ঢাকা ১০:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

ভাঙা দর্পণে ঝাপসা সমাজ: মুক্ত সাংবাদিকতা স্তব্ধ করার অশুভ চক্রান্ত

গণমাধ্যমকে বলা হয় সমাজের দর্পণ। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ভিত্তি মজবুত করতে স্বাধীন গণমাধ্যম ও বাকস্বাধীনতার ভূমিকা অপরিসীম। সরকার যখন বারবার মুক্ত গণমাধ্যম এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি ও আশ্বাস দিচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারি রাশেদ খান কর্তৃক প্রকাশ্যে একটি বহুল প্রচারিত দৈনিক পত্রিকা ছিঁড়ে প্রদর্শনের ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
​
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক চিত্রে দেখা যায়, রাজনৈতিক বা দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তিত্ব রাশেদ খান প্রকাশ্যে ‘দৈনিক আমার দেশ’ নামক সংবাদপত্রটি দুই টুকরো করে ছিঁড়ে হাতে ধরে প্রদর্শন করছেন। সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি সরকারের অঙ্গীকার যখন জোরদার করার কথা বলা হচ্ছে, ঠিক সে সময়ে এমন দৃশ্য জাতির সামনে তুলে ধরাকে অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক একটি ঘটনা হিসেবে দেখছেন গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞ ও সচেতন মহল।

একটি সংবাদপত্র জনসমক্ষে ছিঁড়ে ফেলা কেবল কাগজের টুকরো ছেঁড়া নয়, বরং এটি সমগ্র গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের মুক্ত লেখনীর ওপর এক প্রকার প্রত্যক্ষ আঘাত। এ ধরনের কর্মকাণ্ড সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও বাক স্বাধীনতাকে ভুলুণ্ঠিত করার একটি হীন প্রয়াস। এ জাতীয় প্রদর্শনীর ফলে স্বাধীন সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হয় এবং পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকরা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন। যে দেশে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সংকুচিত হয় এবং গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না, সেখানে গণতন্ত্র কখনো সঠিকভাবে এগিয়ে যেতে পারে না।

গণমাধ্যম যদি সমাজের আয়না বা দর্পণ হয়, তবে সেটিকে এভাবে ছিঁড়ে ফেলা, ভাঙা বা ঝাপসা করে দেওয়ার মানে হলো সত্য প্রকাশের পথ রুদ্ধ করা। ভাঙা বা ক্ষতিগ্রস্ত দর্পণে সমাজের সঠিক ও বাস্তব চিত্র কখনো সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠতে পারে না।
​
একটি সংবাদপত্রের যেকোনো সংবাদ, প্রতিবেদন বা লেখনী নিয়ে যেকোনো ব্যক্তি বা পক্ষের আপত্তি বা ক্ষোভ থাকতে পারে। সংবাদের মধ্যে তথ্যগত ভুল থাকা বা তা কারো বিপক্ষে যাওয়া অসম্ভব কিছু নয়। তবে তার জন্য দেশে সুনির্দিষ্ট আইন ও নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থা বিদ্যমান রয়েছে।

সংবাদের ব্যাপারে আপত্তি থাকলে সংশ্লিষ্ট সংবাদপত্রে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদলিপি পাঠানো যায়। গঠনমূলক সমাধানের জন্য সংবাদপত্রের তদারকি প্রতিষ্ঠান ‘প্রেস কাউন্সিল’-এ অভিযোগ দায়ের করা সম্ভব। সংবাদের কারণে মানহানি ঘটে থাকলে আইনানুগভাবে মানহানির মামলা করার অধিকার প্রত্যেকের রয়েছে।

নিয়মতান্ত্রিক ও আইনি পথ এড়িয়ে প্রকাশ্যে পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলা বা অশ্রদ্ধা প্রদর্শন করা কোনোভাবেই কাম্য বা গ্রহণযোগ্য আচরণ হতে পারে না। মুক্ত গণমাধ্যম ও স্বাধীন সাংবাদিকতা রক্ষায় যেকোনো প্রকার আক্রমণাত্মক আচরণ রোধে সংশ্লিষ্ট সকলেরই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা উচিত।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়সহ সরকারের সর্বোচ্চ মহলের কাছে আমাদের জোর দাবি—অবিলম্বে এ ঘটনার সঠিক তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
​
অন্যথায়, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা রক্ষায় দেশের সকল সাংবাদিক সমাজ কঠোর কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।

বাংলা৭১নিউজ/এসএইচবি

Tag :

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

ভাঙা দর্পণে ঝাপসা সমাজ: মুক্ত সাংবাদিকতা স্তব্ধ করার অশুভ চক্রান্ত

আপডেট সময় ০৬:৩৮:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

গণমাধ্যমকে বলা হয় সমাজের দর্পণ। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ভিত্তি মজবুত করতে স্বাধীন গণমাধ্যম ও বাকস্বাধীনতার ভূমিকা অপরিসীম। সরকার যখন বারবার মুক্ত গণমাধ্যম এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি ও আশ্বাস দিচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারি রাশেদ খান কর্তৃক প্রকাশ্যে একটি বহুল প্রচারিত দৈনিক পত্রিকা ছিঁড়ে প্রদর্শনের ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
​
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক চিত্রে দেখা যায়, রাজনৈতিক বা দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তিত্ব রাশেদ খান প্রকাশ্যে ‘দৈনিক আমার দেশ’ নামক সংবাদপত্রটি দুই টুকরো করে ছিঁড়ে হাতে ধরে প্রদর্শন করছেন। সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি সরকারের অঙ্গীকার যখন জোরদার করার কথা বলা হচ্ছে, ঠিক সে সময়ে এমন দৃশ্য জাতির সামনে তুলে ধরাকে অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক একটি ঘটনা হিসেবে দেখছেন গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞ ও সচেতন মহল।

একটি সংবাদপত্র জনসমক্ষে ছিঁড়ে ফেলা কেবল কাগজের টুকরো ছেঁড়া নয়, বরং এটি সমগ্র গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের মুক্ত লেখনীর ওপর এক প্রকার প্রত্যক্ষ আঘাত। এ ধরনের কর্মকাণ্ড সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও বাক স্বাধীনতাকে ভুলুণ্ঠিত করার একটি হীন প্রয়াস। এ জাতীয় প্রদর্শনীর ফলে স্বাধীন সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হয় এবং পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকরা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন। যে দেশে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সংকুচিত হয় এবং গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না, সেখানে গণতন্ত্র কখনো সঠিকভাবে এগিয়ে যেতে পারে না।

গণমাধ্যম যদি সমাজের আয়না বা দর্পণ হয়, তবে সেটিকে এভাবে ছিঁড়ে ফেলা, ভাঙা বা ঝাপসা করে দেওয়ার মানে হলো সত্য প্রকাশের পথ রুদ্ধ করা। ভাঙা বা ক্ষতিগ্রস্ত দর্পণে সমাজের সঠিক ও বাস্তব চিত্র কখনো সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠতে পারে না।
​
একটি সংবাদপত্রের যেকোনো সংবাদ, প্রতিবেদন বা লেখনী নিয়ে যেকোনো ব্যক্তি বা পক্ষের আপত্তি বা ক্ষোভ থাকতে পারে। সংবাদের মধ্যে তথ্যগত ভুল থাকা বা তা কারো বিপক্ষে যাওয়া অসম্ভব কিছু নয়। তবে তার জন্য দেশে সুনির্দিষ্ট আইন ও নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থা বিদ্যমান রয়েছে।

সংবাদের ব্যাপারে আপত্তি থাকলে সংশ্লিষ্ট সংবাদপত্রে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদলিপি পাঠানো যায়। গঠনমূলক সমাধানের জন্য সংবাদপত্রের তদারকি প্রতিষ্ঠান ‘প্রেস কাউন্সিল’-এ অভিযোগ দায়ের করা সম্ভব। সংবাদের কারণে মানহানি ঘটে থাকলে আইনানুগভাবে মানহানির মামলা করার অধিকার প্রত্যেকের রয়েছে।

নিয়মতান্ত্রিক ও আইনি পথ এড়িয়ে প্রকাশ্যে পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলা বা অশ্রদ্ধা প্রদর্শন করা কোনোভাবেই কাম্য বা গ্রহণযোগ্য আচরণ হতে পারে না। মুক্ত গণমাধ্যম ও স্বাধীন সাংবাদিকতা রক্ষায় যেকোনো প্রকার আক্রমণাত্মক আচরণ রোধে সংশ্লিষ্ট সকলেরই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা উচিত।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়সহ সরকারের সর্বোচ্চ মহলের কাছে আমাদের জোর দাবি—অবিলম্বে এ ঘটনার সঠিক তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
​
অন্যথায়, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা রক্ষায় দেশের সকল সাংবাদিক সমাজ কঠোর কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।

বাংলা৭১নিউজ/এসএইচবি