ঢাকা ০৭:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি আসা নিয়ে কোনো সংকট নেই: তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী Logo প্রধানমন্ত্রী ‘আয়রন ম্যান’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন : এমরান সালেহ প্রিন্স Logo যুক্তরাষ্ট্রের চাপে বাজারে মজুত ডিজেল ছাড়তে যাচ্ছে ইউরোপ Logo জামায়াত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার Logo গবেষণার কঠিন কাজগুলো যখন এআই করছে, বিজ্ঞানীদের ভূমিকা তখন কী? Logo আবার মুখোমুখি হবেন মেসি-রোনালদো Logo দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ Logo আগামী ৩ মাসের মধ্যে কিশোর গ্যাং উৎখাত করা হবে : চিফ হুইপ Logo অক্টোবর-ডিসেম্বরে ব্যাংক থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা ধার নেবে সরকার Logo বিক্ষোভে উত্তাল দিল্লি : ইন্টারনেট বন্ধ, আটক সাতশ’র বেশি

ঈদের ছুটিতে পর্যটকে মুখর কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত

কোরবানির ব্যস্ততা শেষে ঈদুল আজহার ছুটিতে ধীরে ধীরে জমে উঠতে শুরু করেছে দেশের প্রধান পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজার। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা পর্যটকদের পদচারণায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত।

ঈদের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার (২৯ মে) সকাল থেকেই সৈকতের লাবণী, সুগন্ধা, কলাতলী ও দরিয়ানগর পয়েন্টে পর্যটকদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেছে। কেউ সমুদ্রস্নানে মেতেছেন, কেউ পরিবার-পরিজনের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটাচ্ছেন, আবার অনেকে ব্যস্ত ছিলেন স্মরণীয় মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করতে।

দীর্ঘ কর্মব্যস্ততা ও নগরজীবনের ক্লান্তি দূর করতে অনেকেই পরিবার নিয়ে ছুটে এসেছেন সমুদ্রের কাছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সৈকত এলাকায় পর্যটকদের ভিড়ও বাড়তে থাকে। একই সঙ্গে ব্যস্ততা বেড়েছে হোটেল, মোটেল ও গেস্টহাউসগুলোতে।

ফেনী থেকে পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসা পর্যটক সোহেল রানা বলেন, পরিবারকে সময় দিতেই কক্সবাজারে এসেছি। সমুদ্র দেখে সন্তান খুবই আনন্দ পাচ্ছে। ঈদের ছুটিতে এমন সময় কাটানো সত্যিই উপভোগ্য।

কুষ্টিয়া থেকে আসা পর্যটক নীলিমা বলেন, কোরবানির ব্যস্ততা শেষে সবাই মিলে ঘুরতে এসেছি। সমুদ্রের পরিবেশ, ঢেউ আর উৎসবমুখর আবহ আমাদের মুগ্ধ করেছে।

পর্যটনসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ঈদের দ্বিতীয় দিন পর্যন্ত কক্সবাজারের প্রায় ৩০ শতাংশ হোটেল কক্ষ ভাড়া হয়েছে। এতে প্রায় ৪০ হাজার পর্যটকের সমাগম ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কক্সবাজার হোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান জানান, ঈদের প্রথম দুই দিন মানুষ কোরবানির আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় পর্যটকের সংখ্যা তুলনামূলক কম থাকে। তবে ইতোমধ্যে পর্যটকরা কক্সবাজারমুখী হতে শুরু করেছেন। আগামী দিনগুলোতে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি।

পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করছেন লাইফগার্ড কর্মীরা। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে লাল পতাকা টাঙিয়ে সতর্কবার্তাও দেওয়া হচ্ছে।

লাইফগার্ড কর্মী জয়নাল আবেদীন বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তায় আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছি। বিপদজনক স্থানগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সবাইকে সতর্কতা মেনে সমুদ্রে নামার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বাড়ানো হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতাও। কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান জানান, ঈদের ছুটিতে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ, জেলা পুলিশ ও সাদা পোশাকের সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে দায়িত্ব পালন করছেন।

হোটেল ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ঈদের ছুটির বাকি দিনগুলোতে পর্যটকের চাপ আরও বাড়তে পারে। তাই ভোগান্তি এড়াতে আগেভাগে হোটেল বুকিং দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

নীল জলরাশি, গর্জন তোলা ঢেউ আর উৎসবের আমেজে ঈদের দ্বিতীয় দিনে নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে সমুদ্রনগরী কক্সবাজার। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, ছুটির বাকি সময়জুড়েও পর্যটকদের পদচারণায় মুখর থাকবে এই জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ

Tag :

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি আসা নিয়ে কোনো সংকট নেই: তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী

ঈদের ছুটিতে পর্যটকে মুখর কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত

আপডেট সময় ০৫:২৭:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

কোরবানির ব্যস্ততা শেষে ঈদুল আজহার ছুটিতে ধীরে ধীরে জমে উঠতে শুরু করেছে দেশের প্রধান পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজার। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা পর্যটকদের পদচারণায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত।

ঈদের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার (২৯ মে) সকাল থেকেই সৈকতের লাবণী, সুগন্ধা, কলাতলী ও দরিয়ানগর পয়েন্টে পর্যটকদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেছে। কেউ সমুদ্রস্নানে মেতেছেন, কেউ পরিবার-পরিজনের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটাচ্ছেন, আবার অনেকে ব্যস্ত ছিলেন স্মরণীয় মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করতে।

দীর্ঘ কর্মব্যস্ততা ও নগরজীবনের ক্লান্তি দূর করতে অনেকেই পরিবার নিয়ে ছুটে এসেছেন সমুদ্রের কাছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সৈকত এলাকায় পর্যটকদের ভিড়ও বাড়তে থাকে। একই সঙ্গে ব্যস্ততা বেড়েছে হোটেল, মোটেল ও গেস্টহাউসগুলোতে।

ফেনী থেকে পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসা পর্যটক সোহেল রানা বলেন, পরিবারকে সময় দিতেই কক্সবাজারে এসেছি। সমুদ্র দেখে সন্তান খুবই আনন্দ পাচ্ছে। ঈদের ছুটিতে এমন সময় কাটানো সত্যিই উপভোগ্য।

কুষ্টিয়া থেকে আসা পর্যটক নীলিমা বলেন, কোরবানির ব্যস্ততা শেষে সবাই মিলে ঘুরতে এসেছি। সমুদ্রের পরিবেশ, ঢেউ আর উৎসবমুখর আবহ আমাদের মুগ্ধ করেছে।

পর্যটনসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ঈদের দ্বিতীয় দিন পর্যন্ত কক্সবাজারের প্রায় ৩০ শতাংশ হোটেল কক্ষ ভাড়া হয়েছে। এতে প্রায় ৪০ হাজার পর্যটকের সমাগম ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কক্সবাজার হোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান জানান, ঈদের প্রথম দুই দিন মানুষ কোরবানির আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় পর্যটকের সংখ্যা তুলনামূলক কম থাকে। তবে ইতোমধ্যে পর্যটকরা কক্সবাজারমুখী হতে শুরু করেছেন। আগামী দিনগুলোতে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি।

পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করছেন লাইফগার্ড কর্মীরা। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে লাল পতাকা টাঙিয়ে সতর্কবার্তাও দেওয়া হচ্ছে।

লাইফগার্ড কর্মী জয়নাল আবেদীন বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তায় আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছি। বিপদজনক স্থানগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সবাইকে সতর্কতা মেনে সমুদ্রে নামার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বাড়ানো হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতাও। কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান জানান, ঈদের ছুটিতে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ, জেলা পুলিশ ও সাদা পোশাকের সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে দায়িত্ব পালন করছেন।

হোটেল ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ঈদের ছুটির বাকি দিনগুলোতে পর্যটকের চাপ আরও বাড়তে পারে। তাই ভোগান্তি এড়াতে আগেভাগে হোটেল বুকিং দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

নীল জলরাশি, গর্জন তোলা ঢেউ আর উৎসবের আমেজে ঈদের দ্বিতীয় দিনে নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে সমুদ্রনগরী কক্সবাজার। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, ছুটির বাকি সময়জুড়েও পর্যটকদের পদচারণায় মুখর থাকবে এই জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ