ঢাকা সফররত ইন্দোনেশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিস মাত্তা পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে ঢাকায় দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন। এ সময় হুমায়ুন কবির বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো গভীর এবং শক্তিশালী করার জন্য পাঁচটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাতে উপয় পক্ষ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জ্বালানি সহযোগিতা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য সহযোগিতা, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, কনস্যুলার সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দুই দেশের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সহযোগিতাসহ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিস্তৃত পরিসর নিয়ে আলোচনা করেন।
উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তাকে হুমায়ুন কবিরের দেওয়া পাঁচটি প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ায় বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ‘Visa-on-Arrival’ পুনরায় চালু করা, বাংলাদেশ থেকে আরো অধিক পরিমাণ ওষুধজাত পণ্য আমদানি করা, ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন পণ্যের পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিংয়ের জন্য জি-টু-জি এর ভিত্তিতে বাংলাদেশ থেকে পাটের ব্যাগ ক্রয় করা, বাংলাদেশি আলুর জন্য ইন্দোনেশিয়ার বাজার উন্মুক্ত করা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় দুই দেশের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া। এ প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী দুই দেশের মধ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত একটি খসড়া সমঝোতা স্মারক ইন্দোনেশিয়ার কাছে হস্তান্তর করেন।
ইন্দোনেশিয়াকে বিশ্বের বৃহত্তম হালাল পণ্যের বাজার উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির দুই দেশের মধ্যে এ সংক্রান্ত সহযোগিতা আরো শক্তিশালী করার আহ্বান জানান। তিনি বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার সম্পর্ককে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিতে উন্নীত করার আহ্বান জানান।
এ সময় আনিস মাত্তা বাংলাদেশের প্রস্তাবগুলোকে স্বাগত জানান এবং বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত অংশীদারিতে উন্নীত করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ লক্ষ্যে তিনি আগামী পাঁচ থেকে দশ বছরে অগ্রাধিকারভিত্তিক যৌথ প্রকল্প গ্রহণের প্রস্তাব দেন।
তিনি দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ঢাকা-জাকার্তা সরাসরি বিমান চালু করার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ইন্দোনেশিয়ার উপ-পরররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রস্তাবনার প্রশংসা করেন। পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে অব্যাহত সমর্থনের জন্য তিনি ইন্দোনেশিয়া সরকারকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি বাংলাদেশের ASEAN-এর সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনারশিপ এবং রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ (RCEP)-এর সদস্যপদ অর্জনে ইন্দোনেশিয়ার সমর্থন কামনা করেন। বাংলাদেশ থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের বিষয়ে ইন্দোনেশিয়ার অব্যাহত সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তা এ প্রসঙ্গে ইন্দোনেশিয়ার পুনঃসমর্থন ব্যক্ত করেন।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ























