ঢাকা ১০:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo নারীদের শরীরে অতিরিক্ত লোম কেন হয় Logo লো প্রেশার থাকলে ব্যায়ামের আগে সতর্কতা Logo পাকিস্তান-বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ত্রিদেশীয় সিরিজের সূচি প্রকাশ Logo বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫১০ পরিবার পাবে দেড় কোটি টাকা Logo নিরাপদ ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়তে বিশ্বনেতাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান Logo প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক Logo ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক Logo জলবায়ুর ঝুঁকি মোকাবেলায় বিশ্বকে ৫ জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo আরও ১১টি বোয়িং কেনার চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য অভিনন্দন মার্কিন রাষ্ট্রদূতের Logo ইতিহাসে সর্বোচ্চ আয়ের রেকর্ড গড়ল বার্সেলোনা

লো প্রেশার থাকলে ব্যায়ামের আগে সতর্কতা

ব্যায়াম শরীর সুস্থ রাখার অন্যতম উপায়। তবে যাদের রক্তচাপ বা ব্লাড প্রেশার স্বাভাবিকের তুলনায় কম বা লো, তাদের ক্ষেত্রে ব্যায়ামের সময় কিছুটা বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। কারণ ব্যায়ামের সময় বা ব্যায়াম শেষ করার পর হঠাৎ মাথা ঘোরা, চোখে ঝাপসা দেখা কিংবা দুর্বল লাগার মতো সমস্যা হতে পারে।

সাধারণভাবে রক্তচাপ ১২০/৮০ পারদচাপের নিচে থাকাকে ভালো মাত্রা ধরা হয়। তবে রক্তচাপ নিয়মিত ৯০/৬০ পারদচাপের নিচে থাকলে তাকে নিম্ন রক্তচাপ বলা হয়। অনেক সুস্থ ও সক্রিয় মানুষের রক্তচাপ কম হলেও কোনো উপসর্গ থাকে না। তবে বয়স্ক ব্যক্তি বা অন্য শারীরিক সমস্যা থাকা মানুষের ক্ষেত্রে মাথা ঘোরা, চোখে ঝাপসা দেখা, ক্লান্তি, বিভ্রান্তি এমনকি অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যাও হতে পারে।

ব্যায়ামের পর কেন মাথা ঘোরে

ব্যায়ামের সময় শরীরের পেশিতে বেশি অক্সিজেন পৌঁছে দিতে হৃদ্‌যন্ত্র দ্রুত স্পন্দিত হয়। ফলে রক্তচাপও কিছুটা বেড়ে যায়। কিন্তু ব্যায়াম শেষ করার পর স্বাভাবিকভাবেই রক্তচাপ কমতে শুরু করে।

এ অবস্থাকে ব্যায়ামের পর নিম্ন রক্তচাপ বলা হয়। যাদের আগে থেকেই রক্তচাপ কম, তাদের ক্ষেত্রে এই সাময়িক পতনের কারণে হৃদ্‌যন্ত্র ও মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ কমে মাথা ঘুরতে বা হালকা লাগতে পারে।

ব্যায়ামের সময় হঠাৎ বসা বা শোয়া অবস্থা থেকে দাঁড়িয়ে যাওয়ার মতো দ্রুত ভঙ্গি পরিবর্তনও একই ধরনের সমস্যা তৈরি করতে পারে।

ব্যায়ামের সময় পানি খাওয়ার অভ্যাস করুন

নিম্ন রক্তচাপ থাকলে ব্যায়ামের সময় শরীরে পানির ঘাটতি হতে দেওয়া যাবে না। ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে পানি বেরিয়ে গেলে রক্তচাপ আরও কমে যেতে পারে।

তবে ব্যায়াম শুরুর ঠিক আগে একসঙ্গে অনেক পানি পান করার চেয়ে সারা দিন অল্প অল্প করে পানি পান করা বেশি কার্যকর। ব্যায়ামের সময়ও সঙ্গে পানির বোতল রাখুন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অল্প অল্প করে পানি পান করুন।

ব্যায়াম শেষে হঠাৎ থামবেন না

হৃদস্পন্দন বাড়ানো ব্যায়াম শেষ করার পর হঠাৎ দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় সম্পূর্ণ থেমে যাওয়া ঠিক নয়।

ব্যায়ামের পর রক্তনালিগুলো কিছু সময় প্রসারিত থাকে। ফলে পা ও পায়ের পাতায় রক্ত জমে যেতে পারে। আবার পেশির নড়াচড়া বন্ধ হয়ে গেলে পা থেকে হৃদ্‌যন্ত্রের দিকে রক্ত ফেরার গতিও কমে যায়।

তাই ব্যায়াম শেষে অন্তত পাঁচ মিনিট ধীরে ধীরে নড়াচড়া করে শরীরকে স্বাভাবিক অবস্থায় আনুন। মাথা ঘোরা বা অন্য কোনো উপসর্গ থাকলে আরও বেশি সময় নিয়ে ধীরে ধীরে ব্যায়াম শেষ করুন।

কোন ব্যায়াম তুলনামূলকভাবে নিরাপদ

নিম্ন রক্তচাপের কারণে দাঁড়িয়ে ব্যায়াম করার পর মাথা ঘুরলে বসে করা ব্যায়াম বেছে নেওয়া যেতে পারে। যেমন হেলান দিয়ে বসা অবস্থায় চালানো যায় এমন স্থির সাইকেল বা বসে বৈঠা টানার যন্ত্র ব্যবহার করা যেতে পারে।

সাঁতারও উপকারী হতে পারে। পানিতে শরীর প্রায় অনুভূমিক অবস্থায় থাকে। পাশাপাশি পানির চাপ হাত-পা থেকে রক্ত ও তরল শরীরের মাঝামাঝি অংশ এবং হৃদযন্ত্রের দিকে ফিরতে সাহায্য করে। এতে প্রতিবার হৃদ্‌যন্ত্রের স্পন্দনে বেশি রক্ত সঞ্চালিত হতে পারে।

শক্তির ব্যায়ামেও কিছু পরিবর্তন দরকার

হাতের ব্যায়াম করার সময় দাঁড়িয়ে থাকার পরিবর্তে চেয়ার বা পিঁড়িতে বসে তা করা যেতে পারে।

গভীরভাবে বসে ওঠার ব্যায়াম বা নিচু অবস্থান থেকে দ্রুত উঠে দাঁড়ানোর মতো ব্যায়ামের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। এ ধরনের দ্রুত ভঙ্গি পরিবর্তনে মাথা ঘুরতে পারে।

যোগব্যায়ামের এমন ভঙ্গিও এড়িয়ে চলা ভালো, যেখানে মাথা হৃদ্‌যন্ত্রের নিচে থাকে। ওই অবস্থান থেকে দ্রুত স্বাভাবিক ভঙ্গিতে ফিরলে মাথায় রক্তপ্রবাহের দ্রুত পরিবর্তনের কারণে মাথা ঘুরতে পারে।

মেঝের ব্যায়াম ও দাঁড়িয়ে করার ব্যায়াম কীভাবে করবেন

ব্যায়ামের মধ্যে মেঝেতে বসে, হাঁটু গেড়ে বা শুয়ে করা ব্যায়াম এবং দাঁড়িয়ে করা ব্যায়াম থাকলে বারবার অবস্থান পরিবর্তন না করাই ভালো।

প্রথমে মেঝেতে করার সব ব্যায়াম শেষ করে এরপর ধীরে ধীরে দাঁড়ানো যেতে পারে। প্রয়োজন হলে দাঁড়ানোর আগে কিছুক্ষণ বসে বা হাঁটু গেড়ে থেকে শরীরকে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিন।

নিম্ন রক্তচাপ থাকলেও নিয়মিত ব্যায়াম করা সম্ভব। তবে ব্যায়ামের ধরন, শরীরের অবস্থান এবং ব্যায়াম শেষে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার। ব্যায়ামের সময় বারবার মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হওয়ার মতো অনুভূতি বা অন্য কোনো সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

সূত্র: হার্ভার্ড

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :

নারীদের শরীরে অতিরিক্ত লোম কেন হয়

লো প্রেশার থাকলে ব্যায়ামের আগে সতর্কতা

আপডেট সময় ০৯:১৭:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ব্যায়াম শরীর সুস্থ রাখার অন্যতম উপায়। তবে যাদের রক্তচাপ বা ব্লাড প্রেশার স্বাভাবিকের তুলনায় কম বা লো, তাদের ক্ষেত্রে ব্যায়ামের সময় কিছুটা বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। কারণ ব্যায়ামের সময় বা ব্যায়াম শেষ করার পর হঠাৎ মাথা ঘোরা, চোখে ঝাপসা দেখা কিংবা দুর্বল লাগার মতো সমস্যা হতে পারে।

সাধারণভাবে রক্তচাপ ১২০/৮০ পারদচাপের নিচে থাকাকে ভালো মাত্রা ধরা হয়। তবে রক্তচাপ নিয়মিত ৯০/৬০ পারদচাপের নিচে থাকলে তাকে নিম্ন রক্তচাপ বলা হয়। অনেক সুস্থ ও সক্রিয় মানুষের রক্তচাপ কম হলেও কোনো উপসর্গ থাকে না। তবে বয়স্ক ব্যক্তি বা অন্য শারীরিক সমস্যা থাকা মানুষের ক্ষেত্রে মাথা ঘোরা, চোখে ঝাপসা দেখা, ক্লান্তি, বিভ্রান্তি এমনকি অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যাও হতে পারে।

ব্যায়ামের পর কেন মাথা ঘোরে

ব্যায়ামের সময় শরীরের পেশিতে বেশি অক্সিজেন পৌঁছে দিতে হৃদ্‌যন্ত্র দ্রুত স্পন্দিত হয়। ফলে রক্তচাপও কিছুটা বেড়ে যায়। কিন্তু ব্যায়াম শেষ করার পর স্বাভাবিকভাবেই রক্তচাপ কমতে শুরু করে।

এ অবস্থাকে ব্যায়ামের পর নিম্ন রক্তচাপ বলা হয়। যাদের আগে থেকেই রক্তচাপ কম, তাদের ক্ষেত্রে এই সাময়িক পতনের কারণে হৃদ্‌যন্ত্র ও মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ কমে মাথা ঘুরতে বা হালকা লাগতে পারে।

ব্যায়ামের সময় হঠাৎ বসা বা শোয়া অবস্থা থেকে দাঁড়িয়ে যাওয়ার মতো দ্রুত ভঙ্গি পরিবর্তনও একই ধরনের সমস্যা তৈরি করতে পারে।

ব্যায়ামের সময় পানি খাওয়ার অভ্যাস করুন

নিম্ন রক্তচাপ থাকলে ব্যায়ামের সময় শরীরে পানির ঘাটতি হতে দেওয়া যাবে না। ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে পানি বেরিয়ে গেলে রক্তচাপ আরও কমে যেতে পারে।

তবে ব্যায়াম শুরুর ঠিক আগে একসঙ্গে অনেক পানি পান করার চেয়ে সারা দিন অল্প অল্প করে পানি পান করা বেশি কার্যকর। ব্যায়ামের সময়ও সঙ্গে পানির বোতল রাখুন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অল্প অল্প করে পানি পান করুন।

ব্যায়াম শেষে হঠাৎ থামবেন না

হৃদস্পন্দন বাড়ানো ব্যায়াম শেষ করার পর হঠাৎ দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় সম্পূর্ণ থেমে যাওয়া ঠিক নয়।

ব্যায়ামের পর রক্তনালিগুলো কিছু সময় প্রসারিত থাকে। ফলে পা ও পায়ের পাতায় রক্ত জমে যেতে পারে। আবার পেশির নড়াচড়া বন্ধ হয়ে গেলে পা থেকে হৃদ্‌যন্ত্রের দিকে রক্ত ফেরার গতিও কমে যায়।

তাই ব্যায়াম শেষে অন্তত পাঁচ মিনিট ধীরে ধীরে নড়াচড়া করে শরীরকে স্বাভাবিক অবস্থায় আনুন। মাথা ঘোরা বা অন্য কোনো উপসর্গ থাকলে আরও বেশি সময় নিয়ে ধীরে ধীরে ব্যায়াম শেষ করুন।

কোন ব্যায়াম তুলনামূলকভাবে নিরাপদ

নিম্ন রক্তচাপের কারণে দাঁড়িয়ে ব্যায়াম করার পর মাথা ঘুরলে বসে করা ব্যায়াম বেছে নেওয়া যেতে পারে। যেমন হেলান দিয়ে বসা অবস্থায় চালানো যায় এমন স্থির সাইকেল বা বসে বৈঠা টানার যন্ত্র ব্যবহার করা যেতে পারে।

সাঁতারও উপকারী হতে পারে। পানিতে শরীর প্রায় অনুভূমিক অবস্থায় থাকে। পাশাপাশি পানির চাপ হাত-পা থেকে রক্ত ও তরল শরীরের মাঝামাঝি অংশ এবং হৃদযন্ত্রের দিকে ফিরতে সাহায্য করে। এতে প্রতিবার হৃদ্‌যন্ত্রের স্পন্দনে বেশি রক্ত সঞ্চালিত হতে পারে।

শক্তির ব্যায়ামেও কিছু পরিবর্তন দরকার

হাতের ব্যায়াম করার সময় দাঁড়িয়ে থাকার পরিবর্তে চেয়ার বা পিঁড়িতে বসে তা করা যেতে পারে।

গভীরভাবে বসে ওঠার ব্যায়াম বা নিচু অবস্থান থেকে দ্রুত উঠে দাঁড়ানোর মতো ব্যায়ামের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। এ ধরনের দ্রুত ভঙ্গি পরিবর্তনে মাথা ঘুরতে পারে।

যোগব্যায়ামের এমন ভঙ্গিও এড়িয়ে চলা ভালো, যেখানে মাথা হৃদ্‌যন্ত্রের নিচে থাকে। ওই অবস্থান থেকে দ্রুত স্বাভাবিক ভঙ্গিতে ফিরলে মাথায় রক্তপ্রবাহের দ্রুত পরিবর্তনের কারণে মাথা ঘুরতে পারে।

মেঝের ব্যায়াম ও দাঁড়িয়ে করার ব্যায়াম কীভাবে করবেন

ব্যায়ামের মধ্যে মেঝেতে বসে, হাঁটু গেড়ে বা শুয়ে করা ব্যায়াম এবং দাঁড়িয়ে করা ব্যায়াম থাকলে বারবার অবস্থান পরিবর্তন না করাই ভালো।

প্রথমে মেঝেতে করার সব ব্যায়াম শেষ করে এরপর ধীরে ধীরে দাঁড়ানো যেতে পারে। প্রয়োজন হলে দাঁড়ানোর আগে কিছুক্ষণ বসে বা হাঁটু গেড়ে থেকে শরীরকে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিন।

নিম্ন রক্তচাপ থাকলেও নিয়মিত ব্যায়াম করা সম্ভব। তবে ব্যায়ামের ধরন, শরীরের অবস্থান এবং ব্যায়াম শেষে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার। ব্যায়ামের সময় বারবার মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হওয়ার মতো অনুভূতি বা অন্য কোনো সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

সূত্র: হার্ভার্ড

বাংলা৭১নিউজ/জেএস