মাঠ পর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা, মা ও শিশুস্বাস্থ্যসেবায় গতি আনতে বছরব্যাপী ২২ দফা কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা হাতে নিচ্ছে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর। চলতি বছরের নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত জাতীয় থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এতে তরুণ-কিশোর-কিশোরী, নবদম্পতি ও পুরুষদের পাশাপাশি গর্ভবতী ও প্রসূতি মা, বস্তিবাসী, ভাসমান ও বিভিন্ন অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে কর্মসূচির আওতায় আনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে ‘মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রমের গতিশীলতা আনয়নের লক্ষ্যে ‘পরিবার পরিকল্পনা, মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা প্রচার-প্রচারণা ও ক্যাম্পেইন বাস্তবায়ন কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক সেমিনারে এক বছরের এ কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়।
কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, হাট ক্যাম্পেইন, র্যালি ও সমন্বয় সভা ছাড়া এক বছরে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রমে প্রায় ২৭ লাখ ৩০ হাজার মানুষকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। নভেম্বর মাসে মহিলা সংসদ সদস্যদের নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে ওরিয়েন্টেশন এবং ৬৪ জেলা ও ৫০৩ উপজেলায় গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রচার কার্যক্রম চালানো হবে।
ডিসেম্বর মাসে ইউনিয়ন পর্যায়ে হাট ক্যাম্পেইন এবং উপজেলা পর্যায়ে আন্ত মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বয় সভা হবে।
২২ দফা কর্মপরিকল্পনায় যা রয়েছে
মহিলা সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্তকরণ, গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রচার, হাট-বাজারে বিনা মূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প, ধর্মীয় ও সামাজিক নেতাদের সম্পৃক্ততা, ডিজিটাল ইনফ্লুয়েন্সারদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর করা, ‘মা ও গর্ভবতী সুরক্ষা সমাবেশ’, বস্তি ও ভাসমান জনগোষ্ঠীর সেবা, ২৩ হাজার ৫০০ ইউনিটে ‘ওয়েলবিং ক্লাব’ গঠন, ইউনিয়ন পর্যায়ে ‘পরিবার সংলাপ’, কৈশোর ও যুববান্ধব স্বাস্থ্যসেবা, নবদম্পতি কাউন্সেলিং এবং পুরুষদের সম্পৃক্তকরণ।
এ ছাড়া বিনা মূল্যে সরকারি পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রীর প্রচার, পল্লিচিকিৎসক ও ধাত্রীদের রেফারেল অংশীদারি এবং এনজিও ও উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বয়ের পরিকল্পনাও রয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক ও সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আমিনুল হক বলেন, ‘২২টি আলাদা কর্মসূচি বা বড় বাজেট ও জনবলের পেছনে না ছুটে মূল সেবায় গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেবা দেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর প্রচার। মাঠকর্মীদের নিয়মিত গৃহপরিদর্শন নিশ্চিত করার পাশাপাশি এমআইএস ও জবাবদিহি জোরদার করা দরকার।
তিনি আরো বলেন, ‘হাট-বাজারের ফার্মেসিতে বিশেষ কর্নার করে পুরুষদের সহজে বিনামূল্যের প্রয়োজনীয় সামগ্রী দেওয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। বর্তমানে প্রায় ৫৭ শতাংশ মানুষ বেসরকারি বাজার থেকে পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রী কেনেন। তাদের সরকারি বিনামূল্যের সামগ্রীর বিষয়ে জানানো প্রয়োজন।
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. জিন্নাত রেহানা বলেন, ‘১৯৭৫ সালে দেশে মোট প্রজনন হার (টিএফআর) ছিল ৬ দশমিক ৩। ২০২২ সালে তা ২ দশমিক ১৫-এ নামলেও ২০২৫ সালে বেড়ে ২ দশমিক ৪ হয়েছে। গত দুই বছর অপারেশনাল প্ল্যান বন্ধ থাকায় মাঠপর্যায়ে প্রচার ও প্রয়োজনীয় সংস্থান সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছিল। বাল্যবিবাহের হার ২৪ শতাংশ। অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণের হার ৪৯ শতাংশ এবং এর ৬১ শতাংশের ক্ষেত্রে অনিরাপদ গর্ভপাত ঘটছে।’
সেমিনারে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব এ কে এম বেনজামিন রিয়াজী প্রধান অতিথি এবং পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. জিন্নাত রেহানা সভাপতিত্ব করেন। মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, এনজিও ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রায় ৫০ জন প্রতিনিধি এতে অংশ নেন।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ























