ঢাকা ০৭:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​ভ্লাদিমির পুতিন: এক নিঃশব্দ ঝড়ের নাম

সোভিয়েত ইউনিয়নের চূর্ণ-বিচূর্ণ টুকরোগুলো যখন লেনিনগ্রাদের কনকনে ঠাণ্ডা বাতাসে উড়ছিল, তখন ক্রেমলিনের সুউচ্চ প্রাচীরের আড়ালে জন্ম নিচ্ছিল অন্য এক রাশিয়া। যে রাশিয়ার একহাতে আঁকড়ে ধরা পারমাণবিক অস্ত্রের ভয়াবহ হুঙ্কার, আর অন্যহাতে ইতিহাসের বুক চিরে হারানো সাম্রাজ্য পুনরুদ্ধারের অদম্য জিঘাঁসা—আর এই দুই ইতিহাসের প্রধান রূপকার ভ্লাদিমির ভ্লাদিমিরোভিচ পুতিন।

১৯৫২ সালের ৭ অক্টোবরের এক ধূসর বুধবারে তৎকালীন লেনিনগ্রাদে (বর্তমান সেন্ট পিটার্সবার্গ) এক দারিদ্র্যপীড়িত পরিবারে জন্ম নেন পুতিন। তার পরিবারের মূল শিকড় ছিল রাশিয়ার তিভের অঞ্চলের পোমিনোভো গ্রামে, যেখানে তার দাদা স্পিরিদোন পুতিন ছিলেন রাশিয়ার দুই বিখ্যাত নেতা ভ্লাদিমির লেনিন এবং জোসেফ স্টালিনের ব্যক্তিগত বাবুর্চি। পুতিনের বাবা ভ্লাদিমির স্পিরিদোনোভিচ পুতিন ছিলেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফ্রন্টলাইনের এক সাহসী সৈনিক, যিনি নৌবাহিনীর সাবমেরিন ক্রু হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন এবং যুদ্ধের ময়দানে গুরুতর আহত হন। তার মা মারিয়া ইভানোভনা শেলোমোভা ছিলেন কারখানার সাধারণ শ্রমিক, যিনি লেনিনগ্রাদ অবরোধের চরম ভয়াবহতা ও দুর্ভিক্ষের মুখ থেকে কোনোমতে বেঁচে ফিরেছিলেন। পুতিনের দুই বড় ভাই অ্যালবার্ট ও ভিক্টর শৈশবেই মারা যান, যার মধ্যে ভিক্টর মারা যান মহামারী ডিপথেরিয়ায়। ফলে পুতিন ছিলেন পিতামাতার একমাত্র বেঁচে থাকা সন্তান।
​
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী লেনিনগ্রাদে যৌথ এপার্টমেন্টের দারিদ্র্য ও অনাহারের মাঝে পুতিনের শৈশব কাটে। সিঁড়িতে ইঁদুর তাড়িয়ে বেড়ানো এবং রাজপথের মারামারির মধ্য দিয়ে বড় হওয়া পুতিন ১২ বছর বয়সে আত্মরক্ষার কৌশল হিসেবে সাম্বো ও জুডো শেখা শুরু করেন। এই মার্শাল আর্টই তাকে আত্মসংযম, মনোযোগ ও কঠোর কৌশলগত মানসিকতা উপহার দেয়, যা পরবর্তীতে তার জীবনের মূল দর্শনে পরিণত হয়। তৎকালীন লেনিনগ্রাদের রাজপথ থেকে পাওয়া শিক্ষা স্মরণ করে তিনি প্রায়ই বলেন, যদি যুদ্ধ অপরিহার্য হয়ে ওঠে, তবে প্রথম আঘাতটি নিজেকেই হানতে হয়। ১৯৭৫ সালে লেনিনগ্রাদ স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করার পর তিনি সোভিয়েত গোয়েন্দা সংস্থা কেজিবি-তে যোগ দেন। দীর্ঘ সামরিক ও গোয়েন্দা ক্যারিয়ারে তিনি লেফট্যানেন্ট কর্নেল পদবি পর্যন্ত উন্নীত হন এবং ১৯৮৫ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত তৎকালীন পূর্ব জার্মানির ড্রেসডেনে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর তিনি কেজিবি থেকে পদত্যাগ করে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন এবং সেন্ট পিটার্সবারের তৎকালীন মেয়র অ্যানাতোলি সোবচাকের ডেপুটি হিসেবে নিজের প্রশাসনিক দক্ষতার পরিচয় দেন।
​
পুতিন তার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনকে সবসময় কঠোর গোপনীয়তার আড়ালে রাখতে পছন্দ করেন। ১৯৮৩ সালের ২৮ জুলাই তিনি ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট লুডমিলা আলেকসান্দ্রোভনা শক্রেবনেভা-কে বিয়ে করেন। তাদের কোল আলো করে আসে দুই কন্যা সন্তান—মারিয়া ভোরেন্তসোভা, যিনি পেশায় একজন শিশু হরমোন বিশেষজ্ঞ, এবং কাতেরিনা তিখনোভা, যিনি একজন প্রযুক্তি নির্বাহী ও সাবেক রক-অ্যান্ড-রোল ড্যান্সার। দীর্ঘ ৩০ বছরের দাম্পত্য জীবনের পর ২০১৩ সালে পুতিন ও লুডমিলা যৌথভাবে বিচ্ছেদের ঘোষণা দেন এবং ২০১৪ সালে তাদের আনুষ্ঠানিক তালাক সম্পন্ন হয়।
​
১৯৯৬ সালে মস্কোর ক্রেমলিন প্রশাসনে যোগ দেওয়ার পর ১৯৯৯ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বরিস ইয়েলৎসিন পুতিনকে রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত করেন। সেই বছর ৩১ ডিসেম্বরের এক নাটকীয় রাতে ইয়েলৎসিনের আচমকা পদত্যাগের পর পুতিন ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হন এবং ২০০০ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্রেমলিনের দায়িত্ব নেন। দেউলিয়া ও গৃহযুদ্ধে জর্জরিত রাশিয়াকে পুনর্গঠন করতে তিনি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। একদিকে চেচেন বিদ্রোহ দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেন, অন্যদিকে দেশের তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের সম্পদ রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে এনে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরান। রাষ্ট্রের সম্পদ কুক্ষিগত করা শক্তিশালী অলিগার্কদের রাজনৈতিক প্রভাব তিনি গুঁড়িয়ে দেন এবং সেনাবাহিনীতে ব্যাপক আধুনিকায়ন আনেন। ধ্বংসস্তূপ থেকে তুলে এনে সৈনিকদের বেতন, আবাসন ও সামাজিক মর্যাদা বহুগুণ বাড়িয়ে সামরিক পেশাকে পুনরায় সম্মানিত করেন। হাইপারসনিক মিসাইল ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ রুশ বাহিনী তার নেতৃত্বেই জর্জিয়া, সিরিয়া ও ক্রাইমিয়ায় নিজের শক্তি প্রদর্শন করে।

​পুতিনের শাসনকৌশল ও দর্শনের মূল ভিত্তি হলো স্বকীয় সার্বভৌমত্ব, পশ্চিমের প্রভাবমুক্ত রাশিয়া এবং অভ্যন্তরীণ শক্ত নিয়ন্ত্রণ। ২০২৪ সালের নির্বাচনে পুনর্নির্বাচিত হয়ে এবং ২০২০ সালের সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে ২০৩৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার আইনি পথ সুগম করে তিনি আধুনিক রাশিয়ার ইতিহাসে দীর্ঘতম সময় ধরে শাসন করা রাষ্ট্রপ্রধানদের একজন হয়ে উঠেছেন। ২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর পশ্চিমের অভূতপূর্ব নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও চীন, ভারত ও গ্লোবাল সাউথকে সাথে নিয়ে তিনি এক বিকল্প বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কেন্দ্র গড়ে তুলেছেন। কঠোরতা, দমন-পীড়ন এবং একচ্ছত্র নেতৃত্বের কারণে পশ্চিমা বিশ্বে তিনি ব্যাপকভাবে সমালোচিত হলেও, নিজ দেশে রাশিয়ার হারানো গৌরব ও স্থিতিশীলতার প্রধান রক্ষক হিসেবেই তাকে দেখা হয়।

এক সময়ের দরিদ্র ও একাকী কেজিবি এজেন্ট থেকে আধুনিক ভূরাজনীতির নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠার এই যাত্রা ভ্লাদিমির পুতিনকে বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী ও চিরস্মরণীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।

বাংলা৭১নিউজ/এসএইচবি

Tag :

​ভ্লাদিমির পুতিন: এক নিঃশব্দ ঝড়ের নাম

আপডেট সময় ০৬:০২:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

সোভিয়েত ইউনিয়নের চূর্ণ-বিচূর্ণ টুকরোগুলো যখন লেনিনগ্রাদের কনকনে ঠাণ্ডা বাতাসে উড়ছিল, তখন ক্রেমলিনের সুউচ্চ প্রাচীরের আড়ালে জন্ম নিচ্ছিল অন্য এক রাশিয়া। যে রাশিয়ার একহাতে আঁকড়ে ধরা পারমাণবিক অস্ত্রের ভয়াবহ হুঙ্কার, আর অন্যহাতে ইতিহাসের বুক চিরে হারানো সাম্রাজ্য পুনরুদ্ধারের অদম্য জিঘাঁসা—আর এই দুই ইতিহাসের প্রধান রূপকার ভ্লাদিমির ভ্লাদিমিরোভিচ পুতিন।

১৯৫২ সালের ৭ অক্টোবরের এক ধূসর বুধবারে তৎকালীন লেনিনগ্রাদে (বর্তমান সেন্ট পিটার্সবার্গ) এক দারিদ্র্যপীড়িত পরিবারে জন্ম নেন পুতিন। তার পরিবারের মূল শিকড় ছিল রাশিয়ার তিভের অঞ্চলের পোমিনোভো গ্রামে, যেখানে তার দাদা স্পিরিদোন পুতিন ছিলেন রাশিয়ার দুই বিখ্যাত নেতা ভ্লাদিমির লেনিন এবং জোসেফ স্টালিনের ব্যক্তিগত বাবুর্চি। পুতিনের বাবা ভ্লাদিমির স্পিরিদোনোভিচ পুতিন ছিলেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফ্রন্টলাইনের এক সাহসী সৈনিক, যিনি নৌবাহিনীর সাবমেরিন ক্রু হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন এবং যুদ্ধের ময়দানে গুরুতর আহত হন। তার মা মারিয়া ইভানোভনা শেলোমোভা ছিলেন কারখানার সাধারণ শ্রমিক, যিনি লেনিনগ্রাদ অবরোধের চরম ভয়াবহতা ও দুর্ভিক্ষের মুখ থেকে কোনোমতে বেঁচে ফিরেছিলেন। পুতিনের দুই বড় ভাই অ্যালবার্ট ও ভিক্টর শৈশবেই মারা যান, যার মধ্যে ভিক্টর মারা যান মহামারী ডিপথেরিয়ায়। ফলে পুতিন ছিলেন পিতামাতার একমাত্র বেঁচে থাকা সন্তান।
​
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী লেনিনগ্রাদে যৌথ এপার্টমেন্টের দারিদ্র্য ও অনাহারের মাঝে পুতিনের শৈশব কাটে। সিঁড়িতে ইঁদুর তাড়িয়ে বেড়ানো এবং রাজপথের মারামারির মধ্য দিয়ে বড় হওয়া পুতিন ১২ বছর বয়সে আত্মরক্ষার কৌশল হিসেবে সাম্বো ও জুডো শেখা শুরু করেন। এই মার্শাল আর্টই তাকে আত্মসংযম, মনোযোগ ও কঠোর কৌশলগত মানসিকতা উপহার দেয়, যা পরবর্তীতে তার জীবনের মূল দর্শনে পরিণত হয়। তৎকালীন লেনিনগ্রাদের রাজপথ থেকে পাওয়া শিক্ষা স্মরণ করে তিনি প্রায়ই বলেন, যদি যুদ্ধ অপরিহার্য হয়ে ওঠে, তবে প্রথম আঘাতটি নিজেকেই হানতে হয়। ১৯৭৫ সালে লেনিনগ্রাদ স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করার পর তিনি সোভিয়েত গোয়েন্দা সংস্থা কেজিবি-তে যোগ দেন। দীর্ঘ সামরিক ও গোয়েন্দা ক্যারিয়ারে তিনি লেফট্যানেন্ট কর্নেল পদবি পর্যন্ত উন্নীত হন এবং ১৯৮৫ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত তৎকালীন পূর্ব জার্মানির ড্রেসডেনে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর তিনি কেজিবি থেকে পদত্যাগ করে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন এবং সেন্ট পিটার্সবারের তৎকালীন মেয়র অ্যানাতোলি সোবচাকের ডেপুটি হিসেবে নিজের প্রশাসনিক দক্ষতার পরিচয় দেন।
​
পুতিন তার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনকে সবসময় কঠোর গোপনীয়তার আড়ালে রাখতে পছন্দ করেন। ১৯৮৩ সালের ২৮ জুলাই তিনি ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট লুডমিলা আলেকসান্দ্রোভনা শক্রেবনেভা-কে বিয়ে করেন। তাদের কোল আলো করে আসে দুই কন্যা সন্তান—মারিয়া ভোরেন্তসোভা, যিনি পেশায় একজন শিশু হরমোন বিশেষজ্ঞ, এবং কাতেরিনা তিখনোভা, যিনি একজন প্রযুক্তি নির্বাহী ও সাবেক রক-অ্যান্ড-রোল ড্যান্সার। দীর্ঘ ৩০ বছরের দাম্পত্য জীবনের পর ২০১৩ সালে পুতিন ও লুডমিলা যৌথভাবে বিচ্ছেদের ঘোষণা দেন এবং ২০১৪ সালে তাদের আনুষ্ঠানিক তালাক সম্পন্ন হয়।
​
১৯৯৬ সালে মস্কোর ক্রেমলিন প্রশাসনে যোগ দেওয়ার পর ১৯৯৯ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বরিস ইয়েলৎসিন পুতিনকে রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত করেন। সেই বছর ৩১ ডিসেম্বরের এক নাটকীয় রাতে ইয়েলৎসিনের আচমকা পদত্যাগের পর পুতিন ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হন এবং ২০০০ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্রেমলিনের দায়িত্ব নেন। দেউলিয়া ও গৃহযুদ্ধে জর্জরিত রাশিয়াকে পুনর্গঠন করতে তিনি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। একদিকে চেচেন বিদ্রোহ দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেন, অন্যদিকে দেশের তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের সম্পদ রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে এনে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরান। রাষ্ট্রের সম্পদ কুক্ষিগত করা শক্তিশালী অলিগার্কদের রাজনৈতিক প্রভাব তিনি গুঁড়িয়ে দেন এবং সেনাবাহিনীতে ব্যাপক আধুনিকায়ন আনেন। ধ্বংসস্তূপ থেকে তুলে এনে সৈনিকদের বেতন, আবাসন ও সামাজিক মর্যাদা বহুগুণ বাড়িয়ে সামরিক পেশাকে পুনরায় সম্মানিত করেন। হাইপারসনিক মিসাইল ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ রুশ বাহিনী তার নেতৃত্বেই জর্জিয়া, সিরিয়া ও ক্রাইমিয়ায় নিজের শক্তি প্রদর্শন করে।

​পুতিনের শাসনকৌশল ও দর্শনের মূল ভিত্তি হলো স্বকীয় সার্বভৌমত্ব, পশ্চিমের প্রভাবমুক্ত রাশিয়া এবং অভ্যন্তরীণ শক্ত নিয়ন্ত্রণ। ২০২৪ সালের নির্বাচনে পুনর্নির্বাচিত হয়ে এবং ২০২০ সালের সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে ২০৩৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার আইনি পথ সুগম করে তিনি আধুনিক রাশিয়ার ইতিহাসে দীর্ঘতম সময় ধরে শাসন করা রাষ্ট্রপ্রধানদের একজন হয়ে উঠেছেন। ২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর পশ্চিমের অভূতপূর্ব নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও চীন, ভারত ও গ্লোবাল সাউথকে সাথে নিয়ে তিনি এক বিকল্প বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কেন্দ্র গড়ে তুলেছেন। কঠোরতা, দমন-পীড়ন এবং একচ্ছত্র নেতৃত্বের কারণে পশ্চিমা বিশ্বে তিনি ব্যাপকভাবে সমালোচিত হলেও, নিজ দেশে রাশিয়ার হারানো গৌরব ও স্থিতিশীলতার প্রধান রক্ষক হিসেবেই তাকে দেখা হয়।

এক সময়ের দরিদ্র ও একাকী কেজিবি এজেন্ট থেকে আধুনিক ভূরাজনীতির নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠার এই যাত্রা ভ্লাদিমির পুতিনকে বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী ও চিরস্মরণীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।

বাংলা৭১নিউজ/এসএইচবি