কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের চাহিদা বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে মেমোরি চিপের বাজারে। সরবরাহ সংকটের কারণে ছোট ফোন ও ল্যাপটপ নির্মাতারা পণ্য পুনর্নকশা, চিপের মান যাচাই এবং বাড়তি খরচ ক্রেতার ওপর চাপিয়ে দেওয়ার মতো পদক্ষেপ নিচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানগুলোর ধারণা, এই সংকট ২০২৭ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছোট নির্মাতাদের জন্য এখন চিপের দাম নয়, বরং চিপের সরবরাহ নিশ্চিত করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নেদারল্যান্ডসের মেরামতযোগ্য ফোন নির্মাতা ফেয়ারফোনের প্রধান নির্বাহী রেমন্ড ভ্যান এক বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য চিপের বরাদ্দ বা সরবরাহ নিশ্চিত না থাকলে, প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন। তার ভাষায়, ‘বরাদ্দ না থাকলে আপনি এমনিতেই খেলাটির বাইরে।
মেমোরি নির্মাতা এসকে হাইনিক্সের সিইও গত জুলাইয়ে সতর্ক করে বলেছিলেন, সরবরাহের দিক থেকে ২০২৭ সাল হতে পারে শিল্পটির ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন বছর। চাহিদা ও উৎপাদন সক্ষমতার ব্যবধান ২০৩০ সালের পরও থাকতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
দাম বাড়ার গতি কমলেও সংকট কাটেনি
বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ট্রেন্ডফোর্সের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি প্রান্তিকে প্রচলিত ডিআরএএম মেমোরির চুক্তিভিত্তিক দাম ১৩ থেকে ১৮ শতাংশ বাড়তে পারে। এর আগের প্রান্তিকে দাম বৃদ্ধির হার ছিল ৯৩ থেকে ৯৮ শতাংশ।
ফিনল্যান্ডের ফোন নির্মাতা জোল্লা জানিয়েছে, তাদের ফোনে ব্যবহৃত স্টোরেজ ও ডিআরএএমের সম্মিলিত প্যাকেজের দাম মার্চের শেষ দিকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। এরপর দাম কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি মনে করছে, সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে ২০২৮ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের মেরামতযোগ্য ল্যাপটপ নির্মাতা ফ্রেমওয়ার্কের সিইও নিরাভ প্যাটেল বলেন, গত বছরের শেষ দিকে সরবরাহ ও চাহিদার ব্যবধান স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এরপর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দ্রুত যতটা সম্ভব চিপ ও মজুত সংগ্রহের চেষ্টা শুরু করে, যা সংকট আরও বাড়িয়ে দেয়।
বড় পরিমাণে মজুত করার সামর্থ্য না থাকায় ফ্রেমওয়ার্ককে আগেভাগেই এমন অর্ডার দিতে হচ্ছে, যা বাতিল করা যায় না।
তবে এসব অর্ডারের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত দাম, সরবরাহের সময় বা পরিমাণ আগে থেকে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
সংকট মোকাবিলায় পণ্যের নকশায় পরিবর্তন
মেমোরি সংকট মোকাবিলায় নির্মাতারা পণ্যের নকশাতেও পরিবর্তন আনছে। জোল্লা দুটি ধরনের মাদারবোর্ড তৈরি করেছে, যাতে প্রয়োজন অনুযায়ী সম্মিলিত মেমোরি প্যাকেজের বদলে আলাদা চিপ ব্যবহার করা যায়।
ফ্রেমওয়ার্ক শুরু থেকেই ল্যাপটপের মেমোরি মডুলার রেখেছে। ফলে এখন গ্রাহকেরা পুরোনো কম্পিউটার থেকে উদ্ধার করা মেমোরিও নতুন ডিভাইসে ব্যবহার করতে পারছেন।
জোল্লা আরও জানিয়েছে, সরবরাহকারীদের কাছ থেকে পাওয়া প্রতিটি ব্যাচের নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে চিপগুলো নতুন কি না, নাকি সংস্কার করা যন্ত্রাংশ নতুন বলে বিক্রি করা হচ্ছে, তা যাচাই করা হচ্ছে।
ফেয়ারফোনের ভ্যান একের মতে, প্রায় ৪০০ ডলার দামের ফোনে মোট উৎপাদন খরচের প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত মেমোরির পেছনে যেতে পারে। বাড়তি খরচ সামলাতে প্রতিষ্ঠানগুলো ভিন্ন ভিন্ন কৌশল নিয়েছে। ফ্রেমওয়ার্ক দ্রুত দাম সমন্বয় করছে, জোল্লা অর্থের বিনিময়ে মেমোরি আপগ্রেডের সুযোগ দিচ্ছে। তবে ফেয়ারফোন এখনো তাদের পণ্যের দাম বাড়ায়নি।
এদিকে, বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চ জুনে পূর্বাভাস দিয়েছিল, মেমোরির বাড়তি খরচ ও ভূরাজনৈতিক সংকটের কারণে চলতি বছর বিশ্বে স্মার্টফোন সরবরাহ ১৩ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ১০৮ কোটি ইউনিটে দাঁড়াতে পারে। এটি হবে বার্ষিক সরবরাহ কমার ক্ষেত্রে রেকর্ড পতন।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ




























