রাজধানীর ফার্মগেটের তেজগাঁও কলেজ জামে মসজিদে গোপন বৈঠকের সময় জঙ্গি কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে গ্রেপ্তার ১২ জনকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালত এ আদেশ দেন।
এর আগে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) তেজগাঁও কলেজ জামে মসজিদে অভিযান চালিয়ে ২৩ জনকে আটক করা হয়েছিল।
রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন মো. শিহাব উদ্দিন (৩২), মারজুক আহমেদ (২৬), সাইফুর রহমান খান (৩২), মো. রাম্মি মিয়া (২৯), মো. কামিছুল ইসলাম (৩৬), মো. সাজ্জাদ হোসেন (২২), আফিফ আহমেদ (২০), মো. মোহাইমিনুল হক (২৭), জাওজি চৌধুরী (১৯), শাহাদাত হোসেন (২৫), সাব্বির আহমোদ (২৬) ও জুনায়েদ আহমেদ (২১)।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিটিটিসির পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. আখতার মোর্শেদ তাদের আদালতে হাজির করে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুল হক দিদার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, আসামিরা দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির পরিকল্পনা করেছেন এবং জিহাদের জন্য লোক সংগ্রহ করছেন। তাদের সঙ্গে আরো কারা জড়িত, সে তথ্য উদঘাটনের জন্য রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মাসুদ-উর-রহমান রিমান্ডের বিরোধিতা করে জামিনের আবেদন করেন। দুই পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে প্রত্যেক আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জানতে পারে, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট, উগ্রবাদ ছড়ানো এবং বড় ধরনের সহিংস ঘটনা ঘটানোর উদ্দেশ্যে কয়েকজন যুবক তেজগাঁও কোকাকোলা মোড় এলাকায় সমবেত হয়েছেন। পরে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) তেজগাঁও ও শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
আবেদনে আরো বলা হয়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ‘মিটআপ’ নামে একটি গোপন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সদস্য। ওই গ্রুপের মাধ্যমে তারা উগ্রবাদী কথাবার্তা ও বিভিন্ন বিষয়ে যোগাযোগ করতেন এবং নাশকতার উদ্দেশ্যে একত্রিত হয়েছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
রিমান্ড আবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, গ্রেপ্তার শিহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে আগে থেকেই উগ্রবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।
তার বিরুদ্ধে নরসিংদীর পলাশ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এ ছাড়া মারজুক আহমেদের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনে উল্লেখ করেন, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, সিম কার্ড ও অন্যান্য ডিজিটাল আলামত উদ্ধার এবং সাইবার তথ্য বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে।
এ ছাড়া হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক, টেলিগ্রাম, মেসেঞ্জারসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের কথোপকথন ও যোগাযোগের তথ্য যাচাই, ঘটনার পেছনের পরিকল্পনাকারী ও সহযোগীদের শনাক্ত এবং উগ্রবাদী কার্যক্রমের অর্থের উৎস ও অর্থদাতাদের বিষয়ে তথ্য জানতে তাদের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ






















