ঢাকা ০৫:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মন্দিরের মেহেদি পরলে এক বছরের মধ্যে বিয়ে নিশ্চিত, তিন ঘণ্টায় শেষ ৩৫০০ কেজি

ভক্তদের বিশ্বাস, মন্দিরের মেহেদি পরলে এক বছরের মধ্যেই বিয়ে হয়ে যাবে। আর এই বিশ্বাস থেকে মেহেদি নিতে মানুষের ঢল নামল ভারতের জয়পুরের বিখ্যাত মোতি ডুংরি গণেশ মন্দিরে। মাত্র তিন ঘণ্টাতেই শেষ হয়ে যায় প্রায় তিন হাজার ৫০০ কেজি মেহেদি।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৩ সেপ্টেম্বর সিঞ্জারা উৎসব উপলক্ষে মন্দিরে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হন। বিশেষ মেহেদি বিতরণের খবর পেয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে ভক্তরা সেখানে আসেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় নির্ধারিত সময়ের আগেই মেহেদি বিতরণ শুরু করতে হয় মন্দির কর্তৃপক্ষকে।

মোতি ডুংরি গণেশ মন্দিরের ভক্তদের কাছে সিঞ্জারা মেহেদির আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, বিয়েতে বাধা রয়েছে এমন ব্যক্তিরা মন্দিরে মেহেদি দেন এবং পরে তা হাতে পরেন। এতে এক বছরের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত জীবনসঙ্গী পাওয়ার বিশ্বাস রয়েছে তাদের।

মন্দিরের ইনস্টাগ্রাম পোস্টের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, মাত্র তিন ঘণ্টায় প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কেজি মেহেদি বিতরণ করা হয়েছে। দিল্লি, চণ্ডীগড়সহ ভারতের বিভিন্ন শহর থেকে ভক্তরা মেহেদি নিতে মন্দিরে আসেন। তাদের অনেকে আগের রাতেই সেখানে পৌঁছান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে মন্দিরের বাইরে দীর্ঘ সারি ও বিপুল মানুষের ভিড় দেখা যায়। অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে আশপাশের এলাকায় যান চলাচলও ব্যাহত হয়। মন্দির প্রাঙ্গণে ধাক্কাধাক্কি ও ঠেলাঠেলির ঘটনাও ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে ভিড়ের মধ্যে মহারাষ্ট্রের এক নারী ভক্ত অচেতন হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ উঠেছে।

জয়পুরের বিখ্যাত মোতি ডুংরি গণেশ মন্দিরে মেহেদি নিতে ভক্তদের ঢল। ছবি: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। একজন ব্যবহারকারী রসিকতা করে লিখেছেন, ‘সালমান খান কোথায়?’ আরেকজন মন্তব্য করেন, ‘এত অবিবাহিত মানুষ থাকা সত্ত্বেও আমাদের দেশের জনসংখ্যা হু হু করে বাড়ছে।

আরেক ব্যবহারকারী লেখেন, ‘আগে নিজেকে রেডি করো, তারপর জীবনসঙ্গীর খোঁজ করো।’ কেউ আবার মন্তব্য করেন, ‘এদিকে কাজ খুঁজে পাচ্ছি না, আর এদের মাথায় শুধু বিয়ের চিন্তা।

গণেশ চতুর্থীকে কেন্দ্র করে সিঞ্জারা উৎসব পালিত হয়। মোতি ডুংরি গণেশ মন্দিরে সারা বছরই ভক্ত ও পর্যটকদের আনাগোনা থাকে। তবে গণেশ চতুর্থী উপলক্ষে সেখানে ভিড় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। বিয়ে নিয়ে প্রচলিত বিভিন্ন লোকবিশ্বাসের সঙ্গেও মন্দিরটির নাম জড়িয়ে আছে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

মন্দিরের মেহেদি পরলে এক বছরের মধ্যে বিয়ে নিশ্চিত, তিন ঘণ্টায় শেষ ৩৫০০ কেজি

আপডেট সময় ০৪:০১:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভক্তদের বিশ্বাস, মন্দিরের মেহেদি পরলে এক বছরের মধ্যেই বিয়ে হয়ে যাবে। আর এই বিশ্বাস থেকে মেহেদি নিতে মানুষের ঢল নামল ভারতের জয়পুরের বিখ্যাত মোতি ডুংরি গণেশ মন্দিরে। মাত্র তিন ঘণ্টাতেই শেষ হয়ে যায় প্রায় তিন হাজার ৫০০ কেজি মেহেদি।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৩ সেপ্টেম্বর সিঞ্জারা উৎসব উপলক্ষে মন্দিরে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হন। বিশেষ মেহেদি বিতরণের খবর পেয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে ভক্তরা সেখানে আসেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় নির্ধারিত সময়ের আগেই মেহেদি বিতরণ শুরু করতে হয় মন্দির কর্তৃপক্ষকে।

মোতি ডুংরি গণেশ মন্দিরের ভক্তদের কাছে সিঞ্জারা মেহেদির আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, বিয়েতে বাধা রয়েছে এমন ব্যক্তিরা মন্দিরে মেহেদি দেন এবং পরে তা হাতে পরেন। এতে এক বছরের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত জীবনসঙ্গী পাওয়ার বিশ্বাস রয়েছে তাদের।

মন্দিরের ইনস্টাগ্রাম পোস্টের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, মাত্র তিন ঘণ্টায় প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কেজি মেহেদি বিতরণ করা হয়েছে। দিল্লি, চণ্ডীগড়সহ ভারতের বিভিন্ন শহর থেকে ভক্তরা মেহেদি নিতে মন্দিরে আসেন। তাদের অনেকে আগের রাতেই সেখানে পৌঁছান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে মন্দিরের বাইরে দীর্ঘ সারি ও বিপুল মানুষের ভিড় দেখা যায়। অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে আশপাশের এলাকায় যান চলাচলও ব্যাহত হয়। মন্দির প্রাঙ্গণে ধাক্কাধাক্কি ও ঠেলাঠেলির ঘটনাও ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে ভিড়ের মধ্যে মহারাষ্ট্রের এক নারী ভক্ত অচেতন হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ উঠেছে।

জয়পুরের বিখ্যাত মোতি ডুংরি গণেশ মন্দিরে মেহেদি নিতে ভক্তদের ঢল। ছবি: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। একজন ব্যবহারকারী রসিকতা করে লিখেছেন, ‘সালমান খান কোথায়?’ আরেকজন মন্তব্য করেন, ‘এত অবিবাহিত মানুষ থাকা সত্ত্বেও আমাদের দেশের জনসংখ্যা হু হু করে বাড়ছে।

আরেক ব্যবহারকারী লেখেন, ‘আগে নিজেকে রেডি করো, তারপর জীবনসঙ্গীর খোঁজ করো।’ কেউ আবার মন্তব্য করেন, ‘এদিকে কাজ খুঁজে পাচ্ছি না, আর এদের মাথায় শুধু বিয়ের চিন্তা।

গণেশ চতুর্থীকে কেন্দ্র করে সিঞ্জারা উৎসব পালিত হয়। মোতি ডুংরি গণেশ মন্দিরে সারা বছরই ভক্ত ও পর্যটকদের আনাগোনা থাকে। তবে গণেশ চতুর্থী উপলক্ষে সেখানে ভিড় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। বিয়ে নিয়ে প্রচলিত বিভিন্ন লোকবিশ্বাসের সঙ্গেও মন্দিরটির নাম জড়িয়ে আছে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ