ফ্রান্সের বাজার পেরিয়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ছে বাংলাদেশি খাদ্যপণ্য। প্রবাসীদের কাছে দেশের পরিচিত খাবার পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের খাদ্যপণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখছে সিকে ফ্রোজেন ফুড।
হিমায়িত মাছ ও সবজি থেকে শুরু করে পরোটা, পিঠা, চাল, ডাল, বিস্কুট ও পানীয়—বিভিন্ন ধরনের খাদ্যপণ্য আমদানি ও বিপণনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি ইউরোপের একাধিক দেশে গড়ে তুলেছে সরবরাহব্যবস্থা।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির খাদ্যপণ্যের চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশ পূরণ করছে তারা। এ কার্যক্রমে কর্মসংস্থান হয়েছে শতাধিক বাংলাদেশির।
ফ্রান্সকে কেন্দ্র করে সিকে ফ্রোজেন ফুড পর্তুগাল, বেলজিয়াম, স্পেনসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে খাদ্যপণ্য সরবরাহ করছে।
পাশাপাশি ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে রয়েছে তাদের পণ্য বিতরণ কার্যক্রম। এর মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিরা পরিচিত দেশীয় খাদ্যপণ্য সংগ্রহের সুযোগ পাচ্ছেন, পাশাপাশি ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের উপস্থিতিও বাড়ছে।
বাংলাদেশের বিভিন্ন খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে পণ্য আমদানি ও বাজারজাত করে সিকে ফ্রোজেন ফুড। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে সিকে ফুড বাংলাদেশ, কাজী ফুড, প্রাণ ফুড, ইফাদ, স্কয়ার, মাসুদ ফুড, আনরাজ ফিশ, মাসুদ এগ্রো এবং প্যারাগন ফুড অ্যান্ড অ্যাগ্রো।
এসব প্রতিষ্ঠানের পণ্য ইউরোপের বাজারে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশের খাদ্য উৎপাদকদের সঙ্গে বিদেশি ভোক্তাদের বাণিজ্যিক সংযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখছে প্রতিষ্ঠানটি।
খাদ্যপণ্য আমদানি ও বিপণনের পাশাপাশি কর্মসংস্থানেও অবদান রাখছে সিকে ফ্রোজেন ফুড। প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন শতাধিক বাংলাদেশি কর্মী বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করছেন একাধিক পরিচালক ও কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে রয়েছেন ইউকে ও ইউরোপ জোনের পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরী, গ্লোবাল সিকে ফ্রোজেন ফুডের পরিচালক ও সিইও মোহাম্মদ রমজান আলী খান এবং যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা জোনের পরিচালক ও সিইও আবদুর রহমান বিশ্বাস।
এ ছাড়া রয়েছেন সিকে ফ্রান্স ও পর্তুগালের পরিচালক মোহাম্মদ আজিজ, ইতালির পরিচালক সিরাজ, পর্তুগালের পরিচালক মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন নোমান, সিকে ফ্রান্সের হেড অব অ্যাকাউন্টস মোশিউর রহমান মিশন, সিকে বাংলাদেশের পরিচালক সাহেব জাদা আলী খান, অ্যাকাউন্টস কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমিন, এসআর-১ রানা মাদবর এবং ইউরোপের এসআর মাহবুবসহ অন্য কর্মকর্তারা।
ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশি খাদ্যপণ্যের অবস্থান আরো শক্তিশালী করতে পণ্যের গুণগত মান, খাদ্যনিরাপত্তা, যথাযথ সংরক্ষণ ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। ইউরোপীয় বাজারের প্রযোজ্য নিয়মনীতি মেনে চলার পাশাপাশি নতুন ভোক্তাদের কাছে দেশীয় খাদ্যপণ্য পরিচিত করে তোলা গেলে বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ আরো বাড়বে।
প্রবাসীদের খাদ্যচাহিদা পূরণ, বাংলাদেশের খাদ্য উৎপাদকদের পণ্যের বিদেশি বাজার সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে সিকে ফ্রোজেন ফুডের কার্যক্রম দেশের খাদ্যশিল্পের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সম্ভাবনার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

























