ঢাকা ০১:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৩ বছরে ২০০ কোটি ডলার ক্ষতির আশঙ্কা

বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার শিক্ষার্থীদের জন্য কঠিন অস্ট্রেলিয়ার দরজা

অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক শিক্ষা খাতে চরম মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। উচ্চশিক্ষার অন্যতম প্রধান বৈশ্বিক গন্তব্য হিসেবে পরিচিত দেশটি বর্তমানে এক অভূতপূর্ব সংকটের মুখোমুখি। অস্ট্রেলিয়া সরকারের অতিরিক্ত কঠোর অভিবাসন ও ভিসা নীতির কারণে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা এক ধাক্কায় রেকর্ড পরিমাণে কমে গেছে। এর ফলে আগামী তিন বছরে দেশটির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আয় প্রায় ২০০ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলার বা প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার হ্রাস পাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে—ভিসা প্রত্যাখ্যানের রেকর্ড হার এবং নীতিগত অনিশ্চয়তা কেবল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অর্থনীতিতেই আঘাত হানেনি, বরং দেশটির বিশ্বমানের শিক্ষা ব্যবস্থার সুনামকেও ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
​
অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার বেড়ে রেকর্ড ২৪.২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা ২০১৬ সালেও ছিল মাত্র ৭.৯ শতাংশ। অর্থাৎ বর্তমানে প্রতি চারজন আবেদনকারীর মধ্যে অন্তত একজনের ভিসা আবেদন বাতিল হয়ে যাচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের শিক্ষাবর্ষে দেশটির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নতুন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৮ শতাংশ কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ। এই কঠোর নীতির সবচেয়ে বড় শিকার দক্ষিণ এশিয়ার শিক্ষার্থীরা। দেশভিত্তিক হিসেবে দেখা যায়, নেপালের আবেদনকারীদের ৫১ শতাংশের বেশি এবং ভারতের ৪০ শতাংশের বেশি আবেদন বাতিল হয়েছে। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক; আন্তর্জাতিক সাময়িকী টাইমস হায়ার এডুকেশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে ভিসা আবেদনের প্রত্যাখ্যানের হার রেকর্ড ৭৮ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে।
​
অথচ করোনা মহামারী কাটিয়ে ওঠার পর ২০২৩-২৪ অর্থবছরে অস্ট্রেলিয়ায় প্রতি বছর প্রায় ৭ লাখ থেকে সাড়ে ৮ লাখের বেশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী অবস্থান ও পড়াশোনা করছিলেন। দেশটির অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষা খাতের বার্ষিক অবদান ছিল প্রায় ৪ হাজার কোটি বা ৪০ বিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলার। খনি ও বাণিজ্য খাতের পর এটিই ছিল দেশটির অন্যতম শীর্ষ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের উৎস। কিন্তু পরবর্তীতে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এবং অস্থায়ী আবাসন সংকট সামলাতে ক্যানবেরা সরকার ভিসা নীতিতে বেশ কিছু কঠোর ও আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসে।
​
মূলত কয়েকটি প্রধান বাধার কারণে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় শিক্ষার্থী সংখ্যা ব্যাপকভাবে হ্রাস পাচ্ছে। প্রথমত, পূর্বে চালু থাকা জেনুইন টেম্পোরারি এন্ট্রান্ট নিয়ম বাতিল করে ২০২৪ সালে চালু করা হয় জেনুইন স্টুডেন্ট পরীক্ষা। এই পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী সত্যিই পড়াশোনার উদ্দেশ্যে আসছেন নাকি স্থায়ী বসবাসের চেষ্টা করছেন—তা অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে যাচাই করা হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, মিনিস্টোরিয়াল ডিরেকশন ১০৬ ব্যবস্থার অধীনে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ঝুঁকি পরিমাপ করে সেগুলোকে ১, ২ ও ৩ ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়। এর ফলে নির্দিষ্ট কিছু দেশের ও কম র‍্যাংকিংয়ের কলেজের শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রক্রিয়াকরণে ব্যাপক সময়ক্ষেপণ ও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। তৃতীয়ত, শিক্ষার্থীদের ব্যাংক ব্যালেন্সের নূন্যতম শর্ত উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে এবং আবাসন ও জীবনযাত্রার ব্যয় বাবদ যথেষ্ট তহবিলের সুনির্দিষ্ট ও কড়া প্রমাণ জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। চতুর্থত, আইইএলটিএসসহ অন্যান্য ইংরেজি দক্ষতা পরীক্ষার নূন্যতম স্কোর বাড়ানো হয়েছে। পঞ্চমত, অধ্যয়ন শেষে ব্যাচেলর বা মাস্টার্সধারীদের জন্য অস্থায়ী ওয়ার্ক পারমিট বা টেম্পোরারি গ্র্যাজুয়েট ভিসার মেয়াদ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষে, শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন ফি একলাফে আগের চেয়ে দ্বিগুণ করা হয়েছে, যা বহু আবেদনকারীর জন্য একটি বড় আর্থিক ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
​
আন্তর্জাতিক শিক্ষা খাত থেকে বিশাল আয়ের ঘাটতি ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তীব্র প্রতিবাদের মুখে এখন পরিস্থিতি পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হচ্ছে অ্যালবানিজি সরকার। অস্ট্রেলিয়ার সহকারী শিক্ষামন্ত্রী জুলিয়ান হিল স্বীকার করেছেন যে, ভিসা ব্যবস্থার অতিরিক্ত কঠোরতা এখন প্রকৃত ও মেধাবী শিক্ষার্থীদেরও নিরুৎসাহিত করছে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশীয় বাজারে অস্ট্রেলিয়া তার দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত অবস্থান হারাচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের পক্ষ থেকে দক্ষিণ এশিয়ার আবেদনকারীদের জন্য আর্থিক সক্ষমতা যাচাইয়ের মানদণ্ডে শিথিলতা আনা এবং বিতর্কিত মিনিস্টোরিয়াল ডিরেকশন ১০৬-এর পরিবর্তে নতুন ও তুলনামূলক নমনীয় দিকনির্দেশনা প্রণয়নের আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞ সংস্থাগুলোর মতামত নেওয়া শুরু করেছে।
​
বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্ট্রেলিয়া যদি দ্রুত তাদের কঠোর ভিসা নীতিতে সামঞ্জস্য না আনে, তবে দক্ষিণ এশিয়ার মেধা ও অর্থনৈতিক প্রবাহ বিকল্প গন্তব্যে চলে যাবে। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশি ও ভারতীয় শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ কানাডা, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোর দিকে ঝুঁকছে। সরকার যদিও জোর দিচ্ছে যে তাদের মূল লক্ষ্য ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার রোধ ও ‘প্রকৃত শিক্ষার্থী’ বাছাই করা, তবে নীতিগত দীর্ঘসূত্রতা ও অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে অস্ট্রেলিয়ার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা ও সার্বিক পরিচালন ব্যবস্থা আগামীতে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে।

বাংলা৭১নিউজ/জাহোতি

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

৩ বছরে ২০০ কোটি ডলার ক্ষতির আশঙ্কা

বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার শিক্ষার্থীদের জন্য কঠিন অস্ট্রেলিয়ার দরজা

আপডেট সময় ০৮:০৪:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক শিক্ষা খাতে চরম মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। উচ্চশিক্ষার অন্যতম প্রধান বৈশ্বিক গন্তব্য হিসেবে পরিচিত দেশটি বর্তমানে এক অভূতপূর্ব সংকটের মুখোমুখি। অস্ট্রেলিয়া সরকারের অতিরিক্ত কঠোর অভিবাসন ও ভিসা নীতির কারণে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা এক ধাক্কায় রেকর্ড পরিমাণে কমে গেছে। এর ফলে আগামী তিন বছরে দেশটির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আয় প্রায় ২০০ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলার বা প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার হ্রাস পাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে—ভিসা প্রত্যাখ্যানের রেকর্ড হার এবং নীতিগত অনিশ্চয়তা কেবল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অর্থনীতিতেই আঘাত হানেনি, বরং দেশটির বিশ্বমানের শিক্ষা ব্যবস্থার সুনামকেও ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
​
অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার বেড়ে রেকর্ড ২৪.২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা ২০১৬ সালেও ছিল মাত্র ৭.৯ শতাংশ। অর্থাৎ বর্তমানে প্রতি চারজন আবেদনকারীর মধ্যে অন্তত একজনের ভিসা আবেদন বাতিল হয়ে যাচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের শিক্ষাবর্ষে দেশটির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নতুন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৮ শতাংশ কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ। এই কঠোর নীতির সবচেয়ে বড় শিকার দক্ষিণ এশিয়ার শিক্ষার্থীরা। দেশভিত্তিক হিসেবে দেখা যায়, নেপালের আবেদনকারীদের ৫১ শতাংশের বেশি এবং ভারতের ৪০ শতাংশের বেশি আবেদন বাতিল হয়েছে। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক; আন্তর্জাতিক সাময়িকী টাইমস হায়ার এডুকেশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে ভিসা আবেদনের প্রত্যাখ্যানের হার রেকর্ড ৭৮ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে।
​
অথচ করোনা মহামারী কাটিয়ে ওঠার পর ২০২৩-২৪ অর্থবছরে অস্ট্রেলিয়ায় প্রতি বছর প্রায় ৭ লাখ থেকে সাড়ে ৮ লাখের বেশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী অবস্থান ও পড়াশোনা করছিলেন। দেশটির অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষা খাতের বার্ষিক অবদান ছিল প্রায় ৪ হাজার কোটি বা ৪০ বিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলার। খনি ও বাণিজ্য খাতের পর এটিই ছিল দেশটির অন্যতম শীর্ষ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের উৎস। কিন্তু পরবর্তীতে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এবং অস্থায়ী আবাসন সংকট সামলাতে ক্যানবেরা সরকার ভিসা নীতিতে বেশ কিছু কঠোর ও আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসে।
​
মূলত কয়েকটি প্রধান বাধার কারণে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় শিক্ষার্থী সংখ্যা ব্যাপকভাবে হ্রাস পাচ্ছে। প্রথমত, পূর্বে চালু থাকা জেনুইন টেম্পোরারি এন্ট্রান্ট নিয়ম বাতিল করে ২০২৪ সালে চালু করা হয় জেনুইন স্টুডেন্ট পরীক্ষা। এই পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী সত্যিই পড়াশোনার উদ্দেশ্যে আসছেন নাকি স্থায়ী বসবাসের চেষ্টা করছেন—তা অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে যাচাই করা হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, মিনিস্টোরিয়াল ডিরেকশন ১০৬ ব্যবস্থার অধীনে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ঝুঁকি পরিমাপ করে সেগুলোকে ১, ২ ও ৩ ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়। এর ফলে নির্দিষ্ট কিছু দেশের ও কম র‍্যাংকিংয়ের কলেজের শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রক্রিয়াকরণে ব্যাপক সময়ক্ষেপণ ও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। তৃতীয়ত, শিক্ষার্থীদের ব্যাংক ব্যালেন্সের নূন্যতম শর্ত উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে এবং আবাসন ও জীবনযাত্রার ব্যয় বাবদ যথেষ্ট তহবিলের সুনির্দিষ্ট ও কড়া প্রমাণ জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। চতুর্থত, আইইএলটিএসসহ অন্যান্য ইংরেজি দক্ষতা পরীক্ষার নূন্যতম স্কোর বাড়ানো হয়েছে। পঞ্চমত, অধ্যয়ন শেষে ব্যাচেলর বা মাস্টার্সধারীদের জন্য অস্থায়ী ওয়ার্ক পারমিট বা টেম্পোরারি গ্র্যাজুয়েট ভিসার মেয়াদ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষে, শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন ফি একলাফে আগের চেয়ে দ্বিগুণ করা হয়েছে, যা বহু আবেদনকারীর জন্য একটি বড় আর্থিক ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
​
আন্তর্জাতিক শিক্ষা খাত থেকে বিশাল আয়ের ঘাটতি ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তীব্র প্রতিবাদের মুখে এখন পরিস্থিতি পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হচ্ছে অ্যালবানিজি সরকার। অস্ট্রেলিয়ার সহকারী শিক্ষামন্ত্রী জুলিয়ান হিল স্বীকার করেছেন যে, ভিসা ব্যবস্থার অতিরিক্ত কঠোরতা এখন প্রকৃত ও মেধাবী শিক্ষার্থীদেরও নিরুৎসাহিত করছে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশীয় বাজারে অস্ট্রেলিয়া তার দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত অবস্থান হারাচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের পক্ষ থেকে দক্ষিণ এশিয়ার আবেদনকারীদের জন্য আর্থিক সক্ষমতা যাচাইয়ের মানদণ্ডে শিথিলতা আনা এবং বিতর্কিত মিনিস্টোরিয়াল ডিরেকশন ১০৬-এর পরিবর্তে নতুন ও তুলনামূলক নমনীয় দিকনির্দেশনা প্রণয়নের আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞ সংস্থাগুলোর মতামত নেওয়া শুরু করেছে।
​
বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্ট্রেলিয়া যদি দ্রুত তাদের কঠোর ভিসা নীতিতে সামঞ্জস্য না আনে, তবে দক্ষিণ এশিয়ার মেধা ও অর্থনৈতিক প্রবাহ বিকল্প গন্তব্যে চলে যাবে। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশি ও ভারতীয় শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ কানাডা, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোর দিকে ঝুঁকছে। সরকার যদিও জোর দিচ্ছে যে তাদের মূল লক্ষ্য ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার রোধ ও ‘প্রকৃত শিক্ষার্থী’ বাছাই করা, তবে নীতিগত দীর্ঘসূত্রতা ও অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে অস্ট্রেলিয়ার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা ও সার্বিক পরিচালন ব্যবস্থা আগামীতে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে।

বাংলা৭১নিউজ/জাহোতি