ঢাকা ০৬:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo দুর্গাপূজায় রাত ১০টা পর্যন্ত শপিংমল-দোকান খোলা রাখা যাবে Logo নাইজেরিয়ায় সামরিক বিমান বিধ্বস্ত, ৩২ আরোহীর সবাই নিহত Logo দুদকের মামলায় চট্টগ্রাম ওয়াসার সাবেক গাড়িচালকের কারাদণ্ড Logo ৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটি ঘোষণা Logo নতুন ঋণচুক্তি সই, বিশ্বব্যাংক থেকে ৩০ কোটি ডলার পাবে বাংলাদেশ Logo গণমাধ্যমের স্বাধীনতার সঙ্গে জনগণের অধিকার সুরক্ষার তাগিদ তথ্য প্রতিমন্ত্রীর Logo রাবি ছাত্রদলের ৩ নেতা বহিষ্কার, ৬ জনকে শোকজ Logo নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ ও সেবা সহজ করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে: শিল্পমন্ত্রী Logo কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার হাত ধরে সাংবাদিকতার নতুন দিগন্ত : লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন Logo আপনারা এক পা এগিয়ে এলে আমিও দুই পা যাবো: রাষ্ট্রপতি

পার্বত্য চুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক তিন জাতীয় কমিটি বাতিলের দাবি

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক তিনটি জাতীয় কমিটি বাতিল এবং ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যাকে শুধু নিরাপত্তার দৃষ্টিতে দেখলে এর স্থায়ী সমাধান হবে না।

রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমেই দীর্ঘদিনের এই সংকটের সমাধান করতে হবে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর শাহবাগে ‘সাম্প্রতিক চুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে তিনটি আলাদা জাতীয় কমিটি গঠন করার প্রতিবাদে’ আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের যুগ্ম সমন্বয়কারী জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আবু সাইদ খান, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ এবং ভারত প্রত্যাগত উপজাতীয় শরণার্থী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক সন্তোষিত চাকমা বকুল। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সদস্য দীপায়ন খীসা।

সভাপতির বক্তব্যে জাকির হোসেন বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা মূলত জাতীয় ও রাজনৈতিক সমস্যা। এর সমাধানও রাজনৈতিকভাবেই করতে হবে। গত ১০ সেপ্টেম্বর সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে জাতীয়, নির্বাহী ও পরামর্শক—এই তিনটি কমিটি গঠন করেছে। এসব কমিটির কার্যপরিধিতে উন্নয়ন, নিরাপত্তা, সন্ত্রাস দমন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও আইন সংস্কারের মতো বিষয় রাখা হয়েছে।

দুটি কমিটির জনবল ও অবকাঠামো ডিজিএফআই থেকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

আবু সাইদ খান বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষকে ‘অনেক কিছু দেওয়া হয়েছে’—এমন ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। দীর্ঘদিন কোনো জনগোষ্ঠী বঞ্চিত ও উপেক্ষিত থাকলে রাষ্ট্রের চরিত্র নিয়েই প্রশ্ন ওঠে। বাংলাদেশ শুধু বাঙালি বা মুসলমানের রাষ্ট্র নয়। পাহাড় অশান্ত থাকলে পুরো বাংলাদেশও শান্তিতে থাকতে পারবে না।

তাই পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যাকে জাতীয় সমস্যা হিসেবে দেখতে হবে।

তিনি আরো বলেন, পাহাড়ের মানুষ অস্ত্র ছেড়েছে বলে তাদের সঙ্গে যা ইচ্ছা করা যাবে—এমন ধারণা ভুল। তিনটি কমিটি বাতিল করে চুক্তির অন্যতম স্বাক্ষরকারী পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সঙ্গে আলোচনায় বসতে হবে।

রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নয়, রাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত হয়েছে। তাই রাষ্ট্রের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে এ চুক্তি বাস্তবায়ন করতে হবে। পাহাড়ের অন্যতম প্রধান সমস্যা ভূমি বিরোধের কার্যকর সমাধান না হলে নতুন সংকট তৈরি হতে পারে।

শামসুল হুদা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা সমাধানের একমাত্র পথ ১৯৯৭ সালের চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন। সম্প্রতি গঠিত তিনটি কমিটি আমলা ও গোয়েন্দা-নির্ভর হওয়ায় তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আঞ্চলিক পরিষদ, জেলা পরিষদ ও সার্কেল চিফসহ পাহাড়ের বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে অর্থবহ সংলাপ করতে হবে।

নাজমুল হক প্রধান বলেন, সরকার পরিবর্তন হলেও আদিবাসী ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ভাগ্যের পরিবর্তন হচ্ছে না। রাষ্ট্র যে চুক্তি করেছে, তা বাস্তবায়নের দায়িত্বও রাষ্ট্রের। তিনটি কমিটি বাতিল করে পাহাড়ের মানুষের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে।

সন্তোষিত চাকমা বকুল বলেন, চুক্তি স্বাক্ষরের ২৯ বছর পরও এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হয়নি। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে পাহাড়ের জনগণ গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।

সমাবেশ থেকে তিনটি জাতীয় কমিটি বাতিলের পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ কমিটি গঠন, অ-পাহাড়ি প্রতিমন্ত্রী প্রত্যাহার, চুক্তি অনুযায়ী উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন, সময়সূচিভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ এবং পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন কার্যকর করার দাবি জানানো হয়।

এ ছাড়া পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদের সঙ্গে সংলাপ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অংশগ্রহণে বহুপক্ষীয় অর্থবহ সংলাপ শুরুরও দাবি জানান বক্তারা।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

দুর্গাপূজায় রাত ১০টা পর্যন্ত শপিংমল-দোকান খোলা রাখা যাবে

পার্বত্য চুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক তিন জাতীয় কমিটি বাতিলের দাবি

আপডেট সময় ০৬:৫২:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক তিনটি জাতীয় কমিটি বাতিল এবং ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যাকে শুধু নিরাপত্তার দৃষ্টিতে দেখলে এর স্থায়ী সমাধান হবে না।

রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমেই দীর্ঘদিনের এই সংকটের সমাধান করতে হবে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর শাহবাগে ‘সাম্প্রতিক চুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে তিনটি আলাদা জাতীয় কমিটি গঠন করার প্রতিবাদে’ আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের যুগ্ম সমন্বয়কারী জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আবু সাইদ খান, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ এবং ভারত প্রত্যাগত উপজাতীয় শরণার্থী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক সন্তোষিত চাকমা বকুল। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সদস্য দীপায়ন খীসা।

সভাপতির বক্তব্যে জাকির হোসেন বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা মূলত জাতীয় ও রাজনৈতিক সমস্যা। এর সমাধানও রাজনৈতিকভাবেই করতে হবে। গত ১০ সেপ্টেম্বর সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে জাতীয়, নির্বাহী ও পরামর্শক—এই তিনটি কমিটি গঠন করেছে। এসব কমিটির কার্যপরিধিতে উন্নয়ন, নিরাপত্তা, সন্ত্রাস দমন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও আইন সংস্কারের মতো বিষয় রাখা হয়েছে।

দুটি কমিটির জনবল ও অবকাঠামো ডিজিএফআই থেকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

আবু সাইদ খান বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষকে ‘অনেক কিছু দেওয়া হয়েছে’—এমন ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। দীর্ঘদিন কোনো জনগোষ্ঠী বঞ্চিত ও উপেক্ষিত থাকলে রাষ্ট্রের চরিত্র নিয়েই প্রশ্ন ওঠে। বাংলাদেশ শুধু বাঙালি বা মুসলমানের রাষ্ট্র নয়। পাহাড় অশান্ত থাকলে পুরো বাংলাদেশও শান্তিতে থাকতে পারবে না।

তাই পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যাকে জাতীয় সমস্যা হিসেবে দেখতে হবে।

তিনি আরো বলেন, পাহাড়ের মানুষ অস্ত্র ছেড়েছে বলে তাদের সঙ্গে যা ইচ্ছা করা যাবে—এমন ধারণা ভুল। তিনটি কমিটি বাতিল করে চুক্তির অন্যতম স্বাক্ষরকারী পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সঙ্গে আলোচনায় বসতে হবে।

রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নয়, রাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত হয়েছে। তাই রাষ্ট্রের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে এ চুক্তি বাস্তবায়ন করতে হবে। পাহাড়ের অন্যতম প্রধান সমস্যা ভূমি বিরোধের কার্যকর সমাধান না হলে নতুন সংকট তৈরি হতে পারে।

শামসুল হুদা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা সমাধানের একমাত্র পথ ১৯৯৭ সালের চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন। সম্প্রতি গঠিত তিনটি কমিটি আমলা ও গোয়েন্দা-নির্ভর হওয়ায় তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আঞ্চলিক পরিষদ, জেলা পরিষদ ও সার্কেল চিফসহ পাহাড়ের বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে অর্থবহ সংলাপ করতে হবে।

নাজমুল হক প্রধান বলেন, সরকার পরিবর্তন হলেও আদিবাসী ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ভাগ্যের পরিবর্তন হচ্ছে না। রাষ্ট্র যে চুক্তি করেছে, তা বাস্তবায়নের দায়িত্বও রাষ্ট্রের। তিনটি কমিটি বাতিল করে পাহাড়ের মানুষের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে।

সন্তোষিত চাকমা বকুল বলেন, চুক্তি স্বাক্ষরের ২৯ বছর পরও এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হয়নি। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে পাহাড়ের জনগণ গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।

সমাবেশ থেকে তিনটি জাতীয় কমিটি বাতিলের পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ কমিটি গঠন, অ-পাহাড়ি প্রতিমন্ত্রী প্রত্যাহার, চুক্তি অনুযায়ী উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন, সময়সূচিভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ এবং পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন কার্যকর করার দাবি জানানো হয়।

এ ছাড়া পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদের সঙ্গে সংলাপ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অংশগ্রহণে বহুপক্ষীয় অর্থবহ সংলাপ শুরুরও দাবি জানান বক্তারা।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ