ঢাকা ১০:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo অবৈধ অনলাইন প্ল্যাটফর্মে লেনদেন না করার পরামর্শ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের Logo ঢাকায় ঝরতে পারে বৃষ্টি, কমবে তাপমাত্রা Logo যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউরোপ: পানি ও খাবার মজুতের নির্দেশ Logo জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্যস্ত Logo টাঙ্গাইলে ভবঘুরে নারীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেপ্তার Logo পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম আজ, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি Logo বারিধারায় প্রাইভেটকারচাপায় বিশ্রামরত শ্রমিকের মুত্যু Logo মহাবিশ্বের বিস্ময় ‘হোয়াইট হোল’: যেখানে সময়ের স্রোত উল্টো দিকে বয়! Logo খলিলুর রহমানের সঙ্গে ট্রাম্পের সাক্ষাৎ Logo প্রতিপক্ষের সঙ্গে হাত মেলালেন না ভারতীয় খেলোয়াড় সুচিকা

মহাবিশ্বের বিস্ময় ‘হোয়াইট হোল’: যেখানে সময়ের স্রোত উল্টো দিকে বয়!

মহাবিশ্ব এক অনন্ত রহস্যের জাল। আর এই রহস্যের চূড়ান্ত শিখরে রয়েছে এমন এক মহাজাগতিক সত্ত্বা, যা মানুষের ভাবনার অতীত ‘হোয়াইট হোল’ বা শ্বেত গহ্বর। আমরা ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণগহ্বরের কথা অনেক শুনেছি। এমন এক সর্বগ্রাসী দৈত্য, যার শক্তিশালী অভিকর্ষ থেকে আলোর মতো দ্রুতগামী কণাও রেহাই পায় না। যা কিছু সামনে পায়, তাকেই নিজের পেটে পুরে ফেলে। কিন্তু যদি ব্ল্যাক হোলের ঠিক বিপরীত কোনো কিছুর অস্তিত্ব থাকে? কেমন হবে যদি এমন এক স্থান থাকে, যা কোনো কিছুকে ভেতরে ঢুকতে দেয় না, বরং অনবরত আলো ও শক্তি বাইরে উগড়ে দেয়? বিজ্ঞানীদের ধারণা, সেই অদ্ভুত অস্তিত্বটির নামই ‘হোয়াইট হোল’।
ব্ল্যাক হোলের আয়না: আসলে কী এই হোয়াইট হোল?

সহজ কথায় বলতে গেলে, হোয়াইট হোল হলো ব্ল্যাক হোলের ঠিক উল্টো প্রতিচ্ছবি। আলবার্ট আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতার তত্ত্ব (জেনারেল থিওরি অব রিলেটিভিটি) বিশ্লেষণ করে পদার্থবিজ্ঞানীরা এই অদ্ভুত সত্ত্বার উপস্থিতি গাণিতিকভাবে প্রমাণ করেছেন। গাণিতিক হিসাব বলছে, ব্ল্যাক হোল যেমন স্পেস-টাইমের (স্থান-কাল) এমন এক বিন্দু যেখানে জিনিস কেবল প্রবেশ করতে পারে কিন্তু বের হতে পারে না, হোয়াইট হোল ঠিক তার বিপরীত।

হোয়াইট হোলের ‘ইভেন্ট হরাইজন’ বা ঘটনা দিগন্ত ভেদ করে কোনো পদার্থ বা তথ্য ভেতরে প্রবেশ করতে পারে না। এর সীমান্ত থেকে কেবল বস্তু, আলো এবং বিপুল পরিমাণ শক্তি বাইরের মহাবিশ্বে নিক্ষিপ্ত হয়। কেউ যদি কোনো শক্তিশালী রকেটে চেপে হোয়াইট হোলের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে, তবে সে যতই শক্তি প্রয়োগ করুক না কেন, এর সীমানায় পৌঁছানো অসম্ভব। এক অদৃশ্য দেয়াল তাকে প্রতিহত করে মহাবিশ্বে ছিটকে ফেলে দেবে।

সময়ের অদ্ভুত খেলা: ঘড়ি যখন চলে উল্টো দিকে
হোয়াইট হোলের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর দিক হলো সময়ের সাথে এর সম্পর্ক। পদার্থবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে, হোয়াইট হোল মূলত একটি ব্ল্যাক হোল যা সময়ের উল্টো অভিমুখে চলছে (টাইম-রিভারসড ব্ল্যাক হোল)। ভাবুন তো একটি দৃশ্য একটি কাচের গ্লাস মেঝেতে পড়ে ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেল। স্বাভাবিক নিয়মে এই ভাঙা কাচ আর আগের জায়গায় ফিরে আসে না। কিন্তু হোয়াইট হোলের ক্ষেত্রে যেন সিনেমা রিভার্স মোডে চালানো হচ্ছে! এখানে সময় পেছনের দিকে ধাবিত হয়। ব্ল্যাক হোল যা কিছু ধ্বংস করে গিলে ফেলেছিল, হোয়াইট হোল থেকে তা যেন সময়ের উল্টো স্রোতে আবার মহাবিশ্বে ফিরে আসছে।

ওয়ার্মহোল ও অন্য কোনো বিশ্ব
হোয়াইট হোলের ধারণার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে আরেকটি কাল্পনিক মহাজাগতিক সুরঙ্গ ‘ওয়ার্মহোল’। তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানীদের একাংশের মতে, ব্ল্যাক হোল এবং হোয়াইট হোল আসলে একটি দ্বিমুখী সুরঙ্গের দুই প্রান্ত। ব্ল্যাক হোল যদি হয় একটি প্রবেশদ্বার, তবে হোয়াইট হোল হলো তার প্রস্থানপথ। এর অর্থ, আমাদের মহাবিশ্বের একটি ব্ল্যাক হোল থেকে যা কিছু হারিয়ে যাচ্ছে, তা হয়তো অন্য কোনো সমান্তরাল মহাবিশ্বে বা এই মহাবিশ্বেরই কোনো সুদূর অতীতে হোয়াইট হোল দিয়ে বিস্ফোরণের মতো বেরিয়ে আসছে।

বিগ ব্যাং কি তবে একটি হোয়াইট হোল?
বিজ্ঞানীদের মনে আরেকটি শিহরণ জাগানো প্রশ্ন রয়েছে- আমাদের এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি বা ‘বিগ ব্যাং’ কি নিজেই একটি বিশাল হোয়াইট হোল ছিল? বিগ ব্যাং-এর মুহূর্তে একটি অসীম ঘন বিন্দু থেকে হঠাৎ করে আলো, শক্তি এবং সব পদার্থের প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটেছিল। আজ থেকে ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে ঠিক যেভাবে শূন্য থেকে এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টি হয়েছিল, তার সাথে হোয়াইট হোলের আচরণ হুবহু মিলে যায়। অনেক বিজ্ঞানী মনে করেন, আমাদের সম্পূর্ণ মহাবিশ্ব হয়তো অন্য কোনো মাতৃ-মহাবিশ্বের ব্ল্যাক হোলে ঢুকে এই প্রান্তে হোয়াইট হোল হয়ে আত্মপ্রকাশ করেছিল!

ব্ল্যাক হোলই কি বদলে যায় হোয়াইট হোলে?
বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং দেখিয়েছিলেন যে ব্ল্যাক হোল চিরস্থায়ী নয়, তা ধীরে ধীরে ‘হকিং রেডিয়েশন’ বিকিরণ করে বাষ্পীভূত হয়ে ছোট হতে থাকে। আধুনিক কোয়ান্টাম গ্র্যাভিটি তত্ত্ব বলছে, যখন একটি ব্ল্যাক হোল সংকুচিত হয়ে অত্যন্ত ক্ষুদ্র (প্ল্যাংক স্কেল) আকারে পৌঁছায়, তখন মহাকর্ষের নিয়মে এক মহাজাগতিক বাউন্স ঘটে। একমুহূর্তে ব্ল্যাক হোলটি রূপান্তরিত হয় একটি ‘হোয়াইট হোলে’। তবে এই রূপান্তর মানুষের চোখের পলকে ঘটলেও, মহাকর্ষীয় কাল-প্রসারণের কারণে বাইরে থেকে পর্যবেক্ষণকারী মানুষের কাছে মনে হতে পারে বিলিয়ন বিলিয়ন বছর সময় লাগছে।

কল্পনা নাকি বাস্তব?
এখনো পর্যন্ত কোনো টেলিস্কোপে হোয়াইট হোলের প্রত্যক্ষ প্রমাণ মেলেনি। তবে বিজ্ঞান ইতিহাস আমাদের শেখায়, যা আজ তাত্ত্বিক কল্পনা, তা-ই কালকের বাস্তব। একসময় ব্ল্যাক হোলকেও মানুষ কল্পবিজ্ঞান বা গণিতের কারসাজি মনে করত, কিন্তু আজকের বিজ্ঞানে ব্ল্যাক হোল এক সুপ্রতিষ্ঠিত সত্য।

মহাবিশ্বের এই অনাবিষ্কৃত রহস্য আমাদের মনে করিয়ে দেয়, প্রকৃতির রহস্যের ভাণ্ডার কতই না অপরিসীম। হোয়াইট হোল কেবল এক গাণিতিক সমীকরণ নয়, এটি মহাজাগতিক ক্যানভাসে আঁকা এক রূপকথা যা প্রমাণ করে, মহাবিশ্বে সৃষ্টির শেষ নেই, ধ্বংস যেখানে শেষ হয়, সেখান থেকেই হয়তো শুরু হয় এক নতুন যাত্রার।

সূত্র: আর্থ ডটকম, স্পেস

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :

অবৈধ অনলাইন প্ল্যাটফর্মে লেনদেন না করার পরামর্শ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

মহাবিশ্বের বিস্ময় ‘হোয়াইট হোল’: যেখানে সময়ের স্রোত উল্টো দিকে বয়!

আপডেট সময় ০৯:৫০:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মহাবিশ্ব এক অনন্ত রহস্যের জাল। আর এই রহস্যের চূড়ান্ত শিখরে রয়েছে এমন এক মহাজাগতিক সত্ত্বা, যা মানুষের ভাবনার অতীত ‘হোয়াইট হোল’ বা শ্বেত গহ্বর। আমরা ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণগহ্বরের কথা অনেক শুনেছি। এমন এক সর্বগ্রাসী দৈত্য, যার শক্তিশালী অভিকর্ষ থেকে আলোর মতো দ্রুতগামী কণাও রেহাই পায় না। যা কিছু সামনে পায়, তাকেই নিজের পেটে পুরে ফেলে। কিন্তু যদি ব্ল্যাক হোলের ঠিক বিপরীত কোনো কিছুর অস্তিত্ব থাকে? কেমন হবে যদি এমন এক স্থান থাকে, যা কোনো কিছুকে ভেতরে ঢুকতে দেয় না, বরং অনবরত আলো ও শক্তি বাইরে উগড়ে দেয়? বিজ্ঞানীদের ধারণা, সেই অদ্ভুত অস্তিত্বটির নামই ‘হোয়াইট হোল’।
ব্ল্যাক হোলের আয়না: আসলে কী এই হোয়াইট হোল?

সহজ কথায় বলতে গেলে, হোয়াইট হোল হলো ব্ল্যাক হোলের ঠিক উল্টো প্রতিচ্ছবি। আলবার্ট আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতার তত্ত্ব (জেনারেল থিওরি অব রিলেটিভিটি) বিশ্লেষণ করে পদার্থবিজ্ঞানীরা এই অদ্ভুত সত্ত্বার উপস্থিতি গাণিতিকভাবে প্রমাণ করেছেন। গাণিতিক হিসাব বলছে, ব্ল্যাক হোল যেমন স্পেস-টাইমের (স্থান-কাল) এমন এক বিন্দু যেখানে জিনিস কেবল প্রবেশ করতে পারে কিন্তু বের হতে পারে না, হোয়াইট হোল ঠিক তার বিপরীত।

হোয়াইট হোলের ‘ইভেন্ট হরাইজন’ বা ঘটনা দিগন্ত ভেদ করে কোনো পদার্থ বা তথ্য ভেতরে প্রবেশ করতে পারে না। এর সীমান্ত থেকে কেবল বস্তু, আলো এবং বিপুল পরিমাণ শক্তি বাইরের মহাবিশ্বে নিক্ষিপ্ত হয়। কেউ যদি কোনো শক্তিশালী রকেটে চেপে হোয়াইট হোলের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে, তবে সে যতই শক্তি প্রয়োগ করুক না কেন, এর সীমানায় পৌঁছানো অসম্ভব। এক অদৃশ্য দেয়াল তাকে প্রতিহত করে মহাবিশ্বে ছিটকে ফেলে দেবে।

সময়ের অদ্ভুত খেলা: ঘড়ি যখন চলে উল্টো দিকে
হোয়াইট হোলের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর দিক হলো সময়ের সাথে এর সম্পর্ক। পদার্থবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে, হোয়াইট হোল মূলত একটি ব্ল্যাক হোল যা সময়ের উল্টো অভিমুখে চলছে (টাইম-রিভারসড ব্ল্যাক হোল)। ভাবুন তো একটি দৃশ্য একটি কাচের গ্লাস মেঝেতে পড়ে ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেল। স্বাভাবিক নিয়মে এই ভাঙা কাচ আর আগের জায়গায় ফিরে আসে না। কিন্তু হোয়াইট হোলের ক্ষেত্রে যেন সিনেমা রিভার্স মোডে চালানো হচ্ছে! এখানে সময় পেছনের দিকে ধাবিত হয়। ব্ল্যাক হোল যা কিছু ধ্বংস করে গিলে ফেলেছিল, হোয়াইট হোল থেকে তা যেন সময়ের উল্টো স্রোতে আবার মহাবিশ্বে ফিরে আসছে।

ওয়ার্মহোল ও অন্য কোনো বিশ্ব
হোয়াইট হোলের ধারণার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে আরেকটি কাল্পনিক মহাজাগতিক সুরঙ্গ ‘ওয়ার্মহোল’। তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানীদের একাংশের মতে, ব্ল্যাক হোল এবং হোয়াইট হোল আসলে একটি দ্বিমুখী সুরঙ্গের দুই প্রান্ত। ব্ল্যাক হোল যদি হয় একটি প্রবেশদ্বার, তবে হোয়াইট হোল হলো তার প্রস্থানপথ। এর অর্থ, আমাদের মহাবিশ্বের একটি ব্ল্যাক হোল থেকে যা কিছু হারিয়ে যাচ্ছে, তা হয়তো অন্য কোনো সমান্তরাল মহাবিশ্বে বা এই মহাবিশ্বেরই কোনো সুদূর অতীতে হোয়াইট হোল দিয়ে বিস্ফোরণের মতো বেরিয়ে আসছে।

বিগ ব্যাং কি তবে একটি হোয়াইট হোল?
বিজ্ঞানীদের মনে আরেকটি শিহরণ জাগানো প্রশ্ন রয়েছে- আমাদের এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি বা ‘বিগ ব্যাং’ কি নিজেই একটি বিশাল হোয়াইট হোল ছিল? বিগ ব্যাং-এর মুহূর্তে একটি অসীম ঘন বিন্দু থেকে হঠাৎ করে আলো, শক্তি এবং সব পদার্থের প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটেছিল। আজ থেকে ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে ঠিক যেভাবে শূন্য থেকে এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টি হয়েছিল, তার সাথে হোয়াইট হোলের আচরণ হুবহু মিলে যায়। অনেক বিজ্ঞানী মনে করেন, আমাদের সম্পূর্ণ মহাবিশ্ব হয়তো অন্য কোনো মাতৃ-মহাবিশ্বের ব্ল্যাক হোলে ঢুকে এই প্রান্তে হোয়াইট হোল হয়ে আত্মপ্রকাশ করেছিল!

ব্ল্যাক হোলই কি বদলে যায় হোয়াইট হোলে?
বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং দেখিয়েছিলেন যে ব্ল্যাক হোল চিরস্থায়ী নয়, তা ধীরে ধীরে ‘হকিং রেডিয়েশন’ বিকিরণ করে বাষ্পীভূত হয়ে ছোট হতে থাকে। আধুনিক কোয়ান্টাম গ্র্যাভিটি তত্ত্ব বলছে, যখন একটি ব্ল্যাক হোল সংকুচিত হয়ে অত্যন্ত ক্ষুদ্র (প্ল্যাংক স্কেল) আকারে পৌঁছায়, তখন মহাকর্ষের নিয়মে এক মহাজাগতিক বাউন্স ঘটে। একমুহূর্তে ব্ল্যাক হোলটি রূপান্তরিত হয় একটি ‘হোয়াইট হোলে’। তবে এই রূপান্তর মানুষের চোখের পলকে ঘটলেও, মহাকর্ষীয় কাল-প্রসারণের কারণে বাইরে থেকে পর্যবেক্ষণকারী মানুষের কাছে মনে হতে পারে বিলিয়ন বিলিয়ন বছর সময় লাগছে।

কল্পনা নাকি বাস্তব?
এখনো পর্যন্ত কোনো টেলিস্কোপে হোয়াইট হোলের প্রত্যক্ষ প্রমাণ মেলেনি। তবে বিজ্ঞান ইতিহাস আমাদের শেখায়, যা আজ তাত্ত্বিক কল্পনা, তা-ই কালকের বাস্তব। একসময় ব্ল্যাক হোলকেও মানুষ কল্পবিজ্ঞান বা গণিতের কারসাজি মনে করত, কিন্তু আজকের বিজ্ঞানে ব্ল্যাক হোল এক সুপ্রতিষ্ঠিত সত্য।

মহাবিশ্বের এই অনাবিষ্কৃত রহস্য আমাদের মনে করিয়ে দেয়, প্রকৃতির রহস্যের ভাণ্ডার কতই না অপরিসীম। হোয়াইট হোল কেবল এক গাণিতিক সমীকরণ নয়, এটি মহাজাগতিক ক্যানভাসে আঁকা এক রূপকথা যা প্রমাণ করে, মহাবিশ্বে সৃষ্টির শেষ নেই, ধ্বংস যেখানে শেষ হয়, সেখান থেকেই হয়তো শুরু হয় এক নতুন যাত্রার।

সূত্র: আর্থ ডটকম, স্পেস

বাংলা৭১নিউজ/জেএস