মিরপুরের ইনডোরে তৈরি হচ্ছে বাংলাদেশের স্পিনের ভবিষ্যতের ভিত্তি। পাইপলাইনে থাকা স্পিনারদের অ্যাকশন, টেকনিক ও কৌশল নিয়ে কাজের পাশাপাশি একই ক্লাসে শিখছেন স্থানীয় কোচরা। তিনটি ক্যামেরায় সামনে, পেছনে ও পাশ থেকে ধারণ করা হচ্ছে বোলিং অ্যাকশন; পরে সেই ফুটেজ বিশ্লেষণ করে বের করা হচ্ছে ত্রুটি ও উন্নতির জায়গা। এই কাজের নেতৃত্বে বাংলাদেশ দলের স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ।
জাতীয় দলের আন্তর্জাতিক ব্যস্ততা কিছুটা কম থাকায় সময়টা কাজে লাগাচ্ছেন মুশতাক। সামনে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট, আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজ এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের দুটি গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট। তার আগে মিরপুরে হাই পারফরম্যান্স দলের স্পিনারদের নিয়ে চলছে বিশেষ ক্যাম্প।
মুশতাকের কাছে শুধু ভালো বল করাই যথেষ্ট নয়, একই প্রক্রিয়ায় বারবার ভালো বল করতে পারাটাই গুরুত্বপূর্ণ। চাপের মুহূর্তেও যেন অ্যাকশন বদলে না যায়, সেটি নিশ্চিত করতে চান তিনি। বিশেষ করে ফ্ল্যাট উইকেটে, যেখানে টার্নের ওপর কম নির্ভর করা যায়, সেখানে সঠিক বায়োমেকানিক্স, ভারসাম্য ও পুনরাবৃত্তিযোগ্য অ্যাকশন গুরুত্বপূর্ণ। তিন ক্যামেরায় অ্যাকশনের খুঁটিনাটি দেখার উদ্দেশ্যও সেটিই।
ক্যাম্পে চার-পাঁচ জন স্থানীয় কোচও মুশতাকের সঙ্গে কাজ করছেন। তারা শিখছেন স্পিন বোলিংয়ের ভিত্তি, অ্যালাইনমেন্ট, টেকনিক ও কৌশল। মুশতাক মনে করেন, এ ধরনের ক্যাম্প একবার করে থেমে না থেকে প্রায় তিন মাস পরপর আয়োজন করা উচিত। ম্যাচ পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়াকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। কখন আক্রমণ করতে হবে, কখন রান আটকে রাখতে হবে, ব্যাটারের দুর্বলতা বুঝে কীভাবে ফিল্ড সাজাতে হবে; এসবও একজন স্পিনারের শিক্ষার অংশ। তার দর্শন, একটি ভালো বল সব সময় উইকেট এনে দেবে না; তবে ধারাবাহিক ভালো ওভার চাপ তৈরি করবে, আর সেই চাপ থেকেই উইকেটের সুযোগ আসবে।
বাংলাদেশের স্পিন পাইপলাইন নিয়েও আশাবাদী মুশতাক। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সাম্প্রতিক সাফল্য এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে কঠিন কন্ডিশনে স্পিনারদের কার্যকর ভূমিকা তার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। তার মতে, নিজেদের ওপর বিশ্বাস থাকলে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড বা দক্ষিণ আফ্রিকার মতো কঠিন কন্ডিশনেও বাংলাদেশের স্পিনাররা কার্যকর হতে পারেন।
বর্তমান বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে ছয় টেস্টে বাংলাদেশের জয় তিনটি, হার দুটি ও ড্র একটি; পয়েন্ট শতাংশ ৫৫.৫৬। সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আরো ছয়টি টেস্ট। মুশতাকের মতে, ফাইনালের সুযোগ ধরে রাখতে হলে প্রতিটি সিরিজে ধারাবাহিক ক্রিকেট খেলতে হবে। তবে শেষ পর্যন্ত সমীকরণ নির্ভর করবে অন্য দলগুলোর ফলের ওপরও।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

























