ঢাকা ০১:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo সন্তানের অপেক্ষায় সামান্থা, মাতৃত্বের অভিজ্ঞতা নিয়ে যা বললেন অভিনেত্রী Logo বিয়ের আশ্বাসে শারীরিক সম্পর্ক-গর্ভপাত, প্রবাসী প্রেমিকের বাড়িতে তরুণীর অবস্থান Logo গুমের দিন শেষ হয়ে গেছে, বিগত ঘটনারও বিচার হবে : প্রতিমন্ত্রী ইশরাক Logo রাজধানীতে ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫৫৪ Logo বিকেলে ২৮৯৪ মেগাওয়াট লোডশেডিংয়ের শঙ্কা, ভোগাবে রাতেও Logo মাদকের বেলায় কাউকে ছাড় নয়, ওসিকে কড়া নির্দেশ এমপি জসিম উদ্দিনের Logo ভারতে খাদ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তাকেই খাওয়ানো হলো মেয়াদউত্তীর্ণ বিস্কুট Logo লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দিলে ২ লাখ টাকা পুরস্কারের ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর Logo বাকপ্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে খালাতো ভাই গ্রেপ্তার Logo ফিফার নিষেধাজ্ঞা এক ডজন থেকে তিনটিতে নেমেছে

পোলিও টিকার আবিষ্কারক জোনাস সল্ক: মানবকল্যাণে নিবেদিত এক অমর প্রাণ

বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে যে মারণব্যাধিটি বিশ্বজুড়ে লাখো শিশুর ভবিষ্যৎ পঙ্গু করে দিয়েছিল, তা হলো পোলিও বা শিশুপক্ষাঘাত। সেই বিভীষিকাময় অন্ধকার যুগে আলোর দিশারী হয়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন দূরদর্শী চিকিৎসা গবেষক ও চিকিৎসক ড. জোনাস সল্ক। বিজ্ঞানের কঠোর সাধনা আর অদম্য অধ্যবসায়কে মানবসেবায় উৎসর্গ করে তিনি তৈরি করেছিলেন পোলিওর প্রথম নিরাপদ ও কার্যকর প্রতিষেধক।

প্রারম্ভিক জীবন ও সাধনার ইতিবৃত্ত
১৯১৪ সালের ২৮শে অক্টোবর নিউ ইয়র্ক শহরের এক সাধারণ অভিবাসী পরিবারে জোনাস সল্কের জন্ম। কঠোর আর্থিক প্রতিকূলতার মাঝেও বাবা ড্যানিয়েল ও মা ডোরা সল্ক সন্তানদের হৃদয়ে রূপায়িত করেছিলেন শিক্ষার বীজ।

মেধার স্বাক্ষর রেখে মাত্র তেরো বছর বয়সে ভর্তি হন বিখ্যাত টাউনসেন্ড হ্যারিস হাই স্কুলে। সেখান থেকে তিন বছরে পাঠ চুকিয়ে ১৯৩৪ সালে ‘সিটি কলেজ অফ নিউ ইয়র্ক’ থেকে রসায়নে স্নাতক অর্জন করেন। পরবর্তীতে ১৯৩৯ সালে নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে এমডি ডিগ্রি লাভ করার পর মাউন্ট সিনাই হাসপাতালে শুরু হয় তাঁর চিকিৎসাজীবন।

মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রখ্যাত মহামারী বিশেষজ্ঞ ড. টমাস ফ্রান্সিস জুনিয়রের অধীনে ফেলোশিপ করার সময়ই ভাইরাস নিয়ে নিবিড় গবেষণার প্রতি তাঁর অন্তহীন অনুরাগের সূচনা ঘটে।

পোলিও টিকার অবিস্মরণীয় উদ্ভাবন
১৯৪৭ সালে পিটসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরাস গবেষণা পরীক্ষাগারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর সল্কের জীবনে নেমে আসে এক ঐতিহাসিক বাঁক। ‘মার্চ অফ ডাইমস’ সংস্থার অর্থায়নে তিনি শুরু করেন পোলিও মোকাবিলার কঠিন যুদ্ধ।

তৎকালীন ভাইরাস বিশেষজ্ঞদের প্রধান ধারণা ছিল কেবল জীবন্ত ভাইরাসই কার্যকর টিকা তৈরি করতে পারে। কিন্তু সল্ক সম্পূর্ণ ভিন্ন ও ঝুঁকিপূর্ণ এক পথে হাঁটলেন—তিনি উদ্ভাবন করলেন “মৃত ভাইরাস” ভিত্তিক টিকা। রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় নিষ্ক্রিয় করা এই ভাইরাস মানবদেহে প্রবেশ করালে তা কোনো ক্ষতি না করেই প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সক্ষম হতো।

ঐতিহাসিক পরীক্ষা: গবেষণাগারের সফলতার পর ১৯৫২ সালে শুরু হয় চিকিৎসা ইতিহাসের বৃহত্তম মানব পরীক্ষা, যেখানে প্রায় ২০ লক্ষ শিশু অংশ নেয়। নিজের উদ্ভাবিত টিকার ওপর সল্কের বিশ্বাস এতটাই দৃঢ় ছিল যে, ১৯৫৩ সালে তিনি স্বয়ং নিজের, স্ত্রী ও তিন পুত্রের দেহে এই পরীক্ষামূলক ইনজেকশন প্রয়োগ করেন।

বিজয় ও ঘোষণা: ১৯৫৫ সালের ১২ই এপ্রিল বিশ্বজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত হয় সল্কের টিকা “নিরাপদ, কার্যকর এবং শক্তিশালী”। মুহূর্তে বিশ্বজুড়ে নেমে আসে আনন্দের জোয়ার।

নিঃস্বার্থ উদারতা ও জীবদর্শন
সাফল্যের তুঙ্গে পৌঁছেও জোনাস সল্ক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন এক অতুলনীয় আত্মত্যাগের। টেলিভিশনের কালজয়ী সাংবাদিক এডওয়ার্ড আর. মুরো যখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, “এই টিকার পেটেন্ট কার?” সল্ক বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে উত্তর দিয়েছিলেন:

“আমি বলব, এ দেশের জনগণ। এর কোনো পেটেন্ট নেই। আপনি কি সূর্যকে পেটেন্ট করতে পারবেন?”

কোটি কোটি ডলারের বাণিজ্যিক মুনাফাকে তুচ্ছ করে তিনি প্রমাণ করেছিলেন, তাঁর উদ্ভাবন মানবজাতির কল্যাণের জন্য, ব্যবসার জন্য নয়।

পরবর্তী জীবনে সল্ক ‘জীবদর্শন’ নামে এক নতুন ভাবধারায় নিজেকে আত্মনিয়োগ করেন, যেখানে তিনি বিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান এবং মানব প্রকৃতির আত্মিক যোগসূত্র খোঁজার চেষ্টা করেছিলেন।

পারিবারিক আলেখ্য
মেডিকেল পাঠ চুকানোর পরপরই ১৯৩৯ সালে সল্ক বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন সমাজকর্মী ডোনা লিন্ডসের সাথে। এই দম্পতির ঘরে জন্ম নেয় তিন সন্তান—পিটার, ড্যারেল এবং জোনাথন। দীর্ঘ সংসার জীবনের পর ১৯৬৮ সালে ডোনা লিন্ডসের সাথে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। পরবর্তীতে ১৯৭০ সালে সল্ক ফরাসি চিত্রশিল্পী ও পাবলো পিকাসোর প্রাক্তন সঙ্গিনী ফ্রাঁসোয়াজ জিলোকে বিয়ে করেন এবং আমৃত্যু তাঁর সাথেই জীবন অতিবাহিত করেন।

 চিরন্তন স্মৃতির আলো
১৯৬৩ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘সল্ক ইনস্টিটিউট ফর বায়োলজিক্যাল স্টাডিজ’। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত এই প্রতিষ্ঠান থেকে ক্যান্সার, এইডস ও আলঝেইমার্সের মতো জটিল ব্যাধি নিরাময়ে নিরলস অনুসন্ধান চালিয়ে গেছেন তিনি।

১৯৯৫ সালের ২৩শে জুন ক্যালিফোর্নিয়ার লা জোলায় এই মহান সাধক শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অফ ফ্রিডম থেকে শুরু করে বিশ্ব পোলিও দিবসের মাধ্যমে তাঁর রেখে যাওয়া স্মৃতি আজ মানবজাতির ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে। জোনাস সল্ক শুধু রোগের প্রতিষেধক আবিষ্কর্তা ছিলেন না, তিনি ছিলেন মানবতার এক অমর প্রতীক।

বাংলা৭১নিউজ/এসএইচবি

Tag :

সন্তানের অপেক্ষায় সামান্থা, মাতৃত্বের অভিজ্ঞতা নিয়ে যা বললেন অভিনেত্রী

পোলিও টিকার আবিষ্কারক জোনাস সল্ক: মানবকল্যাণে নিবেদিত এক অমর প্রাণ

আপডেট সময় ০৫:০০:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে যে মারণব্যাধিটি বিশ্বজুড়ে লাখো শিশুর ভবিষ্যৎ পঙ্গু করে দিয়েছিল, তা হলো পোলিও বা শিশুপক্ষাঘাত। সেই বিভীষিকাময় অন্ধকার যুগে আলোর দিশারী হয়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন দূরদর্শী চিকিৎসা গবেষক ও চিকিৎসক ড. জোনাস সল্ক। বিজ্ঞানের কঠোর সাধনা আর অদম্য অধ্যবসায়কে মানবসেবায় উৎসর্গ করে তিনি তৈরি করেছিলেন পোলিওর প্রথম নিরাপদ ও কার্যকর প্রতিষেধক।

প্রারম্ভিক জীবন ও সাধনার ইতিবৃত্ত
১৯১৪ সালের ২৮শে অক্টোবর নিউ ইয়র্ক শহরের এক সাধারণ অভিবাসী পরিবারে জোনাস সল্কের জন্ম। কঠোর আর্থিক প্রতিকূলতার মাঝেও বাবা ড্যানিয়েল ও মা ডোরা সল্ক সন্তানদের হৃদয়ে রূপায়িত করেছিলেন শিক্ষার বীজ।

মেধার স্বাক্ষর রেখে মাত্র তেরো বছর বয়সে ভর্তি হন বিখ্যাত টাউনসেন্ড হ্যারিস হাই স্কুলে। সেখান থেকে তিন বছরে পাঠ চুকিয়ে ১৯৩৪ সালে ‘সিটি কলেজ অফ নিউ ইয়র্ক’ থেকে রসায়নে স্নাতক অর্জন করেন। পরবর্তীতে ১৯৩৯ সালে নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে এমডি ডিগ্রি লাভ করার পর মাউন্ট সিনাই হাসপাতালে শুরু হয় তাঁর চিকিৎসাজীবন।

মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রখ্যাত মহামারী বিশেষজ্ঞ ড. টমাস ফ্রান্সিস জুনিয়রের অধীনে ফেলোশিপ করার সময়ই ভাইরাস নিয়ে নিবিড় গবেষণার প্রতি তাঁর অন্তহীন অনুরাগের সূচনা ঘটে।

পোলিও টিকার অবিস্মরণীয় উদ্ভাবন
১৯৪৭ সালে পিটসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরাস গবেষণা পরীক্ষাগারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর সল্কের জীবনে নেমে আসে এক ঐতিহাসিক বাঁক। ‘মার্চ অফ ডাইমস’ সংস্থার অর্থায়নে তিনি শুরু করেন পোলিও মোকাবিলার কঠিন যুদ্ধ।

তৎকালীন ভাইরাস বিশেষজ্ঞদের প্রধান ধারণা ছিল কেবল জীবন্ত ভাইরাসই কার্যকর টিকা তৈরি করতে পারে। কিন্তু সল্ক সম্পূর্ণ ভিন্ন ও ঝুঁকিপূর্ণ এক পথে হাঁটলেন—তিনি উদ্ভাবন করলেন “মৃত ভাইরাস” ভিত্তিক টিকা। রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় নিষ্ক্রিয় করা এই ভাইরাস মানবদেহে প্রবেশ করালে তা কোনো ক্ষতি না করেই প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সক্ষম হতো।

ঐতিহাসিক পরীক্ষা: গবেষণাগারের সফলতার পর ১৯৫২ সালে শুরু হয় চিকিৎসা ইতিহাসের বৃহত্তম মানব পরীক্ষা, যেখানে প্রায় ২০ লক্ষ শিশু অংশ নেয়। নিজের উদ্ভাবিত টিকার ওপর সল্কের বিশ্বাস এতটাই দৃঢ় ছিল যে, ১৯৫৩ সালে তিনি স্বয়ং নিজের, স্ত্রী ও তিন পুত্রের দেহে এই পরীক্ষামূলক ইনজেকশন প্রয়োগ করেন।

বিজয় ও ঘোষণা: ১৯৫৫ সালের ১২ই এপ্রিল বিশ্বজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত হয় সল্কের টিকা “নিরাপদ, কার্যকর এবং শক্তিশালী”। মুহূর্তে বিশ্বজুড়ে নেমে আসে আনন্দের জোয়ার।

নিঃস্বার্থ উদারতা ও জীবদর্শন
সাফল্যের তুঙ্গে পৌঁছেও জোনাস সল্ক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন এক অতুলনীয় আত্মত্যাগের। টেলিভিশনের কালজয়ী সাংবাদিক এডওয়ার্ড আর. মুরো যখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, “এই টিকার পেটেন্ট কার?” সল্ক বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে উত্তর দিয়েছিলেন:

“আমি বলব, এ দেশের জনগণ। এর কোনো পেটেন্ট নেই। আপনি কি সূর্যকে পেটেন্ট করতে পারবেন?”

কোটি কোটি ডলারের বাণিজ্যিক মুনাফাকে তুচ্ছ করে তিনি প্রমাণ করেছিলেন, তাঁর উদ্ভাবন মানবজাতির কল্যাণের জন্য, ব্যবসার জন্য নয়।

পরবর্তী জীবনে সল্ক ‘জীবদর্শন’ নামে এক নতুন ভাবধারায় নিজেকে আত্মনিয়োগ করেন, যেখানে তিনি বিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান এবং মানব প্রকৃতির আত্মিক যোগসূত্র খোঁজার চেষ্টা করেছিলেন।

পারিবারিক আলেখ্য
মেডিকেল পাঠ চুকানোর পরপরই ১৯৩৯ সালে সল্ক বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন সমাজকর্মী ডোনা লিন্ডসের সাথে। এই দম্পতির ঘরে জন্ম নেয় তিন সন্তান—পিটার, ড্যারেল এবং জোনাথন। দীর্ঘ সংসার জীবনের পর ১৯৬৮ সালে ডোনা লিন্ডসের সাথে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। পরবর্তীতে ১৯৭০ সালে সল্ক ফরাসি চিত্রশিল্পী ও পাবলো পিকাসোর প্রাক্তন সঙ্গিনী ফ্রাঁসোয়াজ জিলোকে বিয়ে করেন এবং আমৃত্যু তাঁর সাথেই জীবন অতিবাহিত করেন।

 চিরন্তন স্মৃতির আলো
১৯৬৩ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘সল্ক ইনস্টিটিউট ফর বায়োলজিক্যাল স্টাডিজ’। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত এই প্রতিষ্ঠান থেকে ক্যান্সার, এইডস ও আলঝেইমার্সের মতো জটিল ব্যাধি নিরাময়ে নিরলস অনুসন্ধান চালিয়ে গেছেন তিনি।

১৯৯৫ সালের ২৩শে জুন ক্যালিফোর্নিয়ার লা জোলায় এই মহান সাধক শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অফ ফ্রিডম থেকে শুরু করে বিশ্ব পোলিও দিবসের মাধ্যমে তাঁর রেখে যাওয়া স্মৃতি আজ মানবজাতির ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে। জোনাস সল্ক শুধু রোগের প্রতিষেধক আবিষ্কর্তা ছিলেন না, তিনি ছিলেন মানবতার এক অমর প্রতীক।

বাংলা৭১নিউজ/এসএইচবি