ঢাকা ১১:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

এবার ভারতেও ১৮ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধের উদ্যোগ

১৮ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপের উদ্যোগ নিচ্ছে ভারত। দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, এ বিষয়ে তথ্যপ্রযুক্তি-সংক্রান্ত বিধিতে পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

নতুন নিয়ম কার্যকর হলে ১৮ বছরের কম বয়সীরা সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে না।

ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সম্প্রতি ভারতের সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলার শুনানিতে কেন্দ্রীয় সরকার এই পরিকল্পনার কথা জানায়। এর আগে আদালতও ১৮ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে অভিভাবকের সম্মতির বিষয়টি বিবেচনা করতে কেন্দ্রকে বলেছিল।

শিশু-কিশোরদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিয়ে বিশ্বজুড়েই উদ্বেগ বাড়ছে। সাইবার বুলিং, অনলাইন হয়রানি, ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার এবং বয়স-অনুপযোগী কনটেন্টে এক্সপোজার নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।

ভারতেও এ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বয়স যাচাইয়ের ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

তবে এই ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করাও সহজ নয়।

কারণ, বয়স যাচাইয়ের জন্য ব্যবহারকারীর পরিচয়পত্র, বায়োমেট্রিক তথ্য বা অন্য ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারের প্রয়োজন হতে পারে। এতে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান মিটিগাটার সহপ্রতিষ্ঠাতা সারথক দুবে বলেন, বয়স যাচাইয়ের এমন ব্যবস্থা প্রয়োজন যেখানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারীর পরিচয়সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য সরাসরি দেখতে না পায়।

অন্যদিকে, সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান প্রেজেন্স গ্লোবালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুকুল কুমারের মতে, বয়স যাচাইয়ের ক্ষেত্রে এমন ব্যবস্থা থাকা উচিত যেখানে একবার যাচাই করার পর অতিরিক্ত ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণ করা হবে না।

ভারত চাইলে এ ক্ষেত্রে অন্য দেশগুলোর অভিজ্ঞতা থেকেও শিক্ষা নিতে পারে। অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে বিধিনিষেধ চালু হয়েছে। মালয়েশিয়াতেও শিশু-কিশোরদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এসব ব্যবস্থার বাস্তব প্রয়োগে নানা জটিলতার কথাও উঠে এসেছে।

অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বয়সসীমা থাকলেও কিছু কিশোর ভুয়া জন্মতারিখ, অন্যের অ্যাকাউন্ট বা বিকল্প পদ্ধতি ব্যবহার করে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রবেশের চেষ্টা করেছে।

ভারতের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ আরও বড় হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। দেশটির বিপুলসংখ্যক তরুণ ব্যবহারকারীর বয়স যাচাই করতে হলে বড় পরিসরে প্রযুক্তিগত অবকাঠামো প্রয়োজন হবে।

তাই ১৮ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হলেও এর বাস্তবায়ন কীভাবে হবে, বয়স যাচাইয়ের সময় ব্যক্তিগত তথ্য কতটা সুরক্ষিত থাকবে এবং কিশোররা বিকল্প উপায়ে প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করতে পারবে কি না—এসব প্রশ্ন সামনে থাকছে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

ম্যানসিটি ম্যাচের আগে বড় জয় পিএসজির, শীর্ষে মোনাকো

এবার ভারতেও ১৮ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধের উদ্যোগ

আপডেট সময় ০৪:২২:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

১৮ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপের উদ্যোগ নিচ্ছে ভারত। দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, এ বিষয়ে তথ্যপ্রযুক্তি-সংক্রান্ত বিধিতে পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

নতুন নিয়ম কার্যকর হলে ১৮ বছরের কম বয়সীরা সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে না।

ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সম্প্রতি ভারতের সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলার শুনানিতে কেন্দ্রীয় সরকার এই পরিকল্পনার কথা জানায়। এর আগে আদালতও ১৮ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে অভিভাবকের সম্মতির বিষয়টি বিবেচনা করতে কেন্দ্রকে বলেছিল।

শিশু-কিশোরদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিয়ে বিশ্বজুড়েই উদ্বেগ বাড়ছে। সাইবার বুলিং, অনলাইন হয়রানি, ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার এবং বয়স-অনুপযোগী কনটেন্টে এক্সপোজার নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।

ভারতেও এ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বয়স যাচাইয়ের ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

তবে এই ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করাও সহজ নয়।

কারণ, বয়স যাচাইয়ের জন্য ব্যবহারকারীর পরিচয়পত্র, বায়োমেট্রিক তথ্য বা অন্য ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারের প্রয়োজন হতে পারে। এতে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান মিটিগাটার সহপ্রতিষ্ঠাতা সারথক দুবে বলেন, বয়স যাচাইয়ের এমন ব্যবস্থা প্রয়োজন যেখানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারীর পরিচয়সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য সরাসরি দেখতে না পায়।

অন্যদিকে, সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান প্রেজেন্স গ্লোবালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুকুল কুমারের মতে, বয়স যাচাইয়ের ক্ষেত্রে এমন ব্যবস্থা থাকা উচিত যেখানে একবার যাচাই করার পর অতিরিক্ত ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণ করা হবে না।

ভারত চাইলে এ ক্ষেত্রে অন্য দেশগুলোর অভিজ্ঞতা থেকেও শিক্ষা নিতে পারে। অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে বিধিনিষেধ চালু হয়েছে। মালয়েশিয়াতেও শিশু-কিশোরদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এসব ব্যবস্থার বাস্তব প্রয়োগে নানা জটিলতার কথাও উঠে এসেছে।

অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বয়সসীমা থাকলেও কিছু কিশোর ভুয়া জন্মতারিখ, অন্যের অ্যাকাউন্ট বা বিকল্প পদ্ধতি ব্যবহার করে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রবেশের চেষ্টা করেছে।

ভারতের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ আরও বড় হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। দেশটির বিপুলসংখ্যক তরুণ ব্যবহারকারীর বয়স যাচাই করতে হলে বড় পরিসরে প্রযুক্তিগত অবকাঠামো প্রয়োজন হবে।

তাই ১৮ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হলেও এর বাস্তবায়ন কীভাবে হবে, বয়স যাচাইয়ের সময় ব্যক্তিগত তথ্য কতটা সুরক্ষিত থাকবে এবং কিশোররা বিকল্প উপায়ে প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করতে পারবে কি না—এসব প্রশ্ন সামনে থাকছে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ