ঢাকা ০৮:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতেই হবে, কোনো বিকল্প নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় ডাকসুর সাবেক এজিএসসহ দুইজন রিমান্ডে Logo ‘মন খারাপ করার অধিকারও আপনার নেই, বললে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাবে’ Logo নিজ দলের নেতাকর্মীরাও এখন বিএনপির হাতে নিরাপদ নয়: সাদিক কায়েম Logo স্পেনে দুই ট্রেনের সংঘর্ষে বেড়েই চলছে প্রাণহানি Logo মার্সেলের ডিজিটাল ক্যাম্পেইন সিজন-২৫ শুরু, থাকছে বিদেশ ভ্রমণ ও ক্যাশব্যাক Logo রাজস্ব ও মুনাফায় প্রবৃদ্ধি, ৭ কোটি টাকা সংগ্রহে আবেদন লিও আইসিটি ক্যাবলসের Logo কার ক্ষমতা কত বাড়লো বা কমলো, এর চেয়ে বেশি জরুরি শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের সংস্কার: প্রধানমন্ত্রী Logo সাইবার হামলার শঙ্কায় বন্ধ এনআইডি সার্ভার Logo এমপিপুত্রকে যুবদল থেকে বহিষ্কার, গুরুদাসপুর থানার পরিদর্শক প্রত্যাহার

‘মন খারাপ করার অধিকারও আপনার নেই, বললে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাবে’

দেশে বাকস্বাধীনতা হরণ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ ধ্বংসের অভিযোগ তুলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, ‘এখন পরিস্থিতি এমন তৈরি হচ্ছে আমাদের এই সরকারের আমলে, বিএনপি সরকারের আমলে, যে মন খারাপ করার অধিকারও আপনার নেই। পকেটে টাকা নেই, মন খারাপ হয়েছে, এটাও আপনি বলতে পারবেন না। বললেও বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাবে।’ একই সঙ্গে তিনি ক্রসফায়ারের আশঙ্কার কথা জানিয়ে বর্তমান পুলিশ মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) অবিলম্বে অপসারণের জোর দাবি জানিয়েছেন।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাজধানীর জিরো পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের প্রতিবাদে ৩০ অক্টোবরের সমাবেশ সফলে লিফলেট বিতরণকালে তিনি এসব কথা বলেন।

উত্তর কোরিয়ার নির্বাচনী ব্যবস্থার তুলনা টেনে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘উত্তর কোরিয়ায় নিয়ম আছে, ভোট কাকে দেবেন? দাঁড়াবেন একজন, ভোট তাকেই দিতে হবে। ভোট দেওয়ার পরে এসে আবার হাততালি দিতে হবে এবং খুশি দেখাতে হবে। বলতে হবে, আমি অনেক খুশি।’ ঠিক একইভাবে দেশেও এখন সাধারণ মানুষের অসন্তোষ প্রকাশের পথ সম্পূর্ণ রুদ্ধ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

হাসনাত বলেন, এখন পরিস্থিতি এমন তৈরি হচ্ছে আমাদের এই সরকারের আমলে, বিএনপি সরকারের আমলে, যে মন খারাপ করার অধিকারও আপনার নেই। পকেটে টাকা নেই, মন খারাপ হয়েছে, এটাও আপনি বলতে পারবেন না। বললেও বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাবে।

সামাজিক মাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘এই সরকার এই আট মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের সমালোচনা করা এবং নিজের মত প্রকাশের জন্য মোট ৩০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে। অথচ তারেক রহমান নির্বাচনের আগে বলেছিলেন, তিনি দ্বিমত প্রকাশের স্বাধীনতাকে প্রমোট করেন। এটা মূলত ভোট আকর্ষণ করার, ভোট পাওয়ার একটি কৌশল ছিল। কিন্তু আজ তিনি প্রমাণ করে দিচ্ছেন, তার মতের বিরুদ্ধে কেউ অবস্থান নিলে তাকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে মামলা দেওয়া হবে, জেলে ঢোকানো হবে। মামলা দিতে না পারলে আইজিপিকে দিয়ে ক্রসফায়ারের হুমকি দেওয়া হবে।’

আইজিপির বক্তব্যের বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে হাসনাত বলেন, ‘আমরা যখন এর প্রতিবাদ করব, তখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসে বলবেন, আইজিপি কিছু বোঝেন না, সরল মানুষ। সরল বিশ্বাসে ভুল করে কথা বলে ফেলেছেন। কয়েক দিন পর তিনি ভুলে আরেকজনকে হত্যা করে ফেলবেন। তখন আবার বলা হবে, আইজিপি বুঝতে পারেননি, সরল মানুষ ভুল করে হত্যা করে ফেলেছেন। এখন এই সরল বিশ্বাসের লোককে নিয়ে আমরা কী করব? এই সরল বিশ্বাসের আইজিপি তো আমরা চাইনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম এমন একটি পুলিশ বাহিনী, যারা জনগণের পুলিশ হবে, আইনের ধারক হবে এবং আইন বাস্তবায়ন করবে। আওয়ামী লীগের আমলে দীর্ঘ সময় পুলিশকে লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্তও পুলিশকে ব্যবহার করে বাহিনীটির মনোবল ভেঙে ফেলা হয়েছে। আমরা সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন চেয়েছিলাম। অথচ আজও সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।’

বর্তমান পুলিশপ্রধানের পদত্যাগের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে এনসিপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘এই আইজিপি এত দিন বিদেশে পালিয়ে ছিলেন। বিদেশ থেকে ফিরে এসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ তাকে আইজিপি হিসেবে বসিয়েছেন। এখানে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব আছে। এই আইজিপিকে শুধু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চান, অন্য কেউ চান না। কেউ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর লোক, কেউ প্রধানমন্ত্রীর লোক, কেউ আবার অন্য কারও লোক। বাংলাদেশের মানুষের লোক কেউ নন।’ তিনি বলেন, ‘সরকার যদি সত্যিই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায় এবং ক্রসফায়ারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে থাকে, তাহলে নতুন করে ক্রসফায়ার চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছে, সেই দুর্নীতিবাজ ও অযোগ্য আইজিপিকে অপসারণ করতে হবে।’

পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বিবৃতির কঠোর সমালোচনা করে অধস্তন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে হাসনাত বলেন, ‘পুলিশের ভাইদের বলব, আর কত তেলবাজি করবেন? আপনাদের শিক্ষা হওয়া উচিত। দিন শেষে আপনারা কী পান? জুনিয়র অফিসার, কনস্টেবলরা কী পান? আপনাদের ব্যবহার করে কিছু কর্মকর্তা ক্ষমতা ও রাজনৈতিক সুবিধা ভোগ করেন। বেনজীর ও হারুনের মতো কর্মকর্তারা আপনাদের ব্যবহার করেছেন। রাজনৈতিক সংকট তৈরি হলে আপনাদেরই বিপদে পড়তে হবে।’ তিনি যোগ করেন, ‘কনস্টেবল, এসআই ও জুনিয়র অফিসাররা, আপনারা দেশ থেকে পালাতে পারবেন না। যারা আপনাদের ব্যবহার করছেন, তারা পালিয়ে যেতে পারেন। আমরা শুনতে পাচ্ছি, আলী হোসেন ফকির অস্ট্রেলিয়ায় বাড়ি কেনা শুরু করেছেন। বিষয়টি তদন্ত হওয়া উচিত। তাকে অনুসরণ করার দরকার নেই। আপনাদের চাকরি কোনো আইজিপির বক্তব্যের ওপর নির্ভর করে না। আপনাদের দায়িত্ব আরও মহান। সংবিধান, বাংলাদেশের মাটি, মানুষ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা আপনাদের কাজ।’

রাজনৈতিক ত্যাগের অবমূল্যায়ন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমরা যারা তৃণমূল থেকে উঠে এসেছি, আমাদের রক্তের দাম নেই। রক্তের দাম তাদের বেশি, যারা সংকটের সময় বিদেশে পালিয়ে থাকেন, সন্তানদের বিদেশে রাখেন। সংকট কেটে গেলে দেশে ফিরে এসে সন্তানদের নেতা বানিয়ে দেন।’

ছাত্রদলের অতীত সংগ্রামের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘রাজপথে শাকিলের মতো ছাত্রদলের নেতারা বছরের পর বছর জুলুম, হামলা ও মামলার শিকার হয়েছেন। তারা বাসায় ঘুমাতে পারেননি। তাদের লাশের মূল্য মাত্র ২০ লাখ টাকা। অথচ একজন সংসদ সদস্যের ছেলে গুলি করে মানুষ হত্যা করলে তার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেটি দেখতে চাই। একজন সংসদ সদস্যের ছেলে মানুষ হত্যা করলে তার ওই পদে থাকার আর কোনো এখতিয়ার নেই। আমরা দেখতে চাই, তার বিচার কতটুকু হয়।’

ছাত্রদলের সাধারণ কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা দীর্ঘ ১৭ বছর অনেক কষ্ট করেছেন। হলে থাকতে পারেননি, বাসায় যেতে পারেননি। আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধবরাও ভয় পেয়ে আপনাদের এড়িয়ে চলেছেন। অথচ আজ আপনাদের মূল্যায়ন নেই। দিন শেষে মন্ত্রীদের গাড়ির পেছনে দৌড়াতে হয়। কিছুদিন পর দেখবেন, মন্ত্রীর ছেলের গাড়ির পেছনেও দৌড়াতে হচ্ছে। যাদের ছেলেরা কোনো দিন রাজপথে নামেননি, তাদের পরিবারের জন্য আপনারা জীবন ও যৌবন দিয়ে রাজনীতি করছেন। অনেক রাজনীতিবিদ নিজেদের সন্তান ও পরিবারকে বিদেশে নিরাপদে রাখেন। তাদের সন্তানরা বিদেশের নাগরিক হন। আর দেশের ছেলেদের দিয়ে রাজনীতি করিয়ে তাদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করা হয়। একসময় সেই নেতার ছেলেই আরেকজন কর্মীকে গুলি করে হত্যা করে। দিন শেষে ২০ লাখ টাকা দিয়ে বিষয়টি শেষ করার চেষ্টা হয়। এটাই আমাদের দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা।’

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতেই হবে, কোনো বিকল্প নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

‘মন খারাপ করার অধিকারও আপনার নেই, বললে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাবে’

আপডেট সময় ০৭:৫৮:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

দেশে বাকস্বাধীনতা হরণ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ ধ্বংসের অভিযোগ তুলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, ‘এখন পরিস্থিতি এমন তৈরি হচ্ছে আমাদের এই সরকারের আমলে, বিএনপি সরকারের আমলে, যে মন খারাপ করার অধিকারও আপনার নেই। পকেটে টাকা নেই, মন খারাপ হয়েছে, এটাও আপনি বলতে পারবেন না। বললেও বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাবে।’ একই সঙ্গে তিনি ক্রসফায়ারের আশঙ্কার কথা জানিয়ে বর্তমান পুলিশ মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) অবিলম্বে অপসারণের জোর দাবি জানিয়েছেন।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাজধানীর জিরো পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের প্রতিবাদে ৩০ অক্টোবরের সমাবেশ সফলে লিফলেট বিতরণকালে তিনি এসব কথা বলেন।

উত্তর কোরিয়ার নির্বাচনী ব্যবস্থার তুলনা টেনে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘উত্তর কোরিয়ায় নিয়ম আছে, ভোট কাকে দেবেন? দাঁড়াবেন একজন, ভোট তাকেই দিতে হবে। ভোট দেওয়ার পরে এসে আবার হাততালি দিতে হবে এবং খুশি দেখাতে হবে। বলতে হবে, আমি অনেক খুশি।’ ঠিক একইভাবে দেশেও এখন সাধারণ মানুষের অসন্তোষ প্রকাশের পথ সম্পূর্ণ রুদ্ধ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

হাসনাত বলেন, এখন পরিস্থিতি এমন তৈরি হচ্ছে আমাদের এই সরকারের আমলে, বিএনপি সরকারের আমলে, যে মন খারাপ করার অধিকারও আপনার নেই। পকেটে টাকা নেই, মন খারাপ হয়েছে, এটাও আপনি বলতে পারবেন না। বললেও বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাবে।

সামাজিক মাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘এই সরকার এই আট মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের সমালোচনা করা এবং নিজের মত প্রকাশের জন্য মোট ৩০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে। অথচ তারেক রহমান নির্বাচনের আগে বলেছিলেন, তিনি দ্বিমত প্রকাশের স্বাধীনতাকে প্রমোট করেন। এটা মূলত ভোট আকর্ষণ করার, ভোট পাওয়ার একটি কৌশল ছিল। কিন্তু আজ তিনি প্রমাণ করে দিচ্ছেন, তার মতের বিরুদ্ধে কেউ অবস্থান নিলে তাকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে মামলা দেওয়া হবে, জেলে ঢোকানো হবে। মামলা দিতে না পারলে আইজিপিকে দিয়ে ক্রসফায়ারের হুমকি দেওয়া হবে।’

আইজিপির বক্তব্যের বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে হাসনাত বলেন, ‘আমরা যখন এর প্রতিবাদ করব, তখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসে বলবেন, আইজিপি কিছু বোঝেন না, সরল মানুষ। সরল বিশ্বাসে ভুল করে কথা বলে ফেলেছেন। কয়েক দিন পর তিনি ভুলে আরেকজনকে হত্যা করে ফেলবেন। তখন আবার বলা হবে, আইজিপি বুঝতে পারেননি, সরল মানুষ ভুল করে হত্যা করে ফেলেছেন। এখন এই সরল বিশ্বাসের লোককে নিয়ে আমরা কী করব? এই সরল বিশ্বাসের আইজিপি তো আমরা চাইনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম এমন একটি পুলিশ বাহিনী, যারা জনগণের পুলিশ হবে, আইনের ধারক হবে এবং আইন বাস্তবায়ন করবে। আওয়ামী লীগের আমলে দীর্ঘ সময় পুলিশকে লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্তও পুলিশকে ব্যবহার করে বাহিনীটির মনোবল ভেঙে ফেলা হয়েছে। আমরা সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন চেয়েছিলাম। অথচ আজও সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।’

বর্তমান পুলিশপ্রধানের পদত্যাগের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে এনসিপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘এই আইজিপি এত দিন বিদেশে পালিয়ে ছিলেন। বিদেশ থেকে ফিরে এসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ তাকে আইজিপি হিসেবে বসিয়েছেন। এখানে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব আছে। এই আইজিপিকে শুধু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চান, অন্য কেউ চান না। কেউ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর লোক, কেউ প্রধানমন্ত্রীর লোক, কেউ আবার অন্য কারও লোক। বাংলাদেশের মানুষের লোক কেউ নন।’ তিনি বলেন, ‘সরকার যদি সত্যিই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায় এবং ক্রসফায়ারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে থাকে, তাহলে নতুন করে ক্রসফায়ার চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছে, সেই দুর্নীতিবাজ ও অযোগ্য আইজিপিকে অপসারণ করতে হবে।’

পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বিবৃতির কঠোর সমালোচনা করে অধস্তন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে হাসনাত বলেন, ‘পুলিশের ভাইদের বলব, আর কত তেলবাজি করবেন? আপনাদের শিক্ষা হওয়া উচিত। দিন শেষে আপনারা কী পান? জুনিয়র অফিসার, কনস্টেবলরা কী পান? আপনাদের ব্যবহার করে কিছু কর্মকর্তা ক্ষমতা ও রাজনৈতিক সুবিধা ভোগ করেন। বেনজীর ও হারুনের মতো কর্মকর্তারা আপনাদের ব্যবহার করেছেন। রাজনৈতিক সংকট তৈরি হলে আপনাদেরই বিপদে পড়তে হবে।’ তিনি যোগ করেন, ‘কনস্টেবল, এসআই ও জুনিয়র অফিসাররা, আপনারা দেশ থেকে পালাতে পারবেন না। যারা আপনাদের ব্যবহার করছেন, তারা পালিয়ে যেতে পারেন। আমরা শুনতে পাচ্ছি, আলী হোসেন ফকির অস্ট্রেলিয়ায় বাড়ি কেনা শুরু করেছেন। বিষয়টি তদন্ত হওয়া উচিত। তাকে অনুসরণ করার দরকার নেই। আপনাদের চাকরি কোনো আইজিপির বক্তব্যের ওপর নির্ভর করে না। আপনাদের দায়িত্ব আরও মহান। সংবিধান, বাংলাদেশের মাটি, মানুষ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা আপনাদের কাজ।’

রাজনৈতিক ত্যাগের অবমূল্যায়ন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমরা যারা তৃণমূল থেকে উঠে এসেছি, আমাদের রক্তের দাম নেই। রক্তের দাম তাদের বেশি, যারা সংকটের সময় বিদেশে পালিয়ে থাকেন, সন্তানদের বিদেশে রাখেন। সংকট কেটে গেলে দেশে ফিরে এসে সন্তানদের নেতা বানিয়ে দেন।’

ছাত্রদলের অতীত সংগ্রামের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘রাজপথে শাকিলের মতো ছাত্রদলের নেতারা বছরের পর বছর জুলুম, হামলা ও মামলার শিকার হয়েছেন। তারা বাসায় ঘুমাতে পারেননি। তাদের লাশের মূল্য মাত্র ২০ লাখ টাকা। অথচ একজন সংসদ সদস্যের ছেলে গুলি করে মানুষ হত্যা করলে তার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেটি দেখতে চাই। একজন সংসদ সদস্যের ছেলে মানুষ হত্যা করলে তার ওই পদে থাকার আর কোনো এখতিয়ার নেই। আমরা দেখতে চাই, তার বিচার কতটুকু হয়।’

ছাত্রদলের সাধারণ কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা দীর্ঘ ১৭ বছর অনেক কষ্ট করেছেন। হলে থাকতে পারেননি, বাসায় যেতে পারেননি। আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধবরাও ভয় পেয়ে আপনাদের এড়িয়ে চলেছেন। অথচ আজ আপনাদের মূল্যায়ন নেই। দিন শেষে মন্ত্রীদের গাড়ির পেছনে দৌড়াতে হয়। কিছুদিন পর দেখবেন, মন্ত্রীর ছেলের গাড়ির পেছনেও দৌড়াতে হচ্ছে। যাদের ছেলেরা কোনো দিন রাজপথে নামেননি, তাদের পরিবারের জন্য আপনারা জীবন ও যৌবন দিয়ে রাজনীতি করছেন। অনেক রাজনীতিবিদ নিজেদের সন্তান ও পরিবারকে বিদেশে নিরাপদে রাখেন। তাদের সন্তানরা বিদেশের নাগরিক হন। আর দেশের ছেলেদের দিয়ে রাজনীতি করিয়ে তাদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করা হয়। একসময় সেই নেতার ছেলেই আরেকজন কর্মীকে গুলি করে হত্যা করে। দিন শেষে ২০ লাখ টাকা দিয়ে বিষয়টি শেষ করার চেষ্টা হয়। এটাই আমাদের দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা।’

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ