ঢাকা ০২:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ডিএনসিসির সহযোগিতায় প্যারিস খাল বাঁচাতে মাঠে তরুণরা Logo বিদ্যুৎখাতে লুটপাট করতেই দায়মুক্তি আইন পাস করেছিল আওয়ামী লীগ Logo খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে আইন বাস্তবায়নের ওপর জোর দিলেন প্রতিমন্ত্রী Logo গোলাম পরওয়ার ফাটা বাঁশের চিপায় পড়েছেন: রাশেদ খাঁন Logo মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু ৩১ অক্টোবর, আগের রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য নয় Logo গাজায় এতিম ৭১ হাজার শিশু, বিধবা ৬৪ হাজার নারী Logo আমি নেতানিয়াহুর পরাজয় ঠেকিয়েছি: ট্রাম্প Logo জাতির কাছে ক্ষমা চাইলেন মুখে ‘চুন-কালি লাগা’ সেই মাসুদ, জানালেন নিজের সিদ্ধান্ত Logo রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ Logo গাজীপুরে বাসায় ফেরার সময় ছুরিকাঘাতে পোশাক শ্রমিক নিহত

কম্বোডিয়ায় নয় মাসে ৩ হাজারের বেশি বাংলাদেশি আটক

কম্বোডিয়ায় অনলাইন প্রতারণাবিরোধী অভিযানে ২০২৬ সালের প্রথম ৯ মাসে ৩ হাজারের বেশি বাংলাদেশিসহ ৮৭টি দেশের ৫২ হাজার ৩৯ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ।

কম্বোডিয়াভিত্তিক গণমাধ্যম বিটিভি নিউজ গ্লোবাল গত ২৭ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে কম্বোডিয়ার অভিবাসন বিভাগের (জেনারেল ডিপার্টমেন্ট অব ইমিগ্রেশন) সরকারি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩ হাজার ১০৪টি আইন প্রয়োগকারী অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে ৮৭টি দেশের ৫২ হাজার ৩৯ জন বিদেশি নাগরিককে আটক ও বহিষ্কার করা হয়েছে। ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় বহিষ্কারের সংখ্যা ৪১ হাজার ৬৮৫ জন বেড়েছে, যা ৪০০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি নির্দেশ করে।

বহিষ্কৃতদের মধ্যে প্রায় ২৩ হাজার চীনা, ৮ হাজারের বেশি ইন্দোনেশীয়, ৪ হাজারের বেশি ভিয়েতনামি এবং ৩ হাজারের বেশি বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন।

এ ছাড়া আড়াই হাজারের বেশি পাকিস্তানি, প্রায় ২ হাজার মিয়ানমারের এবং দেড় হাজারের বেশি থাই নাগরিককে বহিষ্কার করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, বহিষ্কৃতদের মধ্যে ৩৮টি দেশের ১৮ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিক সরাসরি অনলাইন প্রতারণামূলক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে বহিষ্কৃত বাংলাদেশিদের মধ্যে কতজন মানবপাচারের শিকার হয়ে এসব কর্মকাণ্ডে বাধ্য হয়েছেন, সে বিষয়ে পৃথক কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি।

মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের উদ্ধার ও সুরক্ষায় কাজ করা অনির্বাণ সারভাইভার ভয়েস ফাউন্ডেশন মনে করে, বহিষ্কৃত বাংলাদেশিদের মধ্যে কতজন মানবপাচার ও জোরপূর্বক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের শিকার, তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা জরুরি।

পাচারের শিকার ব্যক্তিদের যথাযথ যাচাই ছাড়াই অভিযুক্ত বা স্ক্যামার হিসেবে চিহ্নিত না করে তাদের ভুক্তভোগী হিসেবে শনাক্তকরণ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

সংগঠনটি আরো মনে করে, কম্বোডিয়া থেকে বহিষ্কৃত কতজন বাংলাদেশি এরই মধ্যে দেশে ফিরেছেন এবং কতজন এখনো সেখানে আটকে আছেন, তার সঠিক তালিকা তৈরি করতে হবে। কম্বোডিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশিদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি দেশে ফেরত আসা ব্যক্তিদের প্রয়োজন অনুযায়ী আইনি সহায়তা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে বহিষ্কৃত বাংলাদেশিরা যেন দালালচক্রের প্রলোভনে পড়ে কম্বোডিয়া থেকে অন্য কোনো দেশে অবৈধভাবে প্রবেশ করে পুনরায় মানবপাচারের শিকার না হন, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন এছাড়াও মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

ডিএনসিসির সহযোগিতায় প্যারিস খাল বাঁচাতে মাঠে তরুণরা

কম্বোডিয়ায় নয় মাসে ৩ হাজারের বেশি বাংলাদেশি আটক

আপডেট সময় ১১:৪৭:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

কম্বোডিয়ায় অনলাইন প্রতারণাবিরোধী অভিযানে ২০২৬ সালের প্রথম ৯ মাসে ৩ হাজারের বেশি বাংলাদেশিসহ ৮৭টি দেশের ৫২ হাজার ৩৯ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ।

কম্বোডিয়াভিত্তিক গণমাধ্যম বিটিভি নিউজ গ্লোবাল গত ২৭ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে কম্বোডিয়ার অভিবাসন বিভাগের (জেনারেল ডিপার্টমেন্ট অব ইমিগ্রেশন) সরকারি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩ হাজার ১০৪টি আইন প্রয়োগকারী অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে ৮৭টি দেশের ৫২ হাজার ৩৯ জন বিদেশি নাগরিককে আটক ও বহিষ্কার করা হয়েছে। ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় বহিষ্কারের সংখ্যা ৪১ হাজার ৬৮৫ জন বেড়েছে, যা ৪০০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি নির্দেশ করে।

বহিষ্কৃতদের মধ্যে প্রায় ২৩ হাজার চীনা, ৮ হাজারের বেশি ইন্দোনেশীয়, ৪ হাজারের বেশি ভিয়েতনামি এবং ৩ হাজারের বেশি বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন।

এ ছাড়া আড়াই হাজারের বেশি পাকিস্তানি, প্রায় ২ হাজার মিয়ানমারের এবং দেড় হাজারের বেশি থাই নাগরিককে বহিষ্কার করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, বহিষ্কৃতদের মধ্যে ৩৮টি দেশের ১৮ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিক সরাসরি অনলাইন প্রতারণামূলক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে বহিষ্কৃত বাংলাদেশিদের মধ্যে কতজন মানবপাচারের শিকার হয়ে এসব কর্মকাণ্ডে বাধ্য হয়েছেন, সে বিষয়ে পৃথক কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি।

মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের উদ্ধার ও সুরক্ষায় কাজ করা অনির্বাণ সারভাইভার ভয়েস ফাউন্ডেশন মনে করে, বহিষ্কৃত বাংলাদেশিদের মধ্যে কতজন মানবপাচার ও জোরপূর্বক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের শিকার, তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা জরুরি।

পাচারের শিকার ব্যক্তিদের যথাযথ যাচাই ছাড়াই অভিযুক্ত বা স্ক্যামার হিসেবে চিহ্নিত না করে তাদের ভুক্তভোগী হিসেবে শনাক্তকরণ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

সংগঠনটি আরো মনে করে, কম্বোডিয়া থেকে বহিষ্কৃত কতজন বাংলাদেশি এরই মধ্যে দেশে ফিরেছেন এবং কতজন এখনো সেখানে আটকে আছেন, তার সঠিক তালিকা তৈরি করতে হবে। কম্বোডিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশিদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি দেশে ফেরত আসা ব্যক্তিদের প্রয়োজন অনুযায়ী আইনি সহায়তা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে বহিষ্কৃত বাংলাদেশিরা যেন দালালচক্রের প্রলোভনে পড়ে কম্বোডিয়া থেকে অন্য কোনো দেশে অবৈধভাবে প্রবেশ করে পুনরায় মানবপাচারের শিকার না হন, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন এছাড়াও মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ