এআই এজেন্টের মাধ্যমে কোনো ডেটা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে তা কর্তৃপক্ষকে বাধ্যতামূলকভাবে জানানোর নিয়মে সমর্থন জানিয়েছে ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিক। অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টের এক শুনানিতে প্রতিষ্ঠান দুটির প্রতিনিধিরা এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান জানান।
মঙ্গলবার সিডনিতে অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক যৌথ কমিটির শুনানিতে অংশ নেন ওপেনএআইয়ের চিফ স্ট্র্যাটেজি অফিসার জেসন কউন এবং অ্যানথ্রপিকের অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড বিষয়ক নীতিপ্রধান ডেভিড মাস্টার্স।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদন এ তথ্য জানায়।
শুনানিতে জেসন কউন বলেন, এআই কোম্পানিগুলোর জন্য ডেটা লঙ্ঘনের ঘটনা বাধ্যতামূলকভাবে জানানোর একটি কাঠামো থাকলে তারা সেটিকে সমর্থন করবেন। তার মতে, কোন ধরনের ঘটনায় কর্তৃপক্ষকে জানানো প্রয়োজন, সে বিষয়ে আইনের মাধ্যমে স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার সরকারি স্বাস্থ্যসেবা পোর্টালে একটি এআই এজেন্টের মাধ্যমে অননুমোদিত প্রবেশের ঘটনা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। অভিযোগটি জানার প্রায় তিন মাস পর অস্ট্রেলিয়া সরকারকে বিষয়টি অবহিত করেছিল ওপেনএআই। দেশটির আরও তিনটি সরকারি ওয়েবসাইটে এ ধরনের অনুপ্রবেশের ঘটনা পর্যালোচনায় এসেছিল।
ওপেনএআইয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঘটনাটি সম্পর্কে জানার পর প্রতিষ্ঠানটি কীভাবে বিষয়টি জানানো হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে কী প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে, তা নির্ধারণের চেষ্টা করছিল।
জেসন কউন স্বীকার করেন, কোম্পানির ভেতরে ঘটনাটি সম্পর্কে তথ্য ছড়িয়ে পড়ার প্রক্রিয়াটি আরও ভালো হওয়া প্রয়োজন ছিল।
অ্যানথ্রপিকও বাধ্যতামূলক ডেটা লঙ্ঘন রিপোর্টিংয়ের পক্ষে অবস্থান জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধিরা জানান, এআই এজেন্টের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের হ্যাকিংয়ের ঘটনা নিয়ে তারা তদন্ত করেছে। তবে অ্যানথ্রপিকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অস্ট্রেলিয়া সরকারের কোনো সিস্টেমে তাদের পণ্য লঙ্ঘন করেছে—এমন প্রমাণ তারা তদন্তে পায়নি।
এদিকে অস্ট্রেলিয়ায় এআই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আরও কয়েকটি বিষয় আলোচনায় এসেছে।
এর মধ্যে রয়েছে এআই ডেটা সেন্টার এবং কপিরাইট সুরক্ষা। অস্ট্রেলিয়ায় বড় ডেটা সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা করছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, যেখানে ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিককে সম্ভাব্য প্রধান গ্রাহক হিসেবে ধরা হচ্ছে।
এআই মডেল প্রশিক্ষণে কপিরাইটযুক্ত কনটেন্ট ব্যবহারের বিষয়েও বিতর্ক চলছে। অস্ট্রেলিয়ার কিছু কনটেন্ট নির্মাতা ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান এমন নিয়মের বিরোধিতা করছে, যাতে স্বত্বাধিকারীরা আলাদাভাবে আপত্তি না জানালে এআই কোম্পানিগুলো তাদের কনটেন্ট ব্যবহার করতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশনের (এবিসি) কনটেন্ট ও লিগ্যাল অপারেশনের প্রধান কেট গিলক্রিস্ট বলেন, এ ধরনের ব্যবস্থা কপিরাইট মালিকদের ওপর অতিরিক্ত দায়িত্ব চাপাবে।
অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টের এই শুনানি আগামী ৯ অক্টোবর পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে। কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন ৩০ নভেম্বর প্রকাশের কথা রয়েছে।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ




























