ঢাকা ০৮:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাগুরার আলোচিত স্কুলছাত্রী হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড

মাগুরার বহুল আলোচিত স্কুলছাত্রী (১৫) ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি হাসান শেখকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এসময় রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন নিহতেরর পরিবার।

সোমবার (২০ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে মাগুরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ২০২২ সালের ১৭ মার্চ জেলার শ্রীপুর উপজেলা বাসিন্দা ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে আসামি হাসান শেখ তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে ধারালো ব্লেড দিয়ে গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে মরদেহ বাঁশঝাড়ে ফেলে রেখে যায়।

তিনি বলেন, প্রথমে শ্রীপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা হয়। পরে সিআইডি ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামত ও তদন্তের ভিত্তিতে হাসান শেখের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে। মামলায় ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আদালত হত্যাকারীর বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেছেন। এখন রাষ্ট্রপক্ষের প্রত্যাশা, আইনগত প্রক্রিয়া শেষে রায়টি দ্রুত কার্যকর করা হবে।

রায় ঘোষণার পর ভুক্তভোগীর মা বলেন, মেয়েকে আর ফিরে পাব না। এখন শুধু চাই, যেন এই মৃত্যুদণ্ড যেন দ্রুত কার্যকর হয়।

মামলার নথি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১৭ মার্চ জাতীয় শিশু দিবসে মাগুরার শ্রীপুর উপজেলায় ভুক্তভোগী বাড়ির পাশের রসুন খেতে গেলে নিখোঁজ হয়। পরদিন ১৮ মার্চ দুপুরে বাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরে একটি বাঁশঝাড়ের নিচ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে র‌্যাব, পুলিশ ও সিআইডি একযোগে কাজ শুরু করে। ঘটনার দুই দিন পর ১৯ মার্চ ভুক্তভোগীর গ্রামের ফজলু শেখের ছেলে ও পেশায় নছিমনচালক হাসান শেখকে আটক করে র‌্যাব-৬। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন বলে জানায় র‌্যাব।

এই হত্যাকাণ্ডের পর পুরো মাগুরা জুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

মাগুরার আলোচিত স্কুলছাত্রী হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড

আপডেট সময় ০৪:৩৫:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

মাগুরার বহুল আলোচিত স্কুলছাত্রী (১৫) ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি হাসান শেখকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এসময় রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন নিহতেরর পরিবার।

সোমবার (২০ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে মাগুরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ২০২২ সালের ১৭ মার্চ জেলার শ্রীপুর উপজেলা বাসিন্দা ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে আসামি হাসান শেখ তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে ধারালো ব্লেড দিয়ে গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে মরদেহ বাঁশঝাড়ে ফেলে রেখে যায়।

তিনি বলেন, প্রথমে শ্রীপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা হয়। পরে সিআইডি ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামত ও তদন্তের ভিত্তিতে হাসান শেখের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে। মামলায় ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আদালত হত্যাকারীর বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেছেন। এখন রাষ্ট্রপক্ষের প্রত্যাশা, আইনগত প্রক্রিয়া শেষে রায়টি দ্রুত কার্যকর করা হবে।

রায় ঘোষণার পর ভুক্তভোগীর মা বলেন, মেয়েকে আর ফিরে পাব না। এখন শুধু চাই, যেন এই মৃত্যুদণ্ড যেন দ্রুত কার্যকর হয়।

মামলার নথি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১৭ মার্চ জাতীয় শিশু দিবসে মাগুরার শ্রীপুর উপজেলায় ভুক্তভোগী বাড়ির পাশের রসুন খেতে গেলে নিখোঁজ হয়। পরদিন ১৮ মার্চ দুপুরে বাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরে একটি বাঁশঝাড়ের নিচ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে র‌্যাব, পুলিশ ও সিআইডি একযোগে কাজ শুরু করে। ঘটনার দুই দিন পর ১৯ মার্চ ভুক্তভোগীর গ্রামের ফজলু শেখের ছেলে ও পেশায় নছিমনচালক হাসান শেখকে আটক করে র‌্যাব-৬। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন বলে জানায় র‌্যাব।

এই হত্যাকাণ্ডের পর পুরো মাগুরা জুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ