কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিপুল বিনিয়োগ ঘিরে বিশ্ববাজারে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। তবে এই প্রযুক্তির অবকাঠামো গড়ে তুলতে বড় অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ এবং ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগও বাড়ছে।
এআই থেকে দ্রুত মুনাফা আসবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআই প্রযুক্তি নির্মাতা অ্যানথ্রপিকের যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির জন্য প্রাথমিক নথি জমা দেওয়ার খবর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করেছে। প্রতিষ্ঠানটি ক্লড নামের এআই মডেল তৈরি করেছে। তবে অ্যানথ্রপিকের নথিতে দ্রুত রাজস্ব বৃদ্ধির পাশাপাশি বড় অঙ্কের লোকসানের বিষয়টিও উঠে এসেছে।
এআই অবকাঠামো সম্প্রসারণে বড় অঙ্কের অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটা। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠানটি এ খাতে বিনিয়োগের জন্য সর্বোচ্চ ৯৫ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে। অন্যদিকে, মহাকাশ ও প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য এআই চিপ ও সার্ভার সরঞ্জাম কেনা এবং সেগুলো ইজারা দেওয়ার চুক্তি করেছে অ্যাপোলো গ্লোবাল ম্যানেজমেন্টের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান। এ চুক্তিতে মোট মূল অর্থ পরিশোধের পরিমাণ প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার।
বিশ্লেষকদের উদ্বেগের জায়গা হলো, এআই প্রযুক্তির জন্য ডেটা সেন্টার, উন্নত চিপ ও সার্ভার তৈরি করতে বিপুল মূলধন প্রয়োজন। এসব বিনিয়োগ থেকে কত দ্রুত এবং কতটা মুনাফা আসবে, তা এখনো অনিশ্চিত। বড় অঙ্কের ঋণ নিয়ে বিনিয়োগ করলে প্রত্যাশিত আয় না এলে প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক চাপও বাড়তে পারে।
এরই মধ্যে মেটার ঋণঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। গত সপ্তাহে প্রতিষ্ঠানটির ঋণ খেলাপির ঝুঁকির বিপরীতে বিমা ব্যয় সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।
এ পরিস্থিতি এআই খাতে বড় বিনিয়োগের আর্থিক ঝুঁকি নিয়ে বাজারের উদ্বেগ আরও স্পষ্ট করেছে।
তবে আপাতত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। মঙ্গলবার এশিয়ার বাজারে দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে, যা সেপ্টেম্বরের শুরুর পর এক দিনে সূচকটির সবচেয়ে বড় উত্থান। এশিয়ায় এআই চিপ খাতের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান স্যামসাং ইলেকট্রনিকস ও এসকে হাইনিক্সের শেয়ারের গতিবিধি এ সূচকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে অক্টোবর মাসে সূচকটি এখনো প্রায় ১৭ শতাংশ পতনের পথে রয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহে বড় এআই ও ক্লাউড প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক ফলাফল এবং বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বিশ্ববাজারের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিনিয়োগকারীরা এখন এআই খাতের সম্ভাবনার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি, সুদের হার এবং ঋণের ঝুঁকিও বিবেচনায় নিচ্ছেন।
এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ নতুন ব্যবসার সুযোগ তৈরি করছে। তবে এ খাতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগের পর সেই অর্থ থেকে পর্যাপ্ত আয় নিশ্চিত করা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। ফলে এআই নিয়ে আশাবাদ থাকলেও বিনিয়োগের ব্যয় ও ঋণের বোঝা বিশ্ববাজারের নজরে থাকছে।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ





























