বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে দীর্ঘদিন ধরে প্রদর্শিত হয়ে আসছিল দেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসের দুই কালজয়ী সিনেমা ‘লালসালু’ ও ‘চিত্রা নদীর পারে’। তবে এবার সেই প্রদর্শনী বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিমান কর্তৃপক্ষ।
সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট পরিবেশক প্রতিষ্ঠানকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত ও প্রশংসিত এই দুই সিনেমার প্রদর্শনী বন্ধের সিদ্ধান্ত সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয়েছে আলোচনা। কেন এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ও দর্শকদের একাংশ।
বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন চলচ্চিত্র দুটির পরিচালক ও প্রযোজক, বিশিষ্ট নির্মাতা তানভীর মোকাম্মেলও।
নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এ নিয়ে একাধিক পোস্ট শেয়ার করেছেন তিনি।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে ‘লালসালু’ ও ‘চিত্রা নদীর পারে’র। দুটি সিনেমাই দর্শক-সমালোচকদের প্রশংসা অর্জনের পাশাপাশি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের বিভিন্ন বিভাগে স্বীকৃতি পেয়েছে।
তানভীর মোকাম্মেল পরিচালিত ‘লালসালু’ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ২০০১ সালে।
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর বিখ্যাত উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত সিনেমাটিতে উঠে এসেছে ধর্মীয় বিশ্বাস, কুসংস্কার ও গ্রামীণ সমাজের নানা বাস্তবতা। এতে অভিনয় করেছেন রাইসুল ইসলাম আসাদ, আলী যাকের, তৌকীর আহমেদ, মেহবুবা মাহনূর চাঁদনী, আমিরুল হক চৌধুরী, চিত্রলেখা গুহ, রওশন জামিল ও মুনিরা ইউসুফ মেমীসহ দেশের একঝাঁক গুণী অভিনয়শিল্পী।
অন্যদিকে, ১৯৪৭ সালের দেশভাগ ও তৎকালীন সামাজিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে নির্মিত ‘চিত্রা নদীর পারে’ মুক্তি পায় ১৯৯৯ সালে। দেশভাগের অভিঘাত ও মানুষের জীবনের নানা টানাপোড়েন নিয়ে নির্মিত এই সিনেমাটিও বাংলা চলচ্চিত্রের উল্লেখযোগ্য সংযোজন হিসেবে বিবেচিত।
সিনেমাটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাট্যজন মমতাজউদ্দীন আহমেদ, আফসানা মিমি, তৌকীর আহমেদ, রওশন জামিল ও সুমিতা দেবীসহ অনেকে।
দীর্ঘদিন ধরে বিমানের যাত্রীদের জন্য প্রদর্শিত হয়ে আসা এমন দুটি প্রশংসিত সিনেমার প্রদর্শনী বন্ধের সিদ্ধান্ত নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে কী কারণে সিনেমা দুটি আর বিমানের ফ্লাইটে দেখানো হবে না, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ





























