সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত প্রতিবেদন ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট জেমিনি উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে কপিরাইট আইন লঙ্ঘন করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সর্বোচ্চ আদালতের একজন উপদেষ্টা। তার মতে, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সংবাদ প্রকাশকদের কপিরাইট অধিকার ক্ষুণ্ন হতে পারে।
এ ঘটনায় নতুন করে আইনি চাপে পড়তে পারে গুগল।
এক প্রতিবেদনে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিচার আদালতের (সিজেইইউ) অ্যাডভোকেট জেনারেল ম্যাসিয়েজ স্পুনার এ বিষয়ে একটি মতামত দিয়েছেন। তার মতে, জেমিনি কোনো সংবাদমাধ্যমের ওয়েবসাইট থেকে প্রতিবেদন সংগ্রহ করে ব্যবহারকারীর প্রশ্নের উত্তরে সেই লেখা পুনর্ব্যবহার করলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তা কপিরাইট লঙ্ঘনের পর্যায়ে পড়তে পারে।
লুক্সেমবার্গভিত্তিক ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিচার আদালতে হাঙ্গেরির ওয়েবসাইট পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান লাইক কোম্পানির করা একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এ মতামত দেওয়া হয়েছে।
মামলাটিতে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগলের এআই চ্যাটবট জেমিনির বিরুদ্ধে কপিরাইট-সংক্রান্ত প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
স্পুনারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কোনো চ্যাটবট সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত প্রতিবেদন ব্যবহারের ক্ষেত্রে পেওয়াল বা অন্যান্য প্রযুক্তিগত সুরক্ষা অবৈধভাবে পাশ কাটালে কপিরাইট লঙ্ঘনের প্রশ্ন উঠতে পারে। একইভাবে কোনো প্রতিবেদনের স্বতন্ত্র প্রকাশভঙ্গি বা লেখার ধরন শনাক্তযোগ্যভাবে পুনর্ব্যবহার করলেও প্রকাশকের অধিকার ক্ষুণ্ন হতে পারে।
তবে সংবাদে প্রকাশিত নিছক তথ্য কপিরাইট আইনের আওতায় সুরক্ষিত নয়।
বরং তথ্য প্রকাশের নির্দিষ্ট ভাষা, উপস্থাপনা ও সৃজনশীল প্রকাশভঙ্গিই এ সুরক্ষার অন্তর্ভুক্ত বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
এদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বড় ভাষা মডেল (এলএলএম) প্রশিক্ষণে কপিরাইট সুরক্ষিত উপাদান ব্যবহারের বিষয়টি আলাদাভাবে দেখেছেন স্পুনার। তাঁর মতে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের টেক্সট অ্যান্ড ডেটা মাইনিং ব্যতিক্রমের আওতায় এ ধরনের প্রশিক্ষণ অনুমোদিত হতে পারে। তবে গুগল হাঙ্গেরির ওই প্রকাশকের প্রতিবেদন জেমিনি প্রশিক্ষণে ব্যবহার করেছে—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আদালতের উপদেষ্টার এ মতামত বাধ্যতামূলক নয়।
তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিচার আদালত সাধারণত উপদেষ্টাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামত অনুসরণ করে রায় দিয়ে থাকে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এ মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
গুগলের এক মুখপাত্র রয়টার্সকে বলেন, ইউরোপের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশের জন্য টেক্সট ও ডেটা মাইনিং-সংক্রান্ত আইনি ব্যতিক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রকাশ্যে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এআই প্রশিক্ষণের অনুমতি রয়েছে—আদালতের উপদেষ্টার মতামতে সেটি স্বীকৃতি পেয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গুগলের দাবি, জেমিনি বিভিন্ন ভাষার ধরন ও শব্দের ব্যবহার শিখে নতুন উত্তর তৈরি করে, সরাসরি অন্যের কনটেন্ট নকল করে না। পাশাপাশি প্রকাশকদের জন্য নিজেদের কনটেন্ট এআই সেবায় ব্যবহারের অনুমতি নিয়ন্ত্রণ বা তা থেকে বিরত থাকার ব্যবস্থাও রয়েছে।
অন্যদিকে ইউরোপীয়ান পাবলিশার্স কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক অ্যাঞ্জেলা মিলস ওয়েড বলেন, সার্চ ইঞ্জিনে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়ার সুযোগ দেওয়া এবং সেই প্রতিবেদন ব্যবহার করে এমন এআই উত্তর তৈরি করা, যা মূল সংবাদ পড়ার প্রয়োজন কমিয়ে দেয়—দুটি বিষয় এক নয়।
তার মতে, গুগলের সার্চ ব্যবস্থার ওপর সংবাদমাধ্যমগুলোর পাঠকপ্রাপ্তি অনেকাংশে নির্ভরশীল। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি ক্রমেই এআইয়ের মাধ্যমে সরাসরি ব্যবহারকারীদের উত্তর দিচ্ছে। এতে সংবাদমাধ্যমগুলোর পাঠকসংখ্যা ও ওয়েবসাইটে ট্রাফিক কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
এ মামলায় গুগলের বিরুদ্ধে রায় এলে সংবাদমাধ্যমের কনটেন্ট ব্যবহারের জন্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটিকে অর্থ পরিশোধ করতে হতে পারে। এতে এআই চ্যাটবটের কারণে পাঠক হারানো অনলাইন সংবাদমাধ্যমগুলোর জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ


























