সবুজ ঘাসের ক্যানভাসে বল পায়ে যখন লিওনেল মেসি কিংবা নেইমার নামেন, তখন ফুটবল অনুরাগী মনের গহীনে এক জাদুকরী শিহরণ খেলে যায়। বার্সেলোনার সেই সোনালী দিনগুলোতে একই জার্সিতে তাদের নিখুঁত রসায়ন বিশ্বমঞ্চকে বিমোহিত করেছিল বহুবার। সময়ের নিয়মে আজ সেই সোনালী অধ্যায়ের পর্দা নামতে চলেছে। প্রিয় দেশের নীল-সাদা জার্সি গায়ে জড়িয়ে শেষবারের মতো আন্তর্জাতিক ফুটবলের আঙিনায় নামার অপেক্ষায় রয়েছেন আর্জেন্টাইন মহানায়ক লিওনেল মেসি। আর এই ঐতিহাসিক বিদায়লগ্নে সব সীমান্ত আর প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঊর্ধ্বে উঠে বন্ধুর পাশে ভালোবাসার ডালা সাজিয়ে দাঁড়িয়েছেন ব্রাজিলীয় তারকা নেইমার জুনিয়র।
আর মাত্র কিছু সময়ের ব্যবধান। এরপরই নিজের চেনা জাতীয় দলের পোশাকে বিদায়ী ম্যাচ খেলতে নামবেন সময়ের সেরা এই ফুটবল জাদুকর। প্রিয় সহযোদ্ধা ও প্রতিপক্ষের এমন এক আবেগঘন ক্ষণে নীরব থাকতে পারেননি নেইমার। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বন্ধু মেসির প্রতি নিজের অন্তরের গভীর অনুভূতি প্রকাশ করে একটি বিশেষ বার্তা শেয়ার করেছেন তিনি। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের প্রতিনিধি হয়েও সেখানে ফুটে উঠেছে গভীর শ্রদ্ধা, অকৃত্রিম ভালোবাসা এবং এক সঙ্গে ইতিহাস গড়ার সুন্দর স্মৃতি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সেই বার্তায় নেইমার লিখেছেন, “যাঁরা ফুটবলকে ভালোবাসেন, তারা এতগুলো বছর ধরে আপনাকে উপভোগ করেছেন। আজ আপনার দেশ এবং প্রিয় জাতীয় দলের হয়ে আপনার শেষ ম্যাচ। আমার বিশ্বাস, আপনি এই বিশেষ মুহূর্তটির প্রতিটা দ্বিতীয় উপভোগ করবেন। আজ আপনাকে দেওয়া প্রতিটি সম্মাননা যেন আপনার হৃদয়কে আনন্দে ভরিয়ে দেয়।”
মেসির মহত্ত্ব ও বিশ্ব ফুটবলে তাঁর অবদান স্মরণ করে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড আরও যোগ করেন, “শুধু আর্জেন্টিনা নয়, ফুটবল খেলার সুন্দর এই রূপের জন্য আপনি যা করেছেন, তার জন্য পুরো বিশ্ব আজ আপনার কাছে কৃতজ্ঞ। ফুটবলকে কীভাবে আরও গভীরভাবে ভালোবাসতে হয়, তা শেখানোর জন্য আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ। আপনার বিরুদ্ধে মাঠে নামাটা ছিল আমার জন্য অনেক বড় সম্মানের বিষয়। তবে আপনার পাশে একই জার্সিতে খেলে ইতিহাস গড়ে তোলার সুযোগ পাওয়াটা ছিল আমার জীবনের তার চেয়েও বড় প্রাপ্তি। অনেক ধন্যবাদ, লিও মেসি।”
উল্লেখ্য, স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনায় একসঙ্গে খেলার সময়েই মাঠে ও মাঠের বাইরে গড়ে ওঠে মেসি ও নেইমারের রূপকথার মতো এক বন্ধুত্ব। জাতীয় দলের হয়ে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা দ্বৈরথ বিশ্ব ফুটবলে বিখ্যাত হলেও, ব্যক্তিগত জীবনে সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা তাঁদের সম্পর্কে কখনোই আঁচড় কাটতে পারেনি।
বাংলা৭১নিউজ/জেএস

























