অতিরিক্ত সময়ের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপের স্বপ্নভঙ্গ আর্জেন্টিনার। টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের সোনালি স্বপ্ন ছুঁয়ে দেখার আর সুযোগ পেল না লিওনেল মেসির দল। তবে ফাইনালের এই হারের চেয়েও বড় কথা, পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে চোট আর শারীরিক সমস্যার সঙ্গে লড়াই করে যাওয়া স্কালোনির যোদ্ধারা।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে থেকেই আর্জেন্টিনা শিবিরে ছিল উদ্বেগের ছায়া। মেসি, এমিলিয়ানো মার্টিনেজ, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, হুলিয়ান আলভারেসসহ একাধিক তারকা খেলোয়াড় বিভিন্ন চোট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাম্পে পৌঁছান। অনেকেই পুরো প্রস্তুতি পর্বে আলাদা অনুশীলন করেছেন, প্রীতি ম্যাচে তো নামারই সুযোগ পাননি।
টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র এক সপ্তাহ আগে আরও বড় আঘাত আসে। ডান পায়ের কাফ মাংসপেশিতে চোট পেয়ে দল থেকে ছিটকে যান ডিফেন্ডার লিওনার্দো বালের্দি। তার জায়গায় তড়িঘড়ি দলে ঢোকানো হয় মার্কোস সেনেসিকে।
আলজেরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের আগে কয়েকজন ফিরলেও কেউই পুরোপুরি ফিট ছিলেন না। গোলরক্ষক মার্টিনেজের ডান হাতের আঙুলে চিড় নিয়েও মাঠে নেমেছিলেন। টুর্নামেন্ট চলাকালীন বড় ধরনের নতুন চোট না এলেও, টানা ম্যাচ, অতিরিক্ত সময়ের খেলা আর কম বিশ্রামের কারণে দলের ক্লান্তি বাড়তে থাকে।
সবচেয়ে ভয়ংকর অবস্থা দেখা যায় ফাইনালে। শুরুর একাদশের দুই সেন্টার-ব্যাক লিসান্দ্রো মার্তিনেস ও ক্রিস্তিয়ান রোমেরো দুজনেই চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন। প্রথমার্ধে লিসান্দ্রো এবং দ্বিতীয়ার্ধে রোমেরোকে তুলে নিতে হয়। ফলে মাঝপথেই আর্জেন্টিনার মূল রক্ষণভাগ একেবারে ভেঙে পড়ে।
ম্যাচ শেষে কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ পজিশনে অপ্রত্যাশিত চোটের ধাক্কা সামলাতে হয়েছে। চার ডিফেন্ডারের তিনজনকে বদলাতে হয়েছে। এটা কোনো অজুহাত নয়, কিন্তু শারীরিক চাপ ছিল অনেক বেশি। ছেলেরা নিজেদের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছে। তবুও এত শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সামনে পুরোপুরি ফিট না থাকলে কষ্ট তো হবেই।’
স্কালোনির মতে, ‘পুরো বিশ্বকাপে শারীরিক সমস্যাই ছিল আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শত্রু। আর ফাইনালে সেই ক্লান্তি ও চোটের ছায়া পুরোপুরি ধরা পড়েছে, যা শেষ পর্যন্ত শিরোপা হাতছাড়া হওয়ার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
বাংলা৭১নিউজ/জেএস


























