ঢাকা ০১:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিমানে খাবার পানসে লাগে কেন?

মাটিতে বসে যে খাবার খেতে বেশ সুস্বাদু লাগে, বিমানে উঠলেই সেই একই খাবার অনেক সময় কেন যেন পানসে মনে হয়? দাম দিয়ে কেনা বিমানের খাবারের মান কি সত্যিই খারাপ, নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো কারণ?

অনেক যাত্রীর মনেই এমন প্রশ্ন আসে। আসলে বিমানে পরিবেশিত খাবারের স্বাদ সবসময় খারাপ-বিষয়টি এমন নয়। বরং মাটি থেকে হাজার হাজার ফুট ওপরে বিমানের কেবিনের বিশেষ পরিবেশ আমাদের স্বাদ ও ঘ্রাণ অনুভবের ক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে।

খাবারের স্বাদ বোঝার ক্ষেত্রে শুধু জিহ্বাই কাজ করে না। ঘ্রাণশক্তিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খাবার মুখে নেওয়ার পর তার সুবাস নাকের মাধ্যমে মস্তিষ্কে পৌঁছায় এবং স্বাদের সামগ্রিক অনুভূতি তৈরি হয়। তাই নাকের স্বাভাবিক কার্যকারিতায় সামান্য পরিবর্তন এলেও খাবার আগের তুলনায় বিস্বাদ মনে হতে পারে।

শুষ্ক বাতাসে কমে যায় স্বাদের অনুভূতি
বিমানের কেবিনের বাতাস সাধারণত ঘরের তুলনায় অনেক শুষ্ক। দীর্ঘ সময় এমন পরিবেশে থাকলে নাক ও মুখের ভেতরও শুষ্ক অনুভূত হতে পারে। ফলে খাবারের সুবাস গ্রহণের ক্ষমতা কিছুটা কমে যেতে পারে। আর ঘ্রাণের অনুভূতি কমলে খাবারের সূক্ষ্ম স্বাদও আগের মতো স্পষ্ট মনে হয় না।

অর্থাৎ খাবারের মসলা বা উপাদান বদলে যাচ্ছে না, বদলে যাচ্ছে খাবারটিকে আমাদের মস্তিষ্কে অনুভব করার অভিজ্ঞতা। বিমানের উচ্চতা, কম আর্দ্রতা ও কেবিনের পরিবেশে এই পার্থক্য তৈরি হতে পারে।

ইঞ্জিনের একটানা শব্দও দায়ী
বিমানে থাকা অবস্থায় চারপাশের শব্দের মাত্রাও খাবারের স্বাদ অনুভবের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, উচ্চমাত্রার পটভূমির শব্দ মানুষের মিষ্টি ও নোনতা স্বাদের অনুভূতি কমিয়ে দিতে পারে এবং খাবার উপভোগের মাত্রাও কমতে পারে। ফলে বিমানে খাওয়া খাবার তুলনামূলকভাবে কম সুস্বাদু মনে হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

তবে সব স্বাদ একইভাবে প্রভাবিত হয় না। মুখরোচক স্বাদের খাবার-যেমন টমেটো, মাশরুম, চিজ বা ঝোলজাতীয় কিছু খাবার-বিমানের পরিবেশে তুলনামূলকভাবে বেশি আকর্ষণীয় মনে হতে পারে। এ কারণেই টমেটোর রসের মতো কিছু খাবার বা পানীয় আকাশপথে অনেকের কাছে বেশ ভালো লাগে।

ক্লান্তি ও সময়ের প্রভাবও থাকে
শুধু কেবিনের বাতাস কিংবা শব্দ নয়, যাত্রীর নিজের শারীরিক অবস্থাও খাবারের অভিজ্ঞতাকে বদলে দিতে পারে। দীর্ঘ বিমানযাত্রায় ঘুমের সময়সূচি বদলে যায়, শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাসেও ছন্দপতন ঘটে। কখনো আবার ক্ষুধা না থাকলেও নির্দিষ্ট সময়ে খাবার পরিবেশন করা হয়।

এসব কারণে খাবার উপভোগের অনুভূতিও বদলে যেতে পারে। এর সঙ্গে খাবার আগে থেকে প্রস্তুত করে বিমানে গরম করে পরিবেশন করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। খাবারের ধরন ও পুনরায় গরম করার পদ্ধতি স্বাদ ও গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে।

বিমানের খাবার পানসে লাগার পেছনে একক কোনো কারণ নেই, কেবিনের পরিবেশ, শব্দ, ঘ্রাণ অনুভূতি, খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশনের পদ্ধতি এবং যাত্রীর নিজের শারীরিক অবস্থার সম্মিলিত প্রভাব থাকতে পারে।

তাই পরের বার বিমানে খাবার মুখে দিয়ে স্বাদ কম মনে হলে শুধু বিমান সংস্থাকে দোষ দেওয়ার আগে মনে রাখুন-সমস্যাটি হয়তো খাবারে নয়, আপনার চারপাশের পরিবেশেই।

সূত্র: বিবিসি, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, হেলথলাইন

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :

বিমানে খাবার পানসে লাগে কেন?

আপডেট সময় ১০:৩৮:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মাটিতে বসে যে খাবার খেতে বেশ সুস্বাদু লাগে, বিমানে উঠলেই সেই একই খাবার অনেক সময় কেন যেন পানসে মনে হয়? দাম দিয়ে কেনা বিমানের খাবারের মান কি সত্যিই খারাপ, নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো কারণ?

অনেক যাত্রীর মনেই এমন প্রশ্ন আসে। আসলে বিমানে পরিবেশিত খাবারের স্বাদ সবসময় খারাপ-বিষয়টি এমন নয়। বরং মাটি থেকে হাজার হাজার ফুট ওপরে বিমানের কেবিনের বিশেষ পরিবেশ আমাদের স্বাদ ও ঘ্রাণ অনুভবের ক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে।

খাবারের স্বাদ বোঝার ক্ষেত্রে শুধু জিহ্বাই কাজ করে না। ঘ্রাণশক্তিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খাবার মুখে নেওয়ার পর তার সুবাস নাকের মাধ্যমে মস্তিষ্কে পৌঁছায় এবং স্বাদের সামগ্রিক অনুভূতি তৈরি হয়। তাই নাকের স্বাভাবিক কার্যকারিতায় সামান্য পরিবর্তন এলেও খাবার আগের তুলনায় বিস্বাদ মনে হতে পারে।

শুষ্ক বাতাসে কমে যায় স্বাদের অনুভূতি
বিমানের কেবিনের বাতাস সাধারণত ঘরের তুলনায় অনেক শুষ্ক। দীর্ঘ সময় এমন পরিবেশে থাকলে নাক ও মুখের ভেতরও শুষ্ক অনুভূত হতে পারে। ফলে খাবারের সুবাস গ্রহণের ক্ষমতা কিছুটা কমে যেতে পারে। আর ঘ্রাণের অনুভূতি কমলে খাবারের সূক্ষ্ম স্বাদও আগের মতো স্পষ্ট মনে হয় না।

অর্থাৎ খাবারের মসলা বা উপাদান বদলে যাচ্ছে না, বদলে যাচ্ছে খাবারটিকে আমাদের মস্তিষ্কে অনুভব করার অভিজ্ঞতা। বিমানের উচ্চতা, কম আর্দ্রতা ও কেবিনের পরিবেশে এই পার্থক্য তৈরি হতে পারে।

ইঞ্জিনের একটানা শব্দও দায়ী
বিমানে থাকা অবস্থায় চারপাশের শব্দের মাত্রাও খাবারের স্বাদ অনুভবের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, উচ্চমাত্রার পটভূমির শব্দ মানুষের মিষ্টি ও নোনতা স্বাদের অনুভূতি কমিয়ে দিতে পারে এবং খাবার উপভোগের মাত্রাও কমতে পারে। ফলে বিমানে খাওয়া খাবার তুলনামূলকভাবে কম সুস্বাদু মনে হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

তবে সব স্বাদ একইভাবে প্রভাবিত হয় না। মুখরোচক স্বাদের খাবার-যেমন টমেটো, মাশরুম, চিজ বা ঝোলজাতীয় কিছু খাবার-বিমানের পরিবেশে তুলনামূলকভাবে বেশি আকর্ষণীয় মনে হতে পারে। এ কারণেই টমেটোর রসের মতো কিছু খাবার বা পানীয় আকাশপথে অনেকের কাছে বেশ ভালো লাগে।

ক্লান্তি ও সময়ের প্রভাবও থাকে
শুধু কেবিনের বাতাস কিংবা শব্দ নয়, যাত্রীর নিজের শারীরিক অবস্থাও খাবারের অভিজ্ঞতাকে বদলে দিতে পারে। দীর্ঘ বিমানযাত্রায় ঘুমের সময়সূচি বদলে যায়, শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাসেও ছন্দপতন ঘটে। কখনো আবার ক্ষুধা না থাকলেও নির্দিষ্ট সময়ে খাবার পরিবেশন করা হয়।

এসব কারণে খাবার উপভোগের অনুভূতিও বদলে যেতে পারে। এর সঙ্গে খাবার আগে থেকে প্রস্তুত করে বিমানে গরম করে পরিবেশন করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। খাবারের ধরন ও পুনরায় গরম করার পদ্ধতি স্বাদ ও গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে।

বিমানের খাবার পানসে লাগার পেছনে একক কোনো কারণ নেই, কেবিনের পরিবেশ, শব্দ, ঘ্রাণ অনুভূতি, খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশনের পদ্ধতি এবং যাত্রীর নিজের শারীরিক অবস্থার সম্মিলিত প্রভাব থাকতে পারে।

তাই পরের বার বিমানে খাবার মুখে দিয়ে স্বাদ কম মনে হলে শুধু বিমান সংস্থাকে দোষ দেওয়ার আগে মনে রাখুন-সমস্যাটি হয়তো খাবারে নয়, আপনার চারপাশের পরিবেশেই।

সূত্র: বিবিসি, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, হেলথলাইন

বাংলা৭১নিউজ/জেএস