ঢাকা ১২:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

না জানিয়ে তৃতীয় দেশে চলে যান বাংলাদেশের ৩ গোয়েন্দা কর্মকর্তা

ভারতে বাংলাদেশের তিনটি মিশনে দায়িত্ব পালন করা একটি গোয়েন্দা সংস্থার তিন কর্মকর্তা ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর মিশন থেকে অন্য দেশে চলে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই মিশন থেকেও এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা তৃতীয় কোনো দেশে চলে গেছেন।

এই চার কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানিয়ে যাননি।

চার কর্মকর্তার মধ্যে সর্বশেষ গত জুলাইয়ে নয়াদিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে ফিল্ড অফিসার আশরাফ হোসেন যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান।

এর আগে নয়াদিল্লি, কলকাতা ও দুবাই মিশন থেকে তিন কর্মকর্তা অন্য দেশে চলে যান। তাঁদের অবস্থান সম্পর্কে সরকারের কাছে এখনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।

কূটনৈতিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহকে একাধিকবার হোয়াটসঅ্যাপে কল দিলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। তবে উপহাইকমিশনার প্রীতি রহমান এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সূত্রে জানা গেছে, চার কর্মকর্তা ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের (বর্তমানে নিষিদ্ধ) বিভিন্ন পদে ছিলেন।

এ ঘটনায় সরকার বিব্রত।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সূত্র জানায়, নয়াদিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশনের কনসুলার শাখায় কর্মরত আশরাফ হোসেন সপরিবারে বাংলাদেশে ফেরার কথা বলে মিশন ত্যাগ করেন। তাঁর বাংলাদেশে ফেরার জন্য টিকিটও করা হয়েছিল এবং তিনি মিশন থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায় নেন। কিন্তু পরে তিনি বাংলাদেশে না ফিরে গোপনে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান।

এর পর থেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না এবং তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো রিপোর্টও করেননি।

কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, আশরাফ হোসেনের যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ক্ষেত্রে নয়াদিল্লি মিশনের দেওয়া নোট ভারবাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি কিভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পেলেন এবং তাঁর নামে মিশন থেকে কিভাবে নোট ভারবাল দেওয়া হলো, এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট মিশনের সহযোগিতা ছাড়া এ ধরনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সুযোগ সীমিত বলে কূটনীতিসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

সূত্র জানায়, একইভাবে নয়াদিল্লি হাইকমিশনের উপপরিচালক (ডিডি) নাসিরউদ্দিন যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। তিনি ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে দিল্লির হাইকমিশন থেকে দেশে ফিরে আসেন। পরে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগ না দিয়ে সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। তাঁর যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার ক্ষেত্রেও নয়াদিল্লি মিশনের কনসুলার শাখার মাধ্যমে নোট ভারবাল দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, কোনো কর্মকর্তা তৃতীয় কোনো দেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মিশনের নোট ভারবাল দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। এরপর সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস ভিসাপ্রক্রিয়ায় মিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে। ফলে নয়াদিল্লি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া দুই কর্মকর্তার ক্ষেত্রে কিভাবে নোট ভারবাল দেওয়া হয়েছিল এবং এই প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনুমোদন কিভাবে এসেছিল, তা খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।

কলকাতা ও দুবাই থেকেও দেশত্যাগ : কলকাতায় বাংলাদেশের উপহাইকমিশনে কর্মরত মাহমুদুল হাসান পলাশও দেশত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে। সূত্রের দাবি, ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর তিনি লন্ডনে চলে যান। পরে সেখান থেকে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের পক্ষে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছেন। ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে আয়োজিত শেখ হাসিনার একটি অনলাইন সংবাদ সম্মেলনেও তিনি বক্তব্য দেন। ছাত্রজীবনে তিনি বুয়েটে ছাত্রলীগের পদধারী ছিলেন।

এ ছাড়া দুবাই মিশনে কর্মরত যুগ্ম পরিচালক বদরুল ইসলাম ৫ আগস্টের পর দুবাই থেকে অন্য দেশে চলে যান বলে জানা গেছে।

কূটনৈতিক সূত্রের মতে, কনসুলার শাখা বিদেশে মিশনের গুরুত্বপূর্ণ একটি বিভাগ। ভিসা, কনসুলার সেবা, বিভিন্ন সরকারি যোগাযোগ ও নথিপত্র নিয়ে এ শাখায় কাজ হয়। ফলে এ শাখার দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের দেশত্যাগের প্রক্রিয়া এবং তাঁদের তৃতীয় কোনো দেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে মিশন থেকে নোট ভারবাল দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

না জানিয়ে তৃতীয় দেশে চলে যান বাংলাদেশের ৩ গোয়েন্দা কর্মকর্তা

আপডেট সময় ১১:০০:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

ভারতে বাংলাদেশের তিনটি মিশনে দায়িত্ব পালন করা একটি গোয়েন্দা সংস্থার তিন কর্মকর্তা ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর মিশন থেকে অন্য দেশে চলে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই মিশন থেকেও এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা তৃতীয় কোনো দেশে চলে গেছেন।

এই চার কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানিয়ে যাননি।

চার কর্মকর্তার মধ্যে সর্বশেষ গত জুলাইয়ে নয়াদিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে ফিল্ড অফিসার আশরাফ হোসেন যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান।

এর আগে নয়াদিল্লি, কলকাতা ও দুবাই মিশন থেকে তিন কর্মকর্তা অন্য দেশে চলে যান। তাঁদের অবস্থান সম্পর্কে সরকারের কাছে এখনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।

কূটনৈতিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহকে একাধিকবার হোয়াটসঅ্যাপে কল দিলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। তবে উপহাইকমিশনার প্রীতি রহমান এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সূত্রে জানা গেছে, চার কর্মকর্তা ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের (বর্তমানে নিষিদ্ধ) বিভিন্ন পদে ছিলেন।

এ ঘটনায় সরকার বিব্রত।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সূত্র জানায়, নয়াদিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশনের কনসুলার শাখায় কর্মরত আশরাফ হোসেন সপরিবারে বাংলাদেশে ফেরার কথা বলে মিশন ত্যাগ করেন। তাঁর বাংলাদেশে ফেরার জন্য টিকিটও করা হয়েছিল এবং তিনি মিশন থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায় নেন। কিন্তু পরে তিনি বাংলাদেশে না ফিরে গোপনে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান।

এর পর থেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না এবং তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো রিপোর্টও করেননি।

কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, আশরাফ হোসেনের যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ক্ষেত্রে নয়াদিল্লি মিশনের দেওয়া নোট ভারবাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি কিভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পেলেন এবং তাঁর নামে মিশন থেকে কিভাবে নোট ভারবাল দেওয়া হলো, এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট মিশনের সহযোগিতা ছাড়া এ ধরনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সুযোগ সীমিত বলে কূটনীতিসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

সূত্র জানায়, একইভাবে নয়াদিল্লি হাইকমিশনের উপপরিচালক (ডিডি) নাসিরউদ্দিন যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। তিনি ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে দিল্লির হাইকমিশন থেকে দেশে ফিরে আসেন। পরে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগ না দিয়ে সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। তাঁর যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার ক্ষেত্রেও নয়াদিল্লি মিশনের কনসুলার শাখার মাধ্যমে নোট ভারবাল দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, কোনো কর্মকর্তা তৃতীয় কোনো দেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মিশনের নোট ভারবাল দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। এরপর সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস ভিসাপ্রক্রিয়ায় মিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে। ফলে নয়াদিল্লি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া দুই কর্মকর্তার ক্ষেত্রে কিভাবে নোট ভারবাল দেওয়া হয়েছিল এবং এই প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনুমোদন কিভাবে এসেছিল, তা খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।

কলকাতা ও দুবাই থেকেও দেশত্যাগ : কলকাতায় বাংলাদেশের উপহাইকমিশনে কর্মরত মাহমুদুল হাসান পলাশও দেশত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে। সূত্রের দাবি, ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর তিনি লন্ডনে চলে যান। পরে সেখান থেকে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের পক্ষে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছেন। ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে আয়োজিত শেখ হাসিনার একটি অনলাইন সংবাদ সম্মেলনেও তিনি বক্তব্য দেন। ছাত্রজীবনে তিনি বুয়েটে ছাত্রলীগের পদধারী ছিলেন।

এ ছাড়া দুবাই মিশনে কর্মরত যুগ্ম পরিচালক বদরুল ইসলাম ৫ আগস্টের পর দুবাই থেকে অন্য দেশে চলে যান বলে জানা গেছে।

কূটনৈতিক সূত্রের মতে, কনসুলার শাখা বিদেশে মিশনের গুরুত্বপূর্ণ একটি বিভাগ। ভিসা, কনসুলার সেবা, বিভিন্ন সরকারি যোগাযোগ ও নথিপত্র নিয়ে এ শাখায় কাজ হয়। ফলে এ শাখার দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের দেশত্যাগের প্রক্রিয়া এবং তাঁদের তৃতীয় কোনো দেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে মিশন থেকে নোট ভারবাল দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ