চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা ৯টি কনটেইনারের ১৫০ দশমিক ৮৯ মেট্রিক টন বিপজ্জনক রাসায়নিক ধ্বংস করা হচ্ছে। দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও কনটেইনার জট নিরসনে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস মেয়াদোত্তীর্ণ এসব বিপজ্জনক পণ্য ধ্বংস করছে।
বন্দরে ২০০৩ সাল ও এর পর থেকে পড়ে থাকা এই রাসায়নিকের মধ্যে রয়েছে-সালফিউরিক অ্যাসিড ১ কনটেইনার (২৫ দশমিক ৫৫ মেট্রিক টন), নাইট্রিক অ্যাসিড ১ কনটেইনার (৫০০ কেজি), মিথানল ৫ কনটেইনার (৯২ দশমিক ৫৪ মেট্রিক টন) এবং থিনার ২ কনটেইনার (৩২ দশমিক ৩০ মেট্রিক টন)।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার মো. রসেল আহমেদ জানান, পণ্যগুলোর সবই এসিড ও এসিড জাতীয়। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের মুড়াপাড়ায় অবস্থিত ওয়াটা কেমিক্যালস লিমিটেডে ধ্বংস করা হবে। শনিবার সকাল ১০টার দিকে ৯টি কনটেইনার বন্দর থেকে বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থায় বের করে ওয়াটা কেমিক্যালসের উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে।
কাস্টম হাউস সূত্র জানায়, ধ্বংস কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে বন্দর থেকে রাসায়নিকবোঝাই যানবাহনগুলো পুলিশ এসকর্টের মাধ্যমে ওয়াটা কেমিক্যালসের উদ্দেশে যাত্রা করে। রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশন (বিএনএসিডব্লিউসি), চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, মেট্রোপলিটন পুলিশ, জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, বিসিএসআইআর, বিস্ফোরক অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্যরা এসময় নিরাপত্তা প্রদানসহ সার্বিক সহায়তা প্রদান করেন।
সূত্র আরও জানায়, বাংলাদেশ জাতীয় কর্তৃপক্ষ ও বিএনএসিডব্লিউসি’র সুপারিশক্রমে এবং কাস্টমস হাউস, চট্টগ্রামের ধ্বংস কমিটির উদ্যোগে বিপজ্জনক রাসায়নিকগুলো পরিবেশবান্ধব ও নিয়মানুগ পদ্ধতিতে ধ্বংস করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাজার দর পড়ে যাওয়া, ব্যবসায়িক লোকসানের শঙ্কা ও আইনগত জটিলতাসহ নানা কারণে অনেক সময় আমদানিকারকরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পণ্য ডেলিভারি নেন না। এসব পণ্য নিলামে বিক্রি করে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস। যেসব পণ্য ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে সেগুলো ধ্বংস করা হয়। দেশে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে রাসায়নিক ধ্বংস করার মতো প্রতিষ্ঠান খুব বেশি নেই। আগে সিলেটে অবস্থিত একটি সিমেন্ট কারখানায় বন্দরের বিপজ্জনক পণ্য ধ্বংস করা হতো। এবার করা হচ্ছে নারায়ণগঞ্জে।
বাংলা৭১নিউজ/আরকেএম





























