ঢাকা ০৭:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কর্মজীবনে সফল হতে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ Logo ফ্যাসিবাদকে ফেরাতে শ্রমিক আন্দোলনের নামে নৈরাজ্যের চেষ্টা চলছে : নুর Logo তাহসিফ হত্যা : রিমান্ড শেষে কারাগারে দিশা Logo মাদকের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির রাজনীতি করার অধিকার নেই: ইশরাক Logo রংপুর কারাগারে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামির মৃত্যু Logo পোশাকশিল্পে অস্থিরতার পেছনে ফ্যাসিবাদী শক্তির হাত রয়েছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo ৭ নভেম্বরের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo ‘ঘরের মাঠে ৫ উইকেট পাওয়া সবসময় স্পেশাল’ Logo হাসানের ৬ উইকেট, দিন শেষ ২৬৮ রানে পিছিয়ে বাংলাদেশ Logo বার্সেলোনার সঙ্গে নতুন চুক্তি রাফিনিয়ার

পর্তুগালকে কেন বিদায় বলে দিলেন রোনালদো

আন্তর্জাতিক ফুটবলে ২৩ বছরের পথচলার ইতি টেনেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ৪১ বছর বয়সী পর্তুগিজ মহাতারকার বিদায়ের ঘোষণায় শেষ হয়েছে এক দীর্ঘ অধ্যায়।

কিন্তু রোনালদোর বিদায়টা কি শুধুই বয়সের কারণে নাকি এর পেছনে কাজ করেছে কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে সাম্প্রতিক বিরোধ? অবসরের কারণ সরাসরি না জানালেও ঘটনাক্রম বলছে, জাতীয় দলে তাকে ঘিরে অস্থিরতাই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে।

অবসরের ঘোষণা দেওয়ার আগে রোনালদো ও জেসুসের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন প্রকাশ্যে চলে আসে। কোচের সিদ্ধান্ত, দলে নিজের ভূমিকা এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে ওঠে। এসব কারণেই রোনালদো জাতীয় দলকে চিরতরে বিদায় বলে দিয়েছেন বলে মনে করছে কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

যেভাবে শুরু

ঘটনার সূত্রপাত ৩০ সেপ্টেম্বর। ডেনমার্কের বিপক্ষে উয়েফা নেশন্স লিগের ম্যাচ সামনে রেখে পর্তুগালের অনুশীলন ক্যাম্প ছেড়ে হঠাৎ চলে যান রোনালদো। তার এমন সিদ্ধান্তে বিস্মিত হন সতীর্থ ও সমর্থকেরা। কারণ, ওই দিন পার্কেন স্টেডিয়ামে দলের সঙ্গে অনুশীলন করার কথা ছিল তার।

ক্যাম্প ছাড়ার আগে পর্তুগালের কোচ জেসুস সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন, ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচে শুরুর একাদশে থাকছেন না রোনালদো। তেমনটা হলে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে বেঞ্চে থাকতে হতো তাকে।

অভিমানে পর্তুগালের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান রোনালদো। ছবি: এআই দিয়ে বানানো

এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বর নরওয়ের বিপক্ষে ২-১ গোলে জেতা ম্যাচেও পুরোটা সময় বেঞ্চে বসে ছিলেন রোনালদো। অথচ এর তিন দিন আগে ওয়েলসের বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়ে পর্তুগালকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি।

কী নিয়ে বিরোধ রোনালদো-জেসুসের

পর্তুগালের অনুশীলন ক্যাম্প ছাড়ার পর রোনালদো নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ইন্সটাগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি জানান, কোচের সংবাদ সম্মেলনের পর এবং পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতির সঙ্গে কথা বলেই তিনি অনুশীলন ক্যাম্প ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

অন্যদিকে, জেসুস শুরুতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেছিলেন। তার বক্তব্য ছিল, রোনালদো চাইলে আবারও জাতীয় দলে ফিরতে পারেন। এমনকি পরবর্তী দল ঘোষণার আগে তাদের মধ্যে আলোচনা হতে পারে।

রোনালদো জাতীয় দলের হয়ে কিভাবে নিজের অধ্যায়ের সমাপ্তি টানতে চান, সেই সিদ্ধান্তও তার ওপরই ছেড়ে দিয়েছিলেন জেসুস।

রোনালদোর ক্লাব আল নাসরেও এক মৌসুম কোচিং করিয়েছেন জেসুস। ফলে দুজনের মধ্যে আগে থেকেই পরিচয় ও কাজের অভিজ্ঞতা ছিল।

প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ রোনালদোর

জেসুসের বক্তব্যের ছয় দিন পর পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে ওঠে। এবার সরাসরি কোচের বিরুদ্ধে কথা বলেন রোনালদো। তার অভিযোগ, জেসুস দুইবার তাকে দেওয়া কথা রাখেননি।

রোনালদোর ভাষ্য অনুযায়ী, নরওয়ে ও ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচ দুটিতে তাকে বিশ্রামে রাখার বিষয়ে আগে থেকেই একটি সমঝোতা হয়েছিল। মূল উদ্দেশ্য ছিল তার শারীরিক সক্ষমতা ও ফিটনেস ঠিক রাখা।

কিন্তু নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের দিন কোচ তাকে জানান, অন্তত ৩০ মিনিট খেলানো হবে। সেই আশ্বাসে প্রস্তুতিও নেন রোনালদো। বিরতির পর থেকেই মাঠে নামার জন্য গা গরম করতে থাকেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে মাঠে নামানো হয়নি।

এ বিষয়ে রোনালদো বলেন, ‘বাকিটা তো সবাই জানেন। বিরতির পর থেকে আমি ওয়ার্মআপ করেছি, মিনিটের পর মিনিট পার হতে দেখেছি। কিন্তু আমাকে আর মাঠে নামানো হয়নি। কোচ আমাকে দেওয়া কথা রাখেননি।’

রোনালদোর দাবি, বিষয়টি নিয়ে পরে জেসুসের সঙ্গে আবারও কথা হয়েছিল। কিন্তু ব্যক্তিগত আলোচনার সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের সামনে কোচের বক্তব্যের কোনো মিল খুঁজে পাননি রোনালদো।

এ কারণে বিষয়টিকে দ্বিতীয়বার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হিসেবে দেখেন তিনি, ‘এটি ছিল দ্বিতীয়বার, যখন তিনি আমাকে দেওয়া কথা রাখেননি। আরো কোনো প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অপেক্ষা না করে আমি অনুশীলন ক্যাম্প ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।’

কারণ না জানিয়েই অবসরের ঘোষণা

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে গতকাল আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন রোনালদো। তবে এই সিদ্ধান্তের পেছনে কোচের সঙ্গে বিরোধের বিষয়টি উল্লেখ করেননি।

বিদায়ের ঘোষণায় রোনালদো বলেন, ‘এটি সহজ সিদ্ধান্ত ছিল না। কারণ, কিছু সিদ্ধান্ত শুধু মাথা দিয়ে নেওয়া যায় না, হৃদয়ের অনুভূতিও সেখানে জড়িয়ে থাকে।’

সমর্থকদের উদ্দেশে রোনালদোর বক্তব্য ছিল আরো আবেগপূর্ণ, ‘আমি যদি কখনো আপনাদের আনন্দ দিয়ে থাকি, আমার কোনো গোল যদি কখনো কাউকে জড়িয়ে ধরতে, দুশ্চিন্তা ভুলতে কিংবা নিজ দেশকে নিয়ে গর্ব করতে সাহায্য করে থাকে, তাহলে আমার সবকিছুই সার্থক।’

তবে অবসরের ঘোষণায় নির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ না করায় জেসুসের সঙ্গে বিরোধই তাঁর সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত কারণ—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। বরং সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো তাঁর বিদায়কে ঘিরে তৈরি করেছে বাড়তি আলোচনা।

বিশ্বকাপেও গড়েছেন ইতিহাস

রোনালদোর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ বড় অধ্যায় ছিল ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ। সেখানে পর্তুগালের হয়ে ৩ গোল করেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে টানা ছয় বিশ্বকাপে গোল করা প্রথম ফুটবলার হওয়ার কীর্তি গড়েন এই ফরোয়ার্ড।

শেষ ষোলোয় স্পেনের কাছে হেরে পর্তুগাল বাদ পড়ার পর রোনালদো বলেন, ‘হ্যাঁ, এটাই ছিল আমার শেষ বিশ্বকাপ। এখন নিজের মতো করে ভাবার এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পাব।’

২৩ বছরের অধ্যায়ের সমাপ্তি

আন্তর্জাতিক ফুটবলে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ও সবচেয়ে বেশি গোল করা—দুই বিশ্ব রেকর্ডই রোনালদো। তবে জাতীয় দলে তার ২৩ বছরের পথচলা শুধু গোল কিংবা রেকর্ডের গল্প নয়; এটি পর্তুগাল ফুটবলের ইতিহাসেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দীর্ঘ সময় ধরে দেশের আক্রমণভাগের নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। তার হাত ধরেই পর্তুগাল পেয়েছে অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত।

তবে শেষটা যে খুব একটা স্বস্তির ছিল না, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে তা স্পষ্ট। কোচের সঙ্গে মতবিরোধ, একাদশে জায়গা না পাওয়া, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ এবং অনুশীলন ক্যাম্প ছেড়ে চলে যাওয়া—সব মিলিয়ে বিদায়ের আগে তৈরি হয়েছিল অস্বস্তিকর পরিস্থিতি।

রোনালদো অবশ্য অবসরের ঘোষণায় কাউকে দায়ী করেননি। বরং সমর্থকদের ভালোবাসা ও স্মৃতির কথা বলেই শেষ করেছেন নিজের আন্তর্জাতিক অধ্যায়।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

 

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

কর্মজীবনে সফল হতে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ

পর্তুগালকে কেন বিদায় বলে দিলেন রোনালদো

আপডেট সময় ০৫:৪৯:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ফুটবলে ২৩ বছরের পথচলার ইতি টেনেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ৪১ বছর বয়সী পর্তুগিজ মহাতারকার বিদায়ের ঘোষণায় শেষ হয়েছে এক দীর্ঘ অধ্যায়।

কিন্তু রোনালদোর বিদায়টা কি শুধুই বয়সের কারণে নাকি এর পেছনে কাজ করেছে কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে সাম্প্রতিক বিরোধ? অবসরের কারণ সরাসরি না জানালেও ঘটনাক্রম বলছে, জাতীয় দলে তাকে ঘিরে অস্থিরতাই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে।

অবসরের ঘোষণা দেওয়ার আগে রোনালদো ও জেসুসের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন প্রকাশ্যে চলে আসে। কোচের সিদ্ধান্ত, দলে নিজের ভূমিকা এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে ওঠে। এসব কারণেই রোনালদো জাতীয় দলকে চিরতরে বিদায় বলে দিয়েছেন বলে মনে করছে কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

যেভাবে শুরু

ঘটনার সূত্রপাত ৩০ সেপ্টেম্বর। ডেনমার্কের বিপক্ষে উয়েফা নেশন্স লিগের ম্যাচ সামনে রেখে পর্তুগালের অনুশীলন ক্যাম্প ছেড়ে হঠাৎ চলে যান রোনালদো। তার এমন সিদ্ধান্তে বিস্মিত হন সতীর্থ ও সমর্থকেরা। কারণ, ওই দিন পার্কেন স্টেডিয়ামে দলের সঙ্গে অনুশীলন করার কথা ছিল তার।

ক্যাম্প ছাড়ার আগে পর্তুগালের কোচ জেসুস সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন, ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচে শুরুর একাদশে থাকছেন না রোনালদো। তেমনটা হলে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে বেঞ্চে থাকতে হতো তাকে।

অভিমানে পর্তুগালের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান রোনালদো। ছবি: এআই দিয়ে বানানো

এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বর নরওয়ের বিপক্ষে ২-১ গোলে জেতা ম্যাচেও পুরোটা সময় বেঞ্চে বসে ছিলেন রোনালদো। অথচ এর তিন দিন আগে ওয়েলসের বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়ে পর্তুগালকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি।

কী নিয়ে বিরোধ রোনালদো-জেসুসের

পর্তুগালের অনুশীলন ক্যাম্প ছাড়ার পর রোনালদো নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ইন্সটাগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি জানান, কোচের সংবাদ সম্মেলনের পর এবং পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতির সঙ্গে কথা বলেই তিনি অনুশীলন ক্যাম্প ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

অন্যদিকে, জেসুস শুরুতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেছিলেন। তার বক্তব্য ছিল, রোনালদো চাইলে আবারও জাতীয় দলে ফিরতে পারেন। এমনকি পরবর্তী দল ঘোষণার আগে তাদের মধ্যে আলোচনা হতে পারে।

রোনালদো জাতীয় দলের হয়ে কিভাবে নিজের অধ্যায়ের সমাপ্তি টানতে চান, সেই সিদ্ধান্তও তার ওপরই ছেড়ে দিয়েছিলেন জেসুস।

রোনালদোর ক্লাব আল নাসরেও এক মৌসুম কোচিং করিয়েছেন জেসুস। ফলে দুজনের মধ্যে আগে থেকেই পরিচয় ও কাজের অভিজ্ঞতা ছিল।

প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ রোনালদোর

জেসুসের বক্তব্যের ছয় দিন পর পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে ওঠে। এবার সরাসরি কোচের বিরুদ্ধে কথা বলেন রোনালদো। তার অভিযোগ, জেসুস দুইবার তাকে দেওয়া কথা রাখেননি।

রোনালদোর ভাষ্য অনুযায়ী, নরওয়ে ও ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচ দুটিতে তাকে বিশ্রামে রাখার বিষয়ে আগে থেকেই একটি সমঝোতা হয়েছিল। মূল উদ্দেশ্য ছিল তার শারীরিক সক্ষমতা ও ফিটনেস ঠিক রাখা।

কিন্তু নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের দিন কোচ তাকে জানান, অন্তত ৩০ মিনিট খেলানো হবে। সেই আশ্বাসে প্রস্তুতিও নেন রোনালদো। বিরতির পর থেকেই মাঠে নামার জন্য গা গরম করতে থাকেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে মাঠে নামানো হয়নি।

এ বিষয়ে রোনালদো বলেন, ‘বাকিটা তো সবাই জানেন। বিরতির পর থেকে আমি ওয়ার্মআপ করেছি, মিনিটের পর মিনিট পার হতে দেখেছি। কিন্তু আমাকে আর মাঠে নামানো হয়নি। কোচ আমাকে দেওয়া কথা রাখেননি।’

রোনালদোর দাবি, বিষয়টি নিয়ে পরে জেসুসের সঙ্গে আবারও কথা হয়েছিল। কিন্তু ব্যক্তিগত আলোচনার সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের সামনে কোচের বক্তব্যের কোনো মিল খুঁজে পাননি রোনালদো।

এ কারণে বিষয়টিকে দ্বিতীয়বার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হিসেবে দেখেন তিনি, ‘এটি ছিল দ্বিতীয়বার, যখন তিনি আমাকে দেওয়া কথা রাখেননি। আরো কোনো প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অপেক্ষা না করে আমি অনুশীলন ক্যাম্প ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।’

কারণ না জানিয়েই অবসরের ঘোষণা

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে গতকাল আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন রোনালদো। তবে এই সিদ্ধান্তের পেছনে কোচের সঙ্গে বিরোধের বিষয়টি উল্লেখ করেননি।

বিদায়ের ঘোষণায় রোনালদো বলেন, ‘এটি সহজ সিদ্ধান্ত ছিল না। কারণ, কিছু সিদ্ধান্ত শুধু মাথা দিয়ে নেওয়া যায় না, হৃদয়ের অনুভূতিও সেখানে জড়িয়ে থাকে।’

সমর্থকদের উদ্দেশে রোনালদোর বক্তব্য ছিল আরো আবেগপূর্ণ, ‘আমি যদি কখনো আপনাদের আনন্দ দিয়ে থাকি, আমার কোনো গোল যদি কখনো কাউকে জড়িয়ে ধরতে, দুশ্চিন্তা ভুলতে কিংবা নিজ দেশকে নিয়ে গর্ব করতে সাহায্য করে থাকে, তাহলে আমার সবকিছুই সার্থক।’

তবে অবসরের ঘোষণায় নির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ না করায় জেসুসের সঙ্গে বিরোধই তাঁর সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত কারণ—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। বরং সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো তাঁর বিদায়কে ঘিরে তৈরি করেছে বাড়তি আলোচনা।

বিশ্বকাপেও গড়েছেন ইতিহাস

রোনালদোর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ বড় অধ্যায় ছিল ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ। সেখানে পর্তুগালের হয়ে ৩ গোল করেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে টানা ছয় বিশ্বকাপে গোল করা প্রথম ফুটবলার হওয়ার কীর্তি গড়েন এই ফরোয়ার্ড।

শেষ ষোলোয় স্পেনের কাছে হেরে পর্তুগাল বাদ পড়ার পর রোনালদো বলেন, ‘হ্যাঁ, এটাই ছিল আমার শেষ বিশ্বকাপ। এখন নিজের মতো করে ভাবার এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পাব।’

২৩ বছরের অধ্যায়ের সমাপ্তি

আন্তর্জাতিক ফুটবলে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ও সবচেয়ে বেশি গোল করা—দুই বিশ্ব রেকর্ডই রোনালদো। তবে জাতীয় দলে তার ২৩ বছরের পথচলা শুধু গোল কিংবা রেকর্ডের গল্প নয়; এটি পর্তুগাল ফুটবলের ইতিহাসেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দীর্ঘ সময় ধরে দেশের আক্রমণভাগের নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। তার হাত ধরেই পর্তুগাল পেয়েছে অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত।

তবে শেষটা যে খুব একটা স্বস্তির ছিল না, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে তা স্পষ্ট। কোচের সঙ্গে মতবিরোধ, একাদশে জায়গা না পাওয়া, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ এবং অনুশীলন ক্যাম্প ছেড়ে চলে যাওয়া—সব মিলিয়ে বিদায়ের আগে তৈরি হয়েছিল অস্বস্তিকর পরিস্থিতি।

রোনালদো অবশ্য অবসরের ঘোষণায় কাউকে দায়ী করেননি। বরং সমর্থকদের ভালোবাসা ও স্মৃতির কথা বলেই শেষ করেছেন নিজের আন্তর্জাতিক অধ্যায়।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ