ঢাকা ০৭:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কর্মজীবনে সফল হতে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ Logo ফ্যাসিবাদকে ফেরাতে শ্রমিক আন্দোলনের নামে নৈরাজ্যের চেষ্টা চলছে : নুর Logo তাহসিফ হত্যা : রিমান্ড শেষে কারাগারে দিশা Logo মাদকের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির রাজনীতি করার অধিকার নেই: ইশরাক Logo রংপুর কারাগারে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামির মৃত্যু Logo পোশাকশিল্পে অস্থিরতার পেছনে ফ্যাসিবাদী শক্তির হাত রয়েছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo ৭ নভেম্বরের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo ‘ঘরের মাঠে ৫ উইকেট পাওয়া সবসময় স্পেশাল’ Logo হাসানের ৬ উইকেট, দিন শেষ ২৬৮ রানে পিছিয়ে বাংলাদেশ Logo বার্সেলোনার সঙ্গে নতুন চুক্তি রাফিনিয়ার

৭ নভেম্বরের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দল-মত-নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

৭ নভেম্বর মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে এক অবিস্মরণীয় দিন। দেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ এই সন্ধিক্ষণে ঐক্যবদ্ধ সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশ স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ফিরে পায়। এ সময় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন। জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থনে তার ওপর রাষ্ট্র পরিচালনা ও জাতীয় সংকট উত্তরণের দায়িত্ব অর্পিত হয়।

বাণীতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সিপাহি ও জনতার সংহতি ছিল স্বাধীনতার চেতনায় উজ্জীবিত এক অভূতপূর্ব জাগরণ। একই চেতনার পুনর্জাগরণ ঘটে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে। ছাত্র-ছাত্রী, নারী-পুরুষ, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যসহ সর্বস্তরের মানুষের ঐক্যে দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার বিপর্যয় থেকে রক্ষা পায়।

রাষ্ট্রপতি বলেন, জাতীয় জীবনে ৭ নভেম্বরের বিপ্লব ও সংহতির গুরুত্ব অপরিসীম। এর ধারাবাহিকতায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং বাক ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। অর্থনৈতিক মুক্তি ও সামাজিক শান্তি প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি বাংলাদেশকে নতজানু পররাষ্ট্রনীতি থেকে মুক্ত করেন তিনি। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে জাতিকে উন্নয়ন, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেন এবং সর্বস্তরে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করেন।

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে বারবার ষড়যন্ত্র হয়েছে, গণতন্ত্র ভূলুণ্ঠিত হয়েছে এবং ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন চেপে বসেছে।

তবে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি নির্বাচিত সরকারের নেতৃত্বে দেশ আবার গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে।

এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসহ রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানকে আরো শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি। জাতীয় সমস্যা সমাধানে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আলোচনার পাশাপাশি জাতীয় সংসদকে কেন্দ্রবিন্দুতে রাখার আহ্বান জানান তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ৭ নভেম্বরের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে দেশ ও জনগণের স্বার্থে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দর্শনের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালিত হবে। জাতীয় স্বার্থ, সাম্য, ন্যায্যতা ও গণতন্ত্রচর্চা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে।

স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং ৭ নভেম্বরের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দুর্নীতি, বৈষম্য ও সব ষড়যন্ত্রের অবসান ঘটাতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

 

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

কর্মজীবনে সফল হতে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ

৭ নভেম্বরের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

আপডেট সময় ০৬:০০:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দল-মত-নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

৭ নভেম্বর মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে এক অবিস্মরণীয় দিন। দেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ এই সন্ধিক্ষণে ঐক্যবদ্ধ সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশ স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ফিরে পায়। এ সময় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন। জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থনে তার ওপর রাষ্ট্র পরিচালনা ও জাতীয় সংকট উত্তরণের দায়িত্ব অর্পিত হয়।

বাণীতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সিপাহি ও জনতার সংহতি ছিল স্বাধীনতার চেতনায় উজ্জীবিত এক অভূতপূর্ব জাগরণ। একই চেতনার পুনর্জাগরণ ঘটে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে। ছাত্র-ছাত্রী, নারী-পুরুষ, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যসহ সর্বস্তরের মানুষের ঐক্যে দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার বিপর্যয় থেকে রক্ষা পায়।

রাষ্ট্রপতি বলেন, জাতীয় জীবনে ৭ নভেম্বরের বিপ্লব ও সংহতির গুরুত্ব অপরিসীম। এর ধারাবাহিকতায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং বাক ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। অর্থনৈতিক মুক্তি ও সামাজিক শান্তি প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি বাংলাদেশকে নতজানু পররাষ্ট্রনীতি থেকে মুক্ত করেন তিনি। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে জাতিকে উন্নয়ন, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেন এবং সর্বস্তরে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করেন।

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে বারবার ষড়যন্ত্র হয়েছে, গণতন্ত্র ভূলুণ্ঠিত হয়েছে এবং ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন চেপে বসেছে।

তবে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি নির্বাচিত সরকারের নেতৃত্বে দেশ আবার গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে।

এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসহ রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানকে আরো শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি। জাতীয় সমস্যা সমাধানে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আলোচনার পাশাপাশি জাতীয় সংসদকে কেন্দ্রবিন্দুতে রাখার আহ্বান জানান তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ৭ নভেম্বরের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে দেশ ও জনগণের স্বার্থে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দর্শনের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালিত হবে। জাতীয় স্বার্থ, সাম্য, ন্যায্যতা ও গণতন্ত্রচর্চা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে।

স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং ৭ নভেম্বরের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দুর্নীতি, বৈষম্য ও সব ষড়যন্ত্রের অবসান ঘটাতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ