ঢাকা ০৭:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo স্ত্রীকে নিয়ে টয়োটার প্রথম প্রাইভেটকারে উঠলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান Logo হামলার ক্ষণ গুনছে যুক্তরাষ্ট্র, শেষ মুহূর্তে ইরানকে চিঠি ভ্যান্সের Logo নেতৃত্ব আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে, মেনে নেন— জামায়াতকে আম্মার Logo বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ Logo কাঁধের হাড় সরে যাওয়া বায়ার্ন মিউনিখ কোচ এখন কেমন আছেন Logo ‘ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনাটি যদি আরেকটু পরে ঘটত…’ Logo প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের সুপারিশ Logo লাল কার্ড দেখার পর প্রতিপক্ষকে আঘাত করায় ৬ মাস নিষিদ্ধ Logo হরমুজে মাইন বিস্ফোরণে তিন ট্যাংকারে আগুন Logo ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা, গেজেট প্রকাশ করল সরকার

ব্রিটেনের বাজেটে কার লাভ, কার ওপর বাড়তি চাপ?

সংসারের বাড়তি খরচ সামলাতে হিমশিম খাওয়া পরিবারগুলোর জন্য কিছুটা স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে যুক্তরাজ্যের নতুন বাজেট। জ্বালানি সহায়তা, ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি, প্রথমবার বাড়ি কেনার সুযোগ এবং ব্যবসায় বিনিয়োগের পরিকল্পনার পাশাপাশি সঞ্চয় ও সম্পত্তি থেকে আয়ের ওপর কর বাড়ানোর উদ্যোগও রয়েছে।

এতে কিছু পরিবার ও কর্মী উপকৃত হলেও বাড়ির মালিক, সঞ্চয়কারী ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।

গতকাল বুধবার (২৮ অক্টোবর) প্রকাশিত বাজেটে সর্বোচ্চ দুই কোটি পরিবারের জন্য ১০০ পাউন্ডের জ্বালানি সহায়তা, বিদ্যুৎ বিলে সাময়িক ভ্যাট ছাড়ের মেয়াদ বৃদ্ধি, সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণ এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। তবে এসব উদ্যোগের প্রকৃত সুফল নির্ভর করবে মূল্যস্ফীতি, আবাসন ব্যয় ও বাস্তবায়নের ওপর।

জ্বালানি বিলে স্বস্তি, মজুরিতে বাড়তি আয়

২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ইংল্যান্ডের কাউন্সিল ট্যাক্স ব্যান্ড এ থেকে ডিতে থাকা যোগ্য পরিবারগুলোকে ১০০ পাউন্ড করে জ্বালানি সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ কর্মসূচিতে ২.৬ বিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে। ঘরোয়া বিদ্যুৎ বিলে সাময়িক শূন্য শতাংশ ভ্যাটের মেয়াদও ২০২৭ সালের জুলাই পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা রয়েছে। সরকারের হিসাবে, এতে বছরে প্রায় ৫০ পাউন্ড সাশ্রয় হতে পারে।

জ্বালানি ব্যয়ে চাপে থাকা পরিবারগুলোর জন্য এসব উদ্যোগ সহায়ক হতে পারে।

তবে এককালীন ১০০ পাউন্ডের সহায়তা দীর্ঘমেয়াদি মূল্যবৃদ্ধির পুরো চাপ সামলানোর জন্য যথেষ্ট নয়। গ্যাসের স্থায়ী চার্জ বিলোপের উদ্যোগও গ্রাহকদের সুবিধা দিতে পারে। তবে সেই খরচ ইউনিটপ্রতি দামে যুক্ত হলে বেশি গ্যাস ব্যবহারকারী কিছু পরিবারের সাশ্রয় সীমিত হতে পারে।

অন্যদিকে, ২০২৭ সালের ১ এপ্রিল থেকে জাতীয় লিভিং ওয়েজ ঘণ্টাপ্রতি ১৩.২১ পাউন্ডে উন্নীত করার ঘোষণা রয়েছে। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, পূর্ণকালীন ন্যূনতম মজুরির একজন কর্মীর বার্ষিক মোট আয় প্রায় ৯১০ পাউন্ড বাড়তে পারে।

১৮ থেকে ২০ বছর বয়সীদের ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টাপ্রতি ১১.২৭ পাউন্ড এবং ১৬ থেকে ১৭ বছর বয়সী কর্মী ও যোগ্য শিক্ষানবিশদের মজুরি ৮.৩১ পাউন্ড করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

এতে কম মজুরির কর্মীদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়তে পারে। তবে বাড়িভাড়া, জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকলে সেই সুফল কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে ছোট ব্যবসার শ্রমব্যয় বাড়ায় কিছু প্রতিষ্ঠানকে পণ্যের দাম নির্ধারণ ও কর্মী নিয়োগের বিষয়ে নতুন করে হিসাব করতে হতে পারে।

প্রথমবার বাড়ি কেনা ও ব্যবসায় সহায়তা

প্রথমবার বাড়ি কিনতে ইচ্ছুকদের জন্য ৪.৭ বিলিয়ন পাউন্ডের ‘ইয়োর ফার্স্ট হোম’ ইকুইটি-লোন কর্মসূচির ঘোষণা রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রায় ৭০ হাজার পরিবারকে সহায়তার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। যোগ্য ক্রেতারা বাড়ির মূল্যের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত সরকারি ইকুইটি ঋণ পেতে পারেন। প্রথম পাঁচ বছর সুদমুক্ত সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

সামাজিক ও সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণে অতিরিক্ত ১.৫ বিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে বাড়ি কেনার প্রাথমিক আর্থিক বাধা কমতে পারে। তবে বাড়ির দাম, বন্ধকী ঋণের সুদ ও যোগ্যতার শর্তের কারণে অনেক পরিবারের জন্য বাড়ি কেনা কঠিনই থাকতে পারে। নতুন বাড়ি নির্মাণের গতি এবং সাশ্রয়ী ভাড়ার ব্যবস্থা কতটা কার্যকর হয়, তার ওপরও আবাসন সংকট কমার বিষয়টি নির্ভর করবে।

ছোট দোকান, রেস্তোরাঁ, ক্যাফে ও অবসর খাতের যোগ্য ব্যবসার জন্য বিজনেস রেটসে ছাড় এবং কিছু আমদানি শুল্ক সাময়িক স্থগিত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। এতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালন ব্যয় কমতে পারে। তবে শ্রম, বিদ্যুৎ, পরিবহন ও ভাড়ার খরচ বেশি থাকলে এ সাশ্রয়ের পুরো সুবিধা গ্রাহকদের কাছে কম দামে পণ্য বা সেবা হিসেবে পৌঁছাবে কি না, তা নিশ্চিত নয়।

সঞ্চয় ও সম্পত্তির আয়ে বাড়তি কর

বাজেটের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলোর মধ্যে রয়েছে সঞ্চয় ও সম্পত্তি থেকে আয়ের ওপর কর বৃদ্ধি। ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে এসব আয়ের করহার মৌলিক স্তরে ২০ থেকে ২৪ শতাংশ, উচ্চতর স্তরে ৪০ থেকে ৪৪ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ স্তরে ৪৫ থেকে ৪৯ শতাংশ করার পরিকল্পনা রয়েছে। ব্যাংকের কর-সারচার্জও ৩ থেকে ৬ শতাংশে বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এতে সঞ্চয়ের সুদ বা বাড়িভাড়া থেকে আয়ের ওপর নির্ভরশীল কিছু ব্যক্তির কর-পরবর্তী আয় কমতে পারে। তবে ব্যক্তিগত আয়, করমুক্ত সীমা ও প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী এর প্রভাব ভিন্ন হবে। ব্যাংকগুলোর বাড়তি কর ঋণ বা আমানতের সুদে প্রভাব ফেলবে কি না, সেটিও পর্যবেক্ষণের বিষয়।

বিনিয়োগ ও অর্থনীতির সামনে চ্যালেঞ্জ

ন্যাশনাল ওয়েলথ ফান্ড ও ব্রিটিশ বিজনেস ব্যাংকের জন্য ২০.৪ বিলিয়ন পাউন্ড অতিরিক্ত মূলধনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, এ বিনিয়োগ ব্যবসা সম্প্রসারণ, কৌশলগত শিল্পের বিকাশ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করবে। প্রতিরক্ষা খাতেও বড় অঙ্কের বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে এসব উদ্যোগের সুফল নির্ভর করবে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর। অফিস ফর বাজেট রেসপনসিবিলিটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ১.২ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ১ শতাংশ হতে পারে। মূল্যস্ফীতি ও সরকারি ঋণের সুদ পরিশোধের ব্যয়ও সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ। অর্থনীতি প্রত্যাশার চেয়ে দুর্বল হলে ভবিষ্যতে নতুন সহায়তা দেওয়ার আর্থিক সুযোগ সংকুচিত হতে পারে।

বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য কী অর্থ বহন করছে বাজেট?

যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর ওপর বাজেটের প্রভাব নির্ভর করবে তাঁদের আয়, কর্মসংস্থান, সঞ্চয় ও আবাসনের অবস্থার ওপর। যোগ্য নিম্ন মজুরির কর্মীরা বাড়তি আয়ের সুবিধা পেতে পারেন। যোগ্য পরিবারগুলো জ্বালানি সহায়তা থেকেও উপকৃত হতে পারে।

অন্যদিকে, বাড়িভাড়া বা সঞ্চয়ের সুদ থেকে আয় করেন এমন ব্যক্তিদের জন্য বাড়তি কর গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বাংলাদেশি মালিকানাধীন দোকান ও রেস্তোরাঁর ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক করছাড় প্রযোজ্য হবে কি না, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের যোগ্যতার ওপর। প্রথমবার বাড়ি কিনতে ইচ্ছুকদেরও কর্মসূচির শর্ত যাচাই করতে হবে। এসব সুবিধা জাতীয়তার ভিত্তিতে নয়, বরং সরকারি নিয়ম ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে।

সব মিলিয়ে, বাজেটের সাফল্য শুধু ঘোষিত অর্থের অঙ্ক দিয়ে বিচার করা যাবে না। জ্বালানি সহায়তা ও মজুরি বৃদ্ধি মানুষের প্রকৃত ব্যয় কতটা সামলাতে পারে, নতুন বিনিয়োগ কত কর্মসংস্থান তৈরি করে এবং বাড়তি কর ও মূল্যস্ফীতির চাপ কতটা নিয়ন্ত্রণে থাকে, তার ওপরই নির্ভর করবে সাধারণ মানুষের জীবনে বাজেট কতটা ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

স্ত্রীকে নিয়ে টয়োটার প্রথম প্রাইভেটকারে উঠলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ব্রিটেনের বাজেটে কার লাভ, কার ওপর বাড়তি চাপ?

আপডেট সময় ০৬:০২:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

সংসারের বাড়তি খরচ সামলাতে হিমশিম খাওয়া পরিবারগুলোর জন্য কিছুটা স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে যুক্তরাজ্যের নতুন বাজেট। জ্বালানি সহায়তা, ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি, প্রথমবার বাড়ি কেনার সুযোগ এবং ব্যবসায় বিনিয়োগের পরিকল্পনার পাশাপাশি সঞ্চয় ও সম্পত্তি থেকে আয়ের ওপর কর বাড়ানোর উদ্যোগও রয়েছে।

এতে কিছু পরিবার ও কর্মী উপকৃত হলেও বাড়ির মালিক, সঞ্চয়কারী ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।

গতকাল বুধবার (২৮ অক্টোবর) প্রকাশিত বাজেটে সর্বোচ্চ দুই কোটি পরিবারের জন্য ১০০ পাউন্ডের জ্বালানি সহায়তা, বিদ্যুৎ বিলে সাময়িক ভ্যাট ছাড়ের মেয়াদ বৃদ্ধি, সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণ এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। তবে এসব উদ্যোগের প্রকৃত সুফল নির্ভর করবে মূল্যস্ফীতি, আবাসন ব্যয় ও বাস্তবায়নের ওপর।

জ্বালানি বিলে স্বস্তি, মজুরিতে বাড়তি আয়

২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ইংল্যান্ডের কাউন্সিল ট্যাক্স ব্যান্ড এ থেকে ডিতে থাকা যোগ্য পরিবারগুলোকে ১০০ পাউন্ড করে জ্বালানি সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ কর্মসূচিতে ২.৬ বিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে। ঘরোয়া বিদ্যুৎ বিলে সাময়িক শূন্য শতাংশ ভ্যাটের মেয়াদও ২০২৭ সালের জুলাই পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা রয়েছে। সরকারের হিসাবে, এতে বছরে প্রায় ৫০ পাউন্ড সাশ্রয় হতে পারে।

জ্বালানি ব্যয়ে চাপে থাকা পরিবারগুলোর জন্য এসব উদ্যোগ সহায়ক হতে পারে।

তবে এককালীন ১০০ পাউন্ডের সহায়তা দীর্ঘমেয়াদি মূল্যবৃদ্ধির পুরো চাপ সামলানোর জন্য যথেষ্ট নয়। গ্যাসের স্থায়ী চার্জ বিলোপের উদ্যোগও গ্রাহকদের সুবিধা দিতে পারে। তবে সেই খরচ ইউনিটপ্রতি দামে যুক্ত হলে বেশি গ্যাস ব্যবহারকারী কিছু পরিবারের সাশ্রয় সীমিত হতে পারে।

অন্যদিকে, ২০২৭ সালের ১ এপ্রিল থেকে জাতীয় লিভিং ওয়েজ ঘণ্টাপ্রতি ১৩.২১ পাউন্ডে উন্নীত করার ঘোষণা রয়েছে। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, পূর্ণকালীন ন্যূনতম মজুরির একজন কর্মীর বার্ষিক মোট আয় প্রায় ৯১০ পাউন্ড বাড়তে পারে।

১৮ থেকে ২০ বছর বয়সীদের ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টাপ্রতি ১১.২৭ পাউন্ড এবং ১৬ থেকে ১৭ বছর বয়সী কর্মী ও যোগ্য শিক্ষানবিশদের মজুরি ৮.৩১ পাউন্ড করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

এতে কম মজুরির কর্মীদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়তে পারে। তবে বাড়িভাড়া, জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকলে সেই সুফল কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে ছোট ব্যবসার শ্রমব্যয় বাড়ায় কিছু প্রতিষ্ঠানকে পণ্যের দাম নির্ধারণ ও কর্মী নিয়োগের বিষয়ে নতুন করে হিসাব করতে হতে পারে।

প্রথমবার বাড়ি কেনা ও ব্যবসায় সহায়তা

প্রথমবার বাড়ি কিনতে ইচ্ছুকদের জন্য ৪.৭ বিলিয়ন পাউন্ডের ‘ইয়োর ফার্স্ট হোম’ ইকুইটি-লোন কর্মসূচির ঘোষণা রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রায় ৭০ হাজার পরিবারকে সহায়তার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। যোগ্য ক্রেতারা বাড়ির মূল্যের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত সরকারি ইকুইটি ঋণ পেতে পারেন। প্রথম পাঁচ বছর সুদমুক্ত সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

সামাজিক ও সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণে অতিরিক্ত ১.৫ বিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে বাড়ি কেনার প্রাথমিক আর্থিক বাধা কমতে পারে। তবে বাড়ির দাম, বন্ধকী ঋণের সুদ ও যোগ্যতার শর্তের কারণে অনেক পরিবারের জন্য বাড়ি কেনা কঠিনই থাকতে পারে। নতুন বাড়ি নির্মাণের গতি এবং সাশ্রয়ী ভাড়ার ব্যবস্থা কতটা কার্যকর হয়, তার ওপরও আবাসন সংকট কমার বিষয়টি নির্ভর করবে।

ছোট দোকান, রেস্তোরাঁ, ক্যাফে ও অবসর খাতের যোগ্য ব্যবসার জন্য বিজনেস রেটসে ছাড় এবং কিছু আমদানি শুল্ক সাময়িক স্থগিত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। এতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালন ব্যয় কমতে পারে। তবে শ্রম, বিদ্যুৎ, পরিবহন ও ভাড়ার খরচ বেশি থাকলে এ সাশ্রয়ের পুরো সুবিধা গ্রাহকদের কাছে কম দামে পণ্য বা সেবা হিসেবে পৌঁছাবে কি না, তা নিশ্চিত নয়।

সঞ্চয় ও সম্পত্তির আয়ে বাড়তি কর

বাজেটের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলোর মধ্যে রয়েছে সঞ্চয় ও সম্পত্তি থেকে আয়ের ওপর কর বৃদ্ধি। ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে এসব আয়ের করহার মৌলিক স্তরে ২০ থেকে ২৪ শতাংশ, উচ্চতর স্তরে ৪০ থেকে ৪৪ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ স্তরে ৪৫ থেকে ৪৯ শতাংশ করার পরিকল্পনা রয়েছে। ব্যাংকের কর-সারচার্জও ৩ থেকে ৬ শতাংশে বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এতে সঞ্চয়ের সুদ বা বাড়িভাড়া থেকে আয়ের ওপর নির্ভরশীল কিছু ব্যক্তির কর-পরবর্তী আয় কমতে পারে। তবে ব্যক্তিগত আয়, করমুক্ত সীমা ও প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী এর প্রভাব ভিন্ন হবে। ব্যাংকগুলোর বাড়তি কর ঋণ বা আমানতের সুদে প্রভাব ফেলবে কি না, সেটিও পর্যবেক্ষণের বিষয়।

বিনিয়োগ ও অর্থনীতির সামনে চ্যালেঞ্জ

ন্যাশনাল ওয়েলথ ফান্ড ও ব্রিটিশ বিজনেস ব্যাংকের জন্য ২০.৪ বিলিয়ন পাউন্ড অতিরিক্ত মূলধনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, এ বিনিয়োগ ব্যবসা সম্প্রসারণ, কৌশলগত শিল্পের বিকাশ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করবে। প্রতিরক্ষা খাতেও বড় অঙ্কের বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে এসব উদ্যোগের সুফল নির্ভর করবে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর। অফিস ফর বাজেট রেসপনসিবিলিটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ১.২ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ১ শতাংশ হতে পারে। মূল্যস্ফীতি ও সরকারি ঋণের সুদ পরিশোধের ব্যয়ও সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ। অর্থনীতি প্রত্যাশার চেয়ে দুর্বল হলে ভবিষ্যতে নতুন সহায়তা দেওয়ার আর্থিক সুযোগ সংকুচিত হতে পারে।

বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য কী অর্থ বহন করছে বাজেট?

যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর ওপর বাজেটের প্রভাব নির্ভর করবে তাঁদের আয়, কর্মসংস্থান, সঞ্চয় ও আবাসনের অবস্থার ওপর। যোগ্য নিম্ন মজুরির কর্মীরা বাড়তি আয়ের সুবিধা পেতে পারেন। যোগ্য পরিবারগুলো জ্বালানি সহায়তা থেকেও উপকৃত হতে পারে।

অন্যদিকে, বাড়িভাড়া বা সঞ্চয়ের সুদ থেকে আয় করেন এমন ব্যক্তিদের জন্য বাড়তি কর গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বাংলাদেশি মালিকানাধীন দোকান ও রেস্তোরাঁর ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক করছাড় প্রযোজ্য হবে কি না, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের যোগ্যতার ওপর। প্রথমবার বাড়ি কিনতে ইচ্ছুকদেরও কর্মসূচির শর্ত যাচাই করতে হবে। এসব সুবিধা জাতীয়তার ভিত্তিতে নয়, বরং সরকারি নিয়ম ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে।

সব মিলিয়ে, বাজেটের সাফল্য শুধু ঘোষিত অর্থের অঙ্ক দিয়ে বিচার করা যাবে না। জ্বালানি সহায়তা ও মজুরি বৃদ্ধি মানুষের প্রকৃত ব্যয় কতটা সামলাতে পারে, নতুন বিনিয়োগ কত কর্মসংস্থান তৈরি করে এবং বাড়তি কর ও মূল্যস্ফীতির চাপ কতটা নিয়ন্ত্রণে থাকে, তার ওপরই নির্ভর করবে সাধারণ মানুষের জীবনে বাজেট কতটা ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ