ঢাকা ০৮:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ৫৯ দস্যুর আত্মসমর্পণ অস্ত্রধারী এবং সন্ত্রাসীদের কোনো ছাড় নেই : র‌্যাবের মহাপরিচালক Logo তৈরি পোশাক রপ্তানি খাতের সমস্যা দ্রুত সমাধানের আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo কানাডায় গ্লোবাল ফেস্টে লাল-সবুজের পতাকা Logo ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে বিনামূল্যের পাঠ্যবই কিনতে ৭৩৯ কোটি টাকা অনুমোদন Logo হোয়াটসঅ্যাপে এলো নতুন ফিচার Logo নতুন প্রজন্ম কেন মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি ও মানসিক সহ্যশক্তি হারাচ্ছে Logo জবিতে বিনামূল্যে পবিত্র কোরআন শিক্ষা কোর্সের উদ্বোধন Logo আইফোন ১৮ প্রোর প্রি-অর্ডার নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত Logo বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজবাড়ীতে বৃক্ষরোপণ Logo আয়নার দিকে দীর্ঘক্ষণ তাকিয়ে থাকলে শেষ মুহূর্তে কেন ‘ভৌতিক’ মনে হয়

আয়নার দিকে দীর্ঘক্ষণ তাকিয়ে থাকলে শেষ মুহূর্তে কেন ‘ভৌতিক’ মনে হয়

আমরা দৈনন্দিন জীবনে খুব স্বাভাবিকভাবেই কোনো না কোনোভাবে আয়নার মুখোমুখি হয়ে থাকি। কিন্তু কখনো এ নিয়ে খুব একটা চিন্তা করা হয় না। তবে এর আবিষ্কার এবং ইতিহাসের সঙ্গে এর পরিবর্তনগুলো এটি দেখায় যে, আয়না বহুকাল ধরে উল্লেখযোগ্যভাবে বিকশিত হচ্ছে। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, এই প্রতিফলনকারী বস্তুর দিকে তাকানোর সময় কিছু মানুষ অস্বাভাবিক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন। নাহ্, এটি কোনো অন্ধবিশ্বাস বা অলৌকিক ঘটনা নয়।

সায়েন্সিংয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘ট্রক্সলার ইফেক্ট’ নামক একটি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত ঘটনা রয়েছে, যা আয়নার দিকে খুব দীর্ঘ সময় ধরে তাকিয়ে থাকার কারণে দৃষ্টিভ্রম বা দৃষ্টিবিভ্রম তৈরি করে।

ট্রক্সলার ফেডিং কী:
ট্রক্সলার ফেডিং বা ট্রানজিয়েন্ট-ইনডিউসড ফেডিং নামেও পরিচিত ট্রক্সলার ইফেক্টটি। যা ১৯ শতকের শুরুর দিকে আবিষ্কার করেন সুইজারল্যান্ডের দার্শনিক ও চিকিৎসক ইগনাস ট্রক্সলার। এটি এমন এক ধরনের দৃষ্টিভ্রমকে বোঝায়, যা ঠিক তখনই ঘটে, যখন আপনার দৃষ্টি কোনো একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে স্থির হয় এবং মস্তিষ্ক তার আশপাশের অন্য যেকোনো উদ্দীপকের অনুভূতি কমিয়ে দিতে সক্ষম হয়। এ কারণে প্রান্তিক দৃষ্টির বাইরের অংশগুলো চোখের সামনেই মিলিয়ে যেতে বা আবছা হতে শুরু করে এবং অন্য যেসব বিষয়ে মনোযোগ নেই, সেসবের সঙ্গে তা মিশে যায়।

আয়নার কোনো একটি নির্দিষ্ট বিন্দুর দিকে তাকিয়ে থাকার কারণে ট্রক্সলার ইফেক্টের অভিজ্ঞতা হতে পারে। যা শুধু আয়নার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। যেমন- কোনো ছবি বা লেখার পাতার নির্দিষ্ট কোনো অংশে কয়েক সেকেন্ড অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলেও এই ধরনের দৃষ্টিভ্রম হতে পারে।

আয়নার দিকে তাকানোর পর যেভাবে ট্রক্সলার ইফেক্ট তৈরি হয়:
যখন আয়না ব্যবহার করেন, ওই সময় সাধারণ নিয়মে হয়তো অপলক দৃষ্টিতে কয়েক সেকেন্ড বা মিনিট একই বিন্দুর দিকে তাকিয়ে থাকেন না। কিন্তু, এমনটা করা হলে ট্রক্সলার ইফেক্টের লক্ষণগুলো অনুভব করা যায়। এই অদ্ভুত প্রভাবগুলোর কয়েকটি উদাহরণের মধ্যে রয়েছে―নিজের মুখের কিছু অংশ আবছা হওয়া বা মিলিয়ে যাওয়া কিংবা একটির সঙ্গে অন্য অংশ বিকৃত হয়ে মিশে যাওয়া। অথবা পুরো মুখই বিকৃত হতে পারে। মূলত, মস্তিষ্ক কতটা মনোযোগে রয়েছে, তার ওপর নির্ভর করে এই প্রভাবগুলো অলৌকিক কিছু বলে মনে হতে পারে।

আপনি যদি যেকোনো ধরনের আয়নার দিকে দীর্ঘক্ষণ তাকিয়ে থাকেন, তাহলে ট্রক্সলার ইফেক্টের অভিজ্ঞতা হওয়া সম্ভব। তবে মনে রাখতে হবে, এসব শুধুই সাময়িক দৃষ্টিভ্রম। দৃষ্টি সরিয়ে নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে দৃষ্টিশক্তি আবার স্বাভাবিক হয়ে যায়। আবার ট্রক্সলার ইফেক্ট নিয়ে উদ্বেগের কিছু না থাকলেও স্বীকার করতে হবে যে, কিছু মানুষের জন্য এটি ভীতিকর অভিজ্ঞতা হতে পারে। কখনো যদি এমন অভিজ্ঞতার শিকার হয়ে থাকেন, তাহলে চিন্তার কিছু নেই। অন্যদিকে, যদি ইচ্ছা করেই ট্রক্সলার ইফেক্টটি পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে মনে রাখতে হবে―এর কিছু প্রভাব শেষ পর্যন্ত সত্যিই ভৌতিক বা অলৌকিক মনে হতে পারে।

ট্রক্সলার ফেডিংকে অন্য কোনো দৃশ্যমান ঘটনার সঙ্গে এক করে ফেলা ঠিক নয়। যেমন- মোশন ইনডিউসড ব্লাইন্ডনেস এবং বাইনোকুলার রাইভালরি। কোনো একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে তাকিয়ে থাকার পর চারপাশের দৃশ্য আবছা হওয়া বা বদলে না যেয়ে মোশন-ইনডিউসড ব্লাইন্ডনেসের কারণে সেসব হঠাৎ অদৃশ্য হওয়ার দৃষ্টিভ্রম তৈরি হয়।

অন্যদিকে, দুটি ভিন্ন ছবির দিকে তাকানোর সময় বাইনোকুলার রাইভালরির কারণে একসঙ্গে কেবল একটি ছবি সাময়িকভাবে দৃশ্যমান নাও হতে পারে এবং অন্য ছবিটি আবছা মনে হতে পারে। তবে এখানে ট্রক্সলার ইফেক্টের মতো ছবিগুলোর নিজস্ব রূপ পরিবর্তন হয় না।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :

৫৯ দস্যুর আত্মসমর্পণ অস্ত্রধারী এবং সন্ত্রাসীদের কোনো ছাড় নেই : র‌্যাবের মহাপরিচালক

আয়নার দিকে দীর্ঘক্ষণ তাকিয়ে থাকলে শেষ মুহূর্তে কেন ‘ভৌতিক’ মনে হয়

আপডেট সময় ০৮:০৫:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আমরা দৈনন্দিন জীবনে খুব স্বাভাবিকভাবেই কোনো না কোনোভাবে আয়নার মুখোমুখি হয়ে থাকি। কিন্তু কখনো এ নিয়ে খুব একটা চিন্তা করা হয় না। তবে এর আবিষ্কার এবং ইতিহাসের সঙ্গে এর পরিবর্তনগুলো এটি দেখায় যে, আয়না বহুকাল ধরে উল্লেখযোগ্যভাবে বিকশিত হচ্ছে। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, এই প্রতিফলনকারী বস্তুর দিকে তাকানোর সময় কিছু মানুষ অস্বাভাবিক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন। নাহ্, এটি কোনো অন্ধবিশ্বাস বা অলৌকিক ঘটনা নয়।

সায়েন্সিংয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘ট্রক্সলার ইফেক্ট’ নামক একটি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত ঘটনা রয়েছে, যা আয়নার দিকে খুব দীর্ঘ সময় ধরে তাকিয়ে থাকার কারণে দৃষ্টিভ্রম বা দৃষ্টিবিভ্রম তৈরি করে।

ট্রক্সলার ফেডিং কী:
ট্রক্সলার ফেডিং বা ট্রানজিয়েন্ট-ইনডিউসড ফেডিং নামেও পরিচিত ট্রক্সলার ইফেক্টটি। যা ১৯ শতকের শুরুর দিকে আবিষ্কার করেন সুইজারল্যান্ডের দার্শনিক ও চিকিৎসক ইগনাস ট্রক্সলার। এটি এমন এক ধরনের দৃষ্টিভ্রমকে বোঝায়, যা ঠিক তখনই ঘটে, যখন আপনার দৃষ্টি কোনো একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে স্থির হয় এবং মস্তিষ্ক তার আশপাশের অন্য যেকোনো উদ্দীপকের অনুভূতি কমিয়ে দিতে সক্ষম হয়। এ কারণে প্রান্তিক দৃষ্টির বাইরের অংশগুলো চোখের সামনেই মিলিয়ে যেতে বা আবছা হতে শুরু করে এবং অন্য যেসব বিষয়ে মনোযোগ নেই, সেসবের সঙ্গে তা মিশে যায়।

আয়নার কোনো একটি নির্দিষ্ট বিন্দুর দিকে তাকিয়ে থাকার কারণে ট্রক্সলার ইফেক্টের অভিজ্ঞতা হতে পারে। যা শুধু আয়নার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। যেমন- কোনো ছবি বা লেখার পাতার নির্দিষ্ট কোনো অংশে কয়েক সেকেন্ড অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলেও এই ধরনের দৃষ্টিভ্রম হতে পারে।

আয়নার দিকে তাকানোর পর যেভাবে ট্রক্সলার ইফেক্ট তৈরি হয়:
যখন আয়না ব্যবহার করেন, ওই সময় সাধারণ নিয়মে হয়তো অপলক দৃষ্টিতে কয়েক সেকেন্ড বা মিনিট একই বিন্দুর দিকে তাকিয়ে থাকেন না। কিন্তু, এমনটা করা হলে ট্রক্সলার ইফেক্টের লক্ষণগুলো অনুভব করা যায়। এই অদ্ভুত প্রভাবগুলোর কয়েকটি উদাহরণের মধ্যে রয়েছে―নিজের মুখের কিছু অংশ আবছা হওয়া বা মিলিয়ে যাওয়া কিংবা একটির সঙ্গে অন্য অংশ বিকৃত হয়ে মিশে যাওয়া। অথবা পুরো মুখই বিকৃত হতে পারে। মূলত, মস্তিষ্ক কতটা মনোযোগে রয়েছে, তার ওপর নির্ভর করে এই প্রভাবগুলো অলৌকিক কিছু বলে মনে হতে পারে।

আপনি যদি যেকোনো ধরনের আয়নার দিকে দীর্ঘক্ষণ তাকিয়ে থাকেন, তাহলে ট্রক্সলার ইফেক্টের অভিজ্ঞতা হওয়া সম্ভব। তবে মনে রাখতে হবে, এসব শুধুই সাময়িক দৃষ্টিভ্রম। দৃষ্টি সরিয়ে নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে দৃষ্টিশক্তি আবার স্বাভাবিক হয়ে যায়। আবার ট্রক্সলার ইফেক্ট নিয়ে উদ্বেগের কিছু না থাকলেও স্বীকার করতে হবে যে, কিছু মানুষের জন্য এটি ভীতিকর অভিজ্ঞতা হতে পারে। কখনো যদি এমন অভিজ্ঞতার শিকার হয়ে থাকেন, তাহলে চিন্তার কিছু নেই। অন্যদিকে, যদি ইচ্ছা করেই ট্রক্সলার ইফেক্টটি পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে মনে রাখতে হবে―এর কিছু প্রভাব শেষ পর্যন্ত সত্যিই ভৌতিক বা অলৌকিক মনে হতে পারে।

ট্রক্সলার ফেডিংকে অন্য কোনো দৃশ্যমান ঘটনার সঙ্গে এক করে ফেলা ঠিক নয়। যেমন- মোশন ইনডিউসড ব্লাইন্ডনেস এবং বাইনোকুলার রাইভালরি। কোনো একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে তাকিয়ে থাকার পর চারপাশের দৃশ্য আবছা হওয়া বা বদলে না যেয়ে মোশন-ইনডিউসড ব্লাইন্ডনেসের কারণে সেসব হঠাৎ অদৃশ্য হওয়ার দৃষ্টিভ্রম তৈরি হয়।

অন্যদিকে, দুটি ভিন্ন ছবির দিকে তাকানোর সময় বাইনোকুলার রাইভালরির কারণে একসঙ্গে কেবল একটি ছবি সাময়িকভাবে দৃশ্যমান নাও হতে পারে এবং অন্য ছবিটি আবছা মনে হতে পারে। তবে এখানে ট্রক্সলার ইফেক্টের মতো ছবিগুলোর নিজস্ব রূপ পরিবর্তন হয় না।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস