ঢাকা ০৫:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo সুপ্রিম কোর্টের সামনে ককটেল বিস্ফোরণকে আমলে নিচ্ছি না: চিফ প্রসিকিউটর Logo ডেঙ্গুর পরীক্ষা হয় কিনা জানতে চাওয়ায় নারীর মাথা ফাটাল দালালরা Logo জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গ্রেপ্তার Logo বিসিআইসিতে বিএনপিপন্থী কর্মকর্তাদের ওপর দমন-পীড়ন, নেপথ্যে সিওপি শরীফুল আলম Logo ময়লায় কোটি টাকা বাণিজ্যের অভিযোগে ডিএসসিসিতে দুদক Logo বিশ্বকাপ সময়ের এক অদ্ভুত আক্ষেপের কথা প্রকাশ করলেন ইংল্যান্ডের কোচ Logo ভারতে ফিরছে আইপিএলের নিলাম Logo স্পিকারের সঙ্গে জার্মান রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ Logo মন্দিরের মেহেদি পরলে এক বছরের মধ্যে বিয়ে নিশ্চিত, তিন ঘণ্টায় শেষ ৩৫০০ কেজি Logo ২০২৭ পর্যন্ত মেমোরি সংকট, চাপে ছোট ফোন-ল্যাপটপ নির্মাতারা

ডেঙ্গুর পরীক্ষা হয় কিনা জানতে চাওয়ায় নারীর মাথা ফাটাল দালালরা

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ছেলের ডেঙ্গু জ্বরের পরীক্ষা সম্পর্কে জানতে গিয়ে এক নারী মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তার অভিযোগ, হাসপাতালের ভেতরে থাকা কয়েকজন কথিত দালাল তাকে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে গিয়ে পরীক্ষা করানোর জন্য চাপ দেন। এতে রাজি না হয়ে আগে হাসপাতালেই পরীক্ষা সম্পর্কে তথ্য জানতে চাইলে তাকে মারধর করা হয়।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহত ওই নারীর মাথায় তিনটি সেলাই দেওয়া হয়েছে। আহত ওই নারীর নাম কানিজা আফরোজ (৪০)। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার বালুবাগান এলাকার বাসিন্দা।

কানিজা আফরোজের অভিযোগ, ছেলের ডেঙ্গু জ্বরের বিষয়ে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার তথ্য জানতে তিনি জেলা হাসপাতালের বহির্বিভাগে (আউটডোর) যান। সেখানে সিবিসি পরীক্ষা করা হয় কি না, তা জানতে চাইলে আশপাশে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি তাকে ও তার ছেলেকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন বলে অভিযোগ করেন কানিজা।

তার ভাষ্য, ওই ব্যক্তিরা তাকে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে গিয়ে পরীক্ষা করানোর জন্য চাপ দেন। তিনি আগে হাসপাতালে সিবিসি পরীক্ষা হয় কি না, সে বিষয়ে তথ্য জানতে চান। এতে রাজি না হওয়ায় তাকে জোর করে হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

কানিজার ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে কয়েকজন ব্যক্তি প্লাস্টিকের পাইপ, রডসহ বিভিন্ন জিনিস নিয়ে তার ওপর হামলা চালান। তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হলে মাথায় গুরুতর আঘাত পান তিনি। পরে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে গেলে তাঁর মাথায় তিনটি সেলাই দেওয়া হয়।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে কানিজা আফরোজ বলেন, ‘আমি শুধু জানতে চেয়েছিলাম এখানে সিবিসি পরীক্ষা হয় কিনা। এরপর কয়েকজন আমাকে হাসপাতাল থেকে বের করে দিতে চান। আমি বলি, আগে তথ্যটা জেনে নিই। তখন তারা বলে, এখানে পরীক্ষা হয় না, ক্লিনিকে যেতে হবে। আমি যেতে না চাইলে আমাকে মারধর করা হয়। আমরা বাঁচাও বলে চিৎকার করেছি। কিন্তু কেউ এগিয়ে এসে সাহায্য করেনি।’

কানিজার অভিযোগ, সরকারি এই হাসপাতালটিতে কথিত দালালদের দৌরাত্ম্য রয়েছে। রোগী ও তাদের স্বজনদের বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করে এসব ব্যক্তি বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এর প্রতিবাদ করায় তাকে মারধর করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মাহবুব হাসান ঘটনাটির সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ওই সময় হাসপাতালে কোনো কর্মচারী সেখানে উপস্থিত না থাকায় এবং কেউ এগিয়ে না আসায় দালালরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। আহত নারী আইনি পদক্ষেপ নিতে চাইলে তাকে প্রয়োজনীয় সহায়তা করা হবে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে সদর থানার ওসি ইকরামুল হোসেন জানান, হাসপাতালে মারধরের বিষয়ে কোনো তথ্য পুলিশের কাছে নেই। তবে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

সুপ্রিম কোর্টের সামনে ককটেল বিস্ফোরণকে আমলে নিচ্ছি না: চিফ প্রসিকিউটর

ডেঙ্গুর পরীক্ষা হয় কিনা জানতে চাওয়ায় নারীর মাথা ফাটাল দালালরা

আপডেট সময় ০৪:৪২:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ছেলের ডেঙ্গু জ্বরের পরীক্ষা সম্পর্কে জানতে গিয়ে এক নারী মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তার অভিযোগ, হাসপাতালের ভেতরে থাকা কয়েকজন কথিত দালাল তাকে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে গিয়ে পরীক্ষা করানোর জন্য চাপ দেন। এতে রাজি না হয়ে আগে হাসপাতালেই পরীক্ষা সম্পর্কে তথ্য জানতে চাইলে তাকে মারধর করা হয়।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহত ওই নারীর মাথায় তিনটি সেলাই দেওয়া হয়েছে। আহত ওই নারীর নাম কানিজা আফরোজ (৪০)। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার বালুবাগান এলাকার বাসিন্দা।

কানিজা আফরোজের অভিযোগ, ছেলের ডেঙ্গু জ্বরের বিষয়ে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার তথ্য জানতে তিনি জেলা হাসপাতালের বহির্বিভাগে (আউটডোর) যান। সেখানে সিবিসি পরীক্ষা করা হয় কি না, তা জানতে চাইলে আশপাশে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি তাকে ও তার ছেলেকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন বলে অভিযোগ করেন কানিজা।

তার ভাষ্য, ওই ব্যক্তিরা তাকে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে গিয়ে পরীক্ষা করানোর জন্য চাপ দেন। তিনি আগে হাসপাতালে সিবিসি পরীক্ষা হয় কি না, সে বিষয়ে তথ্য জানতে চান। এতে রাজি না হওয়ায় তাকে জোর করে হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

কানিজার ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে কয়েকজন ব্যক্তি প্লাস্টিকের পাইপ, রডসহ বিভিন্ন জিনিস নিয়ে তার ওপর হামলা চালান। তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হলে মাথায় গুরুতর আঘাত পান তিনি। পরে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে গেলে তাঁর মাথায় তিনটি সেলাই দেওয়া হয়।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে কানিজা আফরোজ বলেন, ‘আমি শুধু জানতে চেয়েছিলাম এখানে সিবিসি পরীক্ষা হয় কিনা। এরপর কয়েকজন আমাকে হাসপাতাল থেকে বের করে দিতে চান। আমি বলি, আগে তথ্যটা জেনে নিই। তখন তারা বলে, এখানে পরীক্ষা হয় না, ক্লিনিকে যেতে হবে। আমি যেতে না চাইলে আমাকে মারধর করা হয়। আমরা বাঁচাও বলে চিৎকার করেছি। কিন্তু কেউ এগিয়ে এসে সাহায্য করেনি।’

কানিজার অভিযোগ, সরকারি এই হাসপাতালটিতে কথিত দালালদের দৌরাত্ম্য রয়েছে। রোগী ও তাদের স্বজনদের বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করে এসব ব্যক্তি বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এর প্রতিবাদ করায় তাকে মারধর করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মাহবুব হাসান ঘটনাটির সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ওই সময় হাসপাতালে কোনো কর্মচারী সেখানে উপস্থিত না থাকায় এবং কেউ এগিয়ে না আসায় দালালরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। আহত নারী আইনি পদক্ষেপ নিতে চাইলে তাকে প্রয়োজনীয় সহায়তা করা হবে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে সদর থানার ওসি ইকরামুল হোসেন জানান, হাসপাতালে মারধরের বিষয়ে কোনো তথ্য পুলিশের কাছে নেই। তবে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ