ঢাকা ০৯:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo বিকাশ অ্যাপ ও এজেন্ট পয়েন্টে এখন সহজেই পরিশোধ করা যাচ্ছে ট্রাফিক ফাইন Logo শ্রমিক আন্দোলন • গাজীপুরে পুলিশের তিন মামলায় আসামি ৪ হাজার, গ্রেফতার ৩০ Logo প্রধানমন্ত্রীর বিমানে বারবার যান্ত্রিক ত্রুটির ব্যাখ্যা তলব Logo মেক্সিকোতে স্কুলে নিষিদ্ধ হচ্ছে মুঠোফোন, যে কারণে উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা Logo ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ১২ কেজি এলপিজির দাম ২০৬০ টাকা নির্ধারণ Logo মিয়ানমারে চার শহরে সামরিক বাহিনীর বিমান হামলা, শিশুসহ নিহত ১৫ Logo যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আনার লক্ষ্য অ্যামচ্যামের Logo মক্কায় ২ বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: তিন সপ্তাহেও সৌদির জবাব পায়নি ঢাকা Logo স্পিকারকে প্রধান করে ১০ সদস্যের সংসদীয় ককাস গঠন Logo মিরপুরে শ্রমিক আন্দোলনে গ্রেপ্তার ২৬ জন কারাগারে

মেক্সিকোতে স্কুলে নিষিদ্ধ হচ্ছে মুঠোফোন, যে কারণে উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা

দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের মুঠোফোন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যাচ্ছে মেক্সিকো সরকার। প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউমের এই উদ্যোগটির মূল উদ্দেশ্য শিশুদের অতিরিক্ত প্রযুক্তি-নির্ভরতা, মনোযোগের অভাব ও মানসিক চাপ দূর করা।

সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, ৩ নভেম্বর থেকে এই নিয়ম আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হতে যাচ্ছে। তবে দেশটির দীর্ঘদিনের অপরাধ ও সহিংসতায় জর্জরিত অঞ্চলগুলোর অভিভাবকরা সরকারের এই পদক্ষেপে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে জরুরি যোগাযোগের পথ বন্ধ হয়ে গেলে শিশুদের জীবন বিপন্ন হতে পারে।

বিশ্বজুড়ে শতাধিক দেশ আগেই এ ধরনের বিধিনিষেধ জারি করেছে। সেই ধারায় মেক্সিকো সরকারও শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে এই কঠোর নীতি হাতে নিয়েছে। সরকারি আদেশ অনুযায়ী, পুরো বিদ্যালয় চলাকালে শিক্ষার্থীরা কোনো ধরনের স্মার্টফোন বা অন্য কোনো ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করতে পারবে না।

শুধু শিক্ষকদের নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষণীয় কাজে, জরুরি শারীরিক প্রয়োজন কিংবা প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার সুবিধার্থে এর ব্যতিক্রমি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

অবশ্য শিক্ষার্থীরা স্কুলে যাওয়া-আসার পথে তাদের ফোন সাথে রাখার সুযোগ পাবে। এছাড়া চলতি মাসেই মেক্সিকান কর্তৃপক্ষ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য একটি নতুন বিধিমালা কার্যকর করতে যাচ্ছে, যার মাধ্যমে প্ল্যাটফর্মগুলোকে ঘৃণা ছড়ানো বক্তব্য, যৌন সহিংসতা, সাইবার বুলিং ও অন্যান্য বেআইনি উপাদান অবিলম্বে সরিয়ে নিতে বাধ্য করা হবে।

নিষেধাজ্ঞার পক্ষ নিয়ে দেশটির মেক্সিকান পাবলিক এডুকেশন সেক্রেটারি মারিও দেলগাদো সম্প্রতি চেম্বার অব ডেপুটিসে বক্তব্য দেওয়ার সময় বলেন, শেইনবাউম প্রশাসনের এই পদক্ষেপটি কমবয়সীদের মধ্যে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের প্রতি আসক্তি এবং এর ফলে সৃষ্ট মানসিকভাবে নানা ব্যাধি প্রতিরোধ করতে সাহায্য করবে।

ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোডেভেলপমেন্ট গবেষক ড. লুসিয়া মেগিস-ওয়েনবার্গ এই সরকারি উদ্যোগকে অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগ ও তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রযুক্তি সাহায্য করলেও এটি একটি দ্বিমুখী তলোয়ার। প্ল্যাটফর্মগুলো এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যা মানুষের মনোযোগ কেড়ে নেয়।

তাই শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঠিক রাখতে এ ধরনের নিয়ন্ত্রণ জরুরি। অন্যদিকে, ন্যাশনাল ইউনিয়ন অব প্যারেন্টসের সভাপতি ইসরায়েল সানচেজ সরকারের সিদ্ধান্তকে তাদের দীর্ঘদিনের সংগ্রামের ফল হিসেবে অভিহিত করে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে তিনি মনে করেন, নীতিটি সঠিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য অভিভাবকদের সচেতন করা এবং শিক্ষকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া আবশ্যক।

তবে সরকারের এই যুক্তির সাথে একমত হতে পারছেন না সহিংসতাপ্রবণ অঞ্চলের অভিভাবকরা। সুশীল সমাজ সংস্থা ‘নেটওয়ার্ক ফর চিলড্রেন্স রাইটস ইন মেক্সিকো’-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথমার্ধেই মেক্সিকোর শূন্য থেকে ১৭ বছর বয়সী প্রতি ১০ জন শিশুর মধ্যে ১ জন সংগঠিত অপরাধের শিকার হয়েছে।

এমন বাস্তবতায় সিনালোয়া রাজ্যের ন্যাশনাল ইউনিয়ন অব প্যারেন্টসের প্রতিনিধি ফ্রান্সিসকো ওরটিজ অভিযোগ করে বলেছেন যে, সরকার অভিভাবকদের মতামতকে তোয়াক্কা না করেই এ ধরনের নিয়ম করেছে, যা মূলত অভিভাবকত্বের অধিকার ও পিতামাতার ক্ষমতার পরিপন্থী।

একইভাবে তমাউলিপাস রাজ্যের রেনোসার বাসিন্দা বেনিগ্নো গোমেজের মতে, শিক্ষার্থীদের স্ক্রিন টাইম কমানোর প্রয়োজনীয়তা তিনি বুঝলেও কোনো ঝুঁকিপূর্ণ মুহূর্তে সন্তানরা তাদের কাছে ফোন রাখতে পারবে না; এই চিন্তাটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

সূত্র: এপি

বাংলা৭১নিউজ/এবি

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

বিকাশ অ্যাপ ও এজেন্ট পয়েন্টে এখন সহজেই পরিশোধ করা যাচ্ছে ট্রাফিক ফাইন

মেক্সিকোতে স্কুলে নিষিদ্ধ হচ্ছে মুঠোফোন, যে কারণে উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা

আপডেট সময় ০৮:২০:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের মুঠোফোন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যাচ্ছে মেক্সিকো সরকার। প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউমের এই উদ্যোগটির মূল উদ্দেশ্য শিশুদের অতিরিক্ত প্রযুক্তি-নির্ভরতা, মনোযোগের অভাব ও মানসিক চাপ দূর করা।

সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, ৩ নভেম্বর থেকে এই নিয়ম আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হতে যাচ্ছে। তবে দেশটির দীর্ঘদিনের অপরাধ ও সহিংসতায় জর্জরিত অঞ্চলগুলোর অভিভাবকরা সরকারের এই পদক্ষেপে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে জরুরি যোগাযোগের পথ বন্ধ হয়ে গেলে শিশুদের জীবন বিপন্ন হতে পারে।

বিশ্বজুড়ে শতাধিক দেশ আগেই এ ধরনের বিধিনিষেধ জারি করেছে। সেই ধারায় মেক্সিকো সরকারও শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে এই কঠোর নীতি হাতে নিয়েছে। সরকারি আদেশ অনুযায়ী, পুরো বিদ্যালয় চলাকালে শিক্ষার্থীরা কোনো ধরনের স্মার্টফোন বা অন্য কোনো ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করতে পারবে না।

শুধু শিক্ষকদের নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষণীয় কাজে, জরুরি শারীরিক প্রয়োজন কিংবা প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার সুবিধার্থে এর ব্যতিক্রমি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

অবশ্য শিক্ষার্থীরা স্কুলে যাওয়া-আসার পথে তাদের ফোন সাথে রাখার সুযোগ পাবে। এছাড়া চলতি মাসেই মেক্সিকান কর্তৃপক্ষ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য একটি নতুন বিধিমালা কার্যকর করতে যাচ্ছে, যার মাধ্যমে প্ল্যাটফর্মগুলোকে ঘৃণা ছড়ানো বক্তব্য, যৌন সহিংসতা, সাইবার বুলিং ও অন্যান্য বেআইনি উপাদান অবিলম্বে সরিয়ে নিতে বাধ্য করা হবে।

নিষেধাজ্ঞার পক্ষ নিয়ে দেশটির মেক্সিকান পাবলিক এডুকেশন সেক্রেটারি মারিও দেলগাদো সম্প্রতি চেম্বার অব ডেপুটিসে বক্তব্য দেওয়ার সময় বলেন, শেইনবাউম প্রশাসনের এই পদক্ষেপটি কমবয়সীদের মধ্যে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের প্রতি আসক্তি এবং এর ফলে সৃষ্ট মানসিকভাবে নানা ব্যাধি প্রতিরোধ করতে সাহায্য করবে।

ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোডেভেলপমেন্ট গবেষক ড. লুসিয়া মেগিস-ওয়েনবার্গ এই সরকারি উদ্যোগকে অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগ ও তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রযুক্তি সাহায্য করলেও এটি একটি দ্বিমুখী তলোয়ার। প্ল্যাটফর্মগুলো এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যা মানুষের মনোযোগ কেড়ে নেয়।

তাই শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঠিক রাখতে এ ধরনের নিয়ন্ত্রণ জরুরি। অন্যদিকে, ন্যাশনাল ইউনিয়ন অব প্যারেন্টসের সভাপতি ইসরায়েল সানচেজ সরকারের সিদ্ধান্তকে তাদের দীর্ঘদিনের সংগ্রামের ফল হিসেবে অভিহিত করে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে তিনি মনে করেন, নীতিটি সঠিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য অভিভাবকদের সচেতন করা এবং শিক্ষকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া আবশ্যক।

তবে সরকারের এই যুক্তির সাথে একমত হতে পারছেন না সহিংসতাপ্রবণ অঞ্চলের অভিভাবকরা। সুশীল সমাজ সংস্থা ‘নেটওয়ার্ক ফর চিলড্রেন্স রাইটস ইন মেক্সিকো’-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথমার্ধেই মেক্সিকোর শূন্য থেকে ১৭ বছর বয়সী প্রতি ১০ জন শিশুর মধ্যে ১ জন সংগঠিত অপরাধের শিকার হয়েছে।

এমন বাস্তবতায় সিনালোয়া রাজ্যের ন্যাশনাল ইউনিয়ন অব প্যারেন্টসের প্রতিনিধি ফ্রান্সিসকো ওরটিজ অভিযোগ করে বলেছেন যে, সরকার অভিভাবকদের মতামতকে তোয়াক্কা না করেই এ ধরনের নিয়ম করেছে, যা মূলত অভিভাবকত্বের অধিকার ও পিতামাতার ক্ষমতার পরিপন্থী।

একইভাবে তমাউলিপাস রাজ্যের রেনোসার বাসিন্দা বেনিগ্নো গোমেজের মতে, শিক্ষার্থীদের স্ক্রিন টাইম কমানোর প্রয়োজনীয়তা তিনি বুঝলেও কোনো ঝুঁকিপূর্ণ মুহূর্তে সন্তানরা তাদের কাছে ফোন রাখতে পারবে না; এই চিন্তাটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

সূত্র: এপি

বাংলা৭১নিউজ/এবি