ঢাকা ০৬:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডে একাধিক ক্লু পাওয়ার দাবি পুলিশের Logo ঘোড়সওয়ার পুলিশ, প্রশিক্ষিত কুকুর ও মুখাবয়ব শনাক্তকরণ প্রযুক্তি—এক ম্যাচ ঘিরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা Logo মানিকগঞ্জে একই ঘর থেকে শিশুসহ ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার Logo ব্যালন ডি’অর জয়ী ফুটবলারকে নির্বাচন করা হয় যেভাবে Logo প্রতিদিন ১ কোটি ব্যারেলের বেশি তেল যাচ্ছে হরমুজ প্রণালি দিয়ে: হোয়াইট হাউস Logo গ্রামীণ অর্থনীতিকে ডিজিটাল সিস্টেমের আওতায় আনতে হবে: অর্থমন্ত্রী Logo ২০২৯ সালে ৬ লেনের ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাজ শেষের লক্ষ্য : সড়কমন্ত্রী Logo তেজগাঁওয়ে জঙ্গি সন্দেহে গ্রেপ্তার ১২ জন ৩ দিনের রিমান্ডে Logo অপচয় রোধ করে সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে হবে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী Logo ‘মেসিই ইতিহাসের সেরা’

প্রয়াত খলনায়ক নাসির খানের নামে গলি

ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় খলনায়ক নাসির খানের জন্ম পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায়। জন্মস্থান ঘিরে থাকা একটি গলি এখন স্থানীয়দের কাছে পরিচিত ‘নাসির খানের গলি’ নামে। প্রিয় অভিনেতার স্মৃতির প্রতি সম্মান জানাতেই জায়গাটির এমন নামকরণ করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।

১৯৫৯ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর মঠবাড়িয়ায় জন্ম নেন নাসির খান। মফস্বল থেকে উঠে এসে ঢাকাই চলচ্চিত্রে নিজের আলাদা অবস্থান তৈরি করেছিলেন এই অভিনেতা।

১৯৮৫ সালে ‘চোর’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় নাসির খানের। এরপর প্রায় ২৭ বছরের অভিনয়জীবনে পাঁচ শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি। হুমায়ুন ফরীদি, রাজীব, এ টি এম শামসুজ্জামান ও আহমেদ শরীফের মতো জনপ্রিয় খলনায়কদের সঙ্গে পর্দা ভাগ করে নিয়েও নিজস্ব অভিনয় শৈলীতে দর্শকদের কাছে পরিচিতি পান।

‘এই ঘর এই সংসার’, ‘মায়ের অধিকার’, ‘সাক্ষাৎ’, ‘বিক্ষোভ’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘দেনমোহর’, ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’, ‘ভালোবাসার ঘর’, ‘পাগল মন’, ‘স্বপ্নের নায়ক’ ও ‘গরিবের রাণী’সহ অসংখ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।

অভিনয়ের পাশাপাশি নাসির খানের সংলাপও দর্শকদের মধ্যে জনপ্রিয় ছিল। তার অভিনীত বিভিন্ন চরিত্রের সংলাপ দীর্ঘদিন দর্শকদের মুখে মুখে ফিরেছে।

২০০৭ সালের ১২ জানুয়ারি মাত্র ৪৭ বছর বয়সে মারা যান নাসির খান। স্ত্রী মেহেরুন্নেসা ও তিন মেয়ে—নাছিমা খানম মমতা, ফাহিমা খানম শর্মিতা ও মহিমা খানম নিশিতাকে রেখে যান তিনি।

মঠবাড়িয়া পৌর শহরের বাসিন্দা সজীব মিত্র বলেন, ছোটবেলা থেকেই আমরা তার সিনেমা দেখতাম। তিনি আমাদের এই জনপদের একজন কৃতী সন্তান। শুরুতে বিষয়টি জানতাম না। পরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, তিনি আমাদের এলাকার মানুষ ছিলেন। শুক্রবার হলে ছুটে যেতাম তার সিনেমা দেখতে। শুনেছি জন্মস্থানের ভিটা ঘিরে নাসির খানের গলি নামে পরিচিত।

প্রবীণ সাংবাদিক দেবদাস মজুমদার বলেন, নাসির খানের বাড়ি এ উপজেলার একটি ইউনিয়নে। তিনি মাঝেমধ্যে বাড়িতে আসতেন, তবে গ্রামের বাড়িতে খুব একটা আসতেন না। তিনি ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন অভিনেতা ও শিল্পমনা মানুষ। পরিচিত মুখ হিসেবে তার অভিনয় আমাদের জনপদের মানুষের কাছে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে আছে। মৃত্যুর পরও মানুষ তাকে তার অভিনয় ও কাজের মাধ্যমে মনে রেখেছে।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :

অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডে একাধিক ক্লু পাওয়ার দাবি পুলিশের

প্রয়াত খলনায়ক নাসির খানের নামে গলি

আপডেট সময় ০৪:১২:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় খলনায়ক নাসির খানের জন্ম পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায়। জন্মস্থান ঘিরে থাকা একটি গলি এখন স্থানীয়দের কাছে পরিচিত ‘নাসির খানের গলি’ নামে। প্রিয় অভিনেতার স্মৃতির প্রতি সম্মান জানাতেই জায়গাটির এমন নামকরণ করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।

১৯৫৯ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর মঠবাড়িয়ায় জন্ম নেন নাসির খান। মফস্বল থেকে উঠে এসে ঢাকাই চলচ্চিত্রে নিজের আলাদা অবস্থান তৈরি করেছিলেন এই অভিনেতা।

১৯৮৫ সালে ‘চোর’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় নাসির খানের। এরপর প্রায় ২৭ বছরের অভিনয়জীবনে পাঁচ শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি। হুমায়ুন ফরীদি, রাজীব, এ টি এম শামসুজ্জামান ও আহমেদ শরীফের মতো জনপ্রিয় খলনায়কদের সঙ্গে পর্দা ভাগ করে নিয়েও নিজস্ব অভিনয় শৈলীতে দর্শকদের কাছে পরিচিতি পান।

‘এই ঘর এই সংসার’, ‘মায়ের অধিকার’, ‘সাক্ষাৎ’, ‘বিক্ষোভ’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘দেনমোহর’, ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’, ‘ভালোবাসার ঘর’, ‘পাগল মন’, ‘স্বপ্নের নায়ক’ ও ‘গরিবের রাণী’সহ অসংখ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।

অভিনয়ের পাশাপাশি নাসির খানের সংলাপও দর্শকদের মধ্যে জনপ্রিয় ছিল। তার অভিনীত বিভিন্ন চরিত্রের সংলাপ দীর্ঘদিন দর্শকদের মুখে মুখে ফিরেছে।

২০০৭ সালের ১২ জানুয়ারি মাত্র ৪৭ বছর বয়সে মারা যান নাসির খান। স্ত্রী মেহেরুন্নেসা ও তিন মেয়ে—নাছিমা খানম মমতা, ফাহিমা খানম শর্মিতা ও মহিমা খানম নিশিতাকে রেখে যান তিনি।

মঠবাড়িয়া পৌর শহরের বাসিন্দা সজীব মিত্র বলেন, ছোটবেলা থেকেই আমরা তার সিনেমা দেখতাম। তিনি আমাদের এই জনপদের একজন কৃতী সন্তান। শুরুতে বিষয়টি জানতাম না। পরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, তিনি আমাদের এলাকার মানুষ ছিলেন। শুক্রবার হলে ছুটে যেতাম তার সিনেমা দেখতে। শুনেছি জন্মস্থানের ভিটা ঘিরে নাসির খানের গলি নামে পরিচিত।

প্রবীণ সাংবাদিক দেবদাস মজুমদার বলেন, নাসির খানের বাড়ি এ উপজেলার একটি ইউনিয়নে। তিনি মাঝেমধ্যে বাড়িতে আসতেন, তবে গ্রামের বাড়িতে খুব একটা আসতেন না। তিনি ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন অভিনেতা ও শিল্পমনা মানুষ। পরিচিত মুখ হিসেবে তার অভিনয় আমাদের জনপদের মানুষের কাছে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে আছে। মৃত্যুর পরও মানুষ তাকে তার অভিনয় ও কাজের মাধ্যমে মনে রেখেছে।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস