ঢাকা ০৭:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কর্মজীবনে সফল হতে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ Logo ফ্যাসিবাদকে ফেরাতে শ্রমিক আন্দোলনের নামে নৈরাজ্যের চেষ্টা চলছে : নুর Logo তাহসিফ হত্যা : রিমান্ড শেষে কারাগারে দিশা Logo মাদকের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির রাজনীতি করার অধিকার নেই: ইশরাক Logo রংপুর কারাগারে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামির মৃত্যু Logo পোশাকশিল্পে অস্থিরতার পেছনে ফ্যাসিবাদী শক্তির হাত রয়েছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo ৭ নভেম্বরের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo ‘ঘরের মাঠে ৫ উইকেট পাওয়া সবসময় স্পেশাল’ Logo হাসানের ৬ উইকেট, দিন শেষ ২৬৮ রানে পিছিয়ে বাংলাদেশ Logo বার্সেলোনার সঙ্গে নতুন চুক্তি রাফিনিয়ার

অনলাইনে সেবা দিলেই ডিজিটাল রূপান্তর নয় : তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী

সরকারি সেবা অনলাইনে নিয়ে আসলেই ডিজিটাল রূপান্তর সম্পন্ন হয় না বলে মন্তব্য করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

তিনি বলেছেন, প্রযুক্তির ব্যবহার কতটা বাড়ল, তা নয়; নাগরিকের জন্য সেবা কতটা সহজ, দ্রুত, স্বচ্ছ ও সহজলভ্য হলো, সেটিই ডিজিটাল রূপান্তরের সাফল্যের মূল মাপকাঠি।

আজ শুক্রবার আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে অনুষ্ঠিত ‘জাতিসংঘের শাসনব্যবস্থার উদ্ভাবন সম্মেলন : ভবিষ্যৎ উপযোগী প্রতিষ্ঠান এগিয়ে নেওয়া’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের অষ্টম অধিবেশনে বক্তব্য দেন তিনি। ‘শাসনব্যবস্থায় প্রচলিত পদ্ধতিকে চ্যালেঞ্জ এবং আগাম প্রস্তুতিমূলক শাসনব্যবস্থা’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

ফকির মাহবুব আনাম বলেন, শুধু প্রযুক্তি দিয়ে সরকারি প্রশাসনে পরিবর্তন আনা যায় না। প্রযুক্তি ব্যবহারের আগে বিদ্যমান প্রশাসনিক প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে অপ্রয়োজনীয় ধাপ বাদ দিতে হবে।

একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব স্পষ্ট করা এবং তাদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে। তার মতে, সংযোগ হলো ভিত্তি; তবে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাই সেই সংযোগকে জনকল্যাণে রূপ দেয়।

মন্ত্রী ডিজিটাল রূপান্তরের জন্য তিনটি বিষয়কে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। এগুলো হলো—সক্ষম প্রতিষ্ঠান, দক্ষ জনবল ও জনগণের আস্থা।

তিনি বলেন, সক্ষম প্রতিষ্ঠানের জন্য স্পষ্ট জবাবদিহি, একে অন্যের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদানে সক্ষম তথ্যব্যবস্থা এবং কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। পাশাপাশি নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ ও আত্মবিশ্বাসী জনবল গড়ে তুলতে হবে।

জনগণের আস্থা অর্জনের ক্ষেত্রে তথ্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, সাইবার নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা এবং সহজে অভিযোগ জানানোর ও তা নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘প্রযুক্তি নাগরিককে সরকারি ব্যবস্থার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে বাধ্য করবে না; বরং সরকারি ব্যবস্থাই নাগরিকের সঙ্গে খাপ খাওয়াবে।’

তিনি বলেন, প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও বাধাগুলো চিহ্নিত করে প্রশাসনিক সংস্কারকে আরো দ্রুত করা সম্ভব।

বাংলাদেশ প্রশাসনিক সংস্কার ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনকে পাশাপাশি এগিয়ে নিচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য উল্লেখ করে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার প্রশাসনকে আরও দক্ষ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে পারে। সরকার সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে।

তিনি আরো বলেন, কাগজে-কলমে থাকা পুরনো পদ্ধতিকে শুধু অনলাইনে স্থানান্তর করাই ডিজিটাল রূপান্তরের লক্ষ্য নয়। নাগরিকের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে পুরো সেবা-প্রক্রিয়াই নতুন করে সাজানো হচ্ছে। এর ফলে অপ্রয়োজনীয় ধাপ কমানোর পাশাপাশি সরকারি সেবা আরো দ্রুত, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক হচ্ছে।

অধিবেশনে বাংলাদেশের মন্ত্রী ছাড়াও লেসোথোর মন্ত্রী মোয়েকেতসি মোৎসোয়ানে, মৌরিতানিয়ার ব্রাহিম বুলখেইর এবং মেক্সিকোর ক্যারোলিনা প্লাটা লোপেজ অংশ নেন। আজারবাইজানের প্রেসিডেন্টের অধীন সরকারি সেবা ও সামাজিক উদ্ভাবনবিষয়ক রাষ্ট্রীয় সংস্থার উপচেয়ারম্যান জেহুন সালমানভ অধিবেশনটি সঞ্চালনা করেন।

সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা ভবিষ্যৎ উপযোগী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, প্রশাসনিক উদ্ভাবন এবং জনসেবায় প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার নিয়ে মতবিনিময় করেন।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

 

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

কর্মজীবনে সফল হতে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ

অনলাইনে সেবা দিলেই ডিজিটাল রূপান্তর নয় : তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৫:১১:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

সরকারি সেবা অনলাইনে নিয়ে আসলেই ডিজিটাল রূপান্তর সম্পন্ন হয় না বলে মন্তব্য করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

তিনি বলেছেন, প্রযুক্তির ব্যবহার কতটা বাড়ল, তা নয়; নাগরিকের জন্য সেবা কতটা সহজ, দ্রুত, স্বচ্ছ ও সহজলভ্য হলো, সেটিই ডিজিটাল রূপান্তরের সাফল্যের মূল মাপকাঠি।

আজ শুক্রবার আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে অনুষ্ঠিত ‘জাতিসংঘের শাসনব্যবস্থার উদ্ভাবন সম্মেলন : ভবিষ্যৎ উপযোগী প্রতিষ্ঠান এগিয়ে নেওয়া’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের অষ্টম অধিবেশনে বক্তব্য দেন তিনি। ‘শাসনব্যবস্থায় প্রচলিত পদ্ধতিকে চ্যালেঞ্জ এবং আগাম প্রস্তুতিমূলক শাসনব্যবস্থা’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

ফকির মাহবুব আনাম বলেন, শুধু প্রযুক্তি দিয়ে সরকারি প্রশাসনে পরিবর্তন আনা যায় না। প্রযুক্তি ব্যবহারের আগে বিদ্যমান প্রশাসনিক প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে অপ্রয়োজনীয় ধাপ বাদ দিতে হবে।

একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব স্পষ্ট করা এবং তাদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে। তার মতে, সংযোগ হলো ভিত্তি; তবে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাই সেই সংযোগকে জনকল্যাণে রূপ দেয়।

মন্ত্রী ডিজিটাল রূপান্তরের জন্য তিনটি বিষয়কে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। এগুলো হলো—সক্ষম প্রতিষ্ঠান, দক্ষ জনবল ও জনগণের আস্থা।

তিনি বলেন, সক্ষম প্রতিষ্ঠানের জন্য স্পষ্ট জবাবদিহি, একে অন্যের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদানে সক্ষম তথ্যব্যবস্থা এবং কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। পাশাপাশি নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ ও আত্মবিশ্বাসী জনবল গড়ে তুলতে হবে।

জনগণের আস্থা অর্জনের ক্ষেত্রে তথ্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, সাইবার নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা এবং সহজে অভিযোগ জানানোর ও তা নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘প্রযুক্তি নাগরিককে সরকারি ব্যবস্থার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে বাধ্য করবে না; বরং সরকারি ব্যবস্থাই নাগরিকের সঙ্গে খাপ খাওয়াবে।’

তিনি বলেন, প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও বাধাগুলো চিহ্নিত করে প্রশাসনিক সংস্কারকে আরো দ্রুত করা সম্ভব।

বাংলাদেশ প্রশাসনিক সংস্কার ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনকে পাশাপাশি এগিয়ে নিচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য উল্লেখ করে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার প্রশাসনকে আরও দক্ষ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে পারে। সরকার সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে।

তিনি আরো বলেন, কাগজে-কলমে থাকা পুরনো পদ্ধতিকে শুধু অনলাইনে স্থানান্তর করাই ডিজিটাল রূপান্তরের লক্ষ্য নয়। নাগরিকের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে পুরো সেবা-প্রক্রিয়াই নতুন করে সাজানো হচ্ছে। এর ফলে অপ্রয়োজনীয় ধাপ কমানোর পাশাপাশি সরকারি সেবা আরো দ্রুত, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক হচ্ছে।

অধিবেশনে বাংলাদেশের মন্ত্রী ছাড়াও লেসোথোর মন্ত্রী মোয়েকেতসি মোৎসোয়ানে, মৌরিতানিয়ার ব্রাহিম বুলখেইর এবং মেক্সিকোর ক্যারোলিনা প্লাটা লোপেজ অংশ নেন। আজারবাইজানের প্রেসিডেন্টের অধীন সরকারি সেবা ও সামাজিক উদ্ভাবনবিষয়ক রাষ্ট্রীয় সংস্থার উপচেয়ারম্যান জেহুন সালমানভ অধিবেশনটি সঞ্চালনা করেন।

সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা ভবিষ্যৎ উপযোগী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, প্রশাসনিক উদ্ভাবন এবং জনসেবায় প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার নিয়ে মতবিনিময় করেন।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ