ঢাকা ০৭:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo মধ্যপ্রাচ্যে ‘সর্বোচ্চ সংযমের’ আহ্বান জানিয়ে ঘোষণাপত্র গ্রহণ করল ব্রিকস Logo দুর্গাপূজা উপলক্ষে ইলিশ চায় ভারত, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান Logo হজের টাকা এজেন্সিকে দিলে সেই টাকার যাকাত দিতে হবে? Logo ‘আমার চেয়ে ভালো কেউ নেই’, ব্যালন জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী এমবাপ্পে Logo ট্রাম্পের সরাসরি সাহায্য মিলছে না, সন্ত্রাসী গোষ্ঠী মোকাবিলায় সংকটে সৌদি যুবরাজ Logo শেখ হাসিনা বিশ্বের সেরা অভিনেত্রী: স্পিকার Logo একসময় বল পায়ে লড়াই, এখন তারা সবাই চ্যাম্পিয়নস লিগের কোচ Logo চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার Logo ফেনীতে নিহত যুবদল নেতা ও অসহায় এক পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর বাড়ি উপহার Logo ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে ৩ জনকে বেছে নিলেন ডেম্বেলে

পাকিস্তানে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ২৪ জনের

পাকিস্তানের পাঞ্জাব ও বেলুচিস্তান প্রদেশে পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ২৪ জন নিহত এবং অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন। শনিবার ভোরে পাঞ্জাবের সারগোধা জেলায় একটি ট্রাক খালে পড়ে ১৪ জন নিহত হন। অন্যদিকে বেলুচিস্তানের ওরমারা মহকুমার কাছে যাত্রীবাহী একটি কোচ উল্টে আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাঞ্জাবের সারগোধা জেলার কোট মোমিন মহকুমায় ভোরে ঘন কুয়াশার মধ্যে একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গালাপুর বাংলা সেতু থেকে শুকনো খালে পড়ে যায়। এতে ছয় শিশুসহ ১৪ জন নিহত এবং অন্তত ৯ জন আহত হন বলে জানিয়েছে উদ্ধারকারী সংস্থা রেসকিউ-১১২২।

উদ্ধারকারী কর্মকর্তারা জানান, ট্রাকটিতে মোট ২৩ জন যাত্রী ছিলেন। তাঁরা সবাই ইসলামাবাদ থেকে ফয়সালাবাদে একটি জানাজায় অংশ নিতে যাচ্ছিলেন। শীতকালীন ঘন কুয়াশার কারণে মোটরওয়ে বন্ধ থাকায় চালক বিকল্প হিসেবে স্থানীয় সড়ক ব্যবহার করছিলেন।

রেসকিউ-১১২২-এর বিবৃতিতে বলা হয়, দৃশ্যমানতা অত্যন্ত কম থাকায় চালক নিয়ন্ত্রণ হারান এবং ট্রাকটি সেতু থেকে নিচে পড়ে যায়। খালটি শুকনো থাকলেও ট্রাকটি উল্টে গেলে অনেক যাত্রী গাড়ির নিচে আটকা পড়েন।

আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কোট মোমিন সিভিল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে গুরুতর আহত তিনজনকে মহকুমা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

শীত মৌসুমে ঘন কুয়াশার কারণে পাঞ্জাবজুড়ে প্রায়ই সড়ক ও মোটরওয়েতে যান চলাচল ব্যাহত হয়। শনিবার এম-১, এম-২, এম-৩, এম-৪ ও এম-১১ মোটরওয়ের বিভিন্ন অংশ বন্ধ রাখা হয় বলে জানিয়েছে ন্যাশনাল হাইওয়ে অ্যান্ড মোটরওয়ে পুলিশ, এনএইচএমপি। এর আগে চলতি সপ্তাহে কুয়াশাজনিত একাধিক দুর্ঘটনায় পাঞ্জাবে ১০ জন নিহত এবং ২১ জন আহত হন।

এদিকে বেলুচিস্তানের মাকরান কোস্টাল হাইওয়েতে আরেকটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ১০ জন নিহত এবং ১২ জনের বেশি আহত হয়েছেন। গওয়াদরের ওরমারা মহকুমার হুদ্দ গথ এলাকায় দ্রুতগতির একটি যাত্রীবাহী কোচ উল্টে যায়।

স্থানীয় উদ্ধারকারীরা জানান, নিহতদের মধ্যে একজন কন্যাশিশুও রয়েছে। নিহতদের মরদেহ করাচিতে পাঠানোর জন্য একটি মোবাইল মর্গ পাঠানো হয়েছে।

কোস্টাল হাইওয়ে পুলিশের এসপি আসলাম বাঙ্গুলজাই বলেন, কোচটি করাচি থেকে জিওয়ানি যাচ্ছিল। নিহতরা সবাই শ্রমিক ছিলেন এবং সিন্ধুর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। দুর্ঘটনার পর আহত ও নিহতদের ওরমারার পিএনএস দারমান জাহ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

পাকিস্তানে মহাসড়কগুলোতে প্রায়ই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটে। অতিরিক্ত গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং ট্রাফিক আইন না মানাকেই এসব দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। চলতি মাসের শুরুতে পাঞ্জাবের তালাগাং জেলায় একটি বাস গভীর খাদে পড়ে পাঁচজন নিহত এবং ২৪ জন আহত হন। এর আগে ৩১ ডিসেম্বর ঝাং, ফয়সালাবাদ সড়কে বাস ও ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৪ জন নিহত এবং ১৬ জন আহত হন।

সূত্র: দ্য ডন

বাংলা৭১নিউজ/আনিস

Tag :

মধ্যপ্রাচ্যে ‘সর্বোচ্চ সংযমের’ আহ্বান জানিয়ে ঘোষণাপত্র গ্রহণ করল ব্রিকস

পাকিস্তানে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ২৪ জনের

আপডেট সময় ১২:২৯:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

পাকিস্তানের পাঞ্জাব ও বেলুচিস্তান প্রদেশে পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ২৪ জন নিহত এবং অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন। শনিবার ভোরে পাঞ্জাবের সারগোধা জেলায় একটি ট্রাক খালে পড়ে ১৪ জন নিহত হন। অন্যদিকে বেলুচিস্তানের ওরমারা মহকুমার কাছে যাত্রীবাহী একটি কোচ উল্টে আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাঞ্জাবের সারগোধা জেলার কোট মোমিন মহকুমায় ভোরে ঘন কুয়াশার মধ্যে একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গালাপুর বাংলা সেতু থেকে শুকনো খালে পড়ে যায়। এতে ছয় শিশুসহ ১৪ জন নিহত এবং অন্তত ৯ জন আহত হন বলে জানিয়েছে উদ্ধারকারী সংস্থা রেসকিউ-১১২২।

উদ্ধারকারী কর্মকর্তারা জানান, ট্রাকটিতে মোট ২৩ জন যাত্রী ছিলেন। তাঁরা সবাই ইসলামাবাদ থেকে ফয়সালাবাদে একটি জানাজায় অংশ নিতে যাচ্ছিলেন। শীতকালীন ঘন কুয়াশার কারণে মোটরওয়ে বন্ধ থাকায় চালক বিকল্প হিসেবে স্থানীয় সড়ক ব্যবহার করছিলেন।

রেসকিউ-১১২২-এর বিবৃতিতে বলা হয়, দৃশ্যমানতা অত্যন্ত কম থাকায় চালক নিয়ন্ত্রণ হারান এবং ট্রাকটি সেতু থেকে নিচে পড়ে যায়। খালটি শুকনো থাকলেও ট্রাকটি উল্টে গেলে অনেক যাত্রী গাড়ির নিচে আটকা পড়েন।

আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কোট মোমিন সিভিল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে গুরুতর আহত তিনজনকে মহকুমা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

শীত মৌসুমে ঘন কুয়াশার কারণে পাঞ্জাবজুড়ে প্রায়ই সড়ক ও মোটরওয়েতে যান চলাচল ব্যাহত হয়। শনিবার এম-১, এম-২, এম-৩, এম-৪ ও এম-১১ মোটরওয়ের বিভিন্ন অংশ বন্ধ রাখা হয় বলে জানিয়েছে ন্যাশনাল হাইওয়ে অ্যান্ড মোটরওয়ে পুলিশ, এনএইচএমপি। এর আগে চলতি সপ্তাহে কুয়াশাজনিত একাধিক দুর্ঘটনায় পাঞ্জাবে ১০ জন নিহত এবং ২১ জন আহত হন।

এদিকে বেলুচিস্তানের মাকরান কোস্টাল হাইওয়েতে আরেকটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ১০ জন নিহত এবং ১২ জনের বেশি আহত হয়েছেন। গওয়াদরের ওরমারা মহকুমার হুদ্দ গথ এলাকায় দ্রুতগতির একটি যাত্রীবাহী কোচ উল্টে যায়।

স্থানীয় উদ্ধারকারীরা জানান, নিহতদের মধ্যে একজন কন্যাশিশুও রয়েছে। নিহতদের মরদেহ করাচিতে পাঠানোর জন্য একটি মোবাইল মর্গ পাঠানো হয়েছে।

কোস্টাল হাইওয়ে পুলিশের এসপি আসলাম বাঙ্গুলজাই বলেন, কোচটি করাচি থেকে জিওয়ানি যাচ্ছিল। নিহতরা সবাই শ্রমিক ছিলেন এবং সিন্ধুর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। দুর্ঘটনার পর আহত ও নিহতদের ওরমারার পিএনএস দারমান জাহ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

পাকিস্তানে মহাসড়কগুলোতে প্রায়ই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটে। অতিরিক্ত গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং ট্রাফিক আইন না মানাকেই এসব দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। চলতি মাসের শুরুতে পাঞ্জাবের তালাগাং জেলায় একটি বাস গভীর খাদে পড়ে পাঁচজন নিহত এবং ২৪ জন আহত হন। এর আগে ৩১ ডিসেম্বর ঝাং, ফয়সালাবাদ সড়কে বাস ও ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৪ জন নিহত এবং ১৬ জন আহত হন।

সূত্র: দ্য ডন

বাংলা৭১নিউজ/আনিস