এক নজরে দেখে নেওয়া যাক, দেশের হয়ে এই ফুটবল কিংবদন্তির শুরু ও শেষ এবং মাঝের যত অর্জন।
আর্জেন্টাইন রঙে ফুটবল আঙিনায় ২২ বছর আগে এক তরুণের পথচলা শুরু। বয়স ১৮ পূরণের আগেই বল পায়ে যিনি মুগ্ধতা ছড়ান। পরের বছর দেশের মানুষকে উপহার দেন শিরোপার স্বাদ। পরের মাসেই যুব ফুটবলের গণ্ডি পেরিয়ে উঠে আসেন মূল মঞ্চে। অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে একের পর এক সাফল্য মুঠোবন্দি করতে থাকেন। হয়ে ওঠেন ফুটবলের এক মহাতারকা। নাম তার লিওনেল মেসি।
অনেকের চোখে তিনি যেন ভিন গ্রহের বাসিন্দা। বল পায়ে তার কারিশমাই যে এমন, তাকে সাধারণ মানুষ মনে মনে হয় না। ৩৯ বছর বয়সেও তিনি তরুণের মতোই গতিময়, সঙ্গে বয়স আর অভিজ্ঞতায় তিনি আরও পরিণত।
একদিন আগেই তো ইন্টার মায়ামির হয়ে এক ম্যাচে করলেন চার গোল, সঙ্গে একটি অ্যাসিস্ট। দলের জয়ের নায়ক। মাস দেড়েক আগে শেষ হওয়া বিশ্বকাপে দলকে ফাইনালে তুলতেও সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন তিনি।
তাই এখনও যে দেশের ফুটবলকে তার অনেক কিছু দেওয়ার আছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু মেসির ভাবনা ভিন্ন। তিনি জাতীয় দলকে বিদায় বলার সিদ্ধান্ত নিলেন।
তাতে শেষ হয়ে গেল আন্তর্জাতিক ফুটবলে এক সুন্দর অধ্যায়ের। মেসির বিদায়বেলায় এক নজরে দেখে নেওয়া যাক, আকাশী-সাদা জার্সিতে তার সাফল্যময় পথচলা।
২০০৫ সালের বিশ্ব যুব চ্যাম্পিয়নশিপে আর্জেন্টিনার শিরোপা জয়ে নেতৃত্ব দেন মেসি, ফাইনালে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে জয়ে করে দুটি পেনাল্টি গোল।
> জাতীয় দলে মেসির অভিষেক ২০০৫ সালের অগাস্টে, হাঙ্গেরির বিপক্ষে বদলি নামেন তিনি। তবে মাঠে নামার এক মিনিটের মধ্যেই তার জার্সি ধরে টানায় প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়কে কনুই মেরে বহিষ্কার হন মেসি।
> ২০০৬ বিশ্বকাপে খুব বেশি খেলার সুযোগ পাননি মেসি। কোয়ার্টার-ফাইনাল থেকে বিদায় নেয় আর্জেন্টিনা।
> ২০০৮ সালের বেইজিং অলিম্পিকসে আর্জেন্টিনার সোনার পদক জয়ে নেতৃত্ব দেন মেসি।
> ২০১০ বিশ্বকাপে গোল করতে ব্যর্থ হন তিনি। আবারও কোয়ার্টার-ফাইনাল থেকে ছিটকে যায় আর্জেন্টিনা।
> মেসির নেতৃত্বে ২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা, কিন্তু শিরোপা লড়াইয়ে জার্মানির বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের গোলে হেরে যায় তারা। ওই আসরে চার গোল করেন তিনি এবং টুর্নামেন্ট জুড়ে দারুণ পারফরম্যান্সে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেন।
> ২০১৫ সালে দ্বিতীয়বারের আর্জেন্টিনার হয়ে কোপা আমেরিকার ফাইনালে খেলেন মেসি, ম্যাচটা যদিও চিলির বিপক্ষে হেরে যায় তারা।
> ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকার শতবর্ষী আসরে পানামার বিপক্ষে ৫-০ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে বদলি নেমে হ্যাটট্রিক করেন মেসি।
> ওই আসরেই সেমি-ফাইনালে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ৪-০ ব্যবধানে জয়ের পথে জালে বল পাঠিয়ে আর্জেন্টিনার হয়ে ৫৫ গোলের রেকর্ড (ওই সময়ে যৌথভাবে সর্বোচ্চ) গড়েন মেসি।
> সেবারও ফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা এবং আবারও চিলির বিপক্ষে টাইব্রেকারে হেরে যায় তারা। ওই হারের পর, হতাশায় জাতীয় দলকে বিদায় বলে দেন মেসি।
> দুই মাসের মধ্যেই অবশ্য আবার জাতীয় দলে খেলার সিদ্ধান্ত নেন মেসি এবং বাছাইপর্বের কঠিন যাত্রায় শেষ ম্যাচে একুয়েডরের বিপক্ষে হ্যটিট্রিক করে দেশকে বিশ্বকাপে তোলেন তিনি।
> যদিও ২০১৮ বিশ্বকাপে সময়টা একদমই ভালো কাটেনি মেসি ও আর্জেন্টিনার। আসরে একটি গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট করেন তিনি। শেষ ষোলোয় শেষ হয় তাদের যাত্রা।
> মেসির নেতৃত্বেই ২০২১ সালের কোপা আমেরিকায় আর্জেন্টিনার ২৮ বছরের শিরোপা খরা কাটে। আসরে দলের ১২ গোলের ৯টিতেই অবদান রাখেন তিনি, নির্বাচিত হন টুর্নামেন্টের সেরা ফুটবলার।
> ২০২২ সালে দেশকে আরেকটি শিরোপা উপহার দেয় মেসির আর্জেন্টিনা, ইতালিকে হারিয়ে উঁচিয়ে ধরে ফিনালিস্সিমা ট্রফি।
> ২০২২ বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্সকে হারানোর পথে জোড়া গোল করেন মেসি। ফুটবলের সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতায় ৩৬ বছরের মধ্যে প্রথম এবং সব মিলিয়ে তৃতীয় বিশ্বকাপ জয় করে আর্জেন্টিনা।
প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে দুইবার আসরের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার গোল্ডেন বল জয় করেন মেসি। সেবার সাতটি গোল ও তিনটি অ্যাসিস্ট করেন তিনি।
> ২০২৩ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবলে শত গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি।
> দেশকে ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকার শিরোপাও জেতান মেসি এবং ওই বছরেই আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের রেকর্ড নিজের করে নেন।
> ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে দুইবার জালে বল পাঠিয়ে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে যান মেসি। এবারের আসরে পরে আরও তিনটি গোল করেন তিনি। পরে অবশ্য তাকে ছাড়িয়ে রেকর্ডটি নিজের করে নেন কিলিয়ান এমবাপে (২২ গোল)।
>আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলতে আটটি গোল ও চারটি অ্যাসিস্ট করেন মেসি, তবে শিরোপা লড়াইয়ে স্পেনের বিপক্ষে ১-০ গোরে হেরে যায় তারা।
>দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলেছেন মেসি, এবং সবচেয়ে বেশি বয়সী আউটফিল্ড খেলোয়াড় হিসেবে খেলেছেন ফাইনালে।
বাংলা৭১নিউজ/জেএস





















