির আয়োজনে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জ ও করণীয় নিয়ে এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ইশরাক হোসেন বলেন, বর্ডার অঞ্চল থেকে নানারকম কারসাজি করে সারা দেশে মাদক ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

এর সঙ্গে কিছু নামকরা পরিবহনের সম্পৃক্ততার কথা শোনা যাচ্ছে। একইসঙ্গে কিছু ভূঁইফোড় ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিও মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে জিওপলিটিক্স ব্যবহার করে মাদক ছড়িয়ে দিয়ে আমাদের সমাজ ও জাতিকে ধ্বংস করার পাঁয়তারা করছে।

তিনি আরো বলেন, যারা মাদকাসক্ত তারা জঘন্য নৃশংস অপরাধের সঙ্গে জড়িত।

আমরা শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড দেখেছি, বহুল আলোচিত ঐশির ঘটনাও জানি। মাদকের বিরূপ প্রভাবের কারণে এই ধরনের জঘন্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ ও মনোচিকিৎসাবিদ্যার অধ্যাপক ডা. এম এ মোহিত কামাল।

মূল প্রবন্ধে হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, বাংলাদেশে মাদকের সহজলভ্যতা এর বিস্তার বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। হাত বাড়ালেই এখন পাওয়া যাচ্ছে গাঁজা, ইয়াবাসহ উচ্চমূল্যের বিভিন্ন মাদক। ইয়াবা এখন শহর থেকে গ্রাম-গঞ্জে, পাড়া-মহল্লায় মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ছে। এমনকি অনলাইনে অর্ডার দিলে ঘরে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে মাদকদ্রব্য। মাদকের সঙ্গে ক্রাইম সম্পৃক্ত। যারা মাদক ও ক্রাইমের সঙ্গে জড়িত, তাদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে মাদক কারবারিরা তাদের রাজনৈতিক রঙ পাল্টায়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। তাই রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কোনো মাদক কারবারি যাতে সুবিধা নিতে না পারে, সে ব্যপারে সরকারকে সজাগ থাকতে হবে।

মাদকবিরোধী অভিযানে মাদকসেবী, মাদক ক্যারিয়ার ও ছোট কারবারিরা ধরা পড়লেও এর মূল হোতারা সবসময় ধরাছোঁয়ার বাহিরে থেকে যায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাদক পরিবহনে এখন ব্যবহার করা হচ্ছে বহুমাত্রিক কৌশল। কখনও দোকানের আড়ালে, কখনও ভ্রাম্যমাণ দোকানে, কখনও হাঁটতে থাকা ব্যক্তির শরীরে, আবার কখনও যাত্রীবাহী যানবাহনের গোপন চেম্বারে লুকিয়ে আনা-নেওয়া করা হচ্ছে মাদক। শুধু তাই নয়, পাকস্থলীর ভেতর, এমনকি মোবাইল ফোনের ব্যাটারির চেম্বারেও ইয়াবা বহন করা হচ্ছে। মাদক নিয়ন্ত্রণ শুধু সরকার কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একার পক্ষে সম্ভব নয়। এর জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছার পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

সেমিনারে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন একাত্তর টিভির বার্তা প্রধান শাহ আজিজুর রহমান কিরণ, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তাজুল ইসলাম চৌধুরী তুহিন, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি মো. মুন্না হুসাইন, ইডেন মহিলা কলেজ বিতর্ক দলের দলনেতা মাসনুন নাবিলা আলম প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাবেক জাতীয় বিতার্কিক মো. কাউছার আলম। ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির আয়োজনে ‘মাদককে না বলি, মাদক মুক্ত বাংলাদেশ গড়ি’ স্লোগানে সেমিনারটি আয়োজনে সহযোগিতা করছে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ডিবেটিং সোসাইটি ও ইডেন মহিলা কলেজ ডিবেটিং ক্লাব।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ