ঢাকা ০৩:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘সাংবাদিকতার পথ কখনোই মসৃণ ছিল না’

সাংবাদিকতার পথ কখনো মসৃণ ছিল না। সরকার সবসময়ই গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধে আইনকে ব্যবহার করে। এজন্যই বিভিন্ন সময়ে নিবর্তনমূলক আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে হয়েছে সাংবাদিকদের। বাংলাদেশে প্রস্তাবিত সাইবার সিকিউরিটি এ্যাক্ট প্রণয়নের প্রতিক্রিয়ায় এমন কথা বলেছেন সাংবাদিকরা।

অন্যদিকে, আইনের সমর্থনে যুক্তি দিয়ে বলা হয়েছে অপসাংবাদিকতা রোধে সাইবার সিকিউরিটি এ্যাক্ট প্রয়োজন। তবে এই আইনের অপব্যবহার যাতে না হয় সেটি নিশ্চিত করতে হবে।

মঙ্গলবার রাতে নিউইর্কের জ্যাকসন হাইটসে নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের আয়োজনে বাংলাদেশ থেকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সংবাদ কভার করতে আসার সাংবাদিক ও নিউইয়র্কে কর্মরত সাংবাদিকদের আড্ডায় এমন মতামত ব্যক্ত করেন সাংবাদিকরা।

নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি মনোয়ারুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মমিনুল ইসলাম মজুমদারের সঞ্চালনায় আড্ডা রেষ্টুরেন্টের হল রুমে অনুষ্ঠিত আড্ডায় মূখ্য আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা-বাসসের এমডি কাদের গণি চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন নিউইয়র্ক-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সাবেক সেক্রেটারি শেখ সিরাজুল ইসলাম।

এ আড্ডায় নিউইয়র্কে বসবাসরত সাংবাদিক ও এক্টিভিস্টদের মধ্যে প্রবীণ সাংবাদিক সাংবাদিক মনজুর আহম্মেদ, নিইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি ডা. ওয়াজেদ এ খান, আনোয়ার হোসাইন মঞ্জু, তাসের মাহমুদ, ইব্রাহিম চৌধুরী খোকন, এটর্ণি মঈন চৌধুরী, ফখরুল আলম, ফরিদ আলম, সুলতানা রহমান,তফাজ্জল লিটন, মাহথির ফারুকিসহ বিপুল সংখ্যক সাংবাদিক বাংলাদেশ থেকে আগত সাংবাদিকদের মধ্যে সিনিয়র সাংবাদিক কেরামত উল্লাহ বিপ্লব, এনটিভির বিশেষ প্রতিনিধি হাসান মাহমুদ, ঢাকা মেইলের বিশেষ প্রতিনিধি বোরহান উদ্দিন, যমুনা টিভির চীফ রিপোর্টার সাইফুদ্দিন রবিন, আরটিভির সিনিয়র রিপোর্টার মাইদুর রহমান রুবেল, কালবেলার চীফ রিপোর্টার সফিকুল ইসলাম, এটিএন বাংলার চীফ রিপোর্টার মইনুল আহসান, ৭১ টিভির সিনিয়র রিপোর্টার সফিকুল হক, এখন টিভির স্টাফ রিপোর্টার সাব্বির রোজ, স্টার নিউজের স্টাফ রিপোর্টার সিফাত শাহরিয়ার, চ্যানেল২৪ এর সিনিয়র রিপোর্টার শাহনেওয়াজ বাবলুসহ শতাধিক সাংবাদিক যোগ দেন।

বাসসের এমডি কাদের গণি চৌধুরী বলেন, গত ১৭ বছর আমাদের গণমাধ্যমগুলো সত্য তুলে ধরতে পারেনি। সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলেনি অথবা বলতে পারেনি। যার ফলে ফ্যাসিবাদী শাসন অনেক দীর্ঘ হয়েছিলো। সাংবাদিকরা যদি তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারতেন তাহলে ফ্যাসিবাদ এভাবে চেপে বসতে পারতো না।

তিনি বলেন, সাংবাদিকতার পথ কখনোই মসৃণ ছিল না। তবে এখন অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় কথা বলতে পারছেন। আবার এই সুযোগে অপসাংবাদিকতা এবং অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এআই ব্যবহার করে নারীদের নিয়ে অশ্লীল ও অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে। মোবাইল একটি নিয়ে মাঠে নেমেই সাংবাদিক পরিচয়ে হলুদ সাংবাদিকতা, অপসাংবাদিকতা ছড়ানো হচ্ছে। এই অবস্থা নিয়ন্ত্রণে সাইবার সিটিকিউরিটি এ্যাক্ট প্রয়োজন। তবে এই আইনের যথেচ্ছা ব্যবহার করে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ কিংবা সাংবাদিকদের দমন করা যাবে না।

প্রবীণ সাংবাদিক তাসের মাহমুদ বলেন, আমরা অতীতে সব কালাকানুন বাতিলের দাবি করেছি। সাইবার সিকিউরিটি এ্যাক্টও একটা নিবর্তনমূলক আইন।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :

‘সাংবাদিকতার পথ কখনোই মসৃণ ছিল না’

আপডেট সময় ১১:৩৯:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাংবাদিকতার পথ কখনো মসৃণ ছিল না। সরকার সবসময়ই গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধে আইনকে ব্যবহার করে। এজন্যই বিভিন্ন সময়ে নিবর্তনমূলক আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে হয়েছে সাংবাদিকদের। বাংলাদেশে প্রস্তাবিত সাইবার সিকিউরিটি এ্যাক্ট প্রণয়নের প্রতিক্রিয়ায় এমন কথা বলেছেন সাংবাদিকরা।

অন্যদিকে, আইনের সমর্থনে যুক্তি দিয়ে বলা হয়েছে অপসাংবাদিকতা রোধে সাইবার সিকিউরিটি এ্যাক্ট প্রয়োজন। তবে এই আইনের অপব্যবহার যাতে না হয় সেটি নিশ্চিত করতে হবে।

মঙ্গলবার রাতে নিউইর্কের জ্যাকসন হাইটসে নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের আয়োজনে বাংলাদেশ থেকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সংবাদ কভার করতে আসার সাংবাদিক ও নিউইয়র্কে কর্মরত সাংবাদিকদের আড্ডায় এমন মতামত ব্যক্ত করেন সাংবাদিকরা।

নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি মনোয়ারুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মমিনুল ইসলাম মজুমদারের সঞ্চালনায় আড্ডা রেষ্টুরেন্টের হল রুমে অনুষ্ঠিত আড্ডায় মূখ্য আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা-বাসসের এমডি কাদের গণি চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন নিউইয়র্ক-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সাবেক সেক্রেটারি শেখ সিরাজুল ইসলাম।

এ আড্ডায় নিউইয়র্কে বসবাসরত সাংবাদিক ও এক্টিভিস্টদের মধ্যে প্রবীণ সাংবাদিক সাংবাদিক মনজুর আহম্মেদ, নিইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি ডা. ওয়াজেদ এ খান, আনোয়ার হোসাইন মঞ্জু, তাসের মাহমুদ, ইব্রাহিম চৌধুরী খোকন, এটর্ণি মঈন চৌধুরী, ফখরুল আলম, ফরিদ আলম, সুলতানা রহমান,তফাজ্জল লিটন, মাহথির ফারুকিসহ বিপুল সংখ্যক সাংবাদিক বাংলাদেশ থেকে আগত সাংবাদিকদের মধ্যে সিনিয়র সাংবাদিক কেরামত উল্লাহ বিপ্লব, এনটিভির বিশেষ প্রতিনিধি হাসান মাহমুদ, ঢাকা মেইলের বিশেষ প্রতিনিধি বোরহান উদ্দিন, যমুনা টিভির চীফ রিপোর্টার সাইফুদ্দিন রবিন, আরটিভির সিনিয়র রিপোর্টার মাইদুর রহমান রুবেল, কালবেলার চীফ রিপোর্টার সফিকুল ইসলাম, এটিএন বাংলার চীফ রিপোর্টার মইনুল আহসান, ৭১ টিভির সিনিয়র রিপোর্টার সফিকুল হক, এখন টিভির স্টাফ রিপোর্টার সাব্বির রোজ, স্টার নিউজের স্টাফ রিপোর্টার সিফাত শাহরিয়ার, চ্যানেল২৪ এর সিনিয়র রিপোর্টার শাহনেওয়াজ বাবলুসহ শতাধিক সাংবাদিক যোগ দেন।

বাসসের এমডি কাদের গণি চৌধুরী বলেন, গত ১৭ বছর আমাদের গণমাধ্যমগুলো সত্য তুলে ধরতে পারেনি। সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলেনি অথবা বলতে পারেনি। যার ফলে ফ্যাসিবাদী শাসন অনেক দীর্ঘ হয়েছিলো। সাংবাদিকরা যদি তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারতেন তাহলে ফ্যাসিবাদ এভাবে চেপে বসতে পারতো না।

তিনি বলেন, সাংবাদিকতার পথ কখনোই মসৃণ ছিল না। তবে এখন অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় কথা বলতে পারছেন। আবার এই সুযোগে অপসাংবাদিকতা এবং অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এআই ব্যবহার করে নারীদের নিয়ে অশ্লীল ও অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে। মোবাইল একটি নিয়ে মাঠে নেমেই সাংবাদিক পরিচয়ে হলুদ সাংবাদিকতা, অপসাংবাদিকতা ছড়ানো হচ্ছে। এই অবস্থা নিয়ন্ত্রণে সাইবার সিটিকিউরিটি এ্যাক্ট প্রয়োজন। তবে এই আইনের যথেচ্ছা ব্যবহার করে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ কিংবা সাংবাদিকদের দমন করা যাবে না।

প্রবীণ সাংবাদিক তাসের মাহমুদ বলেন, আমরা অতীতে সব কালাকানুন বাতিলের দাবি করেছি। সাইবার সিকিউরিটি এ্যাক্টও একটা নিবর্তনমূলক আইন।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস