ঢাকা ০১:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo হিমালয়ান পিংক সল্ট কি সাধারণ লবণের তুলনায় বেশি উপকারী? Logo তেল-গ্যাসের সংকট শেষ, এখন কী নিয়ে আন্দোলন করবেন: টুকু Logo ফেসবুকে মিথ্যাচারের সুযোগ দেওয়া হবে না : এলজিআরডি মন্ত্রী Logo জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গবেষণা ও উদ্ভাবনে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান চিফ হুইপের Logo প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে ‘ভুল রাজনীতি’ থেকে সরে আসুন: বিরোধীদলীয় নেতা Logo ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রতি ইউনিট সাড়ে ১০ টাকায় কিনবে সরকার: প্রতিমন্ত্রী Logo বিচারকদের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ না করার নির্দেশ প্রধান বিচারপতির Logo নারায়ণগঞ্জে মাদরাসার ছাদে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ৫ শিক্ষার্থী দগ্ধ Logo দ্বিপক্ষীয়-বহুপক্ষীয় বৈঠকের সফল ফলাফল দেশের জন্য গর্বের: ওয়াহিদুজ্জামান Logo গণহত্যাকারীদের বিচারে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানো হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

হিমালয়ান পিংক সল্ট কি সাধারণ লবণের তুলনায় বেশি উপকারী?

হিমালয়ান পিংক সল্ট দেখতে গোলাপি রঙের এবং পাকিস্তানের হিমালয়সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত খেওড়া লবণখনি থেকে এটি সংগ্রহ করা হয়। এতে নানা ধরনের খনিজ উপাদান থাকার কারণে অনেকেই মনে করেন, সাধারণ লবণের তুলনায় এটি বেশি স্বাস্থ্যকর। তবে এ দাবির পক্ষে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ খুবই সীমিত। বরং বিদ্যমান তথ্য বলছে, দুই ধরনের লবণের স্বাস্থ্যগত পার্থক্য নিয়ে এখনো পর্যাপ্ত গবেষণা হয়নি।

লবণ মূলত সোডিয়াম ক্লোরাইড দিয়ে তৈরি একটি খনিজ। সাধারণ টেবিল লবণের প্রায় ৯৮ শতাংশই ওজনের হিসাবে সোডিয়াম ক্লোরাইড। ভূগর্ভস্থ লবণখনি থেকে লবণ উত্তোলন অথবা লবণাক্ত পানি বাষ্পীভূত করে লবণ তৈরি করা হয়। বাজারে পৌঁছানোর আগে টেবিল লবণ পরিশোধনের মাধ্যমে অমেধ্য ও সোডিয়াম ক্লোরাইড ছাড়া অন্যান্য খনিজ সরিয়ে ফেলা হয়। আর্দ্রতা রোধে এতে কিছু অ্যান্টিকেকিং উপাদান এবং আয়োডিনের ঘাটতি প্রতিরোধে আয়োডিনও যোগ করা হয়।

অন্যদিকে, পাকিস্তানের খেওড়া লবণখনি থেকে পাওয়া হিমালয়ান পিংক সল্ট তুলনামূলকভাবে কম প্রক্রিয়াজাত করা হয়। এটি মূলত সোডিয়াম ক্লোরাইড হলেও এতে আরও কিছু খনিজ ও ট্রেস উপাদান থাকে। বিভিন্ন হিসাবে এতে ৮৪ ধরনের খনিজ ও ট্রেস উপাদান থাকতে পারে। এর মধ্যে আয়রনের উপস্থিতিই লবণের স্বাভাবিক গোলাপি রঙের অন্যতম কারণ।

সাধারণ টেবিল লবণের মতো হিমালয়ান পিংক সল্টও রান্না ও খাবারে ব্যবহার করা যায়। এমনকি বড় আকারের লবণের ব্লক রান্নার পৃষ্ঠ হিসেবেও ব্যবহার করা হয়। তবে লবণের দানার আকারের ওপর সোডিয়ামের পরিমাণের পার্থক্য হতে পারে। একই পরিমাণে সূক্ষ্ম দানার লবণ মোটা দানার লবণের তুলনায় বেশি লবণ ধারণ করতে পারে।

একটি গবেষণায় বিভিন্ন ধরনের লবণের খনিজ উপাদান তুলনা করা হয়েছিল। সেখানে প্রতি গ্রাম হিমালয়ান পিংক সল্টে ক্যালসিয়াম পাওয়া যায় ১.৬ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ২.৮ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেশিয়াম ১.০৬ মিলিগ্রাম এবং আয়রন ০.০৩৬৯ মিলিগ্রাম। একই পরিমাণ সাধারণ টেবিল লবণে এসব উপাদানের পরিমাণ যথাক্রমে ০.৪, ০.৯, ০.০১৩৯ ও ০.০১০১ মিলিগ্রাম। তবে সোডিয়ামের পরিমাণ পিংক সল্টে প্রতি গ্রামে ৩৬৮ মিলিগ্রাম এবং টেবিল লবণে ৩৮১ মিলিগ্রাম।

অর্থাৎ হিমালয়ান পিংক সল্টে কিছু অতিরিক্ত খনিজ থাকলেও সেগুলোর পরিমাণ অত্যন্ত সামান্য। উদাহরণ হিসেবে, শুধু পিংক সল্ট খেয়ে দৈনিক প্রয়োজনীয় পটাশিয়াম পেতে হলে প্রায় ১.৭ কেজি বা ৩.৭ পাউন্ড লবণ খেতে হবে, যা স্বাভাবিকভাবেই বাস্তবসম্মত নয়। ফলে এই অতিরিক্ত খনিজগুলো থেকে উল্লেখযোগ্য স্বাস্থ্য উপকার পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

হিমালয়ান পিংক সল্ট নিয়ে বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত দাবি প্রচলিত রয়েছে। এর মধ্যে শ্বাসকষ্টজনিত রোগের উন্নতি, শরীরের পিএইচ ভারসাম্য বজায় রাখা, বার্ধক্যের লক্ষণ কমানো, ঘুমের মান উন্নত করা, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ এবং যৌন আকাঙ্ক্ষা বাড়ানোর মতো দাবিও রয়েছে। কিন্তু এসব দাবির বেশির ভাগের পক্ষে বৈজ্ঞানিক গবেষণার পর্যাপ্ত সমর্থন নেই।

পিংক সল্ট দিয়ে তৈরি লবণগুহায় সময় কাটানোর মতো কিছু ব্যবহার নিয়ে ফুসফুসের রোগের চিকিৎসায় গবেষণা হয়েছে। কিছু গবেষণায় সম্ভাব্য উপকারের ইঙ্গিত মিললেও এর কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে আরও শক্তিশালী গবেষণা প্রয়োজন।

আবার পর্যাপ্ত লবণ খাওয়ার সঙ্গে ঘুমের সম্পর্ক নিয়ে কিছু গবেষণা রয়েছে। তবে সেখানে হিমালয়ান পিংক সল্ট পরীক্ষা করা হয়নি। ফলে ঘুমের ক্ষেত্রে কোনো সম্ভাব্য উপকার থাকলেও সেটি পিংক সল্টের বিশেষ বৈশিষ্ট্য নয়; বরং লবণে থাকা সোডিয়ামের স্বাভাবিক ভূমিকার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

শরীরের পিএইচ ভারসাম্যের ক্ষেত্রেও পিংক সল্টের বিশেষ কোনো ভূমিকা নেই। মানুষের ফুসফুস ও কিডনি নিজস্ব প্রক্রিয়ায় শরীরের পিএইচ নিয়ন্ত্রণ করে। একইভাবে রক্তে শর্করার মাত্রা, বার্ধক্য ও যৌন আকাঙ্ক্ষা মূলত খাবারের লবণের পরিবর্তে অন্যান্য বিভিন্ন শারীরিক ও জীবনযাপন-সম্পর্কিত কারণ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, হিমালয়ান পিংক সল্ট ও সাধারণ টেবিল লবণের স্বাস্থ্যগত প্রভাব সরাসরি তুলনা করে পর্যাপ্ত গবেষণা এখনো হয়নি। তাই পিংক সল্ট সাধারণ লবণের চেয়ে স্বাস্থ্যকর—এমন সিদ্ধান্তে যাওয়ার মতো নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

তবে সাধারণ টেবিল লবণে থাকা অতিরিক্ত উপাদান এড়িয়ে চলতে চাইলে হিমালয়ান পিংক সল্ট একটি প্রাকৃতিক বিকল্প হতে পারে। কিন্তু এটি খেলে বড় ধরনের স্বাস্থ্য উপকার পাওয়া যাবে, এমন প্রত্যাশা না রাখাই ভালো।

আরেকটি বিষয় হলো, টেবিল লবণ আয়োডিনের গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য উৎস। কেউ যদি আয়োডিনযুক্ত টেবিল লবণের পরিবর্তে হিমালয়ান পিংক সল্ট ব্যবহার করেন, তাহলে আয়োডিনের ঘাটতি এড়াতে সামুদ্রিক শৈবাল, দুধজাত খাবার ও মাছের মতো অন্যান্য খাদ্য থেকে পর্যাপ্ত আয়োডিন গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

সবশেষে, সাধারণ টেবিল লবণের তুলনায় হিমালয়ান পিংক সল্টের দামও সাধারণত অনেক বেশি। তাই অতিরিক্ত দামের বিনিময়ে বিশেষ স্বাস্থ্য উপকার পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। মূল কথা, পিংক সল্টে কিছু অতিরিক্ত খনিজ থাকলেও সেগুলোর পরিমাণ এতটাই কম যে সাধারণ টেবিল লবণের তুলনায় এটিকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি উপকারী বলার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি বর্তমানে নেই।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

সূত্র: হেলথলাইন

Tag :

হিমালয়ান পিংক সল্ট কি সাধারণ লবণের তুলনায় বেশি উপকারী?

হিমালয়ান পিংক সল্ট কি সাধারণ লবণের তুলনায় বেশি উপকারী?

আপডেট সময় ১২:২৯:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হিমালয়ান পিংক সল্ট দেখতে গোলাপি রঙের এবং পাকিস্তানের হিমালয়সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত খেওড়া লবণখনি থেকে এটি সংগ্রহ করা হয়। এতে নানা ধরনের খনিজ উপাদান থাকার কারণে অনেকেই মনে করেন, সাধারণ লবণের তুলনায় এটি বেশি স্বাস্থ্যকর। তবে এ দাবির পক্ষে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ খুবই সীমিত। বরং বিদ্যমান তথ্য বলছে, দুই ধরনের লবণের স্বাস্থ্যগত পার্থক্য নিয়ে এখনো পর্যাপ্ত গবেষণা হয়নি।

লবণ মূলত সোডিয়াম ক্লোরাইড দিয়ে তৈরি একটি খনিজ। সাধারণ টেবিল লবণের প্রায় ৯৮ শতাংশই ওজনের হিসাবে সোডিয়াম ক্লোরাইড। ভূগর্ভস্থ লবণখনি থেকে লবণ উত্তোলন অথবা লবণাক্ত পানি বাষ্পীভূত করে লবণ তৈরি করা হয়। বাজারে পৌঁছানোর আগে টেবিল লবণ পরিশোধনের মাধ্যমে অমেধ্য ও সোডিয়াম ক্লোরাইড ছাড়া অন্যান্য খনিজ সরিয়ে ফেলা হয়। আর্দ্রতা রোধে এতে কিছু অ্যান্টিকেকিং উপাদান এবং আয়োডিনের ঘাটতি প্রতিরোধে আয়োডিনও যোগ করা হয়।

অন্যদিকে, পাকিস্তানের খেওড়া লবণখনি থেকে পাওয়া হিমালয়ান পিংক সল্ট তুলনামূলকভাবে কম প্রক্রিয়াজাত করা হয়। এটি মূলত সোডিয়াম ক্লোরাইড হলেও এতে আরও কিছু খনিজ ও ট্রেস উপাদান থাকে। বিভিন্ন হিসাবে এতে ৮৪ ধরনের খনিজ ও ট্রেস উপাদান থাকতে পারে। এর মধ্যে আয়রনের উপস্থিতিই লবণের স্বাভাবিক গোলাপি রঙের অন্যতম কারণ।

সাধারণ টেবিল লবণের মতো হিমালয়ান পিংক সল্টও রান্না ও খাবারে ব্যবহার করা যায়। এমনকি বড় আকারের লবণের ব্লক রান্নার পৃষ্ঠ হিসেবেও ব্যবহার করা হয়। তবে লবণের দানার আকারের ওপর সোডিয়ামের পরিমাণের পার্থক্য হতে পারে। একই পরিমাণে সূক্ষ্ম দানার লবণ মোটা দানার লবণের তুলনায় বেশি লবণ ধারণ করতে পারে।

একটি গবেষণায় বিভিন্ন ধরনের লবণের খনিজ উপাদান তুলনা করা হয়েছিল। সেখানে প্রতি গ্রাম হিমালয়ান পিংক সল্টে ক্যালসিয়াম পাওয়া যায় ১.৬ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ২.৮ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেশিয়াম ১.০৬ মিলিগ্রাম এবং আয়রন ০.০৩৬৯ মিলিগ্রাম। একই পরিমাণ সাধারণ টেবিল লবণে এসব উপাদানের পরিমাণ যথাক্রমে ০.৪, ০.৯, ০.০১৩৯ ও ০.০১০১ মিলিগ্রাম। তবে সোডিয়ামের পরিমাণ পিংক সল্টে প্রতি গ্রামে ৩৬৮ মিলিগ্রাম এবং টেবিল লবণে ৩৮১ মিলিগ্রাম।

অর্থাৎ হিমালয়ান পিংক সল্টে কিছু অতিরিক্ত খনিজ থাকলেও সেগুলোর পরিমাণ অত্যন্ত সামান্য। উদাহরণ হিসেবে, শুধু পিংক সল্ট খেয়ে দৈনিক প্রয়োজনীয় পটাশিয়াম পেতে হলে প্রায় ১.৭ কেজি বা ৩.৭ পাউন্ড লবণ খেতে হবে, যা স্বাভাবিকভাবেই বাস্তবসম্মত নয়। ফলে এই অতিরিক্ত খনিজগুলো থেকে উল্লেখযোগ্য স্বাস্থ্য উপকার পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

হিমালয়ান পিংক সল্ট নিয়ে বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত দাবি প্রচলিত রয়েছে। এর মধ্যে শ্বাসকষ্টজনিত রোগের উন্নতি, শরীরের পিএইচ ভারসাম্য বজায় রাখা, বার্ধক্যের লক্ষণ কমানো, ঘুমের মান উন্নত করা, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ এবং যৌন আকাঙ্ক্ষা বাড়ানোর মতো দাবিও রয়েছে। কিন্তু এসব দাবির বেশির ভাগের পক্ষে বৈজ্ঞানিক গবেষণার পর্যাপ্ত সমর্থন নেই।

পিংক সল্ট দিয়ে তৈরি লবণগুহায় সময় কাটানোর মতো কিছু ব্যবহার নিয়ে ফুসফুসের রোগের চিকিৎসায় গবেষণা হয়েছে। কিছু গবেষণায় সম্ভাব্য উপকারের ইঙ্গিত মিললেও এর কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে আরও শক্তিশালী গবেষণা প্রয়োজন।

আবার পর্যাপ্ত লবণ খাওয়ার সঙ্গে ঘুমের সম্পর্ক নিয়ে কিছু গবেষণা রয়েছে। তবে সেখানে হিমালয়ান পিংক সল্ট পরীক্ষা করা হয়নি। ফলে ঘুমের ক্ষেত্রে কোনো সম্ভাব্য উপকার থাকলেও সেটি পিংক সল্টের বিশেষ বৈশিষ্ট্য নয়; বরং লবণে থাকা সোডিয়ামের স্বাভাবিক ভূমিকার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

শরীরের পিএইচ ভারসাম্যের ক্ষেত্রেও পিংক সল্টের বিশেষ কোনো ভূমিকা নেই। মানুষের ফুসফুস ও কিডনি নিজস্ব প্রক্রিয়ায় শরীরের পিএইচ নিয়ন্ত্রণ করে। একইভাবে রক্তে শর্করার মাত্রা, বার্ধক্য ও যৌন আকাঙ্ক্ষা মূলত খাবারের লবণের পরিবর্তে অন্যান্য বিভিন্ন শারীরিক ও জীবনযাপন-সম্পর্কিত কারণ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, হিমালয়ান পিংক সল্ট ও সাধারণ টেবিল লবণের স্বাস্থ্যগত প্রভাব সরাসরি তুলনা করে পর্যাপ্ত গবেষণা এখনো হয়নি। তাই পিংক সল্ট সাধারণ লবণের চেয়ে স্বাস্থ্যকর—এমন সিদ্ধান্তে যাওয়ার মতো নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

তবে সাধারণ টেবিল লবণে থাকা অতিরিক্ত উপাদান এড়িয়ে চলতে চাইলে হিমালয়ান পিংক সল্ট একটি প্রাকৃতিক বিকল্প হতে পারে। কিন্তু এটি খেলে বড় ধরনের স্বাস্থ্য উপকার পাওয়া যাবে, এমন প্রত্যাশা না রাখাই ভালো।

আরেকটি বিষয় হলো, টেবিল লবণ আয়োডিনের গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য উৎস। কেউ যদি আয়োডিনযুক্ত টেবিল লবণের পরিবর্তে হিমালয়ান পিংক সল্ট ব্যবহার করেন, তাহলে আয়োডিনের ঘাটতি এড়াতে সামুদ্রিক শৈবাল, দুধজাত খাবার ও মাছের মতো অন্যান্য খাদ্য থেকে পর্যাপ্ত আয়োডিন গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

সবশেষে, সাধারণ টেবিল লবণের তুলনায় হিমালয়ান পিংক সল্টের দামও সাধারণত অনেক বেশি। তাই অতিরিক্ত দামের বিনিময়ে বিশেষ স্বাস্থ্য উপকার পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। মূল কথা, পিংক সল্টে কিছু অতিরিক্ত খনিজ থাকলেও সেগুলোর পরিমাণ এতটাই কম যে সাধারণ টেবিল লবণের তুলনায় এটিকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি উপকারী বলার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি বর্তমানে নেই।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

সূত্র: হেলথলাইন