ঢাকা ০২:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo নভেম্বরে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দিতে প্রস্তুত রূপপুর প্রকল্প Logo চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন মির্জা আব্বাস Logo জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ Logo আহত পুলিশ পরিদর্শককে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo ডেঙ্গু মোকাবিলায় দেশবাসীর জন্য প্রধানমন্ত্রীর জরুরি বার্তা Logo সংবিধান সংশোধন কমিটিকে জামায়াত কোনো পরামর্শ দেবে না: গোলাম পরওয়ার Logo ফ্যামেলি কার্ড নিয়ে অনিয়ম করলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না: প্রতিমন্ত্রী টুকু Logo চীনের লাগাম টানতে শুধু স্বচ্ছতা যথেষ্ট নয় Logo লং মার্চে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হলে সবার আগে বিএনপি করত Logo সার্ক পুনরুজ্জীবিতকরণ ও পারস্পরিক বাণিজ্য সম্ভাবনা বৃদ্ধিতে গুরুত্বারোপ এলজিআরডি মন্ত্রীর

৫ বছরে আফ্রিকায় আশ্রয় চেয়েছে ৬০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি

পাঁচ বছরে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক আশ্রয় বা শরণার্থী মর্যাদা চেয়ে আবেদন করেছে ৬০ হাজার ৫৪৬ বাংলাদেশি। তাদের বেশির ভাগ আবেদন করেছে দক্ষিণ আফ্রিকায়।

সোমালিয়া, মালি, মরক্কো, মিসর, তিউনিশিয়া, আলজেরিয়া, নামিবিয়া ও ক্যামেরুনেও বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদনের তথ্য রয়েছে।

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের তথ্য বলছে, ২০২১-২৫ সাল পর্যন্ত আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে আশ্রয় বা শরণার্থী মর্যাদার জন্য আবেদনকারীদের মধ্যে ৮৫০ জন শরণার্থী হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। বাকি প্রায় ৫৯ হাজার ৭০০ জন আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে রয়েছে। তাদের আবেদন প্রক্রিয়াধীন অথবা এখনো নিষ্পত্তি হয়নি।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, পূর্ব ও দক্ষিণ আফ্রিকা, পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকা এবং উত্তর আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশিরা আশ্রয়ের আবেদন করেছে। তবে তাদের প্রায় পুরো অংশ কেন্দ্রীভূত পূর্ব ও দক্ষিণ আফ্রিকায়। এর মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকাতে আবেদনকারীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশি আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা ছিল ২৪ হাজার ৫৬১।

২০২২ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৯ হাজার ৭১৯ জনে। ২০২৩ সালে ৯ হাজার ২৩৯, ২০২৪ সালে ৯ হাজার ৩৯৬ এবং ২০২৫ সালে ৬ হাজার ৫৪০ জন বাংলাদেশি আশ্রয়প্রার্থী ছিল। একই সময়ে দেশটিতে বাংলাদেশি রিফিউজির সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ২০০, ১৫৩, ১৬৯, ১৭৫ ও ১২৩ জন।

এ অঞ্চলের সোমালিয়ায় ২০২১-২৫ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর ছয়জন বাংলাদেশি শরণার্থী হিসেবে নথিভুক্ত ছিল। নামিবিয়ায় শুধু ২০২৩ সালে পাঁচজন বাংলাদেশি আশ্রয়প্রার্থীর তথ্য পাওয়া গেছে।

পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকায় বাংলাদেশি আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। মালিতে ২০২১ ও ২০২২ সালে ৩২ জন করে মোট ৬৪ জন এবং ক্যামেরুনে ২০২৪ সালে পাঁচজন বাংলাদেশি আশ্রয়ের আবেদন করেছে। এ অঞ্চলের কোনো দেশে আলোচ্য সময়ে বাংলাদেশিদের শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার তথ্য নেই।

উত্তর আফ্রিকায় সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি আশ্রয়প্রার্থীর তথ্য পাওয়া গেছে মরক্কোয়। ২০২১ সালে দেশটিতে ৭২ জন বাংলাদেশি আশ্রয়প্রার্থী ছিল। ২০২২ সালে ১৬, ২০২৩ সালে ১৪, ২০২৪ সালে ১০ এবং ২০২৫ সালে ১৯ জন আবেদন করে। পাঁচ বছরে মোট ১৩১ জন বাংলাদেশির আশ্রয় আবেদনের তথ্য পাওয়া গেছে। মিসরে প্রতি বছর পাঁচজন করে, তিউনিশিয়ায় ২০২১ সালে ছয়জন ও ২০২২ সালে পাঁচজন এবং আলজেরিয়ায় ২০২৫ সালে পাঁচজন বাংলাদেশি আশ্রয়ের আবেদন করেছে।

জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে অনেক দেশে সহজে ভিসা পাওয়া যায় না। এ কারণে কেউ কেউ আফ্রিকার কোনো দেশে গিয়ে স্থায়ী হওয়ার পর সেখান থেকে উন্নত দেশে যাওয়ার চেষ্টা করে। তুলনামূলক কম খরচে বিকল্প পথ হিসেবেও অনেকে আফ্রিকার দেশগুলোকে বেছে নিচ্ছে।

অভিবাসন ও শরণার্থীবিষয়ক বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর বলেন, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অভিবাসন নীতি কঠোর হওয়ায় বাংলাদেশিদের একটি অংশ তুলনামূলক অভিবাসীবান্ধব দেশগুলোতে আশ্রয় চাইছে। এসব দেশে রেসিডেন্সি পারমিট পাওয়া গেলে পরবর্তী সময়ে ইউরোপসহ উন্নত দেশগুলোতে যাওয়ার পথ সহজ হতে পারে।

তার মতে, দক্ষিণ আফ্রিকায় দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশিদের একটি শক্তিশালী প্রবাসী নেটওয়ার্ক রয়েছে। ব্যবসার প্রয়োজনে দেশটি থেকে বাংলাদেশে এবং বাংলাদেশ থেকে সেখানে লোকজন যাওয়ায় চেইন মাইগ্রেশন তৈরি হয়েছে। আর উত্তর আফ্রিকার মরক্কো ও তিউনিশিয়ার মতো দেশগুলো ইউরোপে প্রবেশের ট্রানজিট রুট হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

নভেম্বরে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দিতে প্রস্তুত রূপপুর প্রকল্প

৫ বছরে আফ্রিকায় আশ্রয় চেয়েছে ৬০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি

আপডেট সময় ১২:২৫:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাঁচ বছরে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক আশ্রয় বা শরণার্থী মর্যাদা চেয়ে আবেদন করেছে ৬০ হাজার ৫৪৬ বাংলাদেশি। তাদের বেশির ভাগ আবেদন করেছে দক্ষিণ আফ্রিকায়।

সোমালিয়া, মালি, মরক্কো, মিসর, তিউনিশিয়া, আলজেরিয়া, নামিবিয়া ও ক্যামেরুনেও বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদনের তথ্য রয়েছে।

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের তথ্য বলছে, ২০২১-২৫ সাল পর্যন্ত আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে আশ্রয় বা শরণার্থী মর্যাদার জন্য আবেদনকারীদের মধ্যে ৮৫০ জন শরণার্থী হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। বাকি প্রায় ৫৯ হাজার ৭০০ জন আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে রয়েছে। তাদের আবেদন প্রক্রিয়াধীন অথবা এখনো নিষ্পত্তি হয়নি।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, পূর্ব ও দক্ষিণ আফ্রিকা, পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকা এবং উত্তর আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশিরা আশ্রয়ের আবেদন করেছে। তবে তাদের প্রায় পুরো অংশ কেন্দ্রীভূত পূর্ব ও দক্ষিণ আফ্রিকায়। এর মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকাতে আবেদনকারীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশি আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা ছিল ২৪ হাজার ৫৬১।

২০২২ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৯ হাজার ৭১৯ জনে। ২০২৩ সালে ৯ হাজার ২৩৯, ২০২৪ সালে ৯ হাজার ৩৯৬ এবং ২০২৫ সালে ৬ হাজার ৫৪০ জন বাংলাদেশি আশ্রয়প্রার্থী ছিল। একই সময়ে দেশটিতে বাংলাদেশি রিফিউজির সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ২০০, ১৫৩, ১৬৯, ১৭৫ ও ১২৩ জন।

এ অঞ্চলের সোমালিয়ায় ২০২১-২৫ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর ছয়জন বাংলাদেশি শরণার্থী হিসেবে নথিভুক্ত ছিল। নামিবিয়ায় শুধু ২০২৩ সালে পাঁচজন বাংলাদেশি আশ্রয়প্রার্থীর তথ্য পাওয়া গেছে।

পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকায় বাংলাদেশি আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। মালিতে ২০২১ ও ২০২২ সালে ৩২ জন করে মোট ৬৪ জন এবং ক্যামেরুনে ২০২৪ সালে পাঁচজন বাংলাদেশি আশ্রয়ের আবেদন করেছে। এ অঞ্চলের কোনো দেশে আলোচ্য সময়ে বাংলাদেশিদের শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার তথ্য নেই।

উত্তর আফ্রিকায় সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি আশ্রয়প্রার্থীর তথ্য পাওয়া গেছে মরক্কোয়। ২০২১ সালে দেশটিতে ৭২ জন বাংলাদেশি আশ্রয়প্রার্থী ছিল। ২০২২ সালে ১৬, ২০২৩ সালে ১৪, ২০২৪ সালে ১০ এবং ২০২৫ সালে ১৯ জন আবেদন করে। পাঁচ বছরে মোট ১৩১ জন বাংলাদেশির আশ্রয় আবেদনের তথ্য পাওয়া গেছে। মিসরে প্রতি বছর পাঁচজন করে, তিউনিশিয়ায় ২০২১ সালে ছয়জন ও ২০২২ সালে পাঁচজন এবং আলজেরিয়ায় ২০২৫ সালে পাঁচজন বাংলাদেশি আশ্রয়ের আবেদন করেছে।

জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে অনেক দেশে সহজে ভিসা পাওয়া যায় না। এ কারণে কেউ কেউ আফ্রিকার কোনো দেশে গিয়ে স্থায়ী হওয়ার পর সেখান থেকে উন্নত দেশে যাওয়ার চেষ্টা করে। তুলনামূলক কম খরচে বিকল্প পথ হিসেবেও অনেকে আফ্রিকার দেশগুলোকে বেছে নিচ্ছে।

অভিবাসন ও শরণার্থীবিষয়ক বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর বলেন, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অভিবাসন নীতি কঠোর হওয়ায় বাংলাদেশিদের একটি অংশ তুলনামূলক অভিবাসীবান্ধব দেশগুলোতে আশ্রয় চাইছে। এসব দেশে রেসিডেন্সি পারমিট পাওয়া গেলে পরবর্তী সময়ে ইউরোপসহ উন্নত দেশগুলোতে যাওয়ার পথ সহজ হতে পারে।

তার মতে, দক্ষিণ আফ্রিকায় দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশিদের একটি শক্তিশালী প্রবাসী নেটওয়ার্ক রয়েছে। ব্যবসার প্রয়োজনে দেশটি থেকে বাংলাদেশে এবং বাংলাদেশ থেকে সেখানে লোকজন যাওয়ায় চেইন মাইগ্রেশন তৈরি হয়েছে। আর উত্তর আফ্রিকার মরক্কো ও তিউনিশিয়ার মতো দেশগুলো ইউরোপে প্রবেশের ট্রানজিট রুট হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ