জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও কর্মসূচিগুলো বাণিজ্যক্ষেত্রে সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী দেশের মূল নেতা।
তিনি যখন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলাপ করেন তা বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ফোরাম থেকে বলা হয়। এর সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক ফল পড়বে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দক্ষিণ সুরমায় সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী সমিতির অভিষেক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরে প্রায় ১১টি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকসহ ৩০টি কর্মসূচি রয়েছে।
এসব কর্মসূচি দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অবশ্যই ইতিবাচক প্রভাব রাখবে। দেশের প্রধানমন্ত্রীই তো মূল নেতা। মূল নেতৃত্ব তিনিই দেন। তিনি যখন বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলাপ আলোচনা করেন- তার মানে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ফোরাম থেকে সেই কথাগুলো বলা হয়।
এর সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক ফল আমরা পাবো ইনশাআল্লাহ।
বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের জন্য সবাই বন্ধুরাষ্ট্র। আমাদের সবার সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক রেখে এগিয়ে যেতে চাই।
বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি চলমান থাকলে তার কি কি প্রভাব বাণিজ্যে পড়তে পারে- এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, এ অবস্থা চলতে থাকলে বাণিজ্যে কি প্রভাব পড়বে, এটা তো একটা পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি। এক জায়গায় জিনিসটা থেমে নেই যে আপনি এটার ওপর নির্ভর করে একটা উৎস বের করবেন।
এখন তেলের যে মূল্য নির্ধারণে আমরা বাধ্য হয়েছি, আংশিক সমন্বয় করতে হয়েছে। তিনি বলেন, এটার অভিঘাতে দ্রব্যমূল্যের প্রভাব যাতে কম করা যায় সেজন্য আমরা সাপ্লাই চেনইকে আরো সুসংহত করার জন্য, মসৃণ করা জন্য, কোনো জায়গায় যেন অযৌক্তিভাবে মূল্যবৃদ্ধি না হয় এবং সরবরাহ যাতে কোনো অবস্থায় বাঁধাগ্রস্ত না হয়, সেজন্য কাজ করছি।
এর আগে মহানগর ব্যবসায়ী সমিতির অভিষেক অনুষ্ঠানে খন্দকার মুক্তাদির সিলেটে এআই প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপনের ঘোষণা দিয়ে বলেন, সিলেটে একটি এআই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র করার বিষয়ে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তরুণদের প্রশিক্ষণ দিয়ে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষ করে তুলতে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, দেশে অনেক তরুণ ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করছেন। সিলেটের তরুণদেরও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এ খাতে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি করতে চাই। এ জন্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি যথাযথভাবে পরিচালনা করা গেলে সিলেট থেকে বিপুলসংখ্যক তরুণ ফ্রিল্যান্সিং ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজের সুযোগ পাবেন।
তিনি আরো বলেন, আগামী সপ্তাহ বা তার পরের সপ্তাহে ইনশাআল্লাহ আমি আমাদের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রীকে সিলেট নিয়ে আসব। তার সঙ্গে আমি আলাপ করেছি, আমরা এখানে একটা এআই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র করব।
খন্দকার মুক্তাদির বলেন, বিনিয়োগ আকর্ষণের অন্যতম পূর্বশর্ত হচ্ছে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন। সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার পাশাপাশি রেল যোগাযোগের উন্নয়নেও কাজ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে সিলেটের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগ আরো সহজ হবে।
সিলেটের তরুণদের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে যুক্ত করার পাশাপাশি শহরকে বিনিয়োগ ও ব্যবসার জন্য আরো আকর্ষণীয় করে তোলার কথা বলেন তিনি। এ জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের ওপরও গুরুত্ব দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, মানুষের মধ্যে নিরাপত্তার অনুভূতি না থাকলে বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সম্ভব নয়। কোনো এলাকায় মাদক বা কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা থাকলে সেখানকার মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়।
সিলেট নগরকে উন্নত প্রযুক্তির সিসিটিভির আওতায় আনার উদ্যোগের কথা জানান তিনি। তার ভাষ্য, সিলেট সিটি করপোরেশন শহরজুড়ে এমন সিসিটিভি স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে, যেগুলোতে মুখ শনাক্ত করার প্রযুক্তি থাকবে এবং রাতেও নজরদারি করা যাবে। প্রযুক্তির সহায়তায় অপরাধীদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সিলেটকে বাসযোগ্য, বিনিয়োগ, ব্যবসা ও পর্যটনের জন্য আরো আকর্ষণীয় শহর হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ























