ঢাকা ০৬:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

সিডনিতে দুই দিনের দুর্গোৎসব, থাকছে বিশেষ সম্মাননা

অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের সিডনিতে আগামীকাল শনিবার শুরু হচ্ছে বাংলাদেশি হিন্দু সম্প্রদায়ের দুই দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসব। বাংলাদেশ পূজা অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে ক্যাম্পসির ওরিয়ন ফাংশন সেন্টারে আয়োজিত এ উৎসবে পূজা-অর্চনা, সংগীত, নৃত্য, বিশেষ সম্মাননা, র‍্যাফেল ড্র ও পূজা সাময়িকী প্রকাশনাসহ নানা আয়োজন থাকছে।

আয়োজক সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৯টায় উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। সিডনির ক্যাম্পসির ১৫৫ বিমিশ স্ট্রিটে অবস্থিত ওরিয়ন ফাংশন সেন্টারে দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনে প্রবেশমূল্য লাগবে না। প্রবাসী বাংলাদেশিদের পরিবার-পরিজন নিয়ে উৎসবে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন আয়োজকেরা।

বাংলাদেশ পূজা অ্যাসোসিয়েশনের ৩২ বছরের পথচলাকে কেন্দ্র করে এবারের আয়োজনে থাকছে বিশেষ উদ্যোগ।

প্রথমবারের মতো চালু হচ্ছে ‘বিপিএ অ্যাওয়ার্ড’। সামাজিক সম্প্রীতি, মানবকল্যাণ, সংস্কৃতিচর্চা ও কমিউনিটির উন্নয়নে অবদান রাখা ব্যক্তিদের এ সম্মাননা দেওয়া হবে। পাশাপাশি সংগঠনটির সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদেরও সম্মানিত করা হবে।

উৎসবের সাংস্কৃতিক আয়োজনে গান পরিবেশন করবে সিডনির জনপ্রিয় ধূমকেতু ব্যান্ড।

এ ছাড়া স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে থাকছে সংগীত ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে পূজা, ভক্তদের অঞ্জলি ও আরতির আয়োজন রাখা হয়েছে। দর্শনার্থীদের জন্য থাকছে দেশীয় খাবার এবং র‍্যাফেল ড্রয়ের মাধ্যমে পুরস্কার জেতার সুযোগ।

দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রকাশিত হচ্ছে ১৩০ পৃষ্ঠার বিশেষ সাময়িকী ‘অঞ্জলি’। এতে বাংলাদেশ, ভারত, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার লেখক-কবিদের লেখা স্থান পেয়েছে।

গল্প, কবিতা, স্মৃতিচারণ ও বিভিন্ন সাহিত্যকর্মের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ায় বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের সৃজনশীল লেখাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সাময়িকীর সম্পাদনা পরিষদের সদস্য তুষার রায় বলেন, এবারের প্রকাশনায় বিভিন্ন দেশের লেখকদের অংশগ্রহণের পাশাপাশি প্রবাসে বেড়ে ওঠা তরুণ প্রজন্মের ভাবনা ও অনুভূতি তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে পৌঁছে দেওয়াও এ প্রকাশনার অন্যতম উদ্দেশ্য।

বাংলাদেশ পূজা অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক দিবাকর সমদ্দার বলেন, দুর্গাপূজাকে ঘিরে সংগঠনের সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকেরা প্রস্তুতি নিয়েছেন। মণ্ডপের সাজসজ্জা, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, অতিথি আপ্যায়ন ও সম্মাননা আয়োজনের জন্য পৃথকভাবে কাজ করা হচ্ছে। এর আগে সংগঠনটির দশম মহালয়া অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।

সংগঠনের সভাপতি দিলীপ দত্ত বলেন, তিন দশকের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ পূজা অ্যাসোসিয়েশন সিডনিতে বাঙালির ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধরে রাখতে কাজ করছে। এবারের আয়োজনের মাধ্যমে সংগঠনের সাবেক নেতৃত্বের অবদানকে সম্মান জানানোর পাশাপাশি কমিউনিটির জন্য কাজ করা ব্যক্তিদের স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে।

আয়োজকদের মতে, দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; প্রবাসে বসবাসরত বাঙালিদের পারস্পরিক সম্পর্ক ও সাংস্কৃতিক বন্ধন অটুট রাখারও একটি উপলক্ষ। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ায় জন্ম নেওয়া ও বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে বাঙালির ঐতিহ্য, ধর্মীয় রীতিনীতি ও উৎসবের আনন্দ তুলে ধরতে এ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

দুই দিনের এ উৎসবে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা, পরিবার-পরিজনের মিলন এবং নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে পূজামণ্ডপ—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন আয়োজকেরা।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

 

Tag :

দুই পুলিশ সদস্যকে বিএসএফ ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় জামায়াতের নিন্দা

সিডনিতে দুই দিনের দুর্গোৎসব, থাকছে বিশেষ সম্মাননা

আপডেট সময় ০৫:০৫:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের সিডনিতে আগামীকাল শনিবার শুরু হচ্ছে বাংলাদেশি হিন্দু সম্প্রদায়ের দুই দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসব। বাংলাদেশ পূজা অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে ক্যাম্পসির ওরিয়ন ফাংশন সেন্টারে আয়োজিত এ উৎসবে পূজা-অর্চনা, সংগীত, নৃত্য, বিশেষ সম্মাননা, র‍্যাফেল ড্র ও পূজা সাময়িকী প্রকাশনাসহ নানা আয়োজন থাকছে।

আয়োজক সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৯টায় উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। সিডনির ক্যাম্পসির ১৫৫ বিমিশ স্ট্রিটে অবস্থিত ওরিয়ন ফাংশন সেন্টারে দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনে প্রবেশমূল্য লাগবে না। প্রবাসী বাংলাদেশিদের পরিবার-পরিজন নিয়ে উৎসবে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন আয়োজকেরা।

বাংলাদেশ পূজা অ্যাসোসিয়েশনের ৩২ বছরের পথচলাকে কেন্দ্র করে এবারের আয়োজনে থাকছে বিশেষ উদ্যোগ।

প্রথমবারের মতো চালু হচ্ছে ‘বিপিএ অ্যাওয়ার্ড’। সামাজিক সম্প্রীতি, মানবকল্যাণ, সংস্কৃতিচর্চা ও কমিউনিটির উন্নয়নে অবদান রাখা ব্যক্তিদের এ সম্মাননা দেওয়া হবে। পাশাপাশি সংগঠনটির সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদেরও সম্মানিত করা হবে।

উৎসবের সাংস্কৃতিক আয়োজনে গান পরিবেশন করবে সিডনির জনপ্রিয় ধূমকেতু ব্যান্ড।

এ ছাড়া স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে থাকছে সংগীত ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে পূজা, ভক্তদের অঞ্জলি ও আরতির আয়োজন রাখা হয়েছে। দর্শনার্থীদের জন্য থাকছে দেশীয় খাবার এবং র‍্যাফেল ড্রয়ের মাধ্যমে পুরস্কার জেতার সুযোগ।

দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রকাশিত হচ্ছে ১৩০ পৃষ্ঠার বিশেষ সাময়িকী ‘অঞ্জলি’। এতে বাংলাদেশ, ভারত, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার লেখক-কবিদের লেখা স্থান পেয়েছে।

গল্প, কবিতা, স্মৃতিচারণ ও বিভিন্ন সাহিত্যকর্মের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ায় বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের সৃজনশীল লেখাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সাময়িকীর সম্পাদনা পরিষদের সদস্য তুষার রায় বলেন, এবারের প্রকাশনায় বিভিন্ন দেশের লেখকদের অংশগ্রহণের পাশাপাশি প্রবাসে বেড়ে ওঠা তরুণ প্রজন্মের ভাবনা ও অনুভূতি তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে পৌঁছে দেওয়াও এ প্রকাশনার অন্যতম উদ্দেশ্য।

বাংলাদেশ পূজা অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক দিবাকর সমদ্দার বলেন, দুর্গাপূজাকে ঘিরে সংগঠনের সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকেরা প্রস্তুতি নিয়েছেন। মণ্ডপের সাজসজ্জা, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, অতিথি আপ্যায়ন ও সম্মাননা আয়োজনের জন্য পৃথকভাবে কাজ করা হচ্ছে। এর আগে সংগঠনটির দশম মহালয়া অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।

সংগঠনের সভাপতি দিলীপ দত্ত বলেন, তিন দশকের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ পূজা অ্যাসোসিয়েশন সিডনিতে বাঙালির ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধরে রাখতে কাজ করছে। এবারের আয়োজনের মাধ্যমে সংগঠনের সাবেক নেতৃত্বের অবদানকে সম্মান জানানোর পাশাপাশি কমিউনিটির জন্য কাজ করা ব্যক্তিদের স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে।

আয়োজকদের মতে, দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; প্রবাসে বসবাসরত বাঙালিদের পারস্পরিক সম্পর্ক ও সাংস্কৃতিক বন্ধন অটুট রাখারও একটি উপলক্ষ। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ায় জন্ম নেওয়া ও বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে বাঙালির ঐতিহ্য, ধর্মীয় রীতিনীতি ও উৎসবের আনন্দ তুলে ধরতে এ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

দুই দিনের এ উৎসবে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা, পরিবার-পরিজনের মিলন এবং নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে পূজামণ্ডপ—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন আয়োজকেরা।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ