ঢাকা ০৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফান্ট হফের জন্মবার্ষিকী: প্রথম রসায়ন নোবেলবিজয়ীকে স্মরণ

রসায়নের প্রথম নোবেলজয়ী ফান্ট হফ

আজ ৩০ আগস্ট আধুনিক ভৌত রসায়ন ও স্থানিক রসায়নের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ইয়াকোবুস হেনরিকুস ফান্ট হফের জন্মবার্ষিকী। ১৮৫২ সালের এই দিনে নেদারল্যান্ডসের রোটারডামে জন্মগ্রহণকারী এই ক্ষণজন্মা বিজ্ঞানী ১৯০১ সালে রসায়নে ইতিহাসের প্রথম নোবেল পুরস্কার অর্জন করে বিজ্ঞান জগতকে চিরতরে বদলে দিয়েছিলেন।

ফান্ট হফের সবচেয়ে বিপ্লবী অবদানগুলোর একটি হলো ত্রিমাত্রিক কার্বন পরমাণু তত্ত্ব। ১৮৭৪ সালে তিনি এবং ফরাসি রসায়নবিদ জোসেফ লে বেল স্বাধীনভাবে প্রস্তাব করেন যে, কার্বনের চারটি যোজ্যতা একটি চতুস্তলকের চারটি কোণার দিকে বিন্যস্ত থাকে। এই ধারণাই আধুনিক স্টেরিওকেমিস্ট্রি বা স্থানিক রসায়নের জন্ম দেয়। এর মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা অণুর ত্রিমাত্রিক গঠন বুঝতে সক্ষম হন, যা পরবর্তীতে জৈব রসায়ন এবং ঔষদ বিজ্ঞানের গবেষণায় এক বিশাল বিপ্লব ঘটিয়েছিল।

ফান্ট হফ কেবল জৈব রসায়ন নয়, বরং ভৌত রসায়নের বিকাশেও অনন্য ভূমিকা পালন করেন। তিনি রাসায়নিক গতিবিদ্যা, রাসায়নিক সাম্যাবস্থা এবং অভিস্রবণ চাপ নিয়ে যুগান্তকারী গবেষণা করেন। তাঁর এসব গবেষণার স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯০১ সালে স্টকহোমে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস তাঁকে রসায়নে ইতিহাসের প্রথম নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করে।

তাঁর উল্লেখযোগ্য বৈজ্ঞানিক অবদানগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

তাপমাত্রা পরিবর্তনের সাথে রাসায়নিক সাম্যাঙ্কের সম্পর্ক নির্ধারণের বিখ্যাত গাণিতিক সূত্র।

দ্রবণে কণার আচরণ এবং দ্রবণের ঘনত্বের সাথে অভিস্রবণ চাপের সঠিক সম্পর্ক স্থাপন, যা উদ্ভিদ ও প্রাণী কোষে তরল চলাচলের রহস্য উন্মোচন করে।

অণুর অপ্রতিসম বা অ্যাসিমেট্রিক কার্বন পরমাণুর সাথে আলোর ঘূর্ণন প্রকৃতির সম্পর্ক আবিষ্কার।

১৯১১ সালের ১ মার্চ মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি আমস্টারডাম এবং বার্লিন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা ও গবেষণা চালিয়ে গেছেন। তাঁর উদ্ভাবিত তত্ত্বগুলো আজও রসায়ন বিজ্ঞানের মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয় এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বিজ্ঞানীদের নতুন আবিষ্কারের পথ দেখিয়ে চলেছে।

বাংলা৭১নিউজ/এসএইচবি

Tag :

ফান্ট হফের জন্মবার্ষিকী: প্রথম রসায়ন নোবেলবিজয়ীকে স্মরণ

আপডেট সময় ০৫:০১:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

আজ ৩০ আগস্ট আধুনিক ভৌত রসায়ন ও স্থানিক রসায়নের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ইয়াকোবুস হেনরিকুস ফান্ট হফের জন্মবার্ষিকী। ১৮৫২ সালের এই দিনে নেদারল্যান্ডসের রোটারডামে জন্মগ্রহণকারী এই ক্ষণজন্মা বিজ্ঞানী ১৯০১ সালে রসায়নে ইতিহাসের প্রথম নোবেল পুরস্কার অর্জন করে বিজ্ঞান জগতকে চিরতরে বদলে দিয়েছিলেন।

ফান্ট হফের সবচেয়ে বিপ্লবী অবদানগুলোর একটি হলো ত্রিমাত্রিক কার্বন পরমাণু তত্ত্ব। ১৮৭৪ সালে তিনি এবং ফরাসি রসায়নবিদ জোসেফ লে বেল স্বাধীনভাবে প্রস্তাব করেন যে, কার্বনের চারটি যোজ্যতা একটি চতুস্তলকের চারটি কোণার দিকে বিন্যস্ত থাকে। এই ধারণাই আধুনিক স্টেরিওকেমিস্ট্রি বা স্থানিক রসায়নের জন্ম দেয়। এর মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা অণুর ত্রিমাত্রিক গঠন বুঝতে সক্ষম হন, যা পরবর্তীতে জৈব রসায়ন এবং ঔষদ বিজ্ঞানের গবেষণায় এক বিশাল বিপ্লব ঘটিয়েছিল।

ফান্ট হফ কেবল জৈব রসায়ন নয়, বরং ভৌত রসায়নের বিকাশেও অনন্য ভূমিকা পালন করেন। তিনি রাসায়নিক গতিবিদ্যা, রাসায়নিক সাম্যাবস্থা এবং অভিস্রবণ চাপ নিয়ে যুগান্তকারী গবেষণা করেন। তাঁর এসব গবেষণার স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯০১ সালে স্টকহোমে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস তাঁকে রসায়নে ইতিহাসের প্রথম নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করে।

তাঁর উল্লেখযোগ্য বৈজ্ঞানিক অবদানগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

তাপমাত্রা পরিবর্তনের সাথে রাসায়নিক সাম্যাঙ্কের সম্পর্ক নির্ধারণের বিখ্যাত গাণিতিক সূত্র।

দ্রবণে কণার আচরণ এবং দ্রবণের ঘনত্বের সাথে অভিস্রবণ চাপের সঠিক সম্পর্ক স্থাপন, যা উদ্ভিদ ও প্রাণী কোষে তরল চলাচলের রহস্য উন্মোচন করে।

অণুর অপ্রতিসম বা অ্যাসিমেট্রিক কার্বন পরমাণুর সাথে আলোর ঘূর্ণন প্রকৃতির সম্পর্ক আবিষ্কার।

১৯১১ সালের ১ মার্চ মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি আমস্টারডাম এবং বার্লিন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা ও গবেষণা চালিয়ে গেছেন। তাঁর উদ্ভাবিত তত্ত্বগুলো আজও রসায়ন বিজ্ঞানের মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয় এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বিজ্ঞানীদের নতুন আবিষ্কারের পথ দেখিয়ে চলেছে।

বাংলা৭১নিউজ/এসএইচবি