ঢাকা ০৩:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেরিলিন মনরো থেকে সালমান শাহ, যাদের মৃত্যু আজও রহস্যাবৃত

তারকার মৃত্যু অনেক ক্ষেত্রেই একজন সাধারণ মানুষের মৃত্যুর মতো নিছক একটি ঘটনা হয়ে থাকে না। জনপ্রিয়তার কারণে তাদের জীবনের শেষ মুহূর্ত নিয়েও তৈরি হয় অসংখ্য প্রশ্ন, জল্পনা ও নানা তত্ত্ব। কখনো তদন্তের পরও কিছু প্রশ্নের উত্তর মেলে না, কখনো সরকারি সিদ্ধান্তের সঙ্গে পরিবারের দাবি মেলে না। বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেতা সালমান শাহ থেকে হলিউডের মেরিলিন মনরো এমন বেশ কয়েকজন তারকার মৃত্যু আজও মানুষের কৌতূহলের কেন্দ্রে।

সালমান শাহ: আত্মহত্যা, নাকি হত্যা?

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মাত্র ২৫ বছর বয়সে মারা যান বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের অন্যতম তারকা সালমান শাহ। তার আসল নাম ছিল শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন। রাজধানীর ইস্কাটনের বাসায় তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। শুরু থেকেই তার পরিবার মৃত্যুটিকে আত্মহত্যা বলে মানতে চায়নি এবং হত্যার অভিযোগ তুলে আসছিল। এ নিয়ে একাধিক তদন্ত হয়েছে। ১৯৯৭ সালে সিআইডি আত্মহত্যার সিদ্ধান্তে পৌঁছায়। পরে বিচার বিভাগীয় তদন্তেও হত্যার পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ২০২০ সালে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিকেশন (পিবিআই)-এর প্রায় ৬০০ পাতার প্রতিবেদনে সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়। ২০২১ সালে আদালত সেই প্রতিবেদন গ্রহণও করেছিল। কিন্তু এখানেই গল্প শেষ হয়নি। ২০২৫ সালের অক্টোবরে ঢাকার আদালত সালমান শাহ’র মৃত্যুকে ঘিরে হত্যা মামলা করার নির্দেশ দেয় এবং সিআইডি-কে নতুন করে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ফলে বর্তমানে বিষয়টি আবার আইনি তদন্তের মধ্যে রয়েছে। অর্থাৎ হত্যা প্রমাণিত হয়েছে এমন কথা বলা যাবে না; আবার পুরোনো আত্মহত্যার সিদ্ধান্তও এখন একমাত্র আইনি অবস্থান নয়।

মেরিলিন মনরো: হলিউডের সবচেয়ে বড় রহস্য়ের একটি

১৯৬২ সালের ৪ আগস্ট মাত্র ৩৬ বছর বয়সে মারা যান মেরিলিন মনরো। লস অ্যাঞ্জেলেসের বাড়িতে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তে শরীরে বিপুল পরিমাণ ঘুমের ওষুধ ওষুধজাতীয় পদার্থ পাওয়া যায় এবং মৃত্যুর কারণ হিসেবে অতিরিক্ত ওষুধ গ্রহণকেই দায়ী করা হয়। তদন্তকারী কর্নারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছিল ‘প্রবাবলি সুইসাউড’ অর্থাৎ সম্ভাব্য আত্মহত্যা। কিন্তু আত্মহত্যার কোনো চিঠি পাওয়া যায়নি। এ থেকেই শুরু হয় নানান প্রশ্ন, জল্পনা-কল্পনা। পরে মেরিলিনকে হত্যা করা হয়েছিল এমন তত্ত্বও জনপ্রিয় হয়। ১৯৮২ সালে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির দপ্তর বিষয়টি আবার পর্যালোচনা করে। সেই তদন্তে হত্যার পক্ষে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং মূল সিদ্ধান্ত বদলানোও হয়নি। ফলে আজও তার মৃত্যু নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব থাকলেও সরকারি সিদ্ধান্ত আত্মহত্যার সম্ভাবনার দিকেই।

সারা বিশ্বে এমন আরো কিছু তারাকারা আছেন যাদের মৃত্যু নিয়ে এখনো তাদের ভক্তকূলে কিংবা আইনি মহলে অনেক রহস্য বা তত্ত্ব চালু। যেমন- ব্রুস লি, জর্জ রিভস, নাটালি উড সিল্ক স্মিতা প্রমুখ।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

মেরিলিন মনরো থেকে সালমান শাহ, যাদের মৃত্যু আজও রহস্যাবৃত

আপডেট সময় ০৮:৫৫:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তারকার মৃত্যু অনেক ক্ষেত্রেই একজন সাধারণ মানুষের মৃত্যুর মতো নিছক একটি ঘটনা হয়ে থাকে না। জনপ্রিয়তার কারণে তাদের জীবনের শেষ মুহূর্ত নিয়েও তৈরি হয় অসংখ্য প্রশ্ন, জল্পনা ও নানা তত্ত্ব। কখনো তদন্তের পরও কিছু প্রশ্নের উত্তর মেলে না, কখনো সরকারি সিদ্ধান্তের সঙ্গে পরিবারের দাবি মেলে না। বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেতা সালমান শাহ থেকে হলিউডের মেরিলিন মনরো এমন বেশ কয়েকজন তারকার মৃত্যু আজও মানুষের কৌতূহলের কেন্দ্রে।

সালমান শাহ: আত্মহত্যা, নাকি হত্যা?

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মাত্র ২৫ বছর বয়সে মারা যান বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের অন্যতম তারকা সালমান শাহ। তার আসল নাম ছিল শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন। রাজধানীর ইস্কাটনের বাসায় তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। শুরু থেকেই তার পরিবার মৃত্যুটিকে আত্মহত্যা বলে মানতে চায়নি এবং হত্যার অভিযোগ তুলে আসছিল। এ নিয়ে একাধিক তদন্ত হয়েছে। ১৯৯৭ সালে সিআইডি আত্মহত্যার সিদ্ধান্তে পৌঁছায়। পরে বিচার বিভাগীয় তদন্তেও হত্যার পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ২০২০ সালে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিকেশন (পিবিআই)-এর প্রায় ৬০০ পাতার প্রতিবেদনে সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়। ২০২১ সালে আদালত সেই প্রতিবেদন গ্রহণও করেছিল। কিন্তু এখানেই গল্প শেষ হয়নি। ২০২৫ সালের অক্টোবরে ঢাকার আদালত সালমান শাহ’র মৃত্যুকে ঘিরে হত্যা মামলা করার নির্দেশ দেয় এবং সিআইডি-কে নতুন করে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ফলে বর্তমানে বিষয়টি আবার আইনি তদন্তের মধ্যে রয়েছে। অর্থাৎ হত্যা প্রমাণিত হয়েছে এমন কথা বলা যাবে না; আবার পুরোনো আত্মহত্যার সিদ্ধান্তও এখন একমাত্র আইনি অবস্থান নয়।

মেরিলিন মনরো: হলিউডের সবচেয়ে বড় রহস্য়ের একটি

১৯৬২ সালের ৪ আগস্ট মাত্র ৩৬ বছর বয়সে মারা যান মেরিলিন মনরো। লস অ্যাঞ্জেলেসের বাড়িতে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তে শরীরে বিপুল পরিমাণ ঘুমের ওষুধ ওষুধজাতীয় পদার্থ পাওয়া যায় এবং মৃত্যুর কারণ হিসেবে অতিরিক্ত ওষুধ গ্রহণকেই দায়ী করা হয়। তদন্তকারী কর্নারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছিল ‘প্রবাবলি সুইসাউড’ অর্থাৎ সম্ভাব্য আত্মহত্যা। কিন্তু আত্মহত্যার কোনো চিঠি পাওয়া যায়নি। এ থেকেই শুরু হয় নানান প্রশ্ন, জল্পনা-কল্পনা। পরে মেরিলিনকে হত্যা করা হয়েছিল এমন তত্ত্বও জনপ্রিয় হয়। ১৯৮২ সালে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির দপ্তর বিষয়টি আবার পর্যালোচনা করে। সেই তদন্তে হত্যার পক্ষে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং মূল সিদ্ধান্ত বদলানোও হয়নি। ফলে আজও তার মৃত্যু নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব থাকলেও সরকারি সিদ্ধান্ত আত্মহত্যার সম্ভাবনার দিকেই।

সারা বিশ্বে এমন আরো কিছু তারাকারা আছেন যাদের মৃত্যু নিয়ে এখনো তাদের ভক্তকূলে কিংবা আইনি মহলে অনেক রহস্য বা তত্ত্ব চালু। যেমন- ব্রুস লি, জর্জ রিভস, নাটালি উড সিল্ক স্মিতা প্রমুখ।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস