ঢাকা ০১:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
আজ শুরু আবুধাবি টেস্ট

অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর পরও বাংলাদেশের সামনে আফগানিস্তান বড় চ্যালেঞ্জ

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আগস্টে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ড্র করার পর আবারও সাদা পোশাকের ক্রিকেটে ফিরছে বাংলাদেশ। আবুধাবিতে একমাত্র টেস্টে স্বাগতিক আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় এই ম্যাচে বাংলাদেশকেই এগিয়ে রাখছে ক্রিকেট বিশ্লেষকেরা।

তারপরও আফগানিস্তানকে বড় চ্যালেঞ্জই মনে করা হচ্ছে। এই দলটির সঙ্গে দুই টেস্টের মুখোমুখি দেখায় একটি হার এবং একটি জয়। আর খেলাটা আবুধাবিতে আফগানদের পরিচিত কন্ডিশনে হওয়ায় স্বাগতিক দল বাড়তি সুবিধা তো পাবেই।

অস্ট্রেলিয়া সফরে দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছিল বাংলাদেশ। শান্তর নেতৃত্বে ডারউইনে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছিল দল। ব্যাট হাতে তানজিদ হাসান এবং বল হাতে মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদের নৈপুণ্য ছিল সেই জয়ের অন্যতম ভিত্তি। পরে কাউন্টি ক্রিকেটে কেন্টের হয়ে নিজের ফর্ম ধরে রেখেছেন হাসান মাহমুদ। অন্যদিকে, ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) স্বল্প সময়ের বদলি হিসেবে খেলেও ধারাবাহিকতা দেখিয়েছেন মিরাজ। আবুধাবি টেস্টের আগে যা বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক দিক।

দলে রয়েছেন ছন্দে থাকা তাওহিদ হৃদয়ও। এক মাসের কিছু বেশি সময় আগে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে পচেফস্ট্রুমে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে অপরাজিত ৩৫২ রান করেছিলেন তিনি। এটি ছিল বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস। পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে কোনো সফরকারী ব্যাটারেরও সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ এটি।

তবে বাংলাদেশ দলের দুশ্চিন্তার জায়গাও কম নয়। ডারউইন টেস্টে সেঞ্চুরি করার পর থেকে রানের দেখা পাচ্ছেন না তানজিদ। লিটন দাসের অবস্থাও বেশ নাজুক। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সব সংস্করণ মিলিয়ে শেষ পাঁচ ইনিংসে তার সংগ্রহ মাত্র দুই রান। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টানা তিন টেস্ট ইনিংসেই শূন্য রানে আউট হয়েছেন তিনি। মুমিনুল হক ও সাদমান ইসলামও রয়েছেন রানখরায়।

অন্যদিকে, ভারতের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে বড় ব্যবধানে হারের পর নিজেদের উন্নতির দিকে মনোযোগ দিতে হবে আফগানিস্তানকে। সেই ম্যাচে দলের পারফরম্যান্সকে ‘অবিশ্বাস্য রকমের জড়তাপূর্ণ’ বলে অভিহিত করেছিলেন প্রধান কোচ রিচার্ড পাইবাস। টেস্ট খেলার সুযোগের স্বল্পতা যে আফগানদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ, সেটিও স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল ভারতের বিপক্ষে।

এবার নতুন অধিনায়ক রহমত শাহর নেতৃত্বে নতুনভাবে পথচলা শুরু করতে চায় আফগানিস্তান। কোচ পাইবাসের সঙ্গে সমন্বয় করে দলকে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব তার কাঁধে। বাংলাদেশের বিপক্ষে স্পিনে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছে দলটি। বাঁহাতি স্পিনার শারাফুদ্দিন আশরাফ ও নাঙ্গেয়ালিয়া খারোতেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। দলে রাখা হয়েছে কাইস আহমদকে, নতুন করে নেওয়া হয়েছে খলিল গুরবাজকে। এক বছরের বেশি সময় পর দলে ফিরেছেন বাঁহাতি স্পিনার জিয়া-উর-রেহমান।

তবে আফগানিস্তানের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ ব্যাটিং। সেদিকুল্লাহ আতাল ও আবদুল মালিকের ইনিংস উদ্বোধন করার কথা। আক্রমণাত্মক ব্যাটার রহমানউল্লাহ গুরবাজ খেলবেন তিন নম্বরে। দলের ব্যাটিংয়ের মূল ভরসা অধিনায়ক রহমত শাহ ও হাসমতউল্লাহ শহিদি।

এ ছাড়া ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা শহিদুল্লাহ কামালের দিকেও তাকিয়ে থাকবে আফগানিস্তান। সদ্য শেষ হওয়া আহমদ শাহ আবদালি প্রথম শ্রেণির টুর্নামেন্টে আট ইনিংসে ৫৩৮ রান করে সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক হয়েছিলেন তিনি। এবার সেই ফর্ম টেস্ট ক্রিকেটেও ধরে রাখাই হবে তার চ্যালেঞ্জ।

সব মিলিয়ে শক্তিমত্তা ও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে এগিয়ে বাংলাদেশ। তবে আফগানিস্তানের স্পিন আক্রমণ এবং বাংলাদেশের কয়েকজন অভিজ্ঞ ব্যাটারের রানখরা আবুধাবির কন্ডিশনে বাংলাদেশকে বড় চ্যালঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :

ঢাকায় প্রতি রুটে চলবে নির্দিষ্ট এক কোম্পানির বাস: প্রধানমন্ত্রী

আজ শুরু আবুধাবি টেস্ট

অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর পরও বাংলাদেশের সামনে আফগানিস্তান বড় চ্যালেঞ্জ

আপডেট সময় ১১:৩৩:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আগস্টে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ড্র করার পর আবারও সাদা পোশাকের ক্রিকেটে ফিরছে বাংলাদেশ। আবুধাবিতে একমাত্র টেস্টে স্বাগতিক আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় এই ম্যাচে বাংলাদেশকেই এগিয়ে রাখছে ক্রিকেট বিশ্লেষকেরা।

তারপরও আফগানিস্তানকে বড় চ্যালেঞ্জই মনে করা হচ্ছে। এই দলটির সঙ্গে দুই টেস্টের মুখোমুখি দেখায় একটি হার এবং একটি জয়। আর খেলাটা আবুধাবিতে আফগানদের পরিচিত কন্ডিশনে হওয়ায় স্বাগতিক দল বাড়তি সুবিধা তো পাবেই।

অস্ট্রেলিয়া সফরে দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছিল বাংলাদেশ। শান্তর নেতৃত্বে ডারউইনে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছিল দল। ব্যাট হাতে তানজিদ হাসান এবং বল হাতে মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদের নৈপুণ্য ছিল সেই জয়ের অন্যতম ভিত্তি। পরে কাউন্টি ক্রিকেটে কেন্টের হয়ে নিজের ফর্ম ধরে রেখেছেন হাসান মাহমুদ। অন্যদিকে, ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) স্বল্প সময়ের বদলি হিসেবে খেলেও ধারাবাহিকতা দেখিয়েছেন মিরাজ। আবুধাবি টেস্টের আগে যা বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক দিক।

দলে রয়েছেন ছন্দে থাকা তাওহিদ হৃদয়ও। এক মাসের কিছু বেশি সময় আগে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে পচেফস্ট্রুমে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে অপরাজিত ৩৫২ রান করেছিলেন তিনি। এটি ছিল বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস। পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে কোনো সফরকারী ব্যাটারেরও সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ এটি।

তবে বাংলাদেশ দলের দুশ্চিন্তার জায়গাও কম নয়। ডারউইন টেস্টে সেঞ্চুরি করার পর থেকে রানের দেখা পাচ্ছেন না তানজিদ। লিটন দাসের অবস্থাও বেশ নাজুক। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সব সংস্করণ মিলিয়ে শেষ পাঁচ ইনিংসে তার সংগ্রহ মাত্র দুই রান। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টানা তিন টেস্ট ইনিংসেই শূন্য রানে আউট হয়েছেন তিনি। মুমিনুল হক ও সাদমান ইসলামও রয়েছেন রানখরায়।

অন্যদিকে, ভারতের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে বড় ব্যবধানে হারের পর নিজেদের উন্নতির দিকে মনোযোগ দিতে হবে আফগানিস্তানকে। সেই ম্যাচে দলের পারফরম্যান্সকে ‘অবিশ্বাস্য রকমের জড়তাপূর্ণ’ বলে অভিহিত করেছিলেন প্রধান কোচ রিচার্ড পাইবাস। টেস্ট খেলার সুযোগের স্বল্পতা যে আফগানদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ, সেটিও স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল ভারতের বিপক্ষে।

এবার নতুন অধিনায়ক রহমত শাহর নেতৃত্বে নতুনভাবে পথচলা শুরু করতে চায় আফগানিস্তান। কোচ পাইবাসের সঙ্গে সমন্বয় করে দলকে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব তার কাঁধে। বাংলাদেশের বিপক্ষে স্পিনে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছে দলটি। বাঁহাতি স্পিনার শারাফুদ্দিন আশরাফ ও নাঙ্গেয়ালিয়া খারোতেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। দলে রাখা হয়েছে কাইস আহমদকে, নতুন করে নেওয়া হয়েছে খলিল গুরবাজকে। এক বছরের বেশি সময় পর দলে ফিরেছেন বাঁহাতি স্পিনার জিয়া-উর-রেহমান।

তবে আফগানিস্তানের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ ব্যাটিং। সেদিকুল্লাহ আতাল ও আবদুল মালিকের ইনিংস উদ্বোধন করার কথা। আক্রমণাত্মক ব্যাটার রহমানউল্লাহ গুরবাজ খেলবেন তিন নম্বরে। দলের ব্যাটিংয়ের মূল ভরসা অধিনায়ক রহমত শাহ ও হাসমতউল্লাহ শহিদি।

এ ছাড়া ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা শহিদুল্লাহ কামালের দিকেও তাকিয়ে থাকবে আফগানিস্তান। সদ্য শেষ হওয়া আহমদ শাহ আবদালি প্রথম শ্রেণির টুর্নামেন্টে আট ইনিংসে ৫৩৮ রান করে সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক হয়েছিলেন তিনি। এবার সেই ফর্ম টেস্ট ক্রিকেটেও ধরে রাখাই হবে তার চ্যালেঞ্জ।

সব মিলিয়ে শক্তিমত্তা ও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে এগিয়ে বাংলাদেশ। তবে আফগানিস্তানের স্পিন আক্রমণ এবং বাংলাদেশের কয়েকজন অভিজ্ঞ ব্যাটারের রানখরা আবুধাবির কন্ডিশনে বাংলাদেশকে বড় চ্যালঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস