ঢাকা ১১:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

গবেষণার কঠিন কাজগুলো যখন এআই করছে, বিজ্ঞানীদের ভূমিকা তখন কী?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিজ্ঞানের কাজগুলো নিমিষেই করে দিচ্ছে। তবে এর মানে এই নয় যে, এটি বিজ্ঞানীর মতো কাজ করতে পুরোপুরি প্রস্তুত। তাহলে বিজ্ঞানীদের কাজ কী? হার্ভার্ডের পদার্থবিদ ম্যাথিউ শোয়ার্টজ মনে করেন, এআই মানুষের চেয়ে দ্রুত কাজ করলেও গবেষণার সঠিক পথ মানুষকেই দেখাতে হবে।

শোয়ার্টজ এআই এবং বিজ্ঞানের এই সম্পর্ককে ‘ইম্পিডেন্স মিসম্যাচ’ বা একধরনের অমিল বলেছেন। এর মানে হলো, লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলগুলো (এলএলএম) অনেক তথ্য নিয়ে কাজ করতে পারে। এরা অনায়াসে কোড লেখে এবং জটিল হিসাব মেলায়। কিন্তু কোন প্রশ্নটি বিজ্ঞানের জন্য জরুরি, তা বোঝার ক্ষমতা এদের নেই।

শোয়ার্টজ নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। দুই বছর আগেও তিনি নতুন গবেষকদের পাইথন প্রোগ্রামিং শেখার পরামর্শ দিতেন। কিন্তু এখন এআই দ্রুত এসব কাজ করছে। তার সপ্তাহব্যাপী করা একটি কাজ এআই মডেল ‘ক্লড’ মাত্র ২০ মিনিটে করে দিয়েছে।

তবে দ্রুত কাজ করার মানেই নতুন আবিষ্কার নয়। ক্লড বা জিপিটি অনেক সময় বিজ্ঞানের প্রাসঙ্গিকতা বোঝে না। তাই গবেষকদের এআইয়ের ফলাফল যাচাই করা এবং নতুন দিক নির্দেশ করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

এই সমস্যা সমাধানে তিনি ‘বুটলুপস’ নামের একটি ওপেন-সোর্স সফটওয়্যার বানিয়েছেন। এটি এআইয়ের গতির সঙ্গে মানুষের জ্ঞান যুক্ত করে গবেষণাকে এগিয়ে নেবে। এর সাহায্যে ক্লড বাস্তুবিদ্যা ও জিনতত্ত্বের মতো বিষয়ের মধ্যে যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছে।

মূলত, এআই বিজ্ঞান গবেষণার কাজকে অনেক দ্রুত করতে পারে। কিন্তু কোন বিষয়ে গবেষণা হওয়া উচিত এবং ফলাফলের বৈজ্ঞানিক মূল্য আছে কি না, সেই সিদ্ধান্ত মানুষেরই। তাই আগামী দিনে প্রোগ্রামিংয়ের চেয়ে বিজ্ঞানীদের কৌতূহল এবং সঠিক প্রশ্ন করার ক্ষমতাই সবচেয়ে বেশি মূল্যবান হবে।

বাংলা৭১নিউজ/আরকেএম

Tag :

ম্যানসিটি ম্যাচের আগে বড় জয় পিএসজির, শীর্ষে মোনাকো

গবেষণার কঠিন কাজগুলো যখন এআই করছে, বিজ্ঞানীদের ভূমিকা তখন কী?

আপডেট সময় ০৭:১৫:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিজ্ঞানের কাজগুলো নিমিষেই করে দিচ্ছে। তবে এর মানে এই নয় যে, এটি বিজ্ঞানীর মতো কাজ করতে পুরোপুরি প্রস্তুত। তাহলে বিজ্ঞানীদের কাজ কী? হার্ভার্ডের পদার্থবিদ ম্যাথিউ শোয়ার্টজ মনে করেন, এআই মানুষের চেয়ে দ্রুত কাজ করলেও গবেষণার সঠিক পথ মানুষকেই দেখাতে হবে।

শোয়ার্টজ এআই এবং বিজ্ঞানের এই সম্পর্ককে ‘ইম্পিডেন্স মিসম্যাচ’ বা একধরনের অমিল বলেছেন। এর মানে হলো, লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলগুলো (এলএলএম) অনেক তথ্য নিয়ে কাজ করতে পারে। এরা অনায়াসে কোড লেখে এবং জটিল হিসাব মেলায়। কিন্তু কোন প্রশ্নটি বিজ্ঞানের জন্য জরুরি, তা বোঝার ক্ষমতা এদের নেই।

শোয়ার্টজ নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। দুই বছর আগেও তিনি নতুন গবেষকদের পাইথন প্রোগ্রামিং শেখার পরামর্শ দিতেন। কিন্তু এখন এআই দ্রুত এসব কাজ করছে। তার সপ্তাহব্যাপী করা একটি কাজ এআই মডেল ‘ক্লড’ মাত্র ২০ মিনিটে করে দিয়েছে।

তবে দ্রুত কাজ করার মানেই নতুন আবিষ্কার নয়। ক্লড বা জিপিটি অনেক সময় বিজ্ঞানের প্রাসঙ্গিকতা বোঝে না। তাই গবেষকদের এআইয়ের ফলাফল যাচাই করা এবং নতুন দিক নির্দেশ করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

এই সমস্যা সমাধানে তিনি ‘বুটলুপস’ নামের একটি ওপেন-সোর্স সফটওয়্যার বানিয়েছেন। এটি এআইয়ের গতির সঙ্গে মানুষের জ্ঞান যুক্ত করে গবেষণাকে এগিয়ে নেবে। এর সাহায্যে ক্লড বাস্তুবিদ্যা ও জিনতত্ত্বের মতো বিষয়ের মধ্যে যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছে।

মূলত, এআই বিজ্ঞান গবেষণার কাজকে অনেক দ্রুত করতে পারে। কিন্তু কোন বিষয়ে গবেষণা হওয়া উচিত এবং ফলাফলের বৈজ্ঞানিক মূল্য আছে কি না, সেই সিদ্ধান্ত মানুষেরই। তাই আগামী দিনে প্রোগ্রামিংয়ের চেয়ে বিজ্ঞানীদের কৌতূহল এবং সঠিক প্রশ্ন করার ক্ষমতাই সবচেয়ে বেশি মূল্যবান হবে।

বাংলা৭১নিউজ/আরকেএম