সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার স্বাক্ষর জাল করে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে করা মামলায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাময়িক বরখাস্ত) শাহাবুদ্দীন আহমদসহ তিন আসামিকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আইনজীবীর মাধ্যমে ঢাকার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন তারা।
শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের আদালত জামিনের আবেদন নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
কারাগারে যাওয়া অপর দুই আসামি হলেন মো. আবুল্লাহ জাবেদ ও খোরশেদ আলম।
শাহাবুদ্দীনের আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মামলায় অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার আগ পর্যন্ত আসামিরা জামিনে ছিলেন।
পরে মামলাটি বদলি হয়ে বিচারের জন্য এ আদালতে আসে। এ কারণে আজ তারা আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিনের আবেদন করেন। আদালত তিন আসামির জামিন আবেদন নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, আগামী ৪ অক্টোবর সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে।
মামলায় মোট আসামি পাঁচজন। তাদের মধ্যে মো. হযরত আলী শুরু থেকেই পলাতক। আর জাফর ইকবাল ওরফে রাঙ্গা হাইকোর্টের জারি করা রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জামিনে রয়েছেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, একটি চক্র জালিয়াতির মাধ্যমে সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার স্বাক্ষর জাল করে শাহপরীর দ্বীপ করিডোর দিয়ে গরু আমদানির মঞ্জুরিপত্র তৈরি করছে। ওই মঞ্জুরিপত্রের মাধ্যমে অর্থ আদায়েরও চেষ্টা করা হচ্ছিল।
তদন্তে জানা যায়, কক্সবাজারের আইনজীবী ও জিতু এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আলাউদ্দিন রবিনকে সরকারি অনুমোদন পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে মো. আবুল্লাহ জাবেদ ও জাফর ইকবাল ওরফে রাঙ্গা যোগাযোগ করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, দুই লাখ গরু আমদানির অনুমোদন দেওয়ার কথা বলে প্রতি গরুর জন্য ২ হাজার টাকা হিসেবে মোট ৪০ কোটি টাকা দাবি করা হয়। এর অর্ধেক অর্থাৎ ২০ কোটি টাকা দেওয়ার কথা বলা হয়। পরে অগ্রিম হিসেবে ১০ কোটি টাকা দিতে বলা হয়।
তবে বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় আলাউদ্দিন রবিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গিয়ে খোঁজ নেন। সেখানে তিনি জানতে পারেন, তার নামে কোনো আবেদনই জমা দেওয়া হয়নি।
পরে জাফর ইকবাল সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার জাল স্বাক্ষরযুক্ত একটি ভুয়া মঞ্জুরিপত্র তৈরি করে খোরশেদ আলমের হোয়াটসঅ্যাপে পাঠান বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় জাফর ইকবাল ও তার অজ্ঞাতনামা সহযোগীদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারায় মামলা করা হয়। তদন্ত শেষে পাঁচজনকে আসামি করে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক আবুল কালাম।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ






















