ঢাকা ০৮:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo চট্টগ্রামের স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের ১৪ মিলিয়ন ডলার ঋণ Logo ভারতীয় ভিসা আবেদনে নতুন নির্দেশনা Logo কপ-৩১ সম্মেলনে যোগ দিতে ১০ নভেম্বর তুরস্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী Logo হত্যা মামলায় সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরী কারাগারে Logo নতুন কুঁড়ির সেরা ৪০ জনকে স্থায়ীভাবে বিকেএসপিতে ভর্তির আমন্ত্রণপত্র দিলেন প্রধানমন্ত্রী Logo শিশুদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী Logo বন্যা ও ভূমিধসে আক্রান্ত সাড়ে ৭৬ কোটি মানুষ, ৯৯ শতাংশই নিম্ন আয়ের দেশে Logo এনসিপি থেকে পদত্যাগ করলেন সামান্তা শারমিন Logo এবার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় দিলীপ আগরওয়ালার ২ দিনের রিমান্ড Logo হাসিনার রেখে যাওয়া সন্ত্রাসীরা গার্মেন্টসে আগুন দিচ্ছেন : রিজভী

আদালতে হাজির না হওয়ায় ফের বিপাকে নোরা ফাতেহি

২০০ কোটি রুপির চাঁদাবাজি মামলায় নতুন করে আইনি জটিলতায় পড়েছেন বলিউড অভিনেত্রী নোরা ফাতেহি। সুকেশ চন্দ্রশেখরকে ঘিরে আলোচিত এই মামলায় দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ থাকলেও নির্ধারিত দিনে উপস্থিত হননি অভিনেত্রী।

ব্যক্তিগত ও পেশাগত ব্যস্ততার কারণ দেখিয়ে তার আইনজীবীরা হাজিরা থেকে অব্যাহতির আবেদন করেন। তবে নোরার অনুপস্থিতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আদালত। একই সঙ্গে নতুন করে সমন জারি করে আগামী ৬ নভেম্বর শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

দিল্লি পুলিশের অর্থনৈতিক অপরাধ শাখার (ইওডব্লিউ) দায়ের করা মামলায় গত ২ নভেম্বর নোরাকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু নির্ধারিত দিনে সশরীরে উপস্থিত হননি তিনি। অভিনেত্রীর আইনজীবীদের দাবি, অল্প সময়ের নোটিশে সমন পাওয়ার পাশাপাশি আগে থেকে নির্ধারিত পেশাগত চুক্তি থাকায় ওই দিন আদালতে আসা সম্ভব হয়নি। এ কারণে হাজিরা মওকুফের আবেদন জানান তাঁরা।

তবে এই আবেদনে সন্তুষ্ট হননি বিচারক।

আদালতের কার্যক্রমকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই বলেও জানানো হয়। পরে শুনানি পিছিয়ে আগামী ৬ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয় এবং নোরার নামে নতুন করে সমন জারি করা হয়।

এদিকে আদালতের এই পদক্ষেপের পর নোরার আইনি দল জানিয়েছে, এই মামলায় অভিনেত্রী কোনো অভিযুক্ত নন। বরং তদন্তে সহায়তার জন্য তাকে সাক্ষী হিসেবে ডাকা হয়েছে। তাদের ভাষ্য, ‘পরিষ্কার জানানো হচ্ছে যে, নোরা ফাতেহি এই মামলায় কোনো অভিযুক্ত নন এবং তিনি কোনো অপরাধও করেননি।

আদালতকে তদন্তে সাহায্য করার জন্য কেবল একজন সাধারণ সাক্ষী হিসেবেই তাকে ডাকা হয়েছে।’

কিন্তু ২০০ কোটি রুপির সুকেশ চন্দ্রশেখর কাণ্ডে বারবার কেন উঠে আসছে নোরার নাম? তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) অনুসন্ধানে সুকেশ ও তার স্ত্রী লীনা মারিয়া পলের সঙ্গে নোরার যোগাযোগের তথ্য সামনে আসে।

জিজ্ঞাসাবাদে নোরা জানিয়েছিলেন, একটি অনুষ্ঠানে পারফর্ম করার বিনিময়ে তাকে নগদ অর্থের পরিবর্তে দামি উপহার দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। উপহারের তালিকায় ছিল একটি বিএমডব্লিউ গাড়ি, গুচির ব্যাগসহ বিভিন্ন বিলাসবহুল সামগ্রী। তবে সুকেশের সঙ্গে ব্যক্তিগত কোনো সম্পর্ক ছিল না বলে দাবি করেন অভিনেত্রী। পরিস্থিতি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছিলেন বলেও জানান নোরা।

তদন্তের অংশ হিসেবে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নোরার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। পরবর্তী সময়ে মামলার চার্জশিটে তাকে সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে নোরার বক্তব্যের বিপরীতে পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন সুকেশ চন্দ্রশেখর। কারাগার থেকে লেখা এক চিঠিতে তার দাবি, মরক্কোর কাসাব্লাঙ্কায় বাড়ি কেনার জন্য নোরাকে কোটি কোটি রুপি দিয়েছিলেন তিনি। অভিনেত্রীকে নিজেকে ভুক্তভোগী হিসেবে উপস্থাপন না করার কথাও বলেছেন সুকেশ।

এখানেই শেষ নয়, জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়েও নোরা ঈর্ষান্বিত ছিলেন বলে দাবি করেছেন সুকেশ। তার অভিযোগ, নিয়মিত ফোন করে জ্যাকুলিনের সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে দেওয়ার জন্য চাপ দিতেন নোরা। তবে এগুলো সুকেশের ব্যক্তিগত অভিযোগ। এসব দাবির সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হয়েছে, এমন কোনো তথ্য নেই।

উল্লেখ্য, দিল্লির রোহিণী কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় কোটিপতি ব্যবসায়ী শিবিন্দার সিং ও মলবিন্দার সিংয়ের স্ত্রীদের কাছ থেকে প্রায় ২০০ কোটি রুপি চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠে সুকেশের বিরুদ্ধে। তদন্তকারী সংস্থাগুলোর দাবি, প্রতারণার মাধ্যমে পাওয়া অর্থ দিয়ে বিলাসবহুল গাড়ি ও দামি উপহার কেনা হয়েছিল। এসব উপহার নোরা ফাতেহি ও জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজসহ বলিউডের কয়েকজন তারকার কাছে পাঠানোর অভিযোগও রয়েছে। এ ঘটনায় দিল্লি পুলিশের অর্থনৈতিক অপরাধ শাখা মকোকা আইনে মামলা করে।

সব মিলিয়ে আলোচিত এই মামলায় নোরার ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও তার আইনি দলের দাবি, অভিনেত্রী অভিযুক্ত নন, বরং তদন্তে সহায়তার জন্য একজন সাক্ষী। আগামী ৬ নভেম্বর আদালতে তার উপস্থিতি ও পরবর্তী শুনানির দিকে এখন নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামের স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের ১৪ মিলিয়ন ডলার ঋণ

আদালতে হাজির না হওয়ায় ফের বিপাকে নোরা ফাতেহি

আপডেট সময় ০৩:১৮:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

২০০ কোটি রুপির চাঁদাবাজি মামলায় নতুন করে আইনি জটিলতায় পড়েছেন বলিউড অভিনেত্রী নোরা ফাতেহি। সুকেশ চন্দ্রশেখরকে ঘিরে আলোচিত এই মামলায় দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ থাকলেও নির্ধারিত দিনে উপস্থিত হননি অভিনেত্রী।

ব্যক্তিগত ও পেশাগত ব্যস্ততার কারণ দেখিয়ে তার আইনজীবীরা হাজিরা থেকে অব্যাহতির আবেদন করেন। তবে নোরার অনুপস্থিতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আদালত। একই সঙ্গে নতুন করে সমন জারি করে আগামী ৬ নভেম্বর শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

দিল্লি পুলিশের অর্থনৈতিক অপরাধ শাখার (ইওডব্লিউ) দায়ের করা মামলায় গত ২ নভেম্বর নোরাকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু নির্ধারিত দিনে সশরীরে উপস্থিত হননি তিনি। অভিনেত্রীর আইনজীবীদের দাবি, অল্প সময়ের নোটিশে সমন পাওয়ার পাশাপাশি আগে থেকে নির্ধারিত পেশাগত চুক্তি থাকায় ওই দিন আদালতে আসা সম্ভব হয়নি। এ কারণে হাজিরা মওকুফের আবেদন জানান তাঁরা।

তবে এই আবেদনে সন্তুষ্ট হননি বিচারক।

আদালতের কার্যক্রমকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই বলেও জানানো হয়। পরে শুনানি পিছিয়ে আগামী ৬ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয় এবং নোরার নামে নতুন করে সমন জারি করা হয়।

এদিকে আদালতের এই পদক্ষেপের পর নোরার আইনি দল জানিয়েছে, এই মামলায় অভিনেত্রী কোনো অভিযুক্ত নন। বরং তদন্তে সহায়তার জন্য তাকে সাক্ষী হিসেবে ডাকা হয়েছে। তাদের ভাষ্য, ‘পরিষ্কার জানানো হচ্ছে যে, নোরা ফাতেহি এই মামলায় কোনো অভিযুক্ত নন এবং তিনি কোনো অপরাধও করেননি।

আদালতকে তদন্তে সাহায্য করার জন্য কেবল একজন সাধারণ সাক্ষী হিসেবেই তাকে ডাকা হয়েছে।’

কিন্তু ২০০ কোটি রুপির সুকেশ চন্দ্রশেখর কাণ্ডে বারবার কেন উঠে আসছে নোরার নাম? তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) অনুসন্ধানে সুকেশ ও তার স্ত্রী লীনা মারিয়া পলের সঙ্গে নোরার যোগাযোগের তথ্য সামনে আসে।

জিজ্ঞাসাবাদে নোরা জানিয়েছিলেন, একটি অনুষ্ঠানে পারফর্ম করার বিনিময়ে তাকে নগদ অর্থের পরিবর্তে দামি উপহার দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। উপহারের তালিকায় ছিল একটি বিএমডব্লিউ গাড়ি, গুচির ব্যাগসহ বিভিন্ন বিলাসবহুল সামগ্রী। তবে সুকেশের সঙ্গে ব্যক্তিগত কোনো সম্পর্ক ছিল না বলে দাবি করেন অভিনেত্রী। পরিস্থিতি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছিলেন বলেও জানান নোরা।

তদন্তের অংশ হিসেবে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নোরার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। পরবর্তী সময়ে মামলার চার্জশিটে তাকে সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে নোরার বক্তব্যের বিপরীতে পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন সুকেশ চন্দ্রশেখর। কারাগার থেকে লেখা এক চিঠিতে তার দাবি, মরক্কোর কাসাব্লাঙ্কায় বাড়ি কেনার জন্য নোরাকে কোটি কোটি রুপি দিয়েছিলেন তিনি। অভিনেত্রীকে নিজেকে ভুক্তভোগী হিসেবে উপস্থাপন না করার কথাও বলেছেন সুকেশ।

এখানেই শেষ নয়, জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়েও নোরা ঈর্ষান্বিত ছিলেন বলে দাবি করেছেন সুকেশ। তার অভিযোগ, নিয়মিত ফোন করে জ্যাকুলিনের সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে দেওয়ার জন্য চাপ দিতেন নোরা। তবে এগুলো সুকেশের ব্যক্তিগত অভিযোগ। এসব দাবির সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হয়েছে, এমন কোনো তথ্য নেই।

উল্লেখ্য, দিল্লির রোহিণী কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় কোটিপতি ব্যবসায়ী শিবিন্দার সিং ও মলবিন্দার সিংয়ের স্ত্রীদের কাছ থেকে প্রায় ২০০ কোটি রুপি চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠে সুকেশের বিরুদ্ধে। তদন্তকারী সংস্থাগুলোর দাবি, প্রতারণার মাধ্যমে পাওয়া অর্থ দিয়ে বিলাসবহুল গাড়ি ও দামি উপহার কেনা হয়েছিল। এসব উপহার নোরা ফাতেহি ও জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজসহ বলিউডের কয়েকজন তারকার কাছে পাঠানোর অভিযোগও রয়েছে। এ ঘটনায় দিল্লি পুলিশের অর্থনৈতিক অপরাধ শাখা মকোকা আইনে মামলা করে।

সব মিলিয়ে আলোচিত এই মামলায় নোরার ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও তার আইনি দলের দাবি, অভিনেত্রী অভিযুক্ত নন, বরং তদন্তে সহায়তার জন্য একজন সাক্ষী। আগামী ৬ নভেম্বর আদালতে তার উপস্থিতি ও পরবর্তী শুনানির দিকে এখন নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ